বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সামান্য একটু ভীড় ঠেলে যখন বাসে উঠে দাড়ালাম তখন
সামান্য একটু নার্ভাস ছিলাম। এত বছর পর যাচ্ছি চিনবে
তো সবাই?
যাচ্ছিলাম খালার বাড়িতে। খালার ছোট মেয়ের বিয়ে।
দুষ্টটার সাথে দেখা হয়নি প্রায় পাঁচ বছর। দুজনের
দুষ্টামিতে অতিষ্ট হয়ে যেত দুই বোন। তারপরও কিছু
বলেনি।
আমি ইবু, আর খালাতো বোনের নাম হল মনি।
দুজনের বয়সের পার্থক্য তিন বছরের হলেও এস. এস. সি.
পর্যন্ত ছিলাম একসাথে। পরে আমি পড়ালেখার জন্য
ঢাকায় চলে আসি। এরপর চলে যাই বিদেশে। এয়ারপোর্টে
এসেছিল সে। সেই তাকে শেষ দেখা। এখন শুনলাম সে
নাকি বিয়ে করতেসে। সাইফ নামের এক ছেলেকে
ভালবাসে সে। বিয়েটা হচ্ছে তার সাথেই।
.
হঠাৎ ব্রেক চেপে বসল ড্রাইভার। কোন রকম সামলাতে
পাড়লেও সামনের মেয়েটার সাথে একটু ধাক্কা লেগেই
গেল। মেয়েটাও তাই ইচ্ছে তাই বলে গেল। আর আমি
দোষ স্বীকার করে নিয়ে সামান্য একটু পিছনে চলে
আসলাম।
সেখান থেকে দেখলাম মেয়েটাকে। শ্যামলা বর্ণের
একটা মেয়ে, চেহারায় তেমন মাধুর্যতা নেই তবে কেমন
যেন এক ধরণের মায়া রয়েছে সেই চেহারাটায়।
.
বাস থেকে নেমে খালাকে ফোন দিতেই বলে দিল
কীভাবে আসতে হবে? রাস্তার পাশের অটোটাতে গিয়ে
উঠলাম। এমন সময় দেখি সেই মেয়েটাও উঠে বসল আমার
পাশে। হাতে বিশাল এক সুটকেস। মনে হয় যেখানে
যাচ্ছে এক মাসের কমে থাকবে না বা এক মাস বেড়ানোর
পর বাড়িতে ফিরছে।
.
অটো চলা শুরু করে। রাস্তার অবস্থা পুরাই কাহিল।
একবার বামদিকে হেলে তো একবার ডানদিকে। পাশে
ছিল ফুচকা দোকান। সেখানে দেখলাম, একটা মেয়ে
ছেলেটাকে ফুচকা খাইয়ে দিচ্ছে। চিন্তা করতে
লাগলাম সেই জায়গায় নিজেকে, কিন্তু মেয়েটার
অবয়বটা অস্পষ্ট।
কল্পনায় বিচ্ছেদ ঘটল এক চিল্লানিতে,
- এই যে মিস্টার, একটু চেপে বসেন। এত গায়ে লাগছেন
কেন?
- জ্বী!!??
- কানে কি কম শুনেন আপনি? বলছি চেপে বসতে। আরে,
আপনি তো বাসের সেই ছেলেটা না? ইচ্ছে করে আমার
গায়ে লাগলেন।
- আমি ইচ্ছে করে লাগিনি। আর এখানে কোন জায়গা
নেই।
- অতসত আমি বুঝি না। দশআঙ্গুল ফাঁক রাখবেন আপনি।
- সম্ভব না। রাস্তাটা এবড়ো থেবড়ো। একটু লাগতেই
পারে।
- অত কথা না বলে একটু ঐদিকে গেলেই তো পারেন।
বাচাল কোথাকার।
- হ্যালো আন্টি।(রাগানোর জন্য) গালি দিবেন না। আমি
খুবই ভদ্র। এরকম আর কাউকেই পাবেন না এই গ্রামে।
- আমি আন্টি আপনাকে কে বলল দাদু???
নাহ, এর সাথে পারা সম্ভব না। এত বেশি ঝগড়া এর আগে
কখনো করিনি। তাই চুপ করে রইলাম। কিছু বলছিনা দেখে
মেয়েটার মুখে অপ্রকাশিত এক বিজয়ীর হাসি ফুটে উঠল।
.
যথা সময়ে খালার বাড়িতে পৌছে গেলাম। খালা তো
আমাকে দেখে কী খুশি হইছে, তিন বছর পর নিজের
মেয়েরে দেখলেও বোধ করি এত খুশি হইত না। হুম, আর
একজনও খুশি হইল, মনি।
কিন্তু আমার হাসিটা মলিন হয়ে গেল যখন সেই ঝগড়াটে
মেয়েটারে দেখলাম এই বাড়িতে ঢুকতে। নাহ এ মেয়ে
যদি বরপক্ষেরর কোন আত্মীয় হয়ে থাকে তবে তো........
আর চিন্তা করার ইচ্ছা আমার নাই।
.
তিনদিন আগে চলে এসেছি আমি বিয়ে বাড়িতে। আম্মার
কাজ আছে তাই আসবে বিয়ের আগের দিন। মেয়েটা
দেখলাম এসে খালার পা ছুঁয়ে সালাম করল। দেখতে তো
ভদ্রই লাগে কিন্তু আমার সাথে কেন এমন করল? সালাম
করে দেখি মনির সাথে গিয়ে আড্ডা মারছে। ব্যস, এই
ফাঁকে আমি খালাকে জিজ্ঞেস করি মেয়েটা কে?
খালার উত্তরে শ্বাস নিতে পারি ঠিকমত। মেয়েটা
মনির ক্লোজ ফ্রেন্ড। মনির সাথে কথা বলা শেষে
উঠে পিছন ফিরে যখন আমাকে দেখে চিৎকার দিয়ে
উঠে।
- আপনি বুঝি আমার পিছু ছাড়বেন না?
- এই তুই কি বলছিস? ইনি হলেন আমার খালাতো ভাই,
ইবু। কয়েকদিন আগেই দেশে এসেছে। (মনি)
- ও আমি দুঃখিত, ভাইয়া। না জেনে এত কিছু বলে ফেলি।
- ইটস্ ওকে আন্টি।
বলেই দৌড়ে চলে আসি সেখান থেকে। এই দজ্জালিনীর
হাত থেকে বাচতে হলে লুকিয়ে থাকতে হবে।
বাপরে বাপ, মেয়ে তো নয় যেন আগুনের গোলা.....
.
কালকে বিয়ে মনির। আজকে একটু ঘুরে দেখি
এলাকাটাকে। গত ছয় বছরে কত কিছু পরিবর্তন হয়। মানুষ
গুলোর সাথে সাথে প্রকৃতিও যেন বদলে গেল। এই তো
আগে ডানদিকের পশ্চিমকোণায় একটা আম গাছ ছিল।
বছরের প্রথম আমটা আমি আর মনি ছাড়া কেউ খেতে
পারত না। গাছটা এখনও রয়েছে কিন্তু কেন যেন আম আর
ধরেনা আগের মত।
ডানদিকে তাকাতেই দেখি সেই মেয়েটা ঘাসের উপর
বসে আছে। হঠাৎ কোথা থেকে যেন একটা ছেলে এসে
হুট
করে বসে পড়ল। দেখি মেয়েটা উঠে চলে আসছে।
আমাকে দেখে ডাক দেয়। কাছে যাওয়ার পর শুনি বলা
নেই কওয়া নেই হুট করে বসে পড়ে ছেলেটা। মেয়েটা
তাকে চিনেও না।
আমার খালু আবার সামান্য রাজনীতির সাথে জড়িত।
তাই যখন বলা হল মেয়েটা খালুর মেহমান তখন আস্তে
করে কেটে পড়ে। মেয়েটি কৃতজ্ঞতার সহিত বলে
- ধন্যবাদ আপনাকে।
- আপনাকেও।
- আসলে ঐ ঘটনার জন্য সরি। তবে আপনি যে ইবু
সেটা জানতাম না।
- সমস্যা নেই। তাছাড়া আপনার রিএকশ্যানটা স্বাভাবিক
ছিল।
- ধন্যবাদ। এনি ওয়ে, আমি নিশাত। মনির ক্লাসমেট টু
ক্লোজ ফ্রেন্ড।
- আমি......
- জানি, ইবু। মনি বলেছে অনেক বার আপনার
কথা। ফ্রেন্ডস?
- ওকে। ফ্রেন্ডস।
- কিসে আছেন এখন?
- আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। বাংলাদেশের এক নামি
কোম্পানির সাথে কাজ করি।
- ওহ। আর আমি অনার্স ৩য় বর্ষে আছি।
.
সেদিনই আমরা আপনি থেকে তুমিতে চলে আসি। অনেক
ভাল লাগল তার সাথে কথা বলে। মেয়েটা তেমন খারাপ
না। সেদিন বিকালে আমি তাকে পুরো গ্রামটা ঘুরিয়ে
দেখাই। অনেক ভাল সময় কাটে তার সঙ্গে থেকে।
.
যথা সময়ে বিয়ে হয়ে গেল মনির। ছেলেটা দেখতে
শুনতে ভালই। ভাল চাকরীও করে। যাওয়ার সময় সে কি
কান্না মনির। কালকেই তাদের বাড়িতে যাব বলে
সেদিনের মত স্বামীর সাথে বিদায় দিলাম তাকে।
বিয়েটা শুক্রবারে হল। রবিবার বৌভাত। আমি আর নিশাত
খালাকে বলে শনিবারেই চলে যাই। এবার যাবার সময়
অনেক বার ধাক্কা লাগলেও সে কিছুই বলে নি।
বরের বাড়ি যেতে প্রায় তিনঘন্টা বাস দিয়ে যেতে হয়।
কিন্তু নিশাত আবার বাসে বেশিক্ষণ থাকলে বমি হয়, আমাকে বলেছে সে। কিন্তু বাস ছাড়া আর কোন
উপায়ও নেই। তাকে বললাম ফিরে যেতে। সে যেতে চাইল
না। বললাম
-পরে তো সমস্যা হবে।
- তাহলে তুমি আছ কি জন্য।
তার এ কথায় আমার প্রতি তার এক অব্যক্ত ভালবাসা
দেখতে পেলাম তার সেই সুন্দর চোখ দুটিতে।
.
আড়াই ঘন্টা চলেছে বাস। কিন্তু এরমধ্যেই প্রায়
পাঁচবারের মত বমি করে ফেলে সে। তাকে একটু কাহিল
দেখাচ্ছিল। ফলে আমার কাধে মাথা রেখে সে চোখ বন্ধ
করে থাকে। চুলে সামান্য বিলি করে দিতেই ঘুমিয়ে পড়ে
সে। ঘুমের মধ্যে তাকে অপরূপ রাজকন্যার মত লাগছিল।
প্রেমে পড়ে যাই তার। চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করছিল না
আমার। হঠাৎ ঘুমের মধ্যেই অস্পষ্ট আওয়াজে সে বলে
- এভাবে তাকিয়ে আছ কেন? আমার লজ্জা লাগে না
বুঝি।
সামান্য মুচকি হেসে তার থেকে চোখ ফিরিয়ে নেই।
এবার আবার বলে উঠে
- কী এবার অন্য কাউকে পেলে নাকি তুমি? আমার থেকে
চোখ সরিয়ে নিলে?
- তুমি বুঝ কীভাবে আমি কোনদিকে তাকিয়ে আছি?
- হুম। মেয়েরা এসব বুঝতে পারে। চুপচাপ আমার দিকেই
তাকিয়ে থাক। অন্যদিকে তাকাবে না। অন্যদিকে তাকালেই মাইর দেব
তোমায়।
- ঠিক আছে আমার রাজকুমারি। কিন্তু তোমার তো লজ্জা
লাগে তোমার দিকে তাকালে?
- লাগুক। তারপরেও তুমি আমার দিকেই তাকিয়ে থাকবে।
চোখ সরাবে না।
.
না এই মেয়েটাকেই চাই আমার। এই মেয়েটা ছাড়া চলবে
না আমার।
তিন ঘন্টা যাত্রার পর যখন বাস থেকে নামলাম তখনই
দেখলাম বিপরীত পাশে এক ফুলের দোকান। সেখান
থেকে পাঁচটা গোলাপ ও একটা রজনীগন্ধা কিনে এক হাটু
গেড়ে তাকে বলে দিলাম তাকে ভালবাসি। সারাটা
জীবন শুধু তার সাথেই থাকতে চাই। সুখে দুঃখে সবসময়।
- পাশে থাকবে আমার? ভালবাসা দিবে? জায়গা দিবে
তোমার ঐ হৃদয়টাতে?
- হুম দিতাম যদি সেটা আমার কাছে থাকত। সেটা তো
কবেই তুমি চুরি করে নিয়ে গেছ।
বলেই আমাকে উঠিয়ে জরিয়ে ধরে সবার সামনে। আমিও
তাকে জরিয়ে ধরি। ছোট্ট করে বলি
- ভালবাসি তোমায়।
- আমিও শুধু তোমাকেই ভালবাসি…
* * *
উৎসর্গ:- অবুঝ বালিকা
শুধু তোমারই জন্য
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now