বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্রেকআপ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X -ক্রিং--- ক্রিং--- ক্রিং--- - হ্যালো! - কাল দেখা করতে পারবেন? ভাব নিয়ে বলে - কেন? - আমাদের সম্পর্কের ইতি টানবো! বিস্ময় ভরা কণ্ঠে বলে - কিহ! তুমি এইটা কি বললে? আমি এমন কি করেছি বল? যার জন্য সম্পর্ক নষ্ট করবে? - দেখা করলেই জানতে পারবেন, বুঝতে পারবেন। এখন রাখছি ভালো থাকবেন। - হ্যালো! হ্যালো! হ্যালো! . ফোনটা কেটে দেয়।ওর কোন কথা শুনতে অপেক্ষা করেনি। সোহানা ফোনটা রেখে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।তার চোখে পুরোনো স্মৃতি গুলো ভাসতে থাকে। আসিফ মুখ কালো করে এক দৃষ্টিতে ফোনের স্কিনে নামটার দিকে তাকিয়ে থাকে।কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে।অবুঝের মতো ফোনটার দিকে তাকিয়েই থাকে। • দুজন চুপচাপ পার্কে বসে আছে। সোহানা আড় চোখে আসিফ কে দেখছে, কিন্তু কিছু বলছে না।আর আসিফ রাগে-অভিমানে নাক ফুলিয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে আছে।এক বারের জন্যও ওর দিকে তাকায়নি। সোহানা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে . - আজ আমাদের ব্রেকআপ বুঝেছেন? অনেক কষ্টে বলে - হ্যাঁ বুঝেছি, আমাদের ব্রেকআপ। - আমাদের কি আর কখনও দেখা হবে না? মুচকি হেসে আসিফ বলে - পৃথিবীটা তো গোলাকার, কখনও দেখা হলে হতেও পারে, আবার কখনও নাও হতে পারে। • তারপর আবার দুজন চুপচাপ।নীল আকাশে পাখিরা উড়ে উড়ে বাসায় ফিরছে। আসিফ ও সোহানা চুপচাপ দেখে যাচ্ছে। সোহানা আবার বলে . - একটা কথা বলব রাখবেন? - রাখার মত হলে চেষ্টা করব। - শেষ বারের মতো আপনার বুকে মাথাটা রাখতে চাই! আসিফ না হেসে পারল না, মুচকি হেসে বলে - আমাদের তো ব্রেকাপ হয়েছে, এখন কিভাবে সম্ভব? আপনি নতুন বয়ফ্রেন্ড দেখেন অথবা বিয়ে করেন।তাহলে আবার মাথা রাখতে বুক পাবেন। কথাটা শুনে সোহানার হৃদয়টা হু হু করে কেঁদে উঠে। তার মুখটা মলিন হয়ে যায়।কি বলবে? বুঝতে পারছে না।কিছুক্ষণ পর অনুভব করে চোখের কোণে পানি জমেছে। আসিফের দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে থাকে। আসিফ বলে . - আচ্ছা ব্রেকাপের কারণটা তো বললেন না, কেন ব্রেকআপ করলেন? - হঠাৎ আপনি আপনি করে বলতেছেন কেন? - অধিকার ফুরিয়ে গেলে কিভাবে বলতে হয়? আসিফ কি বলবে? ভেবে পায় না, চুপচাপ তাকিয়ে থাকে। - কি হলো! কারণটা বলবেন না? কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে • - আমাদের সম্পর্কের মাঝে এখন আমি ভালোবাসা খুঁজে পাচ্ছি না।আপনার জন্য হৃদয় থেকে আমার কোন অনুভূতি আসে না।তাই আমি চাই না আমার জীবনে আপনি আসেন।এবং শুধু শুধু কষ্ট পান।এই জন্যই সম্পর্কের ইতি টানছি। . আসিফের এখন কি বলা উচিৎ ভেবে পাচ্ছে না। মনে মনে বলে, এই হলো তাহলে কারণ! একটা সত্যি কারের সম্পর্ক গড়া এবং ভাঙ্গা কি এতই সহজ? - এতদিন পর আপনি বুঝতে পারলেন? শুরুতে কি করেছিলেন? - স্যরি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।তখন আমি বুঝতে পারেনি। আসিফের রাগ এতই উঠেছে যে, সে কথা বলতে পারছে না।একটু চুপ থেকে বলে - ঠিক আছে।ভাল থাকবেন। - মন খারাপ করবেন না, আপনি আমার থেকে আরও ভাল মেয়ে পাবেন। - মুচকি একটা হাসি দেয়।মনে মনে বলে, একদিন ঠিকেই ফিরে আসতে হবে আমার কাছে।আমি অপেক্ষায় থাকব আর যদি না আসো মৃত্যু বরণ করব। - সোহানা এক দৃষ্টিতে আসিফের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। . সোহানা বসা থেকে উঠে বাসার দিকে পা বাড়ায়।অজানা আকর্ষণে একটু পর পর পিছনে ফিরে আসিফ কে দেখে।এক সময় অনেক দূরে চলে আসে। আসিফ শেষ বারের মতো ফিছনে ফিরে সোহানা কে এক নজর দেখে আবার হাটতে থাকে। • হাতে করে চা নিয়ে এসে সোহানার মা বলে - মেয়ের বয়স তো কম হলো না! বিয়ে দিতে হবে না? মেয়ে হয়ে জন্মেছে স্বামীর ঘরে কি যাবে না? চা নিয়ে সোহানার বাবা বলে . - ছেলে তো দেখতেছি কিন্তু ছেলের মতো ছেলে না হলে কিভাবে কি হবে? আল্লাহ তায়ালা যেদিন বিয়ে ঠিক করে রেখেছেন সেদিনেই বিয়ে হবে।এতো চিন্তা করো না। . - মায়ের মন তো তাই খুব চিন্তা হয়।আর বর্তমানে দেশের যা অবস্থা- প্রতিদিন খুন, অপহরণ, ধর্ষণ এসব শুনতে শুনতে মনে বড্ড ভয় করে।কখন কি যেন হয়ে যায়! এসব চিন্তায় দিন যায়। . - চিন্তা তো আমারও হয়।আল্লাহর উপর ভরসা রাখ।আমাদের মেয়ের কিছুই হবে না।সময় মতো সব হয়ে যাবে। চা খেতে খেতে আরও না না রকমের কথা বলতে থাকে। • আসিফ রাতের আকাশে তাকিয়ে থেকে মুখে সিগারেটের ধোঁয়া উড়াতে থাকে।গিটার নিয়ে "নিকষ কালো এই আঁধারে স্মৃতিরা সব খেলা করে রয় শুধু নির্জনতা" এই গানের কলি গুলো বাজাতে থাকে।ফারাহ ব্রেকআপ করেছে! এটা সে এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না।তার কোন দোষের জন্য ব্রেকআপ করল? সে জানে না। সোহানা নিজ থেকেই তার জীবনে আসলো আবার কেনই বা চলে গেল? কারণ খুঁজে পাচ্ছে না। . তার কাছে এখন তিনটা বছর কিছুই না! এই তিনটা বছর কেন থাকল? প্রথমেই চলে যেত।তার সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্তের স্মৃতি কিভাবে ভুলে যাব? তাকে ছাড়া কিভাবে থাকব? সোহানা কিভাবে বলল আমাকে ভালোবাসে না? ঠিক আছে তুমি যখন চাও না আমাকে তোমার জীবনে।আমি কখনও আসবো না তোমার সামনে।কিন্তু তুমি যখনেই আসবে তখনেই আমাকে পাবে।মুখে সিগারেটের ধোঁয়া উড়াতে থাকে, আনমনে গিটার বাজাতে থাকে, আর এসব কথা মনে মনে বলতে থাকে। • সোহানা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তাঁরারার দিকে তাকিয়ে থাকে।তার মনে সুখ নেই।বিষন্ন মনেই ভাবছে আসিফের সাথে জোসনা বিলাস করতে। কিন্তু কিভাবে সম্ভব? সে কোথায়? ও কোথায়? ফোনটা বের করে আসিফ কে কল দেয়।মনের গভীরে জমানো কথাগুলো বলতে। . - এই মুহূর্তে আপনার ডায়েলকৃত নাম্বারটি সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।একটু পর আবার চেষ্টা করুন। . যতবারেই কল দেয় ততবারেই একই কথা বলে। আসিফ ফোন বন্ধ করার মানে খুঁজে পাচ্ছে না। হাজারও চিন্তা তার মাথায় আসতে থাকে। মনের মাঝে একটা ভয় কাজ করতে শুরু করে। হঠাৎ তার মনে হয় সে তো ব্রেকআপ করেছে।ব্রেকআপ! শব্দটা মনে হতেই হৃদয়ের মাঝে একটা শূণ্যতা অনুভব করে।হৃদয়টা একটু নড়ে উঠে।ফোনটা ঘেটে আসিফের ছবি বের করে এক দৃষ্টিতে ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে। • নাস্তা খেতে খেতে আসিফের বোন বলে - কিরে কয়েকদিন ধরে দেখছি; তুই কেমন হয়ে গেছিস কাহিনী কি? - আমি ভাল আছি।আমার কোন কিছু হয়নি। তার দোলাভাই বলে . - সালাবাবু কোন ছ্যাকা-ট্যাকা কি খেয়েছ? যদি খেয়ে থাক তাহলে আমাকে বল।একদম মেয়েটাকে তুলে নিয়ে আসব। . - উফ! আপনিও আপুর সাথে সুর মিলাচ্ছেন? . - সুর কি মিলাচ্ছে? ঠিক কথাই তো বলেছে, থাকলে বল।আমরা তোমার থেকে বড় তাই একটু হলেও বুঝি বুঝেছ? . - এই কথাটা তুমি একেবারে ঠিক বলছ।মনে করে সেই সব বুঝে, অন্যেরা শুধু কচু বোঝে। . - তোমাদের সাথে আর নাস্তা করা যাবে না। প্লেট-টা নিয়ে নিজের রুমে চলে যেতে থাকে। . - এই আসিফ নাস্তাটা এখানে করে যা! . - না, তোমরাই আরামে নাস্তা কর।আমি থাকলে তো তোমাদের সমস্যা! . নাস্তা খেতে খেতে তারা চিন্তা করে আসিফের কি হয়েছে? কেন দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে? কোন মেয়ে জামেলায় কি পরেছে? এসব না না চিন্তা মাথায় আসতে থাকে। • কিছুদিন ধরে সোহানা ক্লাসে, ক্যাম্পাসে সব জায়গায় আসিফ কে খুঁজে বেড়াচ্ছে।কিন্তু তাকে কোথাও পায় না।তাকে ফোন দেয়, কিন্তু ফোন বন্ধ পায়।ফেসবুক আইডিতে যায় সেখানেও আইডি ডি-একটিভ পায়।ওর সাথে যোগাযোগ করার কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে না।সারাটা দিন ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে। সোহানার এখন চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। . কিন্তু সে পারছে না।ব্রেকআপের প্রথম দিন থেকেই মিস করতে শুরু করে, দিন যেতে থাকে আসিফ ওর জীবনে কতটুকু জায়গা জুড়ে ছিল বুঝতে পারে। রাতের আকাশে মেঘ জমেছে, যেকোন সময় বৃষ্টি আসতে পারে।কিন্তু তার মনের মেঘগুলো কিভাবে দূর হবে? আসিফের সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত তার চোখে ভাসতে থাকে। সোহানার এখন নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছা করছে।কিভাবে পারল সে ব্রেকআপ করতে? মনের কষ্টে এক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। • পূর্ব আকাশে সূর্য উঠে।পাখিরা কলরব করতে থাকে।সূর্যের রশ্মি আর পাখিদের কলরবে সোহানার ঘুম ভাঙ্গে।হঠাৎ মেসেজের শব্দ শুনে হাসি মুখে ফোনটা হাতে নেয়, মেসেজটা দেখতেই মুখটা কালো হয়ে যায়। সোহানা ভেবেছিল আসিফ মেসেজ দিয়েছে।কিন্তু মনের ভাবনাটা ভুল হলো।এমন সময় মায়ের ডাক পরে। . - সোহানা ! সোহানা মা একটু শুনে যা তো - আসতেছি মা। ফ্রেশ হয়ে মায়ের রুমে যায়। - বল মা কি বলবে? - তোর কি কোন ছেলে পছন্দ করা আছে? থাকলে আমাদের বল! - হঠাৎ করে এই কথা বলতেছ কেন? - পরে বলতেছি, আগে বল তোর কোন পছন্দ আছে কিনা! . - না, আমার কোন পছন্দ নেই(কথাটা বলতে গলাটা ধরে আসে) - তোর বাবার আর আমার এটাই মনে হয়েছিল। তাই তোকে কিছু না বলে আমরা একটা ছেলে দেখেছি।তারা তোকে আগামি শনিবার দেখতে আসবে। - কিন্তু মা আমি এখন বিয়ে করব না। - কেন? - আমি লেখা-পড়া করতে চাই! - আমার কথাটা শুন। মায়ের কথা না শুনেই রুমে চলে যায়।মেয়ের এমন আচরণে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। • মুখে সিগারেটের দোয়া উড়াতে থাকে।মনের আকাশে পুরোনো স্মৃতিগুলো ভেসে বেড়াতে থাকে। কোন কিছুই তার ভাল লাগছে না।ইদানিং আসিফ ঠিকমত খেতে পারে না, ঠিকমত ঘুমাতে পারে না, দিন দিন কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে। সোহানার কথা মনে হলেই একটা ছবি বের করে এক দৃষ্টিতে ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে।তাকে ঘৃণা করতে ইচ্ছা করে, কিন্তু সে পারে না। . আড়ালে দাঁড়িয়ে আসিফের এই অবস্থা দেখতে দেখতে তার আপুর চোখের কোণে কখন যে পানি এসে যায় বুঝতেই পারেনি।তার কাছে এসে বলে - আসিফ ! এই আসিফ ! তুই এখানে? - কেন আপু কি হয়েছে? - না কিছু হয়নি, আচ্ছা সত্যি করে একটা কথা বল তো! - কি জানতে চাও বল - সত্যি করে বল তো তোর কি হয়েছে? তুই নিজেকে একবার আইনায় দেখেছিস? দিন দিন তোর চেহারাটা কেমন হয়ে যাচ্ছে? - না আপু আমার কিছু হয়নি; তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছ। - আবার মিথ্যা কথা বলছিস? - এখন যাও তো কথা বলতে ভাল লাগছে না। কথা না বাড়িয়ে তার আপু চলে আসে। • সোহানা ছেলে পক্ষের সামনে বসে আছে। - বেয়াই সাহেব মেয়ে আমাদের পছন্দ হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কোন রকমের চাওয়া-পাওয়া নেই।শুধু মেয়ে পেলেই চলবে। . তাদের কথা শুনে সোহানার শরীর জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে।বিয়েই হয়নি এখনেই বেয়াই বলতে হয়? তাদের ছেলেটা! আড় চোখে দেখে আর মুচকি মুচকি হাসে।হাবলুর মতো চেহারা- বাবা কিভাবে পারল এমন ছেলে পছন্দ করতে? সোহানার মনটা চাচ্ছে দুই গালে দুইটা কষে থাপ্পড় দিতে। . - আলহামদুলিল্লাহ বাবার কথা শুনে আরও রাগ হচ্ছে।এমন কি তারা মহা পরিবার আসছে।তাদের সাথে আবার তাল মিলাতে হবে! - এখন দিন তারিখের ব্যপারটা কি করবেন? - আপনারাই বলেন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে - তাহলে আগামী মাসের ৫ তারিখ আপনারা কি বলেন? - দিন তারিখ দুইটাই ভাল।আমাদের কোন আপত্তি নেই।শুভ কাজে দেরী করতে নেই। . তারপর নাস্তা সেরে তারা চলে যায়।যাওয়ার সময় সোহানা কে চোখও মেরে যায়।মনে মনে বলে, বেহায়া ছেলে তোর বিয়ে কোনদিন হবে নারে।সারা বাড়িতে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে।কারণ সোহানার বিয়ে ঠিক হয়েছে। . ছেলে পক্ষ সোহানা কে দেখে পছন্দ করেছে।এখন সে কিভাবে এই বিয়ে আটকাবে? হঠাৎ আসিফের মুখটা চোখে ভেসে উঠে।বুকের মাঝে চিনচিন ব্যথা অনুভব করে।সে মনে করেছিল ওর জন্য তার কোন ভালোবাসা নেই! কিন্তু এখন হারে হারে টের পাচ্ছে ভালোবাসা কাকে বলে! . আজ কতদিন হয়ে গেল আসিফের কোন দেখা পায় না, তার কোন খোঁজ মিলে না।কোথায় আছে? কি করছে? কেমন আছে? সোহানা বলতে পারে না। তাই মনের মাঝে শান্তিও পায় না।তারা যেখানে দেখা করতো, কথা বলতো এবং সময় কাটাতো।ঐ যায়গা গুলোতে বাড়ে বাড়ে যায়।এখন একা একাই সময় কাটায়।কখনও পুরোনো স্মৃতি গুলো মনে পরে, কখনও পুরোনো কথা গুলো কানে ভেসে আসে। তখন হৃদয়ের মাঝে একটা চাপা কষ্ট অনুভব করে। প্রায় রাতেই আসিফ কে স্বপ্ন দেখে, আর চোখের জল ফেলে।সে ভেবেছিল তার মনে ওর কোন নাম নেই! কিন্তু এখন খুব বুঝতে পারছে। রাতের আকাশে মেঘ জমেছে। সোহানার মনের ভিতরেও মেঘ জমেছে।তার বুকের মাঝে খুব কষ্ট হচ্ছে; বারবার কাঁদতে চেষ্টা করছে।কিন্তু পারছে না। সোহানার আজ নিজেকে খুব একা লাগছে, মনে হচ্ছে তার চারপাশে কেউ নেই।তার মনে হচ্ছে নিজের ভালোবাসাকে নিজে গলা টিপে হত্যা করেছে। সোহানা যেকোন মূল্যে শুধু একবার আসিফের দেখা পেতে চায়! কিন্তু দেখা পাবে কিনা সে জানে না।অঝর ধারায় বৃষ্ট পরছে, সোহানার চোখ থেকেও অশ্রু ঝরছে। • আজ অনেক দিন পর আসিফ ঘর থেকে বের হয়েছে। সেই পুরোনো গেটআপে।হঠাৎ এই পরিবর্তনে তার বোন ও দুলাভাই বিস্ময় ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে। আসিফ বের হতেই; এই সুযোগে তারা রুমে যায়। যদি কিছু তথ্য পায়! টেবিলের উপরে রাখা কাগজ গুলো পড়ে আর অবাক চোখে একজন আর একজনের দিকে তাকিয়ে থাকে।কারণ সব গুলো ছিল খন্ড খন্ড চিঠি।যার প্রত্যেকটায় ছিল সোহানা কে কেন্দ্র করে। . - সোহানা তোমাকে ভালোবাসি খুব ভালোবাসি। - জানো সোহানা আজ তোমাকে না খুব মনে পরছে। তোমাকে দেখতেও না মনটা খুব চাচ্ছে। - আজ কতদিন পর তোমাকে স্বপ্নে দেখলাম।সেই কাজল কোলো চোখে চির চেনা হাসি, একটু পর পর আড় চোখে তাকাও আর লজ্জা পাও।আমার হৃদয়ের মাঝে তুমি ঝড় তুলে দিয়েছিল।যখন তোমাকে ছুঁতে যাব তখনেই স্বপ্নটা ভেঙ্গে যায়।স্বপ্নটা ভেঙ্গে যাওয়াতে, সোহানা জানো আমি না একটুও কাঁদেনি। . - জানো আজ আপু দুলাভাই বলছে আমার কি হয়েছে? আমি কি করে বলি! আমাদের ব্রেকআপ হয়েছে।তুমি ব্রেকআপ করেছ; কিন্তু আমি তো করেনি তাই বলতে পারেনি।কি করে তাদেরকে কষ্ট দেই বল? যে আপু আমার চোখে একটু পানি দেখতেই শুধু কাঁদে আর কাঁদে তাকে কি করে এসব বলি? . - আজ আবার তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখলাম। আমাদের বিয়ে হয়েছে, নতুন ঘর হয়েছে।তোমার আমার নতুন সংসার শুরু হয়েছে।সব সময় খুনসুটি আর রাগ-অভিমান নিয়ে আমাদের সংসার চলছে। হঠাৎ একটা শব্দে স্বপ্নটা ভেঙ্গে গেল।জানো আমি অনুভব করি চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে! কিন্তু কারণটা বুঝলাম না। . তার বোন পরের কাগজ গুলো পড়তে আর সাহস পায়নি।শেষ কাগজটা হাতে নেয়। - সোহানা জানি না, আবার আমাদের মিলন হবে কিনা? হলে ভাল না হলেও ভাল তোমার স্মৃতিটুকু নিয়েই সারাটাজীবন কাটিয়ে দিব।কারণ তুমি আমার প্রথম ভালোবাসা, তুমিই আমার শেষ ভালোবাসা। . ভেজা চোখে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে, কেউ কথা বলতে পারছে না।ভালোবাসার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে কেউ এমন প্রতিজ্ঞা করতে পারে? তাদের এখন কি করা উচিৎ ভেবে পায় না। চুপচাপ তাকিয়েই থাকে। . তারপর আরও তথ্য পায় কিনা তার জন্য খুঁজাখুঁজি শুরু করে।হঠাৎ বালিশের পাশে মোবাইল পায়।ফোনটা অন করতেই সোহানার ছবি ভেসে উঠে। চিঠিতে যেভাবে বলেছিল ঠিক সেভাবেই ছবির মেয়েটা।এই ছবির দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে ছিল তাদের মনে নেই।তারপর তাড়াতাড়ি ওর নাম্বার বের করে কল দেয়।কারণ তারা চায় না, আসিফ তিলে তিলে শেষ হয়ে যেতে।তারা চায় না, তার স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে যেতে। • সোহানা ছাদে দাঁড়িয়ে এক মনে ইট-পাথরের শহরের দিকে তাকিয়ে আছে।দক্ষিনা বাতাসে তার চুল উড়ছে।মনের মাঝে ঝড় বইছে।কতগুলো দিন চলে গেল। আসিফ কে দেখতে পারছে না, তার কণ্ঠটা শুনতে পারছে না।আনমনে শহরের কোলাহল দেখতে থাকে, মনে মনে পুরোনো স্মৃতি ভাবতে থাকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্পের নাম- ব্রেকআপ
→ ব্রেকআপ
→ ব্রেকআপের তিনবছর পর
→ ব্রেকআপের তিনবছর পর
→ ব্রেকআপের তিনবছর পর
→ ব্রেকআপের গল্প
→ ব্রেকআপ
→ "ব্রেকআপ 99"
→ গল্প : #ব্রেকআপ_পাগলি !!!
→ ব্রেকআপ
→ ব্রেকআপ
→ ব্রেকআপ দিবস...!
→ ব্রেকআপ হওয়ার পর
→ ব্রেকআপ_পরবর্তী_স্মৃতিপট

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now