বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাতে আর ঘুম হলো নাহ,,,সারাটা
রাত মিথিলার কথা ভেবেছি,,,
কে জানে হাত টার কি অবস্থা,,,
কত টা অভিমান করলে মেয়েটা
বিয়ে ভাঙার কথা বলে,,,
যে ভাবেই হোক আজকে রাক্ষুসী
টার রাগ ভাঙাতে হবে,,,আজকে
সেই রাত থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
হচ্ছে। আবির কে ফোন দিলাম,,,
_ হ্যালো আবির?
: হ্যা বল,,,কি হইছে এতো ভোরে
ফোন দিয়েছিস যে,,,
_ দরকারে দিয়েছি রে,,,একটা
হেল্প করতে পারবি????
: কি হেল্প বল,,,
_ মিথিলার সাথে জগড়া হইছে
রে,,,এই মূহুর্তে আমার কিছু জিনিস
প্রয়জন তুই একটু আসতে পারবি??
: আচ্ছা তুই থাক আমি আসছি,,,রবি
কে নিয়ে,,,
_ ওকে...
.......
আবির চলে এসেছে,,,দেরি করলাম
নাহ দ্রুত বাসা থেকে বেরিয়ে
পড়লাম,,,,,অনেক কষ্টে
একটা কাপড়ের দোকান খোলা
পেলাম,,, নীল কালারের একটা সাড়ি
কিনলাম,,,রাক্ষুসী টার নীল গোলাপ
অনেক পছন্দ,,,,তাই একটা ফুলের
দোকানে ফোন দিলাম,,,পরিচিত
দোকান,,,সব গুলো গার্ল ফ্রেন্ড কে
এই দোকান থেকেই ফুল কিনে
দিয়েছি,,,লোকটার ভাল কাষ্টমার
ছিলাম তাই নাম্বার দিয়ে দিছিল,,,
প্রয়জনে দরকার হয় যদি তাই,।
ভোর ছিল,,তারাও মাত্র ফুল নিয়ে
এসেছিল,,,একে বারে তাজা অনেক
গুলো গোলাপ কিনলাম,,,কিছু কাচের
চুড়ি পেলে অনেক ভাল হতো,,,
কিন্তু কোথাও দোকান খোলা নাই
তাই বাসায় চলে যাচ্ছিলাম,,,
দেখি একজন মহিলা,,ঝুড়ি করে
চুড়ি নিয়ে যাচ্ছে,,,কোথায় নাকি
কি মেলা আছে তাই,,,যাক ভালই
হলো দুই মুঠো নীল চুড়ি নিলাম,,,
বাসায় আসলাম,,, রাক্ষুসী টা
এখনো,,, দরজা খোলে নাই,,,চুপি
চুপি আমরা ভিতরে গেলাম,,,
খাটের পাশের ড্রয়ারে জিনিস গুলো
সাজালাম,,, ওরা কাজ সেরে চলে
গেছে,,,থাকলে ভাল হতো,,,সাহস
পেতাম কিন্তু ওদের নাকি কি কাজ
আছে,,,তাই যেতে হবে,,
যাই,,,,সকালে নিজে কফি বানিয়ে খেয়েছি,,,
তারপর মুড অফের অভিনয়
করে সময় মতো অফিস চলে আসলাম,,
বস কে সব বললাম,,, উনি বললেন
কি সব ব্যাবস্থা করবে,, আমি তো
কিছুই বুঝলাম না শুধু ছুটি চেয়েছি,,,
যাই হোক ওসব ভেবে কাজ নাই
বাসায় ফোন দিলাম অনেক বার
রিং হলো কিন্তু মিথিলা ধরলো নাহ
অনেক্ষন দেওয়ার পর রিসিব
করেছে কল টা
.......
_ হ্যালো,,, মিথিলা?
: হ্যা বল,,, (রেগে কথাটা বললো মিথিলা)
_ হ্যা শুনো বাপের বাড়ি যাবা ভাল
কথা,,,আমি আমার একটা ফাইল,,
আমার রুমের খাটের পাশের
প্রথম ড্রয়ারে রেখে এসেছি,,,প্লিজ
একটু দয়া করে নিয়ে আসো,,,, (অনেকটা
রেগে কথা গুলো বললাম,,,)
: পারব নাহ,,নিজে এসে নিয়ে যান
_ আমি একটা মিটিং এ আছি,,
প্লিজ একটু নিয়ে আস প্লিজ
: আচ্ছা আমি নিয়ে এসেছি,,,
......
রুমে একটা ক্যামেরাও ফিট করে
রেখে এসেছি,,
ও কি করে তা দেখার জন্য,,,
দ্রুত ল্যাপটপ টা অন করলাম,,,
দেখি রুমে ডুকেছে,,,প্রথম
ড্রয়ার টা খুললো,,, মুখ দেখে বুঝলাম
পুরো চমকে গেছে,,,,
গোলাপ গুলো হাতে নিল,,,আমাকে
মনে হয় ফোন করতে যাবে এমন
টাইমে চিঠি টা চোখে পড়লো,,,
হাতে নিল চিঠিটা,,,,আমি পারি
আর ল্যাপটপ এর ভিতরে ডুকে
যাই,,, ,,,
চিঠিতে যা লেখা:
আমার সুইট রাক্ষুসী বউ প্লিজ আর
রাগ করো নাহ,,,আই এম সো সরি জান
আমি তোমাকে অনেক অনেক
ভালবাসি ,,প্লিজ আমাকে
ছাড়িয়া যাইয়ো নাহ তুমি তাহলে
আমি অনেক কানমু আর হ্যা
সেকেন্ড ড্রয়ার টা খোল মাই সুইট
রাক্ষুসী বউ
....
চিঠিটা পড়ে রাক্ষুসী হাসতেছে আর
চোখের পানি মুছতেছে,,,বুঝলাম
প্লেন এ কাজ হচ্ছে,,,
এবার দ্বিতীয় ড্রয়ার টা খুললো,,,
এটাতে নীল সাড়ি টা আছে,,, হাতে
শাড়িটা নিল রাক্ষুসী,,, শাড়ির নিচের
চিঠি দেখে সেটা
হাতে নিল,,আবার চোখের
পানি মুছলো,,,বুঝিনা মেয়েদের
চোখে এত পানি কোথা থেকে আসে
......
হুম শুনো মাই সুইট রাক্ষুসী বউ
এই নীল শাড়িটা পড়,,,শাড়ি টাড়ি
কিনতে পারি নাহ ,,,,নিশ্চয় খুব
খারাপ হয়েছে,,,প্লিজ কিছু মনে
করোনা (মনে হয় এই কথাটা
পড়েই শাড়িটা বুকে ঝড়িয়ে বলেছে আমার
শাড়িটা খুব পছন্দ হয়েছে খুব,,কান্না
করতে করতে বলছিল)
এই শাড়িটা পড়ো তারপর
তৃতীয় ড্রয়ার টা খোল,,,তার আগে
খুলবে না প্লিজ রাক্ষুসী,,,,
.........
ওয়াস রুমে যেয়ে শাড়ি টা পরলো,,,
তারপর তৃতীয় ড্রয়ার টা খুললো,,,,
চোখ গুলো ইয়া বড় হয়ে গেছে
রাক্ষুসীর,,,,আর মুখে এক রাশ
হাসি বুঝেছি রাক্ষুসী টার চুড়ি গুলো
খুব পছন্দ হয়েছে,,,হাতে চুড়ি
গুলো নিয়ে দেখছে,,,স্বর্নের চুড়ি
পেলেও মনে হয় মানুষ এতো
খুশি হয় নাহ,,,যতটা রাক্ষুসী হয়েছে,,,
মেয়েটার চাহিদা এত কম জানতাম
নাহ,,,,
যাই হোক চুড়ি গুলো পেয়ে রাক্ষুসী
দেখছিল তারপর শেষ চিঠিটা
হাতে নিল,,,,পড়তে পড়তে হাসছিল,,,
চিঠিতে যা লেখা ছিল:
হুম শুনো চুড়ি গুলো পড়ো
তারপর তোমার ওই ঘন কালো
লম্বা চুলে খোপা বেধেঁ নীল
গোলাপ গুলো খোপায় দেও,,,
আর হ্যা শুনো চোখে কাজল
দিও প্লিজ আর কপালে একটা
কালো টিপ দিও প্লিজজ, তারপর
সোঝা,,,আমার অফিসের সামনে
চলে আসো,,,,সাবধানে আসবা,,,একদন
তাড়াহুড়ো করবা নাহ,,,বুঝলা বাবু
.......
চিঠিটা পড়ে সব গুলো চিঠি
আর গোলাপ গুলো জড়িয়ে খুব
কান্না করছে ,,আবার হাসছেও
বুঝলাম এই কান্না সুখের কান্না,,,
নীল শাড়ি পড়েছে,,,খোপা বেধেঁ তাতে
দুই টা নীল গোলাপ দিল,,,
আর বাকি গোলাপ গুলো আমাদের
রুমে নিয়ে কি করেছে তা দেখি নাই
ওই রুমে ক্যামেরা ফিট করা নাই,,,
প্রায় অনেক্ষন পরে রাক্ষুসী টা
আসলো,,, মুখ টা মনে হয় আমাকে
দেখে কালো করে রেখেছে,,,
রাক্ষুসী টাকে বড্ড সুন্দর লাগছে
আজকে,,, এতো সুন্দর রাক্ষুসী টা
আগে জানতাম নাহ,,,বড্ড বেশি
সুন্দর লাগছে ওকে,,,,নজর ফিরাতে
পারছি নাহ,,,আজকে ও আমার রুপা
শুধুই আমার রুপা
আমি অফিস রুমে আজকে
একটা হলুদ পাঞ্জাবি পড়েছি,,,
হিমু হতে বড্ড ইচ্ছে করছে,,,তাই,,
আমাকে হলুদ পাঞ্জাবি আর
খালি পায়ে দেখে আশে পাশের লোক
আর ও মনে হয় একটু অবাক
ই হচ্ছে,,,অনেক এ আমার দিকে
বাঁকা চোখেও তাকাচ্ছে,,,
সারা দিন অনেক ঘুরলাম,,,সন্ধা
হয়ে গেছে,,,এবার আশে পাশের
একটা চাইনিজ এ গেলাম,,,এবার
তো আমি পুরা অবাক,,, আমার
সব গুলো ফ্রেন্ড আর বস এখানে।
পুরো চাইনিজ সাঝানো,,,চাইনিজ
এ আর কোন মানুষ নাই,,,বুঝলাম
বস এই ব্যাবস্থাই করতেছিল,,,
কিন্তু এর থেকে বেশি অবাক হলাম
ওরা যখন সবাই এক সাথে বললো
হ্যাপি ম্যারেজ ডে অভ্র এন্ড মিথিলা
ভাবি,,,,,, ( আজ আমার বিবাহ
বার্ষিকি,,)
,,,, এই শয়তান গুলো
সারাদিন এক বার ও উইশ করে
নাই নিশ্চয় এই সারপ্রাইজ দিবে
বলে,,,এক বছর হয়ে গেছে আমি
এই রাক্ষুসী সাথে কাটিয়েছি,,,কিভাবে
সময় গেল কিছুই বুঝতেছিনা,,,
এই দিন টার কথাও মনে ছিল,নাহ,,
রাক্ষুসী টা ভাবছে আমি মনে হয়
এই সারপ্রাইজ টার কথা জানতাম,,
আর আমিই ওকে সারপ্রাইজ দিয়েছি
যাক এই বার বন্ধুরা বাচিঁয়ে দিয়েছে
এর পর থেকে মনে রাখতে হবে
তা না হলে,,,আমি শেষ ,,,,
এবার ওরা কোন রকমে বাচিঁয়ে দিয়েছে।
যাই হোক ওরা বাগানে ক্যান্ডেলাইট
ডিনার এর ব্যাবস্থা করেছে,,,ওখানে
আমি আর মিথিলা শুধু ডিনার করেছি,,
অনেক রোমেন্টিক দৃশ্য ছিল
এই মূহুর্ত টা,,,বন্ধুরা এই মূহুর্ত টাকে
ক্যামেরা বন্ধি করে রাখলো,
মিথিলার মন টা অনেক ভাল হয়ে
গেল,,,অনেক রাতে বাসায় ফিরলাম,,,
মিথিলা,,,আমাকে ড্রয়িং
রুমে দাড়া করিয়ে রুমে দরজা
লাগালো,,,বললো কিছুক্ষন
দাড়াতে ও আসতেছে,,,,কিছুক্ষন
পর এসে আমাকে রুমে নিয়ে গেল
আমি তো পুরো অবাক ,,,
সকালের সেই
নীল গোলাপ আর অনেক গুলা লাল
গোলাপ দিয়ে রুমটা সাঝানো,,,
পুরো রুমে অনেক কালারের মোম,,,
অন্ধকার রুমটা মোমের আলোয়
অনেক সুন্দর লাগছে,,,সেই মোমের
আলোয় আমার রুপা টাকে আরো
অনেক অনেক সুন্দর লাগছে,,,লাজুক
মুখে,,নিচে তাকিয়ে আছে মেয়েটা,,,
মুখটা তুললাম,,,খুব অপূর্ব লাগছে
মেয়ে টাকে,,,আগে কোন দিন
এতো সুন্দর লাগে নাই
এই রাক্ষুসী টা কে,,,,,ওর এই অপূর্ব মুখ
থেকে আমার চোখ-ই নামছে না দুজন
দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে
আছি,,,আজকে সারাদিন গুড়ি গুড়ি
বৃষ্টি পড়ছিল,,,মনে হয় এখন
অনেক বৃষ্টি হবে,,,হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকে
উঠলো,,,আর ও আমার হাত থেকে
হাত সরিয়ে জড়িয়ে ধরলো আমাকে,,,
আমিও জড়িয়ে ধরলাম,,,মিথিলা,,,
চোখ বন্ধ করে বললো কথা
দেও আর কখনো আমাকে ছেড়ে
যাবা নাহ,,,,সব সময় আমাকে এমন
আগলে রাখবা,,,, আমি বলে উঠলাম
কথা দিলাম আর কখনো তোমার
সাথে খারাপ ব্যাবহার করবো নাহ
মাই সুইট রাক্ষুসী,,,,
_এই তুমি কি বললা,,,আবার রাক্ষুসী
বললা,,,শয়তান আবুল,,,তোমার
সাথে কথা নাই,,,আমাকে ছাড়িয়ে
বুকে কয়টা ঘুসি দিলো,,,বুঝলাম
অভিমানের মাইর এটা,,,কিছুক্ষন
মারলো,,,যদিও একটা তেও ব্যাথা
লাগলো নাহ এবার আমি বললাম
আরে আরে করছো কি ব্যথা লাগে তো,,
একটা রাক্ষুসী মানুষ কে মারলে
সে তো মরে যাবে,,,,মেরে ফেলবা নাকি???
কথা টা বলার সাথে সাথে আমার
মুখ চেপে ধরলো,,,আর বললো,,এই
ভুলেও আর এই কথা বলবানা তাহলে
কিন্তু আমিই সত্যি মেরে দিব,
এটা বলেই আবার জড়িয়ে ধরলো
রাক্ষুসী টা,,,জানলা টা খোলা ছিল
দমকা হাওয়ায় অনেক গুলো
মোম নিবে গেল,, দুই তিন টা মোম
জ্বলছিল,,,ভয়ে মেয়েটা আমাকে
আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো,,,,,
এই বাধন মনে হয় আমি জীবনেও
ছাড়তে পারবো নাহ,,,ইচ্ছা থাকলেও
নাহ,,,,,,,, আর আমি ছাড়তেও
চাই নাহ এই রাক্ষুসী টাকে
.......
চলবে………
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now