বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিহাদের রোবট

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এইচ আই ফাহাদ (০ পয়েন্ট)

X আজ হিমি তার বাচ্চা কে দুইটা থাপ্পড় দিয়েই বসল।গত এক সপ্তাহ যাবৎ বায়না ধরেছে তাকে ঐ বাসার নীল এর মত একটা রোবট কিনে দিতে হবে।হিমি হাজারবার বুঝিয়েছে তার বাবা দেশে আসুক তারপর কিনে দিবে,কিন্তু ১৪ বছরের নিহাদ কি আর সেই কথা শুনে !! থাপ্পড় খেয়ে অভিমান করে বসে আছে সে।দুপুরে ভাত খায় নি।লন্ডন থেকে ইমো তে আব্বুর ভিডিও কল আসার সাথে সাথে কান্না শুরু করে একান্ত অনুভুতির কথা বলতে থাকে তার আব্বুর কাছে।বলা শুরু করে তার আম্মুর বিরুদ্ধে হাজারও নালিশ এর ভান্ডার থেকে।ছেলের এই নিষ্পাপ আচরণ অনেকটাই প্রভাবিত করে ইন্সপেক্টর ফাহাদ কে।সে একটা স্পেশাল ট্রেইনিং এর জন্য আজ ৭ দিন ধরে লন্ডন এ। দিন ১৫ থেকে আবার এসে পরবে দেশে।একদম ই ভাল যাচ্ছিল না ফাহাদের দিনগুল।বাসায় তার একমাত্র ছেলে নিহাদ এবং স্ত্রী হিমাকে একা রেখে থাকতে ভাল লাগছিল না তার। আজ বিকেলেই সে বেরিয়ে পড়ল খেলনা রোবট কেনার উদ্দেশ্যে, দোকানে গিয়ে অনেকগুল রোবট দেখলেন।তার ভিতর থেকে সবচেয়ে বড় রোবোট টাই তিনি কিনে আনলেন।দেখতে প্রায় মানুষের সমান।সুইচ অন করলে একা একা কথা বলে স্বাগতম জানায়।হেঁটে দেখায়,খেলনা পিস্তল বের করে ফায়ার করে এবং বিভিন্ন অংগভঙ্গী করে।ফাহাদ মনে মনে ভাবে,আমার ছেলে নিশ্চই তার স্কুলে গিয়ে গর্ব করে বলবে আমার বাবা অনেক বড় একটা রোবট কিনে এনেছে,কথা বলতে পারে।হাঁটতে পারে। কথাগুল ভেবেই ফাহাদের চোখের কোনা টা চিকচিক করে উঠে।শত ব্যাস্ততার মাঝেও ফাহাদ অনেক ভালবাসে তার দুটো চোখের মণি হিমা এবং নিহাদ কে।তাদের মুখে হাসি দেখলেই ফাহাদ সব ক্লান্তি ভুলে যায় তাদের চোখের তারায় ফাহাদ যেন দেখতে পায় তার সবটুকু পৃথিবী। রোবট টা অনেক ভারী। ট্যাক্সি করে বাসায় ফিরে নিহাদ কে ভিডিও কল এ রোবট টা দেখাল।নিহাদ এত খুশি ছিল যে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে আম্মুর কাছে গিয়েছে।এমন কি কথা বলা শেষে ফোন রেখে দিয়ে সে দৌড়াল তার অন্যান্য বন্ধুদের বাড়িতে।সব্বাইকে জানাবে তার বাবা তার জন্য ইয়া বড় একটা রোবট কিনেছে। ____ কয়েকদিন পরেই নিহাদের বাবা দেশে ফিরেন।তাকে বিমান বন্দরে রিসিভ করতে যায় ফুটফুটে বাচ্চা নিহাদ ও স্ত্রী হিমা। হিমা আজকে লাল-কালো একটা শাড়ি পড়েছে।ফাহাদ চোখ সরাতে পারছিল না।হিমাও মিটি মিটি হাসছিল।ফাহাদ ও হিমা নিহাদ কে মাঝে রেখে দুজনে দুই হাত ধরে রওনা দিলেন ট্যাক্সির উদ্দেশ্যে।এতদিন পর বাবা কে পেয়ে বেমালুম রোবট এর কথা ভুলেই গেল নিহাদ।বাবার সাথে ১৫ দিনের জমানো কথা বলতে বলতে ট্যাক্সি করে তারা বাসায় পৌছাল।হঠাৎ করেই নিহাদের রোবট এর কথা মনে পড়ল।সে বাবার কাছে গিয়ে বলতেই বাবা তাকে বলল তোমার রোবট টা অনেক বড়।তাই বিমান বন্দরের ভিতরেই রেখে এসেছি।একটু পর আমার লোকজন নিয়ে আসবে গিয়ে।শুনে খুব ই খুশি হল নিহাদ।???? ___________ রোবট পাওয়ার পরে নিহাদের লেখাপড়া একদম ই চালে।ইয়া বড় রোবট সারাদিন কি সব শব্দ করে সারা ঘর মাতিয়ে রাখে।এখানে সেখানে দৌড়াদৌড়ি করে নিহাদের সাথে ভাল ই খেলাধুলা করে।নিহাদ যেন একটা নতুন বন্ধু পেয়েছে।উচ্চতায় নিহাদের চেয়েও ফুট খানেক বড় একটা রোবটের পিঠে চড়ে ঘুরে বেরাতে নিহাদ একদম ই ভুলে যায় না। সামনে কয়েকদিন পর ই এক্সাম। নিহাদ আজ সন্ধ্যা বেলা ই পড়তে বসে।কিন্তু মন পরে থাকে রোবট টার দিকে।সে চুপি চুপি পা টিপে গিয়ে রোবট টাকে অন করে।সাথে সাথে রোবট টা Welcome বলে উঠে।শব্দ টা নিহাদের আম্মু হিমির কানে যায়।হিমি উঠে এসে নিহাদ কে একটা সজোরে থাপ্পড় লাগায়।নিহাদ খুব কষ্ট পায়।মন টা অনেক খারাপ করে অভিমান করে পড়ার টেবিল এ বসে থাকে।রাতে ডিউটি শেষ এ যখন ফাহাদ বাসায় আসে তখন নিহাদ দৌড়ে তার আব্বুর কাছে যায়।তার আম্মুর নামে নালিশ করতে করতে আর ধরে রাখতে পারে না চোখের পানি।অঝোরে কান্না করে নিহাদ।হয়ত একটু রোবট টাই ধরেছিল।এজন্য সে মার খাবে?? এই নিষ্পাপ প্রশ্নমালায় বিদ্ধ হতে হতে ফাহাদ নিহাদ কে নিয়ে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে খেতে বসে।নিহাদ কে নিজ হাতে খাইয়ে দিতে দিতে বকতে থাকে হিমি কে।হিমিও ওপাশ থেকে বলে তোমার জন্যই ও রেসাল্ট খারাপ করে।তোমার জন্যই ওর ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে।ক্লাস রোল পঞ্চাশ শুধু তোমার এই আদর দিয়ে বাঁদর বানানোর জন্যই হয়েছে।ফাহাদ, নিহাদ কে খাইয়ে দিতে দিতে মুচকি হাসে। ভাবে হিমা মেয়েটা আগের মতই পাগল আছে।যেমনটা সে ছিল কয়েকবছর আগে। ভালবাসা গুল,আচরণ গুল একটুও বদলায় নি।শুধু বদলিয়েছে বয়স টা। নিহাদ হয়ত নিজেও জানবে না কখনো,নিহাদ নাম টা ফাহাদ ও হিমি মিলে ঠিক করেছিল যখন ফাহাদের বয়স ১৯ ও হিমির বয়স ১৭ ছিল।ফাহাদ ফিরে যায় ফ্ল্যাশব্যাক এ।হিমির সাথে রিলেশনশিপ শুরু হয় যখন তখন কেবল ফাহাদের এইচ এস সি শুরু এবং হিমির এস এস সি এক্সাম শেষ।সেই যে শুরু হয়েছিল পথচলা আজ পর্যন্ত থামে নি।প্রথম ৬/৭ মাস বড্ড অগোছালো রিলেশন থাকলেও তাদের ভালবাসা তাদের গুছিয়ে দিয়েছিল।এই পথচলাটা খুব দীর্ঘ।হিমির রাগ সম্পর্কে খুব ভাল আইডিয়া আছে ফাহাদের,ফাহাদের সাথে রাগ করে নিজের মাথার চুল ছেড়া,হাত কাটা, কম্পাস দিয়ে হাত ফুটো করা,মাথায় আঘাত করা সহ কত কি পাগলামি করেছে এই হিমি,অথচ সে এখন কতটা গুছিয়ে সংসার করে,এসব কিছু ভাবতেই ফাহাদ নিজেকে পরিপূর্ণ মনে করে।মনে করে সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখি মানুষদের একজন। ____________ আজকেও সন্ধ্যাবেলা নাস্তা করে পড়তে বসেছে নিহাদ।আজকেও তার ইচ্ছে হতে লাগল সে একটু রোবট টা ধরবে।তাই সে প্রথমে রোবট টাকে ঠেলে ঠুলে নিজের রুমে নিয়ে আসে।তারপর দরজা জানালা লাগিয়ে অন করে।কিন্তু এমন সময় ই হিমি নিহাদ কে ডাক দেয় কি যেন একটা কাজ এ।নিহাদ ভয়ে তাড়াতাড়ি রোবট এর সুইচ অফ করে দেয়ার জন্য বাটন প্রেস করে,,তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে অফ বাটন প্রেস করার বদলে নিহাদ পুনরায় অন বাটন প্রেস করে,তাতেই ঘটে অঘটন। রোবট টি সয়ংক্রিয় ভাবে বলে উঠে।" থ্যাংক ইউ ফর ইউর কাইন্ড।আই এম এটোম এ সুপারসনিক রোবট, মাই ক্রিয়েচার ইস এলেক্স আলফা ব্রাভো।হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ?? নিহাদ কিছুই বুঝতে পারে না।সে যাস্ট বলে তুমি কথা বলতে পার?? রোবট টি যান্ত্রিক হাসি হেসে উঠে।সে বলে ইয়েস আই ক্যান।আই আম এ সুপারসনিক রোবট, মাই ক্রিয়েচার ইস এলেক্স আলফা ব্রাভো, ওয়েট আনটিল আই মেমোরাইজ ইয়োর ল্যাংগুয়েজ। ______চলবে। লেখক: এইচ আই ফাহাদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিহাদের রোবট পর্ব ৫
→ নিহাদের রোবট পর্ব ৪
→ নিহাদের রোবট পর্ব ৩
→ নিহাদের রোবট পর্ব ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now