বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চুক্তির_বিয়ে!!! - ৮ম পর্ব
,
,
,
,
ট্রেন টা চট্রগ্রাম স্টেশনে এসে থামলো। ট্রেন থেকে নেমে পড়লাম। কোনদিকে যাব ঠিক বুঝতে পারছিনা। প্রথমে আমাকে এখানে কোথাও থাকার ব্যবস্থা করতে হবে!
বাসা বাড়া নেব কিন্তু আমার মতো একলা মেয়ে কে কি কেউ বাসা ভাড়া দিতে রাজি হবে! আমি এখানকার কিছুই চিনতে পারছিনা। খুব ছোট থাকতে বাবার সাথে বেড়াতে এসেছিলাম একবার।
এখন আমি কোথায় বাসা খুজব এখানে। আচ্ছা এখানকার কাওকে জিজ্ঞাস করলেই তো হয়। কিন্তু কাকে জিজ্ঞাস করব! এইসব ভাবতে ভাবতে স্টেশনে একটা বেঞ্চে বসে পড়লাম। দুপুর হয়ে গেল, সকালে কিছু খাওয়া হয়নি। এখানে স্টেশনের পাশেই একটা কফি সপ দেখতে পেলাম। ভাবলাম এখান থেকে কিছু একটা খেয়ে নিতে হবে। শরিল দুর্বল হয়ে গেলে চলবেনা, আমার এখন ও অনেক কাজ বাকী। কফি সপে ডুকে দেখলাম, এই দোকানের মালিক একটা মহিলা। আর এখানকার সব ওয়েটার ও মেয়ে। সত্যি অবাক হলাম। কফি সপের উপরে সাইনবোর্ড এ বড় বড় করে লেখা.....
"""সোনালি কফি সপ"""। মহিলা টার নাম হয়ত সোনালি। যাইহোক ভিতরে গিয়ে বসলাম। একটা মেয়ে ওয়েটার এসে বলল, মেম ইউর অর্ডার প্লিজ!!
আমি একটা পেস্ট্রি আর এক কাপ কফি অর্ডার করলাম।
কফি খাচ্ছি আর ভাবছি, জিবন টা এমন একটা মোড়ে এসে দাড়াবে কখন ও ভাবিনি!
আজ আমি সমপূর্ন একা! সবাই থাকা সত্তেও কেউ নেই আমার.......
বাবা- মা হয়ত এখন ও প্লেনে আছেন। আর অভ্র! ও হয়ত ইরার সাথেই আছে কোথাও। আচ্ছা ও কি একবার ও আমার কথা ভাবছেনা। দুর!! আমি কে?? আমার কথা কেন ভাবতে যাবে। এখন তো ওর সব ভাবনা ওর নতুন বউ কে ঘীরে।
ভাবনায় ডুব দিলে সময় কিভাবে পেরিয়ে যায় বুঝতেই পারিনা!
বিকাল হয়ে গিয়েছে। আর আমি এখন ও কফি টাই খাচ্ছি। চারদিকে চেয়ে দেখলাম সব কাস্টমার রা চলে গিয়েছে। এখন দোকান টা বন্ধ করার সময় হয় গিয়েছে। ছি ছি ছি, আমি এতক্ষন ওনাদের সময় নষ্ট করেছি। কফি সপের আন্টি খুব ভালো, আমায় কিছু বলেনি! আমি বিল মিটিয়ে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলাম।
আর তখনি ওই আন্টি আমাকে পিছন থেকে ডাকলেন!
আমি দাড়িয়ে গেলাম। উনি আমার কাছে এসে বসতে বললেন,
আমি ও বসে পড়লাম। উনি ও আমার মুখোমুখি বসলেন আর বলতে শুরু করলেন,
,
:------- ঠিক তিন ঘন্টা আগে তুমি আমার দোকানে এসেছো, আর তখন থেকে এখন পর্যন্ত আমি তোমার দিকে বার বার তাকাচ্ছিলাম। মনে হলো, কিছু একটা তো হয়ছে যেটা তোমাকে ভিতর থেকে শেষ করে ফেলছে। যেন তোমার জিবন থেকে কিছু হারিয়ে গেছে আর তুমি চাইলেও সেটা ফিরে পাবেনা। দেখ মা, আমি তোমার মত একটা মেয়ে! কষ্ট সবাইর জিবনে থাকে, তেমনি আমার জিবনে ও আছে। কিন্তু আমি খুব খুশি হবো যদি তুমি আমাকে তোমার জিবনের কষ্ট টা শেয়ার করো।
ভালো করে ওনার দিকে তাকালাম। মনে হলো এতদিনে কাওকে পেলাম মনের কথা বলার মতো!
,
আমি:---- আন্টি আপনাকে দেখতে অনেক টা মায়ের মতো। আমি এক অসহায় মেয়ে, জিবন আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে! আমার কেউ নেই এখানে। কোথায় যাব সেটাও জানিনা। কি করে খাবো সেটা জানিনা!
আন্টি অন্যদিন এসে আপনাকে সব বলব। আজ আমায় থাকার মতো একটা বাসা খুজতে হবে! আপনি কি বলতে পারেন এখানে কোথায় বাসা ভাড়া দেওয়া হয়! খুব উপকার হতো।
উনি আমার দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন, আমার ঠিক তোমারই মতো একটা মেয়ে ছিল। ভাগ্য ওকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। আর তুমি এই সন্ধ্যা বেলায় বাসা খুজে পাবেনা, তার চেয়ে বরং আজ রাতে আমার বাসায় চল।আমি আর আমার ছেলে একাই থাকি বাসায়। কাল সকালে আমি সহ তোমাকে একটা বাসা খুজে দেব!
,
আমি:----- আপনাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দেব, বুঝতে পারছিনা!
,
আন্টি:---- পাগলি মেয়ে এতে ধন্যবাদ দেওয়ার কি আছে। এখন চলো!
,
আন্টির সাথে ওনার বাসায় এলাম। বাসা টা ছোট হলেও খুব সুন্দর। বাসায় ডুকতেই একটা ১০-১২ বছরের ছেলে এসে আন্টি কে জড়িয়ে ধরল। আন্টি তাকে চকলেট দিলে ছেলেটা চলে যায়। আন্টি বললেন, এটা ওনার ছেলে। আমাকে একটা রুম দেখিয়ে দিয়ে বললেন,
যাও তুমি গিয়ে ফ্রেশ হও। আমি কফি নিয়ে আসি, তারপর জমে গল্প করব!
আমি একটা ছোট হাসি দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে দেখি আন্টি দুই কাপ কফি নিয়ে হাজির!!
আমি হাসিমুখে আন্টি থেকে কফির কাপ নিলাম।
উনি ও আমার পাশে বসলেন! তারপর,
,
:---- কফি কেমন?
,
:---- খুব ভালো! আন্টি!
,
:---- হুম! এবার তাহলে শুরু করো! তোমার জিবনের গল্প।
আমি ও বলতে শুরু করলাম। আমার বিয়ে, বিয়ের পর চুক্তি, অভ্রের অভহেলা, বাবা মায়ের ভালবাসা, ইরার কথা কিছু বাকি রাখিনি। আজ যেন অনেকদিন পর মন কে হাল্কা অনুভব করছি। আজ মনের জমানো সব কষ্ট বের করে দিতে পেরেছি!
আমি চোখ তুলে দেখি আন্টি কান্না করছেন।
,
:---- আন্টি একি আপনি কাদছেন কেন?
,
:----- কাঁদবো না তো হাসব নাকি? অন্যর সুখের জন্য নিজের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে দিলে।
,
আমি:---- অভ্র তো আর অন্য কেউ নয় আন্টি! আমার বর, আমার ভালবাসা! ওর সুখের জন্য আমি সব পারব, সব!
,
আন্টি:---- দেখবে ওই ছেলে কখনও সুখি হবেনা! একটা মেয়ের জিবন শেষ করে ও সুখি হতে পারবেনা!
,
আমি:---- এমন করে বলবেন না আন্টি! ওর সুখের জন্যই আমার এই ত্যাগ। আমি চাই অভ্র অনেক সুখি হোক।
,
আন্টি:---- নিঝের পরিনতির কথা না ভেবে এখন ও তুমি ওই সেল্ফিস মানুষ টার কথা ভাবছো??
,
আমি:---- ছাড়ুন না আন্টি!! আপনার লাইফ সম্পকে কিছু বলুন!
,
আন্টি :---- আমার লাইফ ও কিছু টা তোমার মতই। বর, দুইটা ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব সুখেই ছিলাম আমি। কিন্তু সুখ বেশিদিন কপালে শয়েনি। আমার বর একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন। বড় বড় ক্রিমিনাল দের ধরিয়ে ছিলেন উনি। একদিন রাতে সব ক্রিমিনাল রা ষড়যন্ত্র করে আক্রমন করে। আমার বর কে ঘুমের মধ্যেই গুলি করে হত্যা করে। আমার দিকে গুলি তাক করার পর আমার মেয়েটা সামনে এসে যায়, আর গুলি টা তার বুকে লেগে যায়! আর মেয়ে টা তখনি মারা যায়!
আমি কোনমতে ওদের চোখ কে ফাকি দিয়ে আমার ছেলে কে নিয়ে রাতেই পালিয়ে এখানে চলে আসি। এরপর এখানে এই কফির দোকান টা তে কাজে লেগে যাই। এই কফি দোকানের মালিক আমাকে খুব ভালবাসতেন। ওনার কোন ছেলে-মেয়ে ছিল না বলে মরার সময় দোকান টা আমায় দিয়ে যায়। তারপর থেকে আজ পাচ বছর কেটে যায় আমার এই শহরে। আমার ছেলেকে এখানকার স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিই। তারপর থেকেই আমি আমার ছেলেকে নিয়েই বেচে আছি।
,
আন্টি কথা বলতে বলতে খব কাদছিলেন। আমি ও কান্না ধরে রাখতে পারলাম না। ওনাকে জড়িয়ে ধরেই কান্না শুরু করে দিলাম। রাতে উনি আমাকে নিজের হাতেই ডিনার খাইয়ে দিলেন, আমি ও ওনাকে তুলে খাইয়ে দিলাম। ওনার চোখ টা ছলছল করে উঠল। রাতে অনেক্ষন গল্প করার পর ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে উঠে আমি যখনি চলে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলাম!
,
আন্টি:---- কোথায় যাচ্ছিস তুই?? ( এক রাতেই উনি আমাকে ওনার মেয়ের স্থান দিয়ে দিয়েছেন )
,
আমি:----- চলে যাচ্ছি। বাসা খুজতে হবে!
,
আন্টি:----এটা কি বাসা না? এত বছর পর আমি আমার মেয়েকে ফিরে পেলাম আর তুই আবার চলে যাবি!
,
আমি:---- কি বলছেন আন্টি! আমি আপনার বাসায় কি করে থাকতে পারি?...
,
আন্টি:---- বুঝছি তো! তুই তো বড়লোকেদের ঘরের বউ ছিলি। আমার এই ছোট বাসা টায় থাকবি কি করে! যা তোকে আটকাবো.............,
,
,
আমি আর কিছু বলার সু্যোগ না দিয়ে ওনাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। আমি আমার মা কে ছেড়ে কোথাও যাবোনা!!
মহুরতেই ওনার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
,
,
,
,
আমি খুব ক্লান্ত তাই পাঠকদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি গল্পটা ছোট করে লেখার জন্য।। তবুও কেমন হয়ছে জানবেন!
আর শেষ পর্যন্ত কি হয় দেখার জন্য আমার সাথে থাকুন!
,
,
,
,
চুক্তির বিয়ে !!!(৯ম পর্ব).........
,
,
,
,
দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ চলে গেল। আন্টি আর ছোট ভাইয়ের সাথে খুব ভালো সময় কাটছে। কিন্তু এর মাঝে যে অভ্র কে মনে পড়ছেনা তা নয়! ও আমার জিবনের প্রথম আর শেষ ভালবাসা। পৃথীবি তে তো এমন অনেকেই আছে যারা তাদের ভালবাসা পায়না, আমি ও নাহয় ওদের মতো একজন। আমার যত কষ্টই হোক, অভ্র সুখে থাকলে আমি সব সয্য করব।
খুব ইচ্ছা করে জানতে, যে অভ্র আর ইরা সুখে আছে কিনা। সুখেই থাকার কথা ওরা দুজন দুজনকে অনেক ভালবাসে।
আন্টি আমাকে একটু ও কষ্টে থাকতে দেননা, সবসময় চেষ্টা করেন আমাকে হাসানোর। কখন ও হাসি আবার কখন ও কাদি। এইভাবে কেটে যাচ্ছে দিন আমার। আমার ফোনে অভ্রের কয়েকটা ছবি ছিল। মহামায়া তে গিয়ে লুকিয়ে তুলেছিলাম।
সব গুলাতেই অভ্রকে রাজকুমারর মতো লাগছে। ভাবতেই অবাক লাগে বিয়ের আগে কত সপ্ন দেখেছিলাম এই রাজকুমার কে নিয়ে!
অভ্রের কথা মনে পড়লেই লুকিয়ে ছবি গুলা দেখি! সিম তো সেদিন স্টেশনে ফেলে দিয়েছিলাম। বাবা-মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে! হয়ত অভ্রের কাছে কল দিয়ে আমার কথা জিজ্ঞাস করে। আর অভ্র কোন না কোনো মিথ্যা বলে কাটিয়ে দেয়!
,
আজ আন্টির ছেলে বায়না ধরল, আজকে রাতে ওর বন্ধুদের ডেকে এনে নিউ ইয়ার এর পার্টি করবে!
আন্টি প্রথমে রাজি হচ্ছিল না, পরে আমি সহ বলায় রাজি হল। আজ উনি দোকানে গেলেন না। আমি আর আন্টি মিলে সব আরেজমেন্ট করতে লাগলাম। কেক টা আন্টি নিজেই বানালেন। আমার অনেকদিনের সখ কেক বানানো শিখবো। আন্টি আমাকে ও শিখিয়ে দিলেন।
এইছাড়া আর ও অনেক কিছু রান্না হলো।
বাসা টা কে অনেক সুন্দর করে বেলুন দিয়ে সাজালাম, সাথে ছাদ ও।
রাত ১২ টা বাজতেই অনেক গুলা বাজি ফাটানো হবে তাই।
রাত ১০ টার মধ্যে সব আরেজমেন্ট কম্পলিট। আন্টির ছেলে (অনিল) এর বন্ধু রা চলে এসেছে সবাই। এখন শুধু ১২ টা বাজার অপেক্ষা!
সবাই ছাদে দাড়িয়ে আছে। আমি এককোনে গিয়ে দাড়ালাম। আজ আকাশে এক বিশাল চাদ উঠেছে। মনে হচ্ছে চাদ টা ও যেন নিউ ইয়ার সেলিব্রেট করার অপেক্ষায় আছে। আজ অভ্রের কথা খুব মনে পড়ছে। ও আমার পাশে থাকলে প্রত্যক টা দিন আমার জন্য নিউ ইয়ারের সমান। কিন্তু আমি কেন ওর কথা ভাবছি
ও হয়ত এখন ইরার সাথে নিউ ইয়ারের মজা নিচ্ছে।
করুক না মজা। পুরো এক বছর অপেক্ষা করেছে ওরা। আমি না হয় অভ্রের সৃতি গুলাকে আকড়ে ধরে বাকি জিবন কাটিয়ে দেব। হাত ঘড়ির দিকে তাকালাম আর ১ মিনিট আছে ১২ টা বাজার। পিছন থেকে কে যেন কাধে হাত ড়াখল, দেখি আন্টি!
আমার হাত ধরে সবাইর কাছে নিয়ে গেলেন। ১২ টা বেজে গেছে!
পুরো আকাশ নানা ধরনের রঙে সেজে উঠেছে। চারদিকে বাজি ফাটানোর আওয়াজ। পুরো শহরে যেন আনন্দের। বৃষ্টি হচ্ছে। চারদিকে শুধু খুশি আর খুশি। খুব ভালো লাগছে পরিবেশ টা কে।
আন্টি আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
Happy New Year Trishna!!!!
,
আমি:---- Happy new Year maa!!(আন্টি প্রথম দিন থেকে আমাকে মা ডাকতে বলেছেন!)
,
আন্টি:----- আজ থেকে নতুন করে তোমার জিবন শুরু করো! পুরোনো বছরের সব ব্যেথা ভুলে যাও!
তারপর আমরা সবাই নিচে গেলাম। ডাইনিং টেবিলে নতুন বছরের কেক টা রাখা হয়ছে!
সবাই মিলে কেক টা কাটলাম। এরপর শুরু হলো ফাংসন। বাচ্চারা সবাই মিলে নাচ- গান করল। এরপর খাওয়া -দাওয়া শেষে সবাই চলে গেল।
দেখলাম আন্টি কে অনেক ক্লান্ত দেখাচ্ছে। তাই আমি ওনাকে বললাম,
:---- চল মা! আজ তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিই।
আন্টি খুব খুশি হলেন। আমি আন্টির মাথায় হাত বুলাচ্ছি। আর উনি চোখ বন্ধ করে আছেন। হঠাৎ করে আমার হাত টা ধরে বললেন,
:---- জানিস তৃষ্ণা!! আমি কোনোদিন ভাবিনি যে আমি আমার মেয়েকে ফিরে পাবো। তুই আর কোনদিন আমাকে ছেড়ে যাবিনা তো?
,
আমি:---- তুমি ছাড়া আমার আর কে আছে বলো। আর আমি আমার মা কে ছাড়া এক মিনিট ও থাকতে পারবো নাকি!!
উনি উঠে আমাকে ওনার কোলে শোয়ালেন। তারপর বললেন,
:---আজ আমি তোকে গান শুনিয়ে ঘুম পারাবো!
,
:---- তাই বুঝি??
আমি কোনদিন মায়ের আদর পাইনি। মা ছোট বেলায় মারা যাওয়ায় কোনদিন কেউ গান শুনিয়ে ঘুম পাড়ায়নি। আমার বন্ধুরা বলত, ওদের মা ওদেরকে গান শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়!
আমার খুব কষ্ট হতো! আমার মা নেই বলে।
আজ আর সেই কষ্ট নেই। আমি সব হারালে ও একটা মা পেয়েছি, আর কিছু চাইনা আমার!
..........................
২ বছর পর,,,,,
,
,
,
আজ জিবন অনেক চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। এই দুই বছরে একটি বারের জন্য ও অভ্রের খবর পাইনি। কিন্তু ওকে ভুলতে পারিনি, ওর দেওয়া কষ্টই ওকে ভুলতে দেয়নি। আন্টির দোকান টা এখন একটা রেস্টুরেন্ট হয়ে গিয়েছে। আমাদের অবস্থার অনেক উন্নতি হয়ছে। এখন নতুন বাসায় থাকি আমরা। অনিল এবার এস.এস.সি দেবে। ও তো বিশাস করে নিয়েছে আমি সত্যি সত্যি ওর বড় বোন। খুব ভালবাসে আমাকে! আমি এখন ছোট খাটো লেখিকা। কয়েকটা গল্প পাবলিশ হয়েছে। এই দুই বছরে একবার ও ঢাকায় যাওয়া হয়নি। অভ্র এতোদিনে হয়তো ভুলেই গেছে আমার কথা! সেটা তো যাবেই আমার মতো একটা অপয়ার কথা যত তাড়াতাড়ি ভুলে যাবে তত ভালো।
এইসব ভাবছিলাম তখনই কেউ কলিং বেল বাজালো। একবার, দুইবার নয়, টানা বাজিয়ে চলছে।
আমি অনিল কে ডাকছি দরজা টা খোলার জন্য! অনিল এলো....
,
:---- কি হয়ছে আপু?
,
:---- দেখ তো দরজায় কে আসছে। কলিং বেল থেকে হাত সরাচ্ছে না!
,
:---- হবে হয়ত কোনো দুষ্ট ছেলে। দাড়াও দেখছি!
,
অনিল দরজা খুলে দাড়িয়ে আছে। বুঝতে পারছিনা কে আসছে।
অনিল আমার কাছে এসে বলল,
:---আপু একটা ছেলে আর একটা মেয়ে এসেছে! তোমাকে খুজচ্ছে!
,
:---- তুই সিউর আমাকে খুজছে??
,
:----হুম তোমার নাম তো বলল!
,
কে হতে পারে?? এখানে তো তেমন একটা কেউ আমাকে চিনেনা।তাহলে কে আসবে আমার খোজে।
আস্তে আস্তে দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম,
যা দেখলাম পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেলো!
এটা সপ্ন নাকি বাস্তব........
:------ অভ্র!!!!!!!!!!!!!!!!!
,
আর কিছু বলতে পারলাম না। জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম!
,
,
,
কি মনে হয়?? অভ্র কেন এসেছে?? আর ওর সাথের মেয়েটি কে?
,
,
,
চুক্তির বিয়ে..(শেষ পর্ব).........
,
,
,
,
,
,
জ্ঞান ফেরার পর দেখলাম আমি আমার রুমের
বিছানায় শুয়ে আছি। আর পাশে তানিশা কে চমকে
উঠলাম!!
,
:------ তানিশা তুইইই!!!!
,
:----- হ্যা আমি!! আমাকে আসতেই হলো।
,
:--- বাট এইসবের মানে কি? অভ্র কোথায়? আর
ও এখানে কেন এসেছে ওর বউ কে
রেখে?
,
:----- বউ!!!!!!
,
:------ হ্যা ওর বউ, ওর ইরা!
,
:------ ধর!!!!
,
:---- এটা তো অভ্রের ডাইরি!! তুই কোথায়
পেলি? আর আমাকে কেন দিচ্ছিস??
,
:---- পড় তাহলে সব বুঝতে পারবি। হা করে
দেখছিস কি পড়!!
অভ্রের ডাইরির কথা!!!!.............
,
,
আজ মা-বাবা আবার আমাকে বিয়ের জন্য মেয়ে
দেখাতে নিয়ে এলেন। এতোদিন যত মেয়ে
আমাকে দেখানো হলো! সব গুলাই বোকা
টাইপের, কিন্তু আমি হচ্ছি একটু আলাদা টাইপের। তাই
আমার চাই আমার টাইপের কাওকে!
তাই ঠিক করলাম এমন কাওকে বিয়ে করব যে
দুষ্টমিতে টপ স্টার হবে। আর ওকে বিয়ে করে
আমার স্টাইলে ভালবাসব। এমন স্টাইল যেটা
পৃথীবির সবাইর কল্পনার ভাইরে। আজকে যে
মেয়েটা কে দেখতে এসেছি, এখানে এসে
জানতে পারলাম এই মেয়েটা বিভিন্ন উপায় পাত্র
দের বোকা বানিয়ে ফিরিয়ে দেয়!
মন তো খুশি তে লাফিয়ে উঠল। ইয়েসস!!!
যেমন মেয়ে চেয়েছিলাম পেয়ে গেছি!
কিন্তু ও আমাকে দেখে ফিদা হয়ে গেল। আমি
ওর সামনে এমন ভাব নিলাম যেন ওর প্রতি
কোনো ইনট্রেস্ট নেই।
বিয়ের জন্য হ্যা বলতেই মেয়েটা খুশি তে
লাফাতে লাফাতে সবাই কে বলে দিল আমরা বিয়ে
তে রাজি!
ওর আনন্দ দেখে মনে মনে বললাম, এখন যত
খুশি হেসে নাও। বিয়ের পর আর এই সুযোগ
পাবেনা।
যথা সময় বিয়ে টা হয়ে গেলো। আর আমি আমার
প্লেন অনুযায়ী নকম চুক্তি পত্র ওর হাতে
ধরিয়ে দিলাম। বললাম, আমি ইরা কে ভালবাসি!
আর মেয়েটা যে এত বোকা হবে বুঝতে
পারিনি। ভেবেছিলাম চুক্তি পত্র টা দেওয়ার পর
আমার গলা চেপে ধরবে।
কিন্তু মেয়েটা উল্টা এটিটিউড নিয়ে ডিবোর্স এর
কথা বলল। আর আমি ওকে দিয়ে চুক্তি টা সাইন
করালাম। এরপর গিয়ে শুয়ে পরলাম। আসলে
সোফায় শুয়ে ওর অবস্থা দেখে খুব হাসি পাচ্ছিল।
দুনিয়ার সব মানুষের একিভাবে বিয়ে হয়। এরপর
হানিমুন, এর পর বাচ্চা, এরপর তাদের বাচ্চা হয়, এরপর
বুড়াবুড়ি হয়ে যায়। সো মাচ বরিং!!
আমি কমন জিনিস কখন ও পছন্দ করিনা। তাই প্লেন
করলাম বিয়ের রাতে বউকে নকল চুক্তি পত্র
দেব, তারপর টানা একবছর অভহেলা করব, আর
অন্য কার ও সাথে প্রেমের অভিনয় করব।
রাইট!!!! ইরা নামের কোনো মেয়ে আমার
জিবনে ছিলনা। সোফায় আমার মামাতো বোন এর
ছবি রেখেছিলাম যাতে আমার বোকা বউ টা
ভেবে নেয় এটা ইরা!!
আর সেটাই হলো।
আজ ওকে চড় মেরেছি। একটু ইচ্ছা ছিলনা, কিন্তু
আমার ডাইরি টা পড়ে নিলে তো সব প্লেন শেষ
হয়ে যেত।
তবুও মেয়েটা সব সয্য করত। এমনকি ও মায়ের
সাথে এত ক্লোজ ছিল ভুল করে ও কোনদিন
মায়ের কাছে ইরার কথা বলেনি।
যদি একবার বলত তাহলে তো সব টা ক্লিয়ার হয়ে
যেত ওর কাছে যে ইরা নামের
কেউ আমার জিবনে নেই।
আমার পৃথীবি শুধু আমার বোকা বউ টা। সারারাত
কাওকে কল না দিয়েই শুধু শুধু ফোন টা কানে
দিয়ে ওকে শুনিয়ে একা একা কথা বলতাম।
কতবার ওর সামনে আমার ফোন টা পড়ে থাকত।
কোনদিন ধরে ও দেখেনি যে ইরার নাম্বার
কোথাও আছে কিনা!
এমন কি একদিন ইচ্ছা করেই ফোন টা বাসায়
রেখে আসি। আমি জানি আমি দুপুরে মায়ের
কাছে কল দিলে তারপর ও লাঞ্চ করে। ও যদি
সত্যি আমাকে ভালবাসে তাহলে আমার ফোন টা
দিতেই অফিসে আসবেই। অনেকক্ষন
অপেক্ষার পর ও ভয়ে ভয়ে আসল।
আমার ভাবতেই হাসি পাচ্ছিল, আমার বউ টা কে নাকি
কলেজে ছেলেরা খুব ভয় পেত।
স্টাফদের সামনে ফোন টা বেঙেগ ওকে
তাড়িয়ে দিলাম। ও চলে যাওয়ার পর
ভাঙা ফোন টা হাতে নিয়ে হাত বুলালাম।
আমার বউ এর ছোয়া আছে এটা তে।
কিন্তু খারাপ লাগছিল ওর জন্য!
কিন্তু আমি যদি এখন ওকে অপমান না করি তাহলে ১
বছর পর ওকে সার্প্রাইজ দেব কিভাবে। হ্যা
যেদিন বাবা চলে যাবে সেদিন ও যখন যাওয়ার
জন্য ব্যাগ গোছাবে তখনি ওকে হাটু গেড়ে
প্রোপজ করব! আর ক্ষমা চাইব!
আমি জানি ও আমাকে ক্ষমা করে দিবে।
এত অবহেলে সয্য করার পর যে মেয়ে
ভালবাসতে পারে, তার হৃদয় সাধারন হতে পারেনা!
একদিন ও সবজি কাটতে গিয়ে হাত কেটে
ফেলল। সেদিন আমি বাসায় ছিলাম।
সেদিন আমি অভিনয় করিনি সত্যি
রেগে গিয়েছিলাম ওর উপর
এত বেখেয়ালি হয়ে কেউ কাজ করে। আমি ওর
হাত টা ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছিলাম আর ও আমার
দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইল! ওর চোখ দিয়ে
পানি জরছে।
হয়ত ও ভাবছে আমি বাবা মায়ের সামনে অভিনয়
করছি।
তাই রুমে এনে বকা দিলাম। যাতে পরেরবার
থেকে সাবধানে কাজ করে।
একদিন রাতে রুমে বসে অফিসের কাজ করছিলাম।
তখনি আমার বউয়ের ফোন টা বেজে উঠল,
যদি এটা কোনো ছেলে হয় আজ ওর একদিন কি
আমার একদিন।
কিন্তু রিচিব করে দেখলাম একটা মেয়েলি কন্ঠ!!
,
তানিশা:----- হ্যালো!!
,
আমি:---- হ্যালো, কে বলছেন??
,
তানিশা:---আমি তৃষ্ণার বন্ধু তানিশা। আপনি কি অভ্র ভাইয়া!
,
আমি:---- হ্যা আমি অভ্র। কেমন আছেন?
,
তানিশা :---- জি ভালো! আপনি কেমন আছেন?
,
আমি:---- ভালো, ও একটু রান্নাঘরে আছে
ডাকবো?
,
তানিশা:---- না না থাক। আপনার সাথেই কথা বলার ছিল।
তৃষ্ণা কি আপনাকে ট্যুরের ব্যপ্যারে কিছু
বলেনি?
,
আমি:---- না কিসের ট্যুর?
,
তানিশা:---- আমি আর আমার হাজবেন্ড মহামায়া তে
যাওয়ার প্লেন করলাম, তাই চেয়েছিলাম আপনারা ও
দুজন ও আমাদের জইন করেন। কিন্তু ও বলল,
আপনার নাকি অফিসে অনেক কাজ। যেতে
পারবেন না।
,
আমি:---- আরে না তেমন কাজ নেই। ও আমাকে
একবার বললেই তো অফিসে থেকে ছুটি নিতাম।
,
তানিশা:--- ইউ আর গ্রেট ভাইয়া। কাল আমি আর তৃষ্ণা
শপিং করতে যাব।
,
আমি:--- ঠিক আছে।
,
তখনি আমার বোকা বউ আমার হাতে ওর ফোন
দেখে ভয় পেয়ে গেল। তানিশার সাথে কথা
বলে আমাকে বকা দিতে লাগল। আমি ওকে অভাক
করে দিয়ে মহামায়া যাওয়ার জন্য রাজি হয়ে গেলাম।
ও আমাকে এত ভালবাসে কিছু একটা তো ওর
পাওয়া উচিৎ।
ওকে শপিং এর জন্য টাকা দিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।
পরেরদিন ও সবাইর জন্য শপিং করল। আমার মন খারাপ
হল,
আমার বউ, বাবা মা সবাইর জন্য কিছু না কিছু এনেছে
আমার জন্য আনতে পারলোনা। আমি কি এত টাই
খারাপ!
অফিসের একটা ফাইল নিতে আলামারি খুলে
দেখলাম একটা কালো শার্ট।
আমার বউ টা সত্যি খুব আজব। আমার জন্য শার্ট
আনতে পারলো, দিতে পারলোনা।
মহামায়া যাওয়ার দিন ওর দেওয়া গিফট টাই পরলাম। আর
আমার বউ কে দেখে চিনতেই পারছিনা। যেন
আকাশের কোনো অপ্সরা। ওর দিকে হা করে
তাকিয়ে থাকলে ও সন্দেহ করবে তাই চোখ
সরিয়ে নিলাম।
ট্রেনে আমার বউ টা আমার কাধে মাথা রেখে
ঘুমিয়ে পরল। কিন্তু ও জেগে যাওয়ার আগে
আমি ওর মাথা টা জানালা দিকে হেলান দিয়ে দিলাম।
যাতে ও বুঝতে পারে ও আমার কাধে মাথা
রাখেনি।
মহামায়া তে অনেক মজা হলো।আজ প্রথম বার
আমার বউ টার হাসি দেখতে পেলাম। বিয়ের পর
ওকে এই প্রথম মন খুলে হাসতে দেখছি। কি মায়া
আমার বউয়ের টোল পড়া হাসি তে। আমি লুকিয়ে
লুকিয়ে আমার বউ টার অনেক গুলা ছবি তুললাম। আর
হোটেল ম্যানেজার কে বললাম,
আমাদের রুমে যেন সোফা না থাকে। যাতে
আমি ওর সাথে থাকার ওজুহাত পেয়ে যাই।
আর তাই হলো আমার বউ টা ঘুমিয়ে পরলে আমি
সারারাত ওর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
অপরুপ লাগে আমার বউ টা কে। আর সকালে ওর
আগে উঠে ওর মুখ থেকে প্রত্যকদিন চুল গুলা
সরিয়ে দিতাম ও বুঝতে পারতো না।
মহামায়া বিকালে একটু ঘুরতে বের হয়েছিলাম।
একটা দোকানে একজোড়া পায়েল খুব পছন্দ
হলো। আমার বউয়ের জন্য কিনে নিলাম আর
প্যেকেট করিয়ে আমাদের বিছানায় রেখে
দিলাম।
কিন্তু বোকা মেয়েটা ভাবল আমি ওগুলা ইরার জন্য
কিনেছি। মাথায় কোনো কমনসেন্স নিই ওর। আমি
আমার বউ রেখে কোথাকার ইরাকে গিফট দিতে
যাব। তাই রাগ করে ওর সাথে একটু কথা বললাম না।
বাসায় ফিরে এলাম আমার বউ টা ভাবছে আর মাত্র ২
মাস আমরা একসাথে থাকব। কিন্তু পাগলি টা তো
জানেনা দুই মাস পর ওর জন্য কি অপেক্ষা করছে।
আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি চুক্তি শেষ হওয়ার। আমার
বউ টা শুকিয়ে যাচ্ছে একদম। একদিন অফিস
থেকে বাসায় ফিরে দেখি বাবা রান্না করছে।
আমার বউ টা মন খারাপ করে দাড়িয়ে ছিল। তাই
ওকে হাসানোর জন্য বাবার সাথে দুস্টমি শুরু
করলাম। দেখলাম ওর একটু মন ভালো হয়ছে।
আমাকে বলছে আজ আমাকে ও নাকি বাবার সাথে
রান্না করতে হবে।
আমি চালাকি করে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার
আনিয়ে নিলাম।
রুমে এসে ভাবলাম বউকে একটু রাগিয়ে দিই। তাই
জিজ্ঞাস করলাম, কোথাকার টিকেট বুক করব।
ও রেগে গিয়ে বলল, ওকে নিয়ে ভাবতে
হবেনা!
আমি মনে মনে বললাম তুমি আমার মনের টিকেট
অনেক আগেই বুক করে নিয়েছ। আর ২ দিন পর
সব বলব তোমাকে। আর কষ্ট পেতে
দেবো না তোমায়!!
আজ বাবা মা চলে যাবে। ওনাদের বিদায় দিতে
আমার বউ অনেক কাদছে। খুব ভালবাসে ওদের।
আমি ও তাদের কে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ও
রুমে চলে গেল।
বাবা-মা কে এয়ারপোর্ট দিয়ে আসার সময়
বউয়ের জন্য অনেকগুলা গোলাপ আর চকলেট
নিলাম। আর অপেক্ষা করাবনা তোমাকে! আমি
আসছি বাবু!!
বাসায় এসে দেখলাম সব ফাকা। চারদিকে কেমন
যেন শুন্যতা। রুমে এসে বুঝতে পারলাম অনেক
দেরি করে ফেলেছি আমি। টেবিলের উপর
বউয়ের চিঠি টা পড়ে দপাশ করে বসে পড়লাম!!!
না!!!!!!!!!!!!!! আমার বউ সত্যি সত্যি আমাকে
ছেড়ে যেতে পারেনা। কখন ও না!!!!!!"
চিৎকার করে কাদলাম। কিন্তু আমার বউ ফিরে
এলোনা। তাড়াতাড়ি ওকে কল দিলাম, ওর ফোন সুইচ
অফ!!
বার বার চেষ্টা করতে লাগলাম। একি কথা বলে।
পাগলের মতো বের হয়ে দারওয়ান কে
জিজ্ঞাস করলাম, ম্যাডাম কে দেখেছো??
,
:----- না স্যার, আমি একটু বাজারে গিয়েছিলাম। একটু
আগে ফিরলাম।
গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সব জায়গায় খুজলাম।
শুশুরবাড়ি ও দেখলাম ওখানে ও যায়নি। কোথায়
যেতে পারে!
তখন তানিশা দের কথা মনে পড়ল!!
তানিশা কে কল দিয়ে দেখা করতে বললাম,
ওরা আসলে সব বললাম ওকে। ওর সব
ফ্রেন্ডের বাসায় খুজলাম কোথাও যায়নি।
তানিশা বলল, পুলিশে খবর দিতে!
আমি নিষেধ করলাম। আমার বউয়ের বদনামি হবে।
আমি আমার বউ কে খুজে বের করব। যেখান
থেকে পারি!
দিন এর দিন যায়। আমি ওকে খুজে পাইনি। আমার
অবস্থা আগের মত নেই। অফিস যাইনা, মুখে দাড়ি
গজিয়েছে। ঠিক মত খাইনা। এটা আমার পাওনা, আমি
আমার বউকে কষ্ট দিয়েছি বলে আজ এগুলা তার
প্রতিদান।
একদিন তানিশা এসে বলল, ওর কোনো একটা
ফ্রেন্ড ডিটেক্টিভ। ও নাকি তৃষ্ণার সিম ট্রেক
করে ওর লোকেশান বলতে পারবে!
আমি আর দেরি না করে তার কাছে গেলাম।
বউয়ের সিম ট্রেক করে একটা স্টেশনের
পাশে পাওয়া গেল।
আমার বুক টা খালি হয়ে গেল। তবে কি আমার বউ
সুইসাইড করেছে??
আমি ওখানে কান্না শুরু করে দিলাম। তখন তানিশা
বলল, সুইসাইড করলে এই নিউজ টা এতদিনে পাওয়া
যেত!
এটা ও তো হতে পারে ও ট্রেনে করে
কোথাও চলে গিয়েছে। কিন্তু কোথায়?
শহর টার প্রত্যক অলি গলি তন্ন তন্ন করে খুজলাম।
২ টা বছর কেটে গেল। কিন্তু বুউয়ের
কোনো খোজ পাইনি। একদিন হঠাৎ নিউ ইয়ারের
রাতে তানিশা ফোন দিয়ে জানালো, আমার বউ নাকি
গল্প লিখে। আর ওর গল্প নিউজ পেপারে ওর
ছবি সহ ছাপানো হয়ছে। আর ওটা চট্রগ্রামের
নিউজ পেপার। আর দেরি করলাম না!
পরেরদিন সকালে রাওনা দিলাম চট্রগ্রামের
উদ্দেশ্য।
নিউজ পাব্লিকেশন সেন্টারে গিয়ে লেখিকা,তৃষ্ণা
ইয়াস্মিন এর ঠিকানা জিজ্ঞাস করলাম। প্রথমে তারা
দিতে রাজি হচ্ছিল না। আমি রেগে যাচ্ছি দেখে
তানিশা বলল, আমরা ওনার ফ্যান!"!!
ওনার সাথে দেখা করতে চাই। তারপর তারা ঠিকানা
দিলে আমি আর ১ মিনিট ও দেরি করিনি।
এরপর সব ফাকা!!!!!!"
আমি বাক্যরুদ্ধ হয়ে গেলাম। চোখ আজ
শুকনো আজ একটু জল বের হচ্ছেনা!!
জিবন আমার সাথে এইভাবে গেইম খেলতে
পারল।
অভ্র আমাকে এত কষ্ট দিতে পারল।
তানিশা আমার চুপ থাকা দেখে বলল,
,
অভ্র তোর সামনে কোন মুখে ক্ষমা চাইবে।
এই জন্যই ও চলে গেছে!!
,
আমি:----- কোথায় গেছে????
,
তানিশা আমার হাতে একটা লাঠি দিয়ে বলল, ছাদে
আছে!! যা আজ সব শোধ নিয়ে! কিন্তু এই
ছেলেটাকে এই দুইবছরে একবার ও হাসতে
দেখিনি।
,
আমি দৌড়ে গেলাম ছাদে। অভ্র অন্যদিকে মুখ
করে দাড়িয়ে আছে। আমি যেতেই আমার দিকে
ঘুরে তাকালো,
এই কি চেহেরা হয়েছে আমার রাজকুমারের।
পুরো মুখে দাড়ির জঙগল হয়ে আছে। মুখ
কেমন শুকিয়ে গেছে আর চোখ গুলা ও
ফুলে আছে। ওর অবস্থা দেখে আমার হাত
থেকে লাঠি পড়ে গেল।
কিছু না বলেই ওর বুকে গিয়ে কিল ঘুসি শুরু করলাম।
আর কান্না করছিলাম, অভ্র ও কাদছে।
,
অভ্র:------ আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার একটু
আলাদা হওয়ার চিন্তা আমাদের ৩ বছর একে অপর
থেকে দুরে সরিয়ে রাখবে
বুঝতে পারিনি। আমি জানি আমি যা করেছি সেটা ক্ষমা
পাওয়ার যোগ্য না। কিন্তু বিশাস করো এই দুইবছর
অনেক কষ্টে ছিলাম তোমাকে ছাড়া। এক এক টা
দিন এক যুগ মনে হয়েছিল আমার কাছে!
চেয়েছিলাম আমার বউকে অন্যভাবে
ভালবাসব..........
,
ওর মুখে আঙগুল দিয়ে বললাম,
,
:------ আর কিছু বলতে হবেনা, আমি সব পড়েছি
তোমার ডাইরি তে।
,
:---- তাহলে আমাকে ক্ষমা করেছ কিনা বল?
,
:---- আগে প্রোপজ কর তারপর বলব। অনেক
বোকা বানিয়েছো আর না!
,
অভ্র হাটু গেড়ে বসে পড়ল,
:----তুমি কি আবার আমার বোকা বউ হবে? তুমি কি
আবার আমার বাবা মায়ের আদরের বউমা হবে! তুমি
কি আমার বাবুর মা হবে? সবশেষে তুমি কি আমার
ভালবাসা নীল আকাশ হবে??
,
আমি আবার ওক্ব জড়িয়ে ধরলাম।
propose accepted!!
পিছন থেকে কার ও কাশির শব্দে ওকে ছেড়ে
দিলাম। দেখলাম আন্টি আর তানিশা দাড়িয়ে আছে।
,
':---- মা এটা অভ্র!
,
:----- জানি আর কিছু বলতে হবেনা তোর বন্ধু
আমাকে সব বলেছে!
তুই এত সহজে ওকে ক্ষমা করে দিলি??
আন্টি এসে অভ্রের কান ধরে বললেন,
,
:----- আমার মেয়েকে আবার বিয়ে করতে
হবে! আবার নতুন করে সব হবে!
,
:----- হুম সব করতে রাজি। এবার আর চুক্তি পত্র
দেব না।
,
ওর কথায় সবাই হেসে উঠল।
,
আবার নতুন বউ সাজলাম আমি। আন্টি আর তানিশা
সাজিয়ে দিল আমাকে। তানিশার একটা কিউট বেবি ও
আছে এতক্ষন খেয়াল করিনি।
আজ আবার আমাদের বিয়ে হলো।
সবাইর থেকে বিদায় নিলাম। এখন আমি গাড়িতে
বসে আছি আর আমার রাজকুমারের কাধে মাথা
রেখে শুয়ে আছি।
আজ আরেকবার শুশুরবাড়ি যাচ্ছি। খুব আনন্দ
হচ্ছে!!
,
৫ বছর পর!!!"
,
,
অভ্র:----- জান আই লাভ ইউ!! আমার আপদ বউ টা
কে বিদায় দিয়ে তোমাকে নিয়ে আসব। চিন্তা
করনা!!!
,
:------ আম্মুউউউউউউ!!! বাবা আবার দুষ্টমি করছে!
,
:---- কি করেছে মামনি??
,
:----- অফিসের কলিগ এর সাথে প্রেম করার
অভিনয় করছে!!
,
:---- আসো আমরা দুজন মিলে ওকে মারি!!!
,
অভ্র বদলায়নি। আগের মতই রয়ে গেছে এখন
ও কিন্তু এখন আর কষ্ট দেয়না আমাকে। দুষ্টমি
করলে আমি আর আমার মেয়ে দুজন মিলে
ওকে পেটাই।
আর আমার শাশুড়ি আম্মু আর আব্বু এগুলা দেখে
হাসেন। ওনারা কিছুই বুঝতে পারেননি এখন ও।
এখন অনেক সুখে আছি আমার পরিবার নিয়ে।
,
সবশেষে বলি কষ্ট মানুষের জিবনে চিরকাল
থাকেনা!! একদিন সুখ আসেই ।ধন্যবাদ
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now