বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিয়ের সাক্ষী সাপ্লাই কোম্পানী

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Opu Ahasan (০ পয়েন্ট)

X আমি ভাবতেই পারি নি এমন কিছু এই দুনিয়াতে থাকতে পারে ! তবে যাক ! ভালই হয়েছে ! আমাদের ঝামেলা দুর হয়েছে ! নিশি বলল -যাও ! গিয়ে কথা বল ! আমি বললাম -হ্যা ! বলবো ! ভাল হল না ? আমাদের একটা সমস্যার সমাধান হয়ে গেল । নিশি মিষ্টি করে হাসলো ! -বুঝলাম ! যাও ! -আরে বাবা যা্ছি ! বিয়ে করার জন্য এতো উতলা হয়েছ কেন ? নিশি একটু লজ্জা পেল যেন ! অনেক দিন ধরে আমি নিশি বিয়ে করার চিন্তা করছিলাম ! আসলে নিশি নিজে খুব উতলা হয়েছিল ! কিন্তু আমি চাচ্ছিলাম ব্যাপার টা যেন কেউ না জানে ! গোপন রাখতে চাচ্ছিলাম ! একটু কারন অবশ্য ছিল ! যাক সে কথা ! সকালের দিকে নিশি আমার বাসার সামনে এসে হাজির । বলল -আজ আমাকে তোমার বিয়ে করতেই হবে ! -আরে বাবা ! ফট করে বললেই হল ! একটা প্রস্তুতির ব্যাপার আছে না । -কোন প্রস্তুতির দরকার নাই ! তুমি কেবল চলে ! আমি আজই তোমাকে বিয়ে করতে চাই ! আজকেই এবং আজকেই ! নিশি যতই ছেলেমানুষী করুক, ওকে অনেক ভালবাসি তো তাই রাজি হয়ে গেলাম । আর বিয়ে তো একদিন করতেই হবে সুতরাং আজই নয় কেন !! মগবাজার কাজী অফিসের সামনে যখন নামলাম তখন মনে হল যে বিয়ে করতে তো সাক্ষী লাগে ! এখন সাক্ষী পাই কই ? আমি নিশিকে বললাম -বিয়ে যে করবো তা সাক্ষী পাবো কোথায় ? -আমি কি জানি ! তুমি বিয়ে করবা তুমি জানো !! -মানে কি ? -মানে জানো না ! বিয়ে করতে যাচ্ছ এটা আগেই ভাবা উচিৎ ছিল ! এই ফাজিল মেয়েকে আমি কি বলবো ? এখন যেন আমার সব ঠ্যাকা ! এই জন্য মেয়েদের উপর মাঝে মাঝে মেজাজ গরম হয়ে যায় ! কোন কিছু না ভেবেই একটা কাজে লাফিয়ে পড়ে ! আর যখন কোন ঝামেলা হয় তখন এমন একটা ভাব যেন কিছুই জানে না । এই কাজ তারা করতেই পারে না ! আমি নিশিকে আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলাম ঠিক তখনই আমার চোখ গেল সাইনবোর্ডটার উপর ! আমি সত্যিই ভাবতেই পারি নি এমন কিছু হতে পারে ! এমন কিছু হতে পারে ! আমি নিশি কে দেখালাম সাইনবোর্ডটা ! আমার মত নিশিও অবাক হল মনে হল ! তারপর মুচকি হেসে বলল -সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে ! যাও । গিয়ে কথা বলে দেখ ! আমি সাইনবোর্ডটার দিকে এগিয়ে গেলাম । সাইনবোর্ডটাতে গোটা গোটা গোটা করে লেখা "বিয়ের সাক্ষী সাপ্লাই কোম্পানী !" "মগবাজার, ঢাকা" সারা জীবনে কত সাপ্লাই কোম্পানী শুনেছি আহ এই প্রথম সাক্ষী সাপ্লাই কোম্পানীর নাম শুনলাম ! তাও আবার বিয়ের সাক্ষী !! আমি কোম্পানীর ভিতরে ঢুকলাম ! বেশ কিছু চেয়ার সাজানো রয়েছে ! একটা বড় সেক্রেটারী টেবিল তার ওপাশে একজন সু্ন্দরী মেয়ে বসে কি যেন পড়ছে । আমাকে দেখে মিষ্টি করে হাসলো ! বলল -কি সাহায্য করতে পারি ? -আমি আসলে উপরের সাইনবোর্ডটা দেখে এসেছি ! -ও ! মেয়েটা আবার একটু হাসলো ! বলল -আপনি কি কেবল কৌতূহল থেকেই এসেছেন নাকি আপনার সাক্ষীও লাগবে ? আমি একটু হেসে বললাম -আসলে দুটোই ! মেয়েটি বলল -এরকম কোম্পানী এদেশে নতুন তো তাই অনেকেই আসে কৌতুহল থেকে ! তবে দিন দিন আমাদের চাহিদা বাড়ছে ! -কি রকম ? একটু খুলে বলবেন প্লিজ ! আসলে আমার খুব কৌতুহল হচ্ছে ! এরকম কোম্পানী আসলেই নতুন ! -আচ্ছা আমি বলছি ! -হ্যা ! বলুন প্লিজ ! -আসলে আমাদের কোম্পানীর যে মালিক তিনি যখন তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে বিয়ে করার জন্য কাজী অফিসে যায় এবং দেখে যে বিয়ে করারা জন্য তাদের পাশে কেউ নেই । মানে বিয়ে করার জন্য যে সাক্ষী লাগে তেমন কোন সাক্ষী নেই ! কেবল একটা সাক্ষীর অভাবে সে দিন সে বিয়ে করতে পারে নি ! তখনই তার মাথায় এই বুদ্ধি আসে ! কাজী অফিসের সামনে এমন একটা অফিস থাকবে যেখানে বিয়ের জন্য রেডিমেড সাক্ষী পাওয়া যাবে ! আমি মাথা নাড়লাম ! ভাল একটা বুদ্ধি বের করেছে ভদ্রলোক ! আমি বললাম -তা আপনাদের ব্যবসা কেমন চলছে ! -খুবই ভাল ! -খুবউ ভাল ? লোকজন আসে ? -আপনি এসেছেন না ? আমি হাসলাম !! বললাম -তা আপনাদের সাক্ষী কি হিসাবে সাপ্লাই দেন ! মেয়েটি আমাকে একটা কাগজ ধরিয়ে দিল ! এখানে বিভিন্ন রেট লেখা আছে ! যেমন প্রথম শ্রেণী সাক্ষী ৫০০ টাকা ! ২র শ্রেণী সাক্ষী ৩০০ টাকা ! সাধারন সাক্ষী ২০০ টাকা ! আমি মেয়েটিকে বললাম -প্রথম শ্রেণী সাক্ষী মানে টা কি ? আর সাধারন সাক্ষী মানে কি ? মেয়েটি আবার হাসলো ! বলল -প্রথম শ্রেণী সাক্ষী হল তাদের জন্য যারা পালিয়ে এসেছে কিন্তু চাকরী করে ! পয়সায়ালা ! কিংবা বড় লোক বাপের সন্তান ! আমি বললমা -তাহলে কি সাধারন সাক্ষী বেকার দের জন্য ? মেয়েটি হেসে বলল -এই তো আপনি বুঝতে পেরেছেন ! তা আপনাকে কোন শ্রেণীর সাক্ষী দিবো ! আমি বললাম -আমি এখনও পড়ালেখাই করি ! আমাকে সাধারন সাক্ষী দেন ! -আচ্ছা ! আমি বললাম -আমি তো ছাত্র আমার জন্য 'হাফ' রাখা যায় ! মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে বলল -আপনি কি বাস ভাড়া দিচ্ছে যে হাফ দিবেন ? তবে ছাত্র দের জন্য আমাদের স্পেশাল অফার আছে ! আপনি যদি দুজন সাক্ষী নেন তাহলে ৩০০ টাকায় হয়ে যাবে ! দিবো ? -ধন্যবাদ ! দিন ! আমি সাক্ষী নিয়ে বের হয়ে এলাম । আমার পিছনে লোকজন দেখে নিশি মিষ্টি করে হেসে উঠল !! আমি ধন্যবাদ দিলাম ঐ ভদ্রলোক কে !! যাক আমার বিয়েটা তো হয়ে যাবে !!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now