বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আপানর মোবাইল নাম্বার কিন্তু আমি মুছে দিয়েছি........
X
প্রতিদিনের মত নিহিন ভার্সিটিতে যাচ্ছিল । পনের নাম্বর ঝিকাতলা থেকে যখন বাসে উঠল তখন বাসের প্রায় সব সিট ভরে গেছে । কেবল দেখল বাদিকের একটা ডাবল সিটের একটা ফাকা আছে । একটা ছেলে বসে আছে ।
.
নিহিন ঐ ফাকা সিট টাতেই বসে পড়ল । ঢাকা শহরে থাকতে হলে এতো কিছু ভাবলে চলে না । আর পাশের ছেলেটা দেখতে শুনতে তো খারাপ না । চেহারাটা একটু শ্যামলা তবে চোখ দুটো কি মায়াময় ! ছেলেটির পাশের বসার সময় নিহিহের একবার চোখাচোখি হল । কেমন একটা চাহনী দিয়ে ছেলেটি খানিকক্ষন তাকিয়ে রইল ছেলেটির দিকে । তারপর চোখ সরিয়ে নিল ।
.
নিহিন যখন ছেলেটার পাশে বসল ছেলেটা কেমন একটু জড়সড় হয়ে বসেল । এটা নিহিনের বেশ ভাল লাগল । কিছু কিছু ছেলে আছে যারা মেয়েদের পাশে বসলেই কেমন ইচ্ছা করেই গায়ের সাথে গা লাগায় । নিহিনের বড় মেজাজ খারাপ হয় ।
.
সেই তুলনায় এই ছেলেটা কত ভদ্র । কেমন জড়সড় হয়ে বসে আছে চেষ্টা করছে যেন নিহিনের শরীরের সাথে স্পর্শ না লাগে । নিহিনের একবার খুব বলতে ইচ্ছা হল যে আপনি সহজ হয়ে বসুন । কিন্তু লজ্জার কারনে বলতে পারল না ।
.
চুপচাপ এভাবেই বাস এগিয়ে চলছিল । হঠাত্ ছেলেটা ওর ডান পকেটে হাত দিল । কিছু একটা খোজার চেষ্টা করছে যেন ! তারপর বাম পকেটে ! তার আবার একই কাজ আবার করলো ! কেমন একটা অস্থির ভাব ।
.
ছেলেটার অস্থিরতা দেখে নিহিনের মনের মধ্যেও যেন অস্থিরতা দেখা দিল । বারবার মনে হতে লাগল যে ছেলেটা এতো কি নিয়ে অস্থির !
কিছু কি হারিয়ে গেল ছেলেটার !
মনে তো তাই হচ্ছে !!
.
একবার মনে হল এতো কেন ভাবছে ছেলেটাকে নিয়ে ? কোথাকার কে না কে ?
.
কিন্তু মানুষের মন বড় অদ্ভুদ জিনিস । বিশেষ করে মেয়েদের মন । কখন কি যে চায় বোঝা বড় মুশকিল !
তাকাবে না তাকাবে না করেও নিহিন ছেলেটার দিকে তাকিয়েই ফেলল ।
.
ছেলেটার চেহারায় তখন দিশেহারা ভাব !
.
সত্যি কিছু একটা নিশ্চই হারিয়েছে ছেলেটা ! নিহিন বলল
.
-কোন সমস্যা ?
.
-আমার মোবাইলটা খুজে পাচ্ছি না । পকেটেই ছিল । বোধ হয় পরে গেছে অথবা কেউ নিয়ে গেছে !
.
ছেলেটার মুখ দেখে একটু মায়াই লাগলো ! নিশ্চই অনেক প্রিয় মোবাইল ছিল !
.
আসলে মোবাইল জিনিসটাই এমন । ব্যবহার করতে করতে এর উপর একটা মায়া জমে যায় ! হারিয়ে গেলে খারাপই লাগে !
.
নিহিন বলল
.
-মনে হয় কোথাও পড়ে গেছে ! ফোন দেন ! ফোন দিয়ে দেখেন !
.
-আমার কাছে তো আর মোবাইল নাই ।
.
-আচ্ছা আপনার নাম্বর টা বলেন আমি ফোন দিচ্ছি !
.
নিহিন মোবাইল বের করলো !
.
ছেলেটা নাম্বর বলল । মোবাইলে ডায়েল করার একটু পরই রিং হতে লাগলো । নিহিন ভেবেছিল যে হয়তো কেউ ফোন ধরবে না অথবা মোবাইল বন্ধ হবে । কিন্তু না । মোবাইলে রিং হচ্ছে এবং রিংয়ের আওয়াজ টা আসছে কাছ থেকে !
.
নিহিন দেখলো ছেলেটা ওর প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে একটু দিয়ে বলল
.
-আরে , মোবাইল তো এখানে !
.
তারপর একটু হাসলো । নিহিনের হাসিটা কেন জানি ভাল লাগলো না । কেমন একটু দুষ্টামির হাসি । নিহিনের খানিকটা সময় লাগলো ব্যাপার টা !
.
নিহিন প্রথমে কিছুক্ষন কোন কথাই বলতে পারল না । ও ভাবতেই পারছেনা ছেলেটা এমন একটা কাজ করতে পারে ! অন্তত ছেলেটাকে দেখেতো এমন মনে হয়েছিল না । কি মায়াময় নিশ্পাপ একটা ছেলে ! আর এমন একটা কাজ করল !
.
নিহিন লক্ষ্য করলো ছেলের টার উপর ওর প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হচ্ছে । কোন মতে নিজের রাগ সামলে ও ছেলেটাকে বলল
.
-আপনি এমন কাজটা কেন করলেন ?
ছেলেটা একদম দুধের বাচ্চার মত মুখ করল, যেন কিছু বোঝেই না । বলল
.
-কোন কাজটা বলুনতো ?
.
-কোন কাজটা বোঝেন না ? ঢং করেন ?
.
ছেলেটা আবার বোকা বোকা একটা ভাব আনলো । তারপর মাথা দুপাশে নাড়িয়ে বলল
.
-আমি ঢং করছি না সত্যি ।
.
-তাহলে আপনি এই কাজটা কেন করলেন বলেন? বলেন কেন করলেন ?
.
-আরে সত্যি বলছি আমার মোবাইলটা খুজে পাচ্ছিলাম না । আমার মনে হয়েছিল মোবাইলটা বুঝি পরেই গেল ।
.
-আপনার পকেটে মোবাইল আর আপনি বোঝেন নি যে আপনার মোবাইলটা কোথায় ? আামকে বোকা পেয়েছেন?
.
এই কথা শুনে ছেলেটা একটু হাসলো ।
.
ছেলেটার এই হাসি দেখে মেন হলো ছেলেটা খুব মজা পাচ্ছে নিহিনের কথা শুনে ! ছেলেটা তো সত্যি ওকে বোকাই পেয়েছে ! কি চালাকি করে ওর মোবাইল নাম্বরটা নিয়ে নিল । আর ও বোকার মত মোবাইল নাম্বার টা দিয়েও দিল !
.
নিহিনের এতো রাগ লাগছে । ছেলেটার তো লাগছে তার থেকেও নিজের উপর বেশি লাগছে ! এমন গাধার মত কাজটা ও করলো কিভাবে ??
নিহিন রাগ সামলাতে সামলাতে বলল
.
-আপনি আমার মোবাইল নম্বার মুছুন । তাড়াতাড়ি মুছুন বলছি !!
.
ছেলেটা আমার হাসলো । বলল
.
-আচ্ছা । আপনি রাগ করবেন না । আমি মুছে দিচ্ছি ।
ছেলেটা ওর সামনে মোবাইল বের করে নাম্বরটা মুছে দিল । বলল
.
-খুশি ?
.
নিহিন আর কোন কথা বলল না । তবুও মেজাজটা খারাপ হয়েই রইল । কি সহজ ভাবেই না ছেলেটা ওকে বোকা বানিয়ে ফেলল । আর ও কি সহজেই না বোকা হয়ে গেল ! এই বুদ্ধ নিয়ে ঢাকা শহরে চললে কি হবে ?
.
তবে এটা একটা আশার কথা যে ছেলেটা ওর সামনেই মোবাইল নাম্বারটা মুছে দিয়েছে ।
এই জন্যই কিনা নিহিন জানে না যে ছেলেটার উপর রাগটা খানিকটা কমে এল । আর ছেলেটাকে ভদ্রই মনে হল । কারন যদি ভদ্র না হত তাহলে মোবাইল নাম্বার মুছতো না ।
.
শাহবাগে এসে নিহিন নেমে গেল । বাসটা তখনও ছেড়ে যাই নি । নিহিন রাস্তা পার হয়ে এপাড়ে আসার পরই ওর মোবাইলটা বেজে উঠল ।
বে রকরে দেখে আন নোন নাম্বার ।
.
-হ্যালো
.
-আপনি চিন্তা করবেন না । আপনার মোবাইল নাম্বারটা কিন্তু আমি মুছে দিয়েছি ।
.
- মানে?
.
নিহিনের চোখ গেল বাসটার দিকে । ছেলেটা হাসি মুখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । হাত নাড়ল । তারপর আবার বলল
.
-আপনার নাম্বার !! আমি মুছে দিয়েছি !!
.
বাস তখন ছেড়ে দিয়েছে । ছেলেটা হহাত নাড়তে নাড়তে চলে গেল ।
.
আর নিহিন বোকার মত দাড়িয়েই রইল শহবাগ মোড়ে !!
.
চলবে...
বাই অপু তানবির
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now