বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুই তিন বার কলিং বেল চাপলাম,,,তারপর
একজন ভদ্র
লোক
দরজা খুলে দিলেন,,, মা বার বার করে
বলে দিয়েছে সবাইকে পা ধরে সালাম
করতে,,,মা বলেছে সো করতেই হবে,,
লোকটার পা ধরে সালাম করে বললাম
আসসালামু আলাইকুম আংকেল।...
আমার বন্ধুরা আমার সালাম করা
দেখে পুরো হা করে তাকিয়ে আছে।
ও হ্যা ওদের অবাক হওয়ার ই কথা
আমি জীবনে কাওকে মুখে সালাম
পর্যন্ত দেই নাই আর সেই আমি
পা ধরে সালাম করছি তাই অবাক ...
যাই হোক,,ভদ্র লোক আমাদের ভিতরে
নিয়ে গেলেন,,,এবার আরেক জন
লোক আসলো,,ইনি বেশ স্মার্ট
উনি কে ঠিক বুঝতে পারলাম নাহ...
তো এই ভদ্র লোক আমাকে জিজ্ঞেস
করলো..
.
: তুমি-ই তাহলে আসফাক এর ছেলে...??
_ জ্বী....
: তোমার নাম কি???
_ অভ্র আহসান চৌধুরী
: হুম,,,
তো এবার আমি উঠে গিয়ে সালাম
করলাম,,,
মানুষ করে কথা বলার আগে সালাম
আর আমি পরে করলাম।
: আচ্ছা তোমরা বসো,,আমি আসতেছি
_ জ্বী...
..
কৌতুহল বসত প্রথম ভদ্র লোক কে
জিজ্ঞেস করলাম উনি কে???
তো ভদ্র লোক বললেন উনিই আসিফ
চৌধুরী,,, আমি তো পুরাই অবাক,,
তাহলে আপনি কে???
আজ্ঞে আমি এই বাড়ির কাজের লোক,,
একটা বড় আকারের লজ্জা পেলাম,,
আরে সালাম করাতে নাহ,,আমি
বন্ধুদের বলে ফেলেছি ইনিই আসিফ
চৌধুরী হবেন হয়তো....
যাই হোক লজ্জা পেয়েছি যে তা বন্ধুদের
বুঝতে দেই নাই,,,ওরা আমার
দিকে কিভাবে যেন তাকিয়ে আছে,,,
আমি জীবনেও এতো নার্বাস ফিল
করি নাই,,,
এর থেকে তো,, ধুর মনে পড়ছে না কি যেন
ভাল,,
অনেক্ষন ধরে বসে আছি,কিন্তু
এই পর্যন্ত কেউ এক গ্লাস পানি
পর্যন্ত দেয়নি...
কি লোকরে বাবা.....
.
আমি একটা ম্যাগাজিন দেখছিলাম
হঠাৎ আমার এক ফ্রেন্ড
: ওই অভ্র..
_ কি???
: দেখ
_ আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে,,কি
দেখবো????
দেখি ও দরজার দিকে তাকিয়ে
আছে,,এবার আমিও ওইদিকে তাকালাম
ওমা একি এ যে ওই মেয়েটা,,,
দাড়াও মেয়ে এবার তোমার খবর
বের করছি...
.
_ ওই মেয়ে,,তুমি আমাদের ভুল
পথ দেখালে কেনো....
: কখন
_ ইয়ে আল্লাহ,,এতো পুরো অস্বীকার
তুমি আমাদের ডাস্টবিনের পথ দেখাও
নাই..???
_ না তো... আর আপনি কে???
: আমি কে নাহ,, তার আগে বলো
তুমি কে???
এখানে কেনো???
:মানে টা কি?? আমি আমার বাসায়,,
কিন্তু আপনি এখানে কেনো???
_ এটা তোমার বাসা???
: হুম,,আর ভদ্রতা নাই আপনার,,,
চিনেন নাহ জানেন নাহ অথচ তুমি
করে বলছেন....
_ হ্যেহ আপনার ভদ্রতা আছে???
একটা অচেনা লোক কে ভুল যায়গায়
পাঠিয়ে দেন
.
এতোক্ষনে পুরো বাসার সবাই
চলে এসেছে আমাদের জগড়া শুনে
মেয়েটা আস্তে করে ভিতরে ডুকে
গেল,,আমার বন্ধুরা আমাকে সোফায়
এনে বসালো। মেয়ের কথা শুনে তো
আমি পুরাই....
এ কি মেয়েরে বাবা,,,
যাই হোক,,জগড়া করে গলা শুকিয়ে
গেছিল,,একটু পর দেখি ওই মেয়েই
কাপড় পড়ে নাস্তা নিয়ে আসছে,,,
এতোক্ষনে আমি নিশ্চিত হলাম
যে এর সাথে আমার বিয়ে হচ্ছে নাহ,,
এই মেয়ে এই বাসার কাজের মেয়ে
এই মেয়েকে পাত্রি ভেবে
এতোক্ষন একটু ভাব মারলাম
যাতে সে আমাকে ভয় পায়....
.
মেয়েটা সবার হাতে নাস্তা তুলে দিচ্ছে,
কিন্তু আমাকে দিলো নাহ,,,
জগড়া করে ক্ষিদে পেয়ে গেছিল
আরেকটু হলে কান্না করে দিতাম
কিন্তু আমার এক বন্ধু তার হাতের টা
আমার হাতে দিয়ে সে অন্য টা নিলো,,,
মেয়েটা আমার দিকে রক্ত লাল চোখে
তাকিয়ে আছে,,আমি তো
ভয় পেয়ে গেলাম,,, কোথায় ওর আমাকে
ভয় পাওয়ার কথা তা না
আমি পাচ্ছি ওকে ভয়,,,,
তো খাওয়া দাওয়া শেষে আমার
বন্ধুরা বললো মেয়ে কোথায় আন্টি...
আমাদের আবার যেতে হবে....
আন্টির কথা শুনে আমি তো শেষ
এই মেয়েই নাকি পাত্রি
শেষ মেষ সত্যিই একটা রাক্ষস জুটলো
কপালে,,,যে ভাবেই হোক
এই বিয়ে আটকাতে হবে,,,নাহলে
আমি শেষ,,,,
আন্টির কথা শুনে আমার বন্ধুরা
একটা চাপা হাসি নিয়ে আমার দিকে
তাকালো নিজেকে যে অই মুহূর্তে
কি যে করতে ইচ্ছে করছিল....
যাই হোক আমাদের আলাদা কথা
বলতে দেওয়া হলো....
বন্ধুরা বেস্ট অফ লাক দিলো
.
_ এই যে মি:
: জ্বী বলেন???
_ আপনার নাম কি???
: অভ্র আহসান চৌধুরী (কোথায় আমি
জিজ্ঞেস করবো
তা না
এই মেয়েটা জিজ্ঞেস করছে ),,আপনার???
_ মিথিলা...এনিওয়ে আমি যে আপনাকে ভুল
পথ
দেখাইছি এটা
ভুলেও কাওকে বলবেন নাহ কিন্তু,,
: কেন (ওরে আল্লাহ মেয়ে তো হুমকি
দিচ্ছে,,রাক্ষস
কোথাকার )
_ আমি বলছি তাই,,, আর হ্যা আজকে
থেকে সব মেয়েদের সাথে কথা বলা বন্ধ
করবেন,,,আর
আমাকে রাক্ষসী বলার
কারনে অনেক বড় দু:খ আছে
আপনার কপালে,,
: (মনে বললাম,হায় আল্লাহ এই মেয়ে কি
মনের কথাও
বুঝে
নাকি,,,নাহ আর কিছু ভাবা যাবে নাহ মনে
মনে)
_ কি হলো চুপ কেন,,,আমার কথা
বুঝেছেন???
: হুম,,,
.
বাদ্য বাচ্ছা ছেলের মত মাথা নেড়ে
আসলাম আল্লাহ
জানে
এবার
না আবার মাথায় চড়ে বসে
একটা অদ্বুত শক্তি আমার মুখ দিয়ে
তখন কথা বের করতে দেয় নাই ....
এর পর ফ্রেন্ড রা কোন রকমে আমাকে
নিয়ে বাসায়
ফিরেছে,,,
জীবন নিয়ে আসতে পারছি এই
অনেক ....
মা কে যদি এই কথা টা বলতে পারতাম ওমা
তোমার
ছেলে
তোমার সব কথা
শুনবে কিন্তু তারপর ও তাকে রাক্ষসীর
হাতে তুলে দিও নাহ
কিন্তু আমি জানি এতে আমি এক
বালতি আফসোস ছাড়া কিছুই পাবো নাহ
মা যখন বলেছে বিয়ে দিবে তার মানে
দিবেই, ,,আর এই মেয়ের সাথেই দিবে
....
চলবে....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now