বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বই খাতা ক্লাসে রেখে কলেজ মাঠে
বন্ধুদের সাথে অাড্ডা দেয়া আমার
স্বভাবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আজ নিয়ে
চার দিন বইয়ের ভিতর চারটা চিরকুট খুঁজে
পেলাম। তবে কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিনা
বইয়ের ভিতর কে চিরকুট রাখে। কারন
চিরকুটে প্রেরকের কোন নাম দেয়া
থাকেনা। কাউকে সন্দেহও করতে পারছিনা,
কে রাখতে পারে আমার বইয়ে চিরকুট?
প্রথম চিরকুটে লিখা ছিল, "এই ছেলে,
মাথার চুলগুলো ভাল করে অাচড়ানো
যায়না? "
চিরকুটটি হাতের কাছে নিয়ে ধরে চিন্তা
করেছিলাম। অামি চুল ঠিকভাবে অাচড়াইনা
এটা কে খেয়াল রাখে? আর চিরকুটটি ছেলে
রেখেছে নাকি মেয়ে রেখেছে সেটাওতো
জানিনা।
দ্বিতীয় চিরকুটে লিখা ছিল, "বাম গালের
তিলটার চেয়ে ডান গালের টোলটা বেশী
সুন্দর।"
কে হতে পারে? ভেবে কোন কূল খুঁজে
পাইনি।
তৃতীয় চিরকুটে লিখা ছিল, " আমাকে
খুঁজলেও পাবেনা, তবে অাছি তোমার
অাশেপাশেই"
আজকে যখন খেয়াল রাখছিলাম একটু পর
পর আমার বইয়ের কাছে কে অাসে। তখনই
এক বন্ধু হাত ধরে টেনে মাঠে নিয়ে গিয়ে
বলল, "দোস্ত অামি প্রেমে পড়ছি, একটু
সাহায্য কর।"
ওখান থেকে ক্লাসে এসেই দেখি বইয়ের
ভিতর চতুর্থ চিরকুট। তাতে লিখা,
"তোমাকে অাজ সাদা টিশার্টে দারুন
মানিয়েছে।"
কিযে করব কিছুই ভাবতে পারছিনা, কে হতে
পারে এই চিরকুট দাতা?
.
শুক্রবারে ঘুম থেকে দেরীতে উঠার
অভ্যেস অনেক দিনের।
হঠাৎ কানের কাছে দুই চামচের শব্দে
রেগেমেগে উঠে গেলাম। উঠে দেখি লিনা
দাড়িয়ে অাছে।
--- কি ব্যাপার লিনা? তুই এমন করলি
কেন?
--- অামি কি করব? আন্টিইতো বলল
তোকে ডেকে তুলতে।
--- তুই জানিসনা অাজ শুক্রবার? (একটু
রেগে গিয়ে)
--- আমার সাথে রাগ দেখাচ্ছিস কেন?
অান্টিকে জিজ্ঞেস কর কেন ডাকতে
বলেছে?
বলেই মুখে ভেংচি কেটে লিনা বের হয়ে
গেল।
.
লিনাদের বাড়ি অামাদের বাড়ির দুইটা বাড়ি
পরে। প্রায় সারাটাদিনই আমাদের বাড়িতে
থাকে। অামার ছোট বোনটার সাথে সময়
কাটায়। অাম্মুকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য
করে। আমাকে তো আম্মু প্রায়ই বলে, "
দেখ লক্ষী মেয়ে কাকে বলে? তোর
জন্যও এমন একটা লক্ষী মেয়ে অানব।
লিনা এমন কথা শুনলেই অামাদের ঘর
থেকে দৌড়ে বের হয়ে যেত। মনে হচ্ছে
যেন ওর অার অামার বিয়ের কথা চলতেছে।
.
ঘুম থেকে উঠে আম্মুর কাছে গেলাম। গিয়ে
দেখি অাম্মু বাজারের ব্যাগ নিয়ে দাড়িয়ে
অাছে।
"এই শ্রাবণ তারাতারি নাস্তা করে নে।
আর এই ধর বাজারের ব্যাগ, তোর অাব্বু
ঢাকায় গেছে। আজকের বাজারটা তুই করে
নিয়ে অায়। "
মনের দুঃখে বনে যাইতে ইচ্ছা করতেছে।
আম্মুর হাত থেকে বাজারের ব্যাগ নিয়ে না
খেয়েই বের হয়ে গেলাম।
.
★ ★ ★
বহু কষ্টে খুঁজে পেয়েছি কে অামার বইয়ের
ভিতর চিরকুট রাখে। কিন্তু প্রমান
ছাড়াতো কিছুই বলতে পারছিনা। মেঘলা
নামের মেয়েটি কয়েকদিন ধরে অামার দিকে
অাড়চোখে তাকিয়ে মিষ্টি মিষ্টি হাসে।
মেঘলা ছাড়া এই কাজ কেউ করবেনা।
নয়তো আমাকে দেখে এভাবে হাসবে কেন?
আজ ক্লাসরুমের আশে পাশে কয়েকটা
চক্কর দিয়ে এসে বই চেক করে দেখি চিরকুট
রাখেনি। তাই আবারো চলে গেছি মাঠে।
দেখি আজ আমার জন্য চিরকুটে কি লিখে।
.
কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আবারো
যখন বইয়ের ভিতর চিরকুট খুঁজে পাইনি
তখন মনটা একটু খারাপ হল। আমিও মনে
মনে চিরকুটটির আশায় ছিলাম। না
পাওয়াতে মন খারাপ করেই বাসায় ফিরে
গেলাম।
আম্মু দেখেই বুঝে গেল অামার মন খারাপ।
মাথায় হাত বুলিয়ে জানতে চাইল কি
হয়েছে। কিছু হয়নি বলে আমার রুমে এসে
শুয়ে পড়েছি। এক নাগারে চারদিন চিরকুট
খুঁজে পাওয়ার পর আজ হঠাৎ না পেয়ে
কেমন শূন্যতা কাজ করছে।
লিনা থাকলে হয়তো আমার মনটা ভাল
করতে পারত। একটা কিছু নিয়ে ঝগড়া শুরু
করলেই হত। রেগেমেগে গিয়ে অাম্মুর কাছে
বিচার দিত আর আমি দাঁত কেলিয়ে
হাসতাম।
আজ কি লিনা এলনা নাকি? আম্মুর কাছে
জানতে চাইলাম।
--- আম্মু আজ লিনাকে দেখছিনা যে?
--- তুইতো মেয়েটাকে দেখতেই পারিসনা।
এখন খুঁজছিস কেন? ঝগড়া করার জন্য?
--- হ্যাঁ ঝগড়া করার জন্যই।
--- লিনার নাকি হঠাৎ জ্বর এসেছে। লিনার
ভাইটা এসে বড়ই নিয়ে গেছে ভর্তা করে
খাওয়ানোর জন্য।
আবারো রুমে চলে এলাম। লিনারও জ্বর
অাসার অার সময় পেলনা।
.
★ ★ ★
--- এই যে, তুমি অামাকে দেখলে হাসো
কেন?
--- হাসতে তো মানা নেই। আমি
তোমাকে দেখে হাসিনা। এমনি বেশীরভাগ
সময় অামি হাসিখুশি থাকি।
--- আচ্ছা ঠিক আছে।
--- এই শুনো। এখন কি অাবার মাঠে যাবা?
স্যারতো এসেই পড়বে এখন। আর সবাই
ক্লাসে অাড্ডা দেয় তুমি মাঠে যাও কেন
আড্ডা দিতে?
--- সবাই ক্লাসে অাড্ডা দিলে আমি মাঠে
গিয়ে কি ভূতের সাথে আড্ডা দেই?
বলেই ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলাম। আর
মনে মনে ভাবতেছি আজ হয়তো চিরকুট
রাখবে।
.
আজো যখন চিরকুট খুঁজে পাইনি তখন
মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেল। মেঘলাকে
দেখে আমার মনে কোন প্রেম জেগে
উঠেনি। তবে আমার মনে হচ্ছে অামি
চিরকুটের প্রেমে পড়েছি। দুইদিন চিরকুট না
পেয়ে মনটা কেমন যেন হয়ে গেল। দুই এক
লাইনের চিরকুটে কি এমন জাদু থাকতে
পারে?
কিন্তু যে আমাকে খেয়াল রাখত চিরকুটে
ছোট করে প্রকাশ করত তাকে একটিবার
দেখার ইচ্ছে ছিল।
পুরোনো চারটি চিরকুট বের করে বারবার
দেখেও মন ভরেনা।
.
★ ★ ★
বিকেলে একটু বাইরে বের হয়েছিলাম মনটা
ভাল করার জন্য। হঠাৎ মনে পড়ল আগের
চিরকুটগুলোর কথা। আমি যদি আগের
চিরকুট নিয়ে ক্লাসের সবার হাতের লেখা
মিলাই তাহলে নিশ্চিত আমি বের করতে
পারব কে চিরকুট লিখে।
বাড়িতে এসে দেখি লিনা আমার রুমে বসে
আমার বই গুছাচ্ছে। সর্বনাশ,
চিরকুটগুলো লিনা খুঁজে পেলেতো আম্মুর
কাছে বলে দিবে।
এগিয়ে গেলাম লিনার দিকে। আমাকে দেখে
থতমত খেয়ে দাড়িয়ে গেল। আমি দাঁতে
কিড়মিড় করতেছি।
--- আমার বই ধরতে তোকে কে বলেছে?
--- শ্রাবণ তোর জন্য না একটা বকুল
ফুলের মালা বানিয়েছি। এই নে ধর, তুই
কলেজে ছিলি তাই দিতে পারিনি।
--- তোর মালা তুই মাথায় দিয়ে বসে থাক।
জানতে চাইছি আমার বই ধরলি কেন?
--- ধমক দিচ্ছিস কেন? এলোমেলো
বইগুলো গুছিয়ে দিয়ে কি অপরাধ করেছি?
--- অপরাধই, তুই আমার রুমে অার
অাসবিনা। আমার বই খাতা কিছু ধরবিনা।
.
লিনা কিছু না বলে মালাটা হাতে নিয়ে বের
হয়ে যাচ্ছে। আমি জানি লিনা এখন অাম্মুর
কাছে বিচার দিবে অার বাড়িতে গিয়ে কান্না
করবে। এভাবে বলাটা মনে হয় উচিত হয়নি।
একটু এগিয়ে গেলাম, দেখি আম্মুর কাছে কি
বলে। কিন্তু কিছু না বলেই লিনা বাড়ি চলে
গেল। থাক, আবার মন ভাল হলে এমনিতেই
আসবে। রুমে গেলাম আগের চিরকুটগুলো
ঠিক অাছে কিনা দেখতে। বইয়ের পৃষ্ঠা
উল্টাতে গিয়ে অবাক হয়ে গেলাম। আগের
চিরকুটগুলো ঠিকই আছে, সাথে নতুন
একটা চিরকুট। কিন্তু আমি কলেজ থেকে
ফেরার পথেতো বই খুঁজে চিরকুট পাইনি,
এখন এল কোথা থেকে?
চিরকুটটি হাতে নিলাম, তাতে লিখা..
"দুইদিনতো চিরকুট দেইনি। একটিবারের
জন্য কি চিরকুটের কথা মনে পড়েছিল?
অামি তোমাকে দুদিন না দেখে কষ্ট
পাইতে পারলে তুমি কেন চিরকুট না পেয়ে
মন খারাপ করতে পারবেনা? "
দাড়ানো থেকে বসে পড়লাম। লিনা দুদিন
অসুস্থ্য ছিল তাই অামাদের বাড়ি অাসতে
পারেনি। লিনা অামাকে চিরকুট লিখেছে
এতদিন। তার মানে কি লিনা অামাকে
ভালবাসে? আর অামাকে দেখার জন্যই
অামাদের বাড়ি অাসে?
অামিতো ভাবতাম ছোট বোনটার সাথে
দেখা করতে অাসে। আর নয়তো আম্মুর
সাথে দেখা করতে অাসে। আম্মুর মনতো
লিনা অাগেই জয় করে ফেলেছে।
সেজন্যইতো অাম্মু বলে "লিনার মত
এমন লক্ষী একটা মেয়ে পুত্রবধূ করে ঘরে
অানব। "
.
★ ★ ★
দুইদিন হয়ে গেল লিনা অামাদের বাড়ি
অাসেনা। মেয়েটাকে এভাবে কথাগুলো বলে
কষ্ট দেয়া ঠিক হয়নি। এখন অামিও এক
অজানা দহনে জ্বলছি।
চিরকুটের প্রেমেতো অাগেই পড়েছি। আর
যখন থেকে জানতে পারলাম চিরকুট লিনা
রেখেছে তখন থেকেই লিনাকে খুব করে
দেখতে ইচ্ছে করছে।
দুবার গিয়ে লিনাদের বাড়ির অাশেপাশে
ঘুরঘুর করেছি। বাড়ির বাইরে বের হতে
দেখিনি। পাশের বাড়ির এক ভাগনীকে দিয়ে
খবর পাঠিয়েছি, "গিয়ে বলবা শ্রাবণ
ভাইয়ের অাম্মু ডাকতেছে"
রুমে এসে শুয়ে অপেক্ষা করতেছি। হঠাৎ
লিনার ডাক শুনতে পেলাম।
--- অান্টি অাপনি অামাকে ডেকেছেন?
(লিনা)
--- নাতো মা। কে বলেছে তোকে?
(আম্মু)
--- সিনথিয়া ডেকে বলল আপনি
ডেকেছেন।
--- দাড়া তুই। ঐ যে সিনথিয়া। এই সিনথিয়া
এই, আমি লিনাকে ডাকতে বলেছি?
--- শ্রাবণ মামা পাঠাইছে অামাকে।
(সিনথিয়া)
--- আমি ভাতটা বসাই, শ্রাবণ রুমে অাছে।
জিজ্ঞেস করতো বজ্জাদটাকে। (অাম্মু)
.
★ ★ ★
লিনা এসে মাথা নীচু করে দাড়িয়ে অাছে।
কিছু বলার অাগে অামিই বলতেছি...
--- দুদিন কোথায় ছিলি? আসিসনি কেন
অামাদের বাড়ি?
--- তুইতো তোর রুমে অাসতে বারণ
করেছিস। তাই ভাবলাম কবে অাবার
বাড়িতে অাসতেই মানা করিস।
--- হইছে হইছে, এবার বল চিরকুট রাখতি
কেন অামার বইয়ের ভিতর?
কথাটা শুনে লিনা হতবাক হয়ে কিছুক্ষন
চুপ করে ছিল। তারপর আস্তে করে বলে
দিল...
---আচ্ছা, অার কখনো রাখবনা।
--- রাখবিনা মানে? আমার প্রতিদিন
একটি করে চিরকুট লাগবে। আর এমন ছোট
হলে হবেনা, আরো বড় করে লিখবি।
আমার কথা শুনে মাথা তুলে এতবার
তাকাল অামার দিকে। আবার বললাম,
--- এভাবে তাকিয়ে অাছিস কেন? আমার
বকুল ফুলের মালা কোথায়?
লিনার চোখে মুখে অানন্দের জোয়ার।
একটা হাসি দিয়ে বলল..
--- ফুল কুড়িয়েছি সকালে। তুই দাড়া আমি
এক্ষুনি মালা গেঁথে অানতেছি।
লিনা দৌড়ে চলে গেল মালা আনতে।
আসুক অাজ, ভালবাসার মালাটি আজ
লিনার গলাতেই পড়িয়ে দেব।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now