বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দৃষ্টি আকর্ষন(২য় &শেষ পর্ব)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Opu Ahasan (০ পয়েন্ট)

X নিশির কথা: -ম্যাডাম আর কিছু দিবো ? পিয়ন সলিম চা দেওয়ার পরেও চলে গেল না । দাড়িয়ে রইল । -কিছু বলবা ? সলিমের মুখ দেখেই মনে হচ্ছিল যে কিছু বলবে । কিন্তু ঠিক যেন বলতে ভয় পাচ্ছে । সলিম বলল -কালকের সেই সাহেব এসেছে ? -কে ? -ঐ, কাল যে এসেছিল আপনার সাথে দেখা করতে । মেজাজটা খানিকটা খারাপ হল । সলিম কে বললাম -কাল আমি কি বলেছিলাম ? সলিম খানিকটা কাচুমাচু হয়ে বলল -আমি ওনাকে বলেছিলাম আপনি ওনার সাথে দেখা করতে চান না । তবুও খুব করে ধরলো !! আমি না করতে পারলাম না । বলল যে একটু কথা বলতে চায় । আপনা আপনি আমার মেজাজটা আরো খারাপ হয়েছে গেল । এই ছেলেটা পেয়েছে কি ? নিজেকে কি ভাবে ? সে যেমন টা ভাবে সব কিছু তেমনই হবে ! বললাম -কোথায় আছে ? -ম্যাডাম ওয়েটিং রুমে বসে আছে । ওয়েটিং রুমে গিয়ে দেখি ছেলেটা মাথা নিচু করে বসে আছে । আমাকে দেখেই উঠে দাড়াল । অপু কিছু বলতেই যাচ্ছিল কিন্তু ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বললাম -কি পেয়েছেন আপনি ? এভাবে আমাকে বিরক্ত করার মানে কি ? -আমি তো .. -শুনুন আপনার কোন কথাই আমি শুনতে চাই না । আপনি এখন চলে যাবেন । আর কখনও আসবেন না । সলিম পিছনেই ছিল । সলিমকে বললাম -এই লোকটাকে আর অফিসে ঢুকতে দিবা না । মনে থাকে যেন । আমি আর দাড়ালাম না । নিজের ডেস্কে ফিরে এলাম । আমার কেন জানি মনে হচ্ছে অপু এখনই চলে যাবে না । অফিসের বাইরে দাড়িয়ে থাকবে । কালকের মত করবে । কালকে যখন ওর সাথে দেখা করতে চাইলাম না অপু চলে গেল । ভেবেছিলাম চলে গেছে হয়তো । অফিস ছুটির পর যখন স্টাফ বাসে উঠব তখনই দেখলাম । অফিসের বাইরে যে বড় জারুল গাছটা আছে তার পাশে দাড়িয়ে আছে । তাকিয়ে আছে আমার দিকে । অপুর চোখে কেমন একটা বিষন্নতার ভাব, কেমন একটা অপরাধীর মত চোখ করে সে আমার দিকে তকিয়ে আছে । ছেলেটা কি সকাল থেকেই এখানে অপক্ষা করছিল ? একবার মনে হল অপুকে ক্ষমা করে দেই কিন্তু পরক্ষনেই মনের অন্য পাশটা বিদ্রোহী উঠল । কিছুতেই না !! কিছুতেই ক্ষমা করা যাবে না ছেলেকে ! এই ছেলেটা ইচ্ছে করে আমাকে কষ্ট দিয়েছে । গত ছয়টা মাস কেবল এই ছেলেটার জন্য আমি মানষিক কষ্ট ভোগ করেছি ! এই ছেলেটাকে আমি কিছুতেই ক্ষমা করবো না । কাল তাই ওর দিকে না তাকিয়েই বাসে উঠে পড়েছিলাম । আজও কি ছেলেটা বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবে ? করলে করবে না করলে করবে না ! আমার কি ? আমি কেন ভাবছি এতো । কাজে মন দেওয়ার চেষ্টা করলাম । কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার ঘুরে ফিরে কেবল ঐ ফাজিল ছেলেটার কথাই মনে আসছে । যখন আগের অফিসে ছিলাম প্রতিটা সময় কেবল এই ছেলেটার কথাই ভাবতাম । ভাবতাম কেন ছেলেটা আমার সাথে এই রকম করে ! সবার সাথে কেমন স্বাভাবিক কেবল আমার সাথেই কেন এমন আচরন ? আর এখনও একই কথা ভাবছি !! আচ্ছা ছেলেটা কি সত্যি সত্যিই সরি ফিল করছে ?? একটা মানুষ তো ভুল করে ! আবার সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিতে হয় । কথাটা আব্বু বলেছিল । গত মাসে ঐ অফিস থেকে রিজাইন করার পর দিনই অপু বাসায় এসে হাজির । একদম সকাল বেলা । সকাল বেলা নাস্তা করতে গিয়ে দেখি আব্বুর সাথে বসে কথা বলছে । মনটা এমনতেই খারাপ ছিল অপুকে সকাল বেলা দেখে আরো খারাপ হয়ে গেল । আব্বুর সামনেই যা ইচ্ছা তাই বলে ছেলেটাকে বের করে দিলাম । আমি কেবল আমার অপমানের প্রতিশোধ নিতে চাইছিলাম । ছেলেটা মাথা নিচ করেই চলে গেল । আব্বু সে দিন অনেক অসন্তুষ্ট হয়েছিল আমার উপর । বলল যে -এমন কেন করলি তুই ছেলেটার সাথে ? -বাবা যেইটা জানবা না সেইটা নিয়ে কথা বলবা না । তুমি জানো না এই ছেলেটা আমার সাথে কি করেছে । আমাকে কত খানি ইনসাল্ট করেছে -মানলাম করেছে কিন্তু ছেলেটা তো সরি বলতে এসেছে । ভুল মানুষ করেই । করবেই । কিন্তু কিন্তু সেই ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়াই হল মানুষের বৈশিষ্ট । আর ক্ষমা করাটাও মানুষের পরিচয় । একবার মনে হল আব্বু কথাটা হয়তো ঠিক । কিন্তু নিজের মন কে কিছুতেই বোঝাতে পারছিলমা না । বারবার আমার ঐদিন গুলোর কথা মনে পরছিল । আমার দুঃসহ দিন গুলোর কথা ! আচ্ছা ছেলেটা বলল যে আমার দৃষ্টি আকর্ষনের জন্যই নাকি সে এমনটা করেছে । এটা একটা কথা !! কারো দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য তাকে পুরোপুরি এভাবে উপেক্ষা করতে হয় ! আমি কিভাবে ভুলে যাবো?? না কিছুতেই ভুলবো না। ছেলেটাকে ক্ষমাও করবো না । কিছুতেই করবো না । তারপর থেকেই ছেলেটাকেই কেবল দেখতাম । আমার সাথে কথা বলতে চাইতো ! আমি কিছুতেই পাত্তা দিতাম না । এখনও দিবো না । কোনদিন দিব না !! অফিস থেকে বের হতে হতে অন্ধকার হয়ে গেল । বাসে উঠতে যাবো ঠিক তখন আবার ঐ জারুল গাছটার দিকে চোখ গেল । ছেলেটা দাড়িয়ে আছে ! আমি নিশ্চিত ছেলেটা দাড়িয়ে আছে । যদিও খুব স্পষ্ট করে দেখা যাচ্ছে না কিন্তু আমি জানি ছেলেটা দাড়িয়েই আছে । আচ্ছা একবার কি শুনে নিবো ছেলেটা কি বলে ? ছেলেটাতো মেন হয় প্রতিদিনই এখানে দাড়িয়েই থাকবে !! না কি হবে শুনে ? কিন্তু না শুনলে ছেলেটা তো আমার পিছু ছাড়বে না ! বাসের ড্রাইভা রকে বললাম যে আমার জন্য অপেক্ষা না করতে ! তারপর ছেলেটার দিকে হাটা দিলাম । রেস্টুরেন্টের টিমটিম আলো তে ছেলেটার চেয়ারা টা কেমন যেন লাগছে । বিষন্ন তবে অন্য দিনের তুলনায় কম ! আমি বললাম -আপনাকে দেখছি আপনি কদিন ধরে কেবল আপনার পেছনে লেগে আছেন ? আপনার আর কোন কাজ নাই ? অফিস যান না ? ছেলেটা মাথা তুলে তাকালো !! -আমি চাকরী ছেড়ে দিয়েছি ! এটা আমাকে খানিকটা অবাক করলো । বললাম -কেন জানতে পারি ? -আমার জন্য একটা মানুষ রিজাইন করেছে, আমার ভুলের জন্য । আমি কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না । বিশ্বাস করবেন কি না জনি না গত একমাস ধরে আমি ঠিক মত ঘুমাতে পারি নি । কোন কাজ ঠিক মত করতে পারি নি । কি যে একটা পাপ বোধ নিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছি আমি !! আমার কথাটা কেন জানি সত্যই মনে হল । ছেলেটার চোখ কেমন বসে গেছে, চোখের নিচে কালিও পরেছে ! ছেলেটা বলল -আমি এই অশান্তি থেকে মুক্তি চাই , আর যতদিন না আপনি আমাকে ক্ষমা করছেন ততদিন আমি শান্তি পাবো না । কিছুতেই শান্তি পাবো না । আমি বললাম -আর আমি যে ভাবে দিন গুলো পার করেছি সেটার কি হবে ? আমি বিনা কারনে কষ্ট পেলাম সেটার কি হবে ? দেখুন অপু সাহেব আমি ছোট বেলা থেকেই খুব জাদি টাইপের মেয়ে । আমাকে কেউ আঘাত দিলে আমি সহজে ভুলতে পারি না । -আপনি কি করতে বলেন আমাকে ? আপনি যা বলবেন তাই আমি করতে প্রস্তুত !! আমি কিছু বললাম না । ভাবতে লাগলাম কি বলবো ? কি করলে ছেলেটার উপর আমার রাগ কমবে ? মাথা টাক করে ঘোল ঢেলে দিবো ? নাকি সারা রাত বুড়িগঙ্গার পানিতে বসে থাকতে বলব ? অথবা সবার সামনে কান ধরে উঠবস করটে বলবো কি বলবো ????? ছেলেটা তখন বলল -আমি একটা কথা বলব ? -বলুন? -ঠিক খুজে পাচ্ছে না তো আমাকে কি শাস্তি দিবেন ? আমি একটা উপায় বলব? -বলুন । -আপনি আমাকে বিয়ে করে ফেলুন ! -মানে ? -আগে শুনুন ! বিয়ের পর আমার লাইফটা ভাজা ভাজা করে ফেলবেন আমি কিছু বলতে পারবো না । সব কিছু সহ্য করে নিতে হবে । ভাল বুদ্ধি না একটা । যে আপনাকে কষ্ট দিয়েছে তাকে সারা জীবন যন্ত্রনা দেওয়া পারমিট পেয়ে যাবেন ! -আপনার বক্তব্য শেষ হয়েছে ? আমি আসি আমার এখানে আসাটাই ভুল হয়ে গেছে ! আমি উঠতে গেলেই অপু আমার হাত চেপে ধরলো !! বলল -নিশি, আমি জানি আমি ভুল করেছি কিন্তু বিশ্বাস কর যাই করেছি কেবল মাত্র তোমার এটেনশন পাবার জন্য ! তোমার কাছে........। প্লিজ এভাবে যেও না ! আমাকে আর একটা বার সুযোগ দাও ! দেখ আমি ঠিক যেভাবে তোমাকে কষ্ট দিয়েছি তার থেকেও হাজার গুন ভালবাসা দিয়ে তোমার জীবনটা ভরে দেব । কেন জানি আমার দম বন্ধ হয়ে গেল অপু কথাটা শুনে । অপুর চোখ দুটো কেমন আকুল হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । আর যাই হোক ওখানে কোন ছলনা আমি দেখতে পেলাম না । অপুর চোখে কি পানি ? ও কি কাঁদছে ? আমি খেয়াল করলাম আমার চোখে পানি চলে এসেছে ! আমি কি কাঁদছি ! আশ্চর্য !! বড় অদ্ভুদ মানুষের মন !! আমি বসে পড়লাম আবার !! বললাম -খুব জ্বালাবো কিন্তু ! কিছু বলতে পারবে না ! অপুর চোখ দিয়ে তখন পানি গড়িয়ে পড়লো । হেসে বলল -একটা টু শব্দও কোনদিন করবো না !!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now