বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Romantic story. 3

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)

X সকাল ৮টা, শীতের সকাল। মৃদু হাওয়া, শীতল পরিবেশ, চিক চিক করা শিশির, পাখির কলতানে মাতোয়ারা আরিয়ান হাঁটছে। এইচএসসি কমপ্লিট করে রিজাল্টের অপেক্ষায় বসে থেকে আরিয়ানের সময় যেন কাটছেই না। তাই গিটার হাতে নিয়ে সাতসকালে বেরিয়ে পড়ছে স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে। মাথায় টান্ডানিরোধক ক্যাপ লাগিয়ে কানে হ্যাডফোন কানেক্ট করে গান শুনে রাস্তার একপাশ দিয়ে আনমনে হেঁটে চলছে সে। সেদিন অনেক কুয়াশা ছিল। চারপাশের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সামনে হাত বাড়ালেই হাত অদৃশ্য হয়ে যায়। এমন সময় আরিয়ান কোন অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে ধাক্কা খায়। হাত থেকে ফোন পড়ে যায়। সাথে সাথেই কান থেকে হ্যাডফোন খুলে নিলো। হাল্কা হাল্কা অজ্ঞাত ব্যক্তির কন্ঠ শোনা যাচ্ছে। আস্তে আস্তে সে বুঝতে পারলো অজ্ঞাত ব্যক্তিটি একটা মেয়ে। মেয়েটার হয়তো কোন জিনিস পড়ে গেছে, সেজন্য সেটা তুলতে লাগলো। কি তুলছে দেখা যাচ্ছে না ভারি কুয়াশার কারনে। দুজনই প্রায় একি সময়ে উঠেছে। চশমাটা ঠিক করতে করতে মেয়েটার দিকে তাকালো আরিয়ান,, উরিম্মা!!!! এইটা মেয়ে?? নাকি অপ্সরী?? তার মাথা আউলা-ঝাউলা হয়ে গেল। অপ্সরীকে দেখে তার মার্বেলের মত ছোট চোখগুলা রসগোল্লার মত বড় হয়ে গেল। সে অপ্সরীককে শুধুই দেখেই যাচ্ছে কিন্তু মুখ থেকে একটা কথাও বের করতে পারছে না। সে না পারলে কি হয়েছে, মেয়েটা টিকই পেরেছে। -- সরি সরি, আমি দেখতে পাই নি। ভুলে ভুলে ধাক্কা খাইছি। (অপ্সরী) -- (রোমান্টিক ফিল্মে যখন নায়ক নায়িকাকে প্রথমে দেখে তখন যেভাবে ফিদা হয়ে তাকিয়ে থাকে, সেভাবেই আরিয়ান মেয়েটার দিকে ফিদা হয়ে তাকিয়ে আছে।) -- ও হ্যালো মিস্টার, কি হলো?? ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছেন কেন? -- তুমি কোন রূপকথার দেশ থেকে এসেছো?? -- কিইইইই?? রূপকথা?? সরি, বুঝলাম না। -- এত্তো সুন্দর মেয়ে তো রূপকথার দেশ থেকেই আসে। তাই না?? -- যাহহহ!!! আপনি তো বেশ বড় ফাজিল। -- উমম। অপ্সরীর মতো মেয়ে তুমি,,, -- অপ্সরী?? হাহা। আমি আরহি, অপ্সরী না। -- সে যাই হোক, তোমার ভালোবাসার মানুষ তোমায় অপ্সরী ডাকবে। -- ভালোবাসার মানুষ? তু-তু-তু-তুমি?? -- উমম। আমি। (রোমান্টিক স্টাইলে) -- কক্ষনো না। কোনদিনও না। (তাচ্ছিল্য স্বরে) -- হাহা, হয়ে যাবে। তুমি নিজেও বুঝতে পারবে না কখন তুমি আমার ভালোবাসায় হাবু-ডুবু খেয়েছো। -- তুমি পাগল না কি?? আজই প্রথম দেখা হলো আর আজই প্রপোজ? শুনো, তুমি পাগলাগারদে যাও, ওখানে গিয়ে মাথার ট্রিটমেন্ট করাও। -- মাথায় ট্রিটমেন্ট না তো। আমার হ্রদয়ে ট্রিটমেন্ট করতে হবে। আর সেটা তুমি করতে হবে। -- তাই?? হাহা হাহা। আমি পারবো না। -- হুমম। আমি জানি এটাই বলবে। কারন, তুমি যদি ট্রিটমেন্ট করতে যাও, তাহলে তুমি নিজেই আমার ভালোবাসার মায়াজালে পেঁচিয়ে পড়বে। কিইইইই, তাই তো? -- জানিনাহহহহহ। বাই। টাটা। আরহি তার গন্তব্যস্থলের দিকে এগিয়ে গেলেও আরিয়ান এক পাও সরায় নি। সে আরহির হেটে যাওয়া দেখছে। কুয়াশায় কিছুই দেখা যাচ্ছে না তবুও ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার কথা বলার ধরন, ভূবন ডাঙানো হাসি, মৃদু বাতাসের হাওয়ায় উড়ন্ত চুল, কথায় কথায় আঙুল তোলা, মুখে বিরক্তিকর ভাব, কপাল ভাঁজের ছাপ সবকিছু আরিয়ানের হ্রদয়ে গেঁতে গেছে। একটা মেয়ে এতোটা সুন্দর কিভাবে হয়? রূপকথার অপ্সরী কি সত্যিই তার সামনে ছিল?? নাকি সে চোখ খোলা রেখে স্বপ্ন দেখছে?? সে নিজেই বুঝতে পারছে না তার কি হয়েছে। প্রকৃতির ধমকা বাতাসের মতো মেয়েটা তার মনে ঝড় বইয়ে দিলো। আর অপেক্ষা করলো না সে। দৌড় দিয়ে আরহির কাছে গেলো। -- কি হলো?? পাগলামো করবে? (আরহি) -- উমম। জ্বি। (আরিয়ান) -- স্টার্ট করো। -- আমাকে একটা চিমটি দিবে?? -- কিইইইই? -- দাও না, স্বপ্ন নাকি সত্যি সেটা দেখবো। -- হুমম। নাও। -- আস্তে। লাগছে তো। -- হিহি হিহি। এখন কি মনে হচ্ছে? স্বপ্ন নাকি সত্যি? -- স্বপ্ন। (আরো চিমটি খাওয়ার জন্য) -- তাই?? ওয়েইট, আরো দিচ্ছি। -- উহহহহহহ বাবুনিইইইইই আস্তে। -- কে বাবুনি??? -- তুমি। -- মাইরা সব ভূত ফালায় দেবো। -- উমম, মারো। -- গুড বয়। নাও, খাও। এই বলে আরহি আরিয়ানকে নন্সটপ কিল-টুশি বসালো। -- হাহাহা হাহা। -- সত্যি তুমি একটা পাগল। -- কার পাগল বুঝতে হবে তো। -- আবার??? কাল তোমায় মজা দেখাবো। -- হুহ, তুমি?? আর মজা?? পারবে না। (এই বলে আরহি আরো উৎসাহিত করছে।) -- অক্কা। কাল সেইম টাইম সেইম জায়গায় আসবা। -- উমম। টাটা। পাগলি। .. .. পরের দিন,,,,,, -- হাই অপ্সরী,,, (রোমান্টিক স্টাইলে) -- হুম পাগল,,, (তাচ্ছিল্যসহিত) -- কেমন আছো??? -- ভালো। তুমি? -- তোমায় ছাড়া কিভাবে ভালো থাকি বলো,,, (ইম্প্রেস করার জন্য) -- ওহহ তাই?? -- উম হাহা। (দাঁত খেলিয়ে হাসলো) -- তুমি মুসলিম কোয়ার্টার ১৩ নাম্বার বাসায় থাকো। রাইট??? -- জ্বি। তোমায় কে বললো?? (আরহির কথা শুনে আরিয়ান টিস্কিত) -- তোমার বোনের নাম বুশরা। তাই না??? -- জ্বি। তুমি ওকে কিভাবে চিনো??? (আবার টিস্কিত) -- তোমার বোন তোমায় কিছু বলে নি?? -- কি বলবে??? (ভ্রু কুঁচকে) -- মনে করো,,, -- তুমি বলো,,, -- মনে করতে বলছি না?? (রাগওয়ালী কন্ঠে) -- অইইইইইইই,,, (আসল ঘটনা মনে পড়লো আর তাই সে চিৎকার দিল) -- কিইইইইইই?? (কানের পর্দা যেন ফেটে না যায় তাই দু-হাত দিয়ে কানের দরজা বন্ধ করলো) -- তুমি কি সেই তুমি??? (পুরনো দিনের অবিস্মরনীয় কথা মনে পড়লে যেভাবে মুখের এককোনায় হাসি চেপে থাকে সেভাবে বললো) -- আজ্ঞে হ্যা (বলেই এক থাপ্পর দিয়ে দিলো) -- সরি সরি,, আমি তোমায় চিনতে পারিনি। -- ওহহ!!!!! রিয়েলি?? (বিস্ময়সূচক কন্ঠে) -- তুমি আগে কেন আমায় বলো নি??? (বিষন্ন ভাব নিয়ে) -- বললে কি করতে?? (মুখখানি টমেটোর মতো লাল করে) -- এতোদিন তোমায় ওয়েটিং লিস্টে রাখতে হতো না। (হেসে হেসে চোখ টিম্পনী মেরে বললো) -- উমম। (লজ্জামিশ্রিত হাসি দিয়ে আরিয়ানের নাকে চিমটি দিয়ে বললো) .. .. আরিয়ান আরহিকে সবেমাত্র ভালোবেসেছে আর আরহি অনেক আগে থেকেই। আরিয়ান ১৩ নাম্বার বাসায় আর আরহি ১২ নাম্বার অর্থাৎ দুজনের বাসা পাশা-পাশী। আরিয়ান প্রতিদিন বিকেলে ছাদে গিয়ে গিটার বাজাতো, গান গাইতো, লাফা-লাফি করতো। এত্তো বড় হয়ে গেলেও ছোটবেলার দুষ্টুমিগুলোর ইতি টানতে পারেনি। তাইতো এখনো সে আর তার দুষ্টুমিগুলা একসাথে ঘুরে বেড়ায়। ছাদে যখন এসব করতো তখন সে মনে করতো তার পাগলামো গুলা কেউ দেখছে না, ছাদের চারিদিকে বেষ্টিত করে ওয়াল আর রশিতে টাঙানো জুলন্ত কাপড়-চোপড় এর মাঝে কে-ই-বা দেখবে এসব। কিন্তু আরিয়ানের আত্মবিশ্বাস, কনফিডেন্ট সবকিছু তোয়াক্কা করে আরহি সব দেখতো আর লুকোচুপি হাসতো। প্রথম প্রথম আরহি ভাবতো সে পাগল। বাসায় পাগলামী করতে পারেনা বলে ছাদে করছে। কিন্তু আরিয়ানের ছোটবোন বুশরার কথা শুনে আরহি বেশ চমকিতো আর থমকিতো। সে নাকি রুমেও এসব করে। ফ্যামিলি মেম্বাররা ডিস্টার্ব ফিল করে সেজন্য তাকে বকা-বকি করে। তাই বাকি কাজগুলা ছাদে সারে। আরহি আস্তে আস্তে আরিয়ানের দুষ্টুমি গুলাকে ভালোবেসে ফেলে। আরিয়ানকে একপলক দেখার জন্য প্রতিদিন ছাদে গিয়ে লুকিয়ে থাকে। আর আরহি মেয়েটা অন্য মেয়েদের মতো কিছুই লুকিয়ে রাখতে পারে না। অন্য মেয়েদের বুক ফাটে কিন্তু মুখ ফুটে না কিন্তু আরহি তাদের বিপরিত। তাই মনের কথা সব খুলে বলে বুশরার কাছে। বুশরা তার ভাই আরিয়ানকে আরহি কথা বললেও আরিয়ান তা পাত্তা দেয়নি। এতে আরহি অনেক কষ্ট হয়। আর কষ্টকে কিভাবে সুখে পরিনত করতে হয় সেটা সে ভালো করেই জানে। তাইতো আরহি বুশরার কাছ থাকে আরিয়ানের রুটিন জেনে নিলো কখন সে কি করে আর কি করে না। প্লান মোতাবেক, আরিয়ান যখন স্টেডিয়াম যাবে তখন আরহি ইচ্ছে করেই তার ওপর পড়বে। অবশেষে প্লানটা সাক্সেসফুল হলো। .. .. -- যখন তুমি ছিলে না তখন জীবনে আমার কিছুই ছিল না। যখন তোমায় প্রথম দেখি, তখন আমার পৃথিবী শুধুই তুমি। তোমায় দেখলে তুমি ছাড়া আমার পুরো পৃথিবী থেমে যায়। এখন তুমি বলো, এ কেমন চাওয়া পাওয়া? কেন তোমার নেশায় আমি মাতাল? এ মন কেন তোমায় ছুয়ে দিতে চায়? (আরিয়ান) -- এই মন আমায় ছুয়ে দিতে চায় কারন, এ মন সাজিয়ে দিয়েছে আমার মধুরি ভূবন। তোমার ভালোবাসার অথৈ জলে ভাসছি আমি, তুমি কি আমায় সেখান থেকে নিয়ে তোমার সুখের ঠিকানায় নিয়ে যাবে??? (আরহি) -- তোমার ছায়ায় থাকতে চাই, তোমার আদর মাখতে চাই। কাছাকাছি এতটাই তবুও হয়নি বলা ভালোবাসি। তুমি কি আমায় ভালোবাসো?? একবার তুমি বললে অপেক্ষার প্রহর শেষ। -- হ্রদয় জুরে শুধু তোমারি নাম,,, অনুভবে সেখানে লিখি দিচ্ছি,,, আমিও তোমায় অনেক ভালোবাসি। অনেক অনেক বাসি। মায়াবী একটা সকাল, কুয়াশার কাছে পরাজিত সূর্য, বিশাল একটা আকাশ, তার মধ্যে এলোমেলো বাতাস, শিশির ভেজা ঘাসের ওপর হাতে হাত রেখে হাঁটতে লাগলো তারা। কোথায় তাদের গন্তব্যস্থল তারা নিজেইরাই জানেনা, তবুও হাঁটছে, আর হাঁটতে থাকব


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Romantic story. 8
→ Romantic story. 7 ! ঝগড়াটে মেয়ে
→ Romantic story. 6 ! ★চিরকুট★
→ Romantic story. 5
→ Romantic story. 4
→ Romantic story. 2
→ Romantic story. 1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now