বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প : #পরীক্ষার_হল_এর_পাশের_সীটের_মেয়েটি !!!
Writer : Pantha Shahria !!!
- আগামী কাল এক্সাম আর আমি
আজকে ও বেড়াইতেছি ।
আরে ভাই কিতা করাম আমি বই
এর দিকে তাকাইলেই খালি মাথা ঘুরতাছে ।
সবার এক্সাম পড়ালেখার উপরে নির্ভর করে
আর আমার এক্সাম পরীক্ষার হল
এর উপরে নির্ভর করে ।
আহা এস এস সি এর আগে
আগের রাতে কত ভাবছিলাম ...
আমার পাশের সিটে একটা ঝাক্কাস মেয়ে বসবে .
. আচ্ছা ঝাক্কাস না হোক একটু ভালো লেখাপড়া
পারলেই চলবে । কিন্তুু ভাই এমন
একটা মফিজ পড়ছিল আমি কোন
দিন দুঃস্বপ্নে ও ভাবি নাই এমন
মফিজ আমার সাথে পড়বে ।
যাই হোক আগের কথা বাদ ...
মাত্র মসজিদ থেকে আসলাম আল্লাহ্ রে বললাম ...
হে আল্লাহ্ আমার পাশে কাউরে বসানো লাগবে না ...
কোন সুন্দরী ক্যান ভালো পড়ালেখা
ওলালী ও পড়া লাগবে না ।
তুমি খালি যেন এস এস সি এর মতো
কোন মফিজ রে আমার পাশের সিটে না বসাও ।
ওই সালা মফিজ এর জন্য আমি ম্যাথ
এ আর একটুর জন্য গেছিলাম । তোমার
অসীম মেহের বাণী তে ৩৬ পেয়ে ছিলাম ।
ভালো কাউকে তো আমার পাশে দিবা
না সেটা আমি জানি ।
কিন্তুু প্লীজ আর কোন মফিজ দিও না ।
হেই তো পাস করবেই না লগে আমারে
ও তার দলে নিয়ে যাবে । মাথাই যা বুদ্ধি
দিছো ইনসাল্লা পাস কেউ ঠেকাতে পারব না ...।
আই লাভ ইউ আল্লাহ্ পাসটা করাই দিও ... আমিন ... ।
পরের দিন সব ঠিক মতো গুছাই নিয়ে
এক্সাম দিতে গেলাম ...।
- বাহ বাহ এত্ত সুন্দরী মেয়ে আগে
কই ছিল একটা ও তো আগে চোখে পরে নাই ।
এর পরে নীল ড্রেস পড়া একটা মেয়ের দিকে তাকাতেই ক্রাস খাইলাম ।।
বাসা থেকে খেয়ে আসছি তাই বেশি
ক্রাস খাইতে পারলাম না অল্প একটু খাইছি ... হি হি হি
আমি সিওর এই মেয়ে যেই পোলার কাছে
পড়বে নির্ঘাত সে ফেল ...
কারণ ... আরে ভাই এমন মেয়ের
দিকে ৩ ঘণ্টা তাকাই থাকলে ও মনে
হবে ৩ মিনিট ধইরা তাকাই আছি ।
কিন্তুু আমার পাশে বসলে আমি তাকামু না ... ।
আরে ভাই তাকাইয়া কিতা করাম
ফেল করলে বাসার ভাত আর কপালে জুটবে না ।
যেমনে অন্য মেয়েরা ওর পিছনে
ঘুরছে মনে হয় ঝাক্কাস ছাত্রী ।
কোন ভাগ্য বানের কাছে যে পড়বে
আর কে তারে বিয়ে করবে ইস হিংসা হচ্ছে ।।
না যাই আগে সিটটা দেখে আসি ......।
সিটের কাছে যাইতে মনে হয় মাথা ঘুরে পরে যাবো ...
ওই সেই এস এস সি এর মফিজ টা । আল্লাহ্ তোমার জবাব নাই দিলা দিলা প্রথম বলেই আউট ।
কী আর করার বসে আছি ।
খাতা দিলো নাম রোল লিখলাম
একটা স্যার খাতা সই করতে এসে আডমিট দেখে বলে ...
- এই ছেলে এখানে কেন তুমি
তোমার সিট তো পাশে রুমে ।
- সিট এর রোল নাম্বার এর দিকে
তাকাই দেখি সত্যি তো ...
আমার রোল ১২৫৭১৯ আর ওখানে আছে
১২৯৭১৯ সামনের দুইটা আর
পিছনের দুইটা দেইখা বসে গেছি ।
আর মফিজটারে দেখে তো ধরেই নিছি নির্ঘাত ফেল ।
অন্য রুমের কথা শুনে যেন প্রাণ
ফিরে আসলো ।
- আমার সিটে যাইতেই দেখি ওই
সেই নীল ড্রেস পড়া সুন্দরী ।
আহা আল্লাহ্ তোমার তো জবাব
নাই এখন তো প্রতি বলে ছক্কা ... হা হা হা ।
- মেয়েরে দেখে তো সব গুলাই ফেলছি ...
এই যে নীলা একটু শুনবা । কোন কথা নাই , হে আল্লাহ্
ওই মফিজ তো ভালো ছিল আর যাই
হোক মন খুলে গালাইতে পারতাম ।
এই যে শুনছেন একটু ।
- ওই আপনি এতো কথা বলেন কেন ।
- না মানে এইটা পারছি না তো তাই বলেন না এইটা কী ।
- খাতাটা একটু মেলে দেখালো , আমি ও ব্যাস লিখতে লাগলাম ।
- বাহ উপরে ও যেমন সুন্দর ভিতরটা ও ভালো ।
এক্সাম শেষ এ দাঁত কেলাইতে
কেলাইতে বাইরে আসলাম ।
- এই যে শুনুন ।
- তাকাই দেখি ওই পাশের মেয়েটা । হুমমমমম ব
- কী নামে ডাকছি সেটা পড়ে আসল কথা হইল আপনি বাদ কেমন ।
- আচ্ছা ওকে ।
- না মানে তুমি তো নীল ড্রেস পড়ে আছো আর ... তুমি টা ফাটাফাটি তাই ভাবছি তোমার নাম নীলা ।
- দাঁত গুলো বন্ধ করো ... আমার নাম নীলা না ।
- ওহহ তাহলে ।
- আমার নাম আদ্রিকা মিমি ।
- তার মানে আদ্রিকা মিলিমিটার ।
- চুপ মিলিমিটার না জাস্ট মিমি ।
- আচ্ছা আমি কিন্তুু আদ্রিকা বলে ডাকবো কেমন ।
- ওকে ।
- আর হা একটা কথা মন দিয়ে শুনো ,
ভালো ভাবে থাকবে আজকাল এর
জামানা অনেক খারাপ ,
পোলাপান এক্সাম দিতে আসে না তো
যেন লাইন মারার জন্য আসে ...
আর তুমি না দেখতে হেব্বি হি হি হি ... টা টা ।
বলেই দৌড়ে চলে আসলাম ।
তারপরের দিন ...।
- ওই কালকে আমার নাম শুনলা তোমার
নাম না বলেই দৌড়ে চলে গেলা ।
- না মানে এমনি ... আমার নাম সাহরিয়া ।
- বাহ ভালো তো ।
- হুমমম কার নাম দেখতে হবে না ।
- হইছে হইছে এবার চলো একটু পড়ে এক্সাম শুরু হবে ।
এই ভাবেই ভালই দিন যাচ্ছিল ...
আদ্রিকা এর বাবা আর্মি এর বড় অফিসার ছিলো ।
জানলাম কেমনে ... না মানে ওরে
প্রতিদিন গাড়ি করে নামাই দিয়ে
যাইতো তখন দেখছি । আমার আবার
ছোট থেকে আর্মি দেখলে ভয় লাগে ।
তাই আদ্রিতা কে ও কিচ্ছু কইতে পারি না
- একদিন ওর বাবা আসতে দেরি করে ।
- আমি আর আদ্রিতা দাঁড়াই ছিলাম ,
সব পোলাপান আদ্রিতা এর দিকে হা
করে তাকাই থেকে যাচ্ছিলো ।
ওই দেখছ এখন কার পোলাপান কেমন ।
সুন্দরী মেয়ে দেখলে চোখ ফেরাতে চায় না ।
- এহহহ নিজে মনে হয় সাধু ,
প্রথম দিন তুমি এদের চাইতে ও
বেশি হা করে ছিলে ।
- কীইইইইই তাঁর মানে তুমি ও আমাকে
দেখছিলে তাই না ।
- ওই আমি দেখতে যাবো কেন ।
- তাহলে কেমনে বুঝলে আমি তোমার
দিকে হা করে তাকাই ছিলাম ।
- বান্ধবীরা বলেছিলো ।
- ওলে বাবা কী দারুণ বান্ধবীরা তোমার ...
আচ্ছা তোমার কেমন ছেলে পছন্দ ...
এর মধ্যে ওর বাবা হাজির ।
এই বাপ গুলা ও কেমন মাত্র মনের কথা
শুনতে লাগছি ওমনি হাজির ।
- আচ্ছা সাহরিয়া টাটা আজকে
গেলাম কেমন ।
- হুমমমম বাপজান চলে আসছে থাকবা ক্যান যাও ।
- আচ্ছা টাটা ।
এর পরে ৪ দিন পর এক্সাম ওই আদ্রিতা মাইয়া
রে না দেখলে তো আমার
পড়াশুনা কিচ্ছু হবে না ।
ওমনি নিজের গালে নিজেই চর ।
হালার পোলা তুই আবার কী পড়বি
সব তো আদ্রিতা এর দেখেই লেখস ।
৪ দিনের অবসানের পরে আজকেই লাস্ট পরীক্ষা ।
যেমনেই হোক মেয়েটাকে মনের কথা বলতেই হবে ।
- কী কপাল আমার সেই দিন জইতেই লেট । তাই একটু পরে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলো ।
আস্থে আস্থে বললাম ... আদ্রিতা ওই আদ্রিতা পাগলী ।
- ওই কী হইছে এত চিল্লাইতেছ কেন । - না মানে আজকে এক্সাম এর পর একটু থেকো কেমন কিছু কথা আছে ।
- হুমমমমম ওকে , এবার চুপ চাপ লেখ ।
এক্সাম শেষ ..... ।
- হুমমমম বলো কী কথা আছে ।
- না মানে আজকেই তো শেষ এক্সাম
, এর পরে তো দেখা না ও হতে পারে তাই না ।
- হুমমমমম ।
- আসলে বলছিলাম কীইইইইইই জানো ।
তোমার কোন বফ আছে ।
না মানে অন্য কিছু ভেবো না ,
এর পরে দেখা না ও হতে তাই আর কী ...।
- আচ্ছা দেখা না হওয়ার সাথে
বফ এর কী সম্পর্ক ।
- আসলে তোমাদের যদি বিয়ে হয়
আমি সেটা মিস করতে চাই না ...
অনেক খাওয়া হবে তাই ।
বলো না আছে না নাই ।
- আমার কোন বফ নাই ...।
- শুনে তো আমার ১০০০ ওয়াট এর
বাত্তি টুপ করে জ্বলে উঠল ...হি হি হি ।
- ওই এতো হাসির কিছু নাই বফ নাই
কারণ আমার বাবার আগেই আমার
বিয়ে ঠিক করে রাখছে ।
- এইটা শুনে তো আমার ১০০০ ওয়াট
এর বাত্তি ফট করে ফাইটা গেলো ।
আর মমতাজ এর একটা গান পাশের
দোকানদার ছাড়ল ...
ফাইটা যায় বুকটা ফাইটা যায় ...।
দোকানদারের সময় এর ভালো জ্ঞান আছে
মানতেই হবে ।
- ওই সাহরিয়া এমন হা হয়ে গেলে কেন ।
- এমনি বলেই একটা দৌড় ।।
পিছন থেকে আদ্রিতা ডাকছিল বাট পিছনে
আর কে তাকাই ।
- বাড়িতে এসে দৌড়ে মসজিদে গেলাম ।
হে আল্লাহ্ কপালে রাখই নাই
তাইলে ক্যান ক্যান ক্যান পাশের
সিটে বসাইলা দূর ভাল্লাগে না ।
আসলে ভাই আমার কিছু হইলেই
আমি দৌড়ে আল্লাহ্রে বলতে যাই
কারণ তিনি ছাড়া আমার কথা শুনার
মতো কেউ নাই ।
আল্লাহ্ এর কাছে অপরাধ করলে মাফ
চাইলে ক্ষমা করে দেই ।
কিন্তুু অন্য
কারো কাছে করলে আমারে
মাফ করবে না আমি সিওর ।
এই ভাবে আর ২৫ দিন চলে গেলো ।
কী কারণে যেন সেইদিন আদ্রিতা
দের পাড়াই পিচ্চি গুলার সাথে
ক্রিকেট খেলতে গেলাম ...।
একটু পরে ...।
- সাহরিয়া ভাইয়া তোমারে একটা
আপু রাস্থার ওই পাশে ডাকছে ।
- রাস্থার ওই পাশে যেয়ে দেখি
একটা মেয়ে অন্য দিকে মুখ দিয়ে দাঁড়াই আছে ।
- এই যে শুনছেন
কেন ডাকছেন
তাড়াতাড়ি বলেন ... এর পরের
ব্যাটিং আমি ।
- ওমনি ঘুরেই একটা থাপ্পর
দিলো ঠাসসসসসসস করে ।
- তাকাই দেখলাম আদ্রিতা ...
ওই মারলা কেন ।
- কেন মারলাম জানো না হুমমমমম ।
- একটু মাথা চুলকাই বললাম কী করলাম
আমি মনে পড়ছে না তো ।
- তা পড়বে কেন ...সেই দিন ওমন
বাঁদর এর মতো দৌড়াই পালাই গেলা কেন ।
- না মানে এমনি ।
- ভালোবাসো এই কথা টা ও বলতে পারো না গাধা ।
- আরে কেমনে বল্মু তুমিই তো বললা তোমার
বিয়ে ঠিক করা আছে ।
- তাই বলে দৌড়
দিবা হুমমমমম
... আমি পরে কতো ডাক দিলাম ।
- আচ্ছা তার মানে তুমি ও আমাকে ভালোবাসো ।
- হুমমমমমম ।
- সত্যি ।
- হুমমম সত্যি ।
- আমাকে একটা চিমটি কাট তো ।
- কেন ।
- না মানে আমর কেমন স্বপ্ন মনে হচ্ছে ।
- আচ্ছা কাছে আসো আর একটা থাপ্পর দেই ।
- না থাক এমনি অনেক জোরে দিছো প্রথমটা ।
- দেখি গালটা ।
- সরি বাবু ... অনেক লাগছে তাই না ।
- হুমমমম ।
- আসো একটা পাপ্পি দেই ।
- সত্যি পাপ্পি দিবা ।
- আবার কিন্তুু থাপ্পর দিবো ।
- আচ্ছা দাঁড়াও গালটা ভালো করে মুছে নেই ।
- ওই কেন ।
- না হইলে তোমার ঠোঁট এ বালু লেগে যাবে তো ।।
আর পরে তোমার লিপস্টিক খাইতে
গেলে সব বালি আমার পেটে ঢুকে
পেট খারাপ করবে হা হা হা ।।
- তাই না শয়তান একটা ।
- উহুহুহু ওই পাপ্পি এর বদলে কামর
ক্যান দিতাছো ।
- তুমি একটা শয়তান তাই ।
আচ্ছা অনেক পড়ছেন এবার জানতো হা হা হা ...।
>>সমাপ্তThe End
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now