বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-আমার মা আর বাবাকে তো দেখলেই । চেনো ওনারা কারা ?
-আমার কি চেনার কথা ?
-পরিচিত মনে হয়নি ?
-নাহ !
না বলে আবন্তির মনে যেন চেহারাটা কেমন পরিচিত ছিল । তখনই একবার মনে হয়েছিল । কোথায় যেন দেখেছে !
স্যাম বলল
-আমার আম্মা, ফরিদা পারভিন নাম, তুমি যে ইউনিভার্সিটিতে পড় সেখানকার প্রো-ভিসি!
-আরে তাই তো ......
আবন্তির মুখটা হা হয়ে গেল মুহুর্তেই । অনেক কয়বার দেখেছে কিন্তু চিনতে পারে নি !
-আর আমার আমার বাবা আরমান গ্রুপের মালিক !
আবন্তি কি বলবে বুঝতে পারলো না । আরমান গ্রুপের নাম সে শুনেছে । বেশ কয়েকবারই শুনেছে । ওর এক বন্ধুর বাবা এই কোম্পানীতে চাকরি করে ! আর সেই কোম্পানীর ছেলের সামনে ও বসে আছে ।
ওর মাথায় আসলেই কিছু ঢুকছে না । এসব কি হচ্ছে ?
স্যাম বলেছিলো ইন্সিডেন্টস হ্যাপেন ইন লাইফ কিন্তু এটা তো ইন্সিডেন্ট না এটা ..... না না এটা দুর্ঘটনাও না ! তাহলে কি এটা ?
-আমি আসলে কিছুই বুঝতে পারছি না !
-আমি বুঝিয়ে বলছি ! আসলে আমার বাবা আর মা আমার বিয়ের জন্য পাগল হয়ে গেছে । তারা আমাকে বিয়ে দিয়েই তবে ছাড়বে এমন একটা অবস্থা । আমি কোন দিন তাদের অবাধ্য হই নি তাই কিছু করতে পারছি না । বিয়েটাও টালতে পারছি না । শেষে আমি তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বলে দিলাম যে আমার একজন গার্লফ্রেন্ড আছে । তারা তো বিশ্বাস করেই না । তাদের একই কথা হয় তদেরকে আমার গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করিয়ে দেই নয়তো তাদের পছন্দ মত মেয়ের সাথে বিয়ে করি ।
-আচ্ছা । তারপর ?
-তারপর বললেই তো আর হল না । গার্লফ্রেন্ড বললেই তো পাওয়া যায় না ।
-আপনি চাইলেই তো ম্যানেজ করতে পারতেন আই গেস !
-কিন্তু সেখানেও সমস্যা তো থেকেই যেত । শেষে আমাকে বিয়ে করতেই হত !
আবন্তি খানিকটা দুষ্টামীর হাসি দিয়ে বলল
-তা জনাব বিয়ে করতে সমস্যা কোথায় ? বয়স হয়ে যাচ্ছে তো ! নাকি অন্য কোন সমস্যা ?
-অন্য কোন সমস্যা মানে ?
-না মানে থাকে না কত রকম সমস্যা কত রকম টেস্ট ?
-শুনো আমি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ । এবং আমার টেস্টও স্বাভাবিক !
-তাহলে সমস্যা কোথায় ?
-সেটা তোমার না জানলেও চলবে ! এখন তোমাকে যে জন্য নিয়ে দরকার সেটা বলি ! ওকে !!
স্যামের গলার স্বর একটু ঠান্ডা শোনালো । আবন্তি বুঝতে পারলো ওর এভাবে বলাটা ঠিক হয় নি । নিজেকে খানিকটা সামলে নিল । তারপর বলল
-তো আপনি চান আমি আপনার গার্লফ্রেন্ডের ভূমিকাতে কিছু দিন অভিনয় করি ! তাই না ?
-হ্যা !
-আমি যদি অন্য মেয়েদের মত আপনার গলাতে ঝুলে পড়তে চাই ? তখন ?
স্যাম আবন্তির কথা শুনে হাসলো । তারপর বলল
-তোমার কেন মনে হয় এতো মানুষ থাকতে আমি তোমাকেই চুজ করেছি ?
আবন্তি কিছু বলতে গিয়েও বলল না । আবন্তি জানে স্যাম ওকে কেন চুজ করেছে । ফ্যামিলি বন্ডিংস, প্রেম ভালবাসা এসবের আবন্তি বিন্দু মাত্র আগ্রহ নেই । বলা চলে এসব থেকে সব সময় দুরে থাকে । ছোট বেলা থেকে নিজের বাবা মায়ের ঝগড়া দেখতে দেখতে বড় হয়েছে । ভালবাসা বলে ও ঠিক মত জানেও না । জানার আগ্রহও নেই । এসব থেকে দুরে থাকতে পারলেই ভাল । একা থাকতেই ওর বেশি ভাল লাগে ! ফ্রেন্ড সার্কেলটা একটু আঢটু মেইনটেইন করে, ব্যাস । এর বেশি কিছু আর না ।
আবন্তি বলল
-আচ্ছা বুঝলাম ! তা আমার লাভ কি ?
-বল তুমি কি চাও ?
-যা চাইবো পাবো ?
-হ্যা যদি আমার সাধ্যের মধ্যে থাকে সেটা পাবে ?
-যদি একটা ল্যাম্বর্গিনি চাই ?
-তাও পাবা !
-ইউ আর কিডিং রাইট ?
-নো ! আমি কথা দিলে কথা রাখি ! কাজ শেষ হলে তুমি একটা ল্যাম্বর্গিনি পাবে ? ওকে !!
-নো নো নো ! আমি এখনও ঠিক করি নি । পরে ভেবে চিন্তে চাইবো । এই সুযোগ বারবার তো আসবে না !
-আচ্ছা !
-আর কত দিন চালিয়ে যেতে হবে ?
-এই মাস দুয়েক ! তারপর আমার সাথে ব্রেক-আপ করবে । ঠিক আছে ?
-তাহলে কি হবে ?
-সেটা আমি দেখবো । তোমার যা ভূমিকা সেটা তুমি করবে । ঠিক আছে ?
-ওকে ডান ! তবে আমার একটা শর্ত আছে ।
-কি ?
-আমাকে মাঝে মাঝে এরকম কফি বানিয়ে খাওয়াতে হবে !
স্যাম আবারও হাসলো । আচ্ছা খাওয়াবো ! আবন্তিও হাসলো । স্যাম আস্তে বলতে লাগলো ওকে কি কি কাজ করতে হবে । কেমন করে আচরন করতে হবে ! আবন্তি মন দিয়ে শুনতে লাগলো । সত্যি বলতে কি কাজটা করতে ও নিজেও বেশ আগ্রহ বোধ করছে । কেন করছে ও নিজেও জানে না !
ওর আরও জানা নেই যে আগামী দুই মাসের ভেতরে ওর জীবনটা পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে ! এমন একটা জীবনের ভেতরে প্রবেশ করতে চলেছে যেটার কথা ও নিজেও কোন দিন কল্পনা করে নি !
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now