বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
----- এই উঠো, অফিসের সময় হয়ে আসছে তো
----- ওম্
---- কিসের ওম্,, অনেক হয়েছে, তাড়াতাড়ি উঠো বলছি
------ কয়টা বাজে??
------ নিজেই দেখো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে
----- ওহ্,, আগে ডাক দিবে না,, এখন তো দেরি হয়ে যাবে
----- সেই ছয়টা থেকে ডাকা শুরু করছি উঠার নাম নাই
----- তাড়াতাড়ি চা করে নিয়ে আসো আমি ফ্রেশ হচ্ছি
----- ওকে আনতেছি
----- আজকের চা এরকম লাগছে কেন??? আগের মতো স্বাদ পাচ্ছি না কেমন জানি,, আজকে মনে হয় তুমি টেস্ট করো নি তাই না?
----- হুম, তাড়াহুড়ায় ভূলে গেছি
----- তোমার আঙ্গুলের ছোয়া না পেলে চা ভালো লাগে না
---- হয়ছে হয়ছে এখন প্রস্তুত হয়ে অফিসে যাও।
এতক্ষণ কথা হচ্ছিলো নির্ভয় আর নিরার মাঝে, তাদের বিয়ে টা লাভ ম্যারেজ হলেও অন্য সবার মতো না, তাদের কাহিনী টা একটু ভিন্ন।
নির্ভয় ছেলে হিসেবে খুব ভালো, পড়ালেখাতেও ভালোই ছিলো সে রিয়া নামের একটা মেয়েকে ভালবাসতো, শুধু ভালবাসতো বললে ভূল হবে,, রিয়ার প্রতি সে প্রচন্ড রকমভাবে দুর্বল ছিলো, সে যা বলতো নির্ভয় তাই করতো, সারাদিন দাড়িয়ে থাকতে বললে দাড়িয়েই থাকতো। একটা চরম সত্য কথা হলো যে কারো প্রতি দুর্বল হওয়া মানে নিজের প্রতি খেয়াল হারিয়ে ফেলা।
কিন্তু নির্ভয়ের ভালবাসা সত্যি হলেও রিয়ার ভালবাসা ছিলো শুধুই অভিনয়।
কিন্তু রিয়া তাকে চরমভাবে আঘাত করে
------ একটা ছবি দাও তো ( নির্ভয়)
------ সেদিন ও না দিলাম আবার আজকেই?? ( রিয়া)
----- কৈ সেদিন দিলা?? প্রায় ছয়মাস যাবত কোনো ছবি তুমি দাও না
---- সরি আমি দিতে পারবো না
----- কেনো????
----- এমনি, সমস্যা আছে
---- আমাকে ছবি দিবা এতে আবার সমস্যা কিসের??
----- আছে আছে তোমাকে দিবো বলেই তো সমস্যা বলা
----- মানে????
------ আসলে আমি আর তোমার সাথে রিলেশন রাখতে চাচ্ছি না,, আমি অন্য কাউরে ভালবাসি তোমার মতো ছেলের সাথে রিলেশন রাখা সম্ভব না আমি রিমন কে ভালবাসি সে তোমার থেকে অনেক ভালো টাকা পয়সা সব আছে ওর।
কথাটা শুনে নির্ভয়ের মাথায় পুরো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো, নিজেকে কোনো রকম কন্ট্রোল করে শুধু একটা কথাই বললো,, বাই ( bye) ওমনির ফোনটা রেখে দিলো
যাকে সে জীবনের থেকেও বেশি ভালবাসে সেই তাকে এরকম ভাবে ধোকা দিলো?? না কখনোই সম্ভব না এ হতেই পারে না কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।
নির্ভয়ের চোখ দিয়ে ঝর্ণার মতো পানি পড়ছে, কি অপরাধ ছিলো তার? এরকম ভাবে চলে গেলো তাতে ছেড়ে।
সে তো কোনো অপরাধ করেনি, শুধু ভালবেসেছিলো ভালবাসাটাই কি তার অপরাধ।
সেদিন থেকে সে পুরোপুরি ভাবে ভেঙ্গে পড়ে কারো সাথে কথা বলে না।
মাঝে মাঝে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে ফুল সাউন্ডে গান ছেড়ে কান্না করতো, যাতে কেউ বুঝতে না পারে গোসল করতে গিয়ে নীরবে কাদে যাতে পানির শব্দের জন্যে কান্নার শব্দ শুনা যায়।
কোনো কাজ সে ভালোমতো করে না, ঠিকমতো ভার্সিটি তেও যায় না তার এরকম বিষন্ন আচরন লক্ষ করে নিরা, হ্যাঁ নিরা আর নির্ভয় ক্লাসমেট।
কয়েকদিন ধরে নির্ভয় এতো নিরব কেনো?? এতো হাসিখুশি ছেলেটা হঠাৎ করে এরকম হলো কিভাবে? নিরার মনে প্রশ্ন জাগতে থাকে।
এর আগেও নির্ভয়ের সাথে একটু আক্টু কথা বার্তা বলতো তাই সে তার কাছে কিছু কথা জিজ্ঞাস করলো
----- তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাস করতে পারি?
----- কি কথা??
----- কয়েকদিন ধরে লক্ষ করছি তুমি আগের থেকে অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছো কেমন জানি
----- কৈ নাতো এমনি কিছু হয়নি তো
---- অবশ্যই হয়েছে কিছু না হলে কেউ এরকম হয়ে যায় না
----- আরে কিছু হয় নি এমনি ভালো লাগেনা ( চোখে পানি এসে পড়েছে)
----- প্লিজ বলো কি হয়েছে
নির্ভয় তাকে সমস্ত কিছু বললো, কথাগুলো শুনে নিরার মনটাও খারাপ হয়ে গেলে।
ভার্সিটি থেকে বাসায় এসে শুয়ে পড়ে নির্ভয়, তার শরীরটাও ভালো না কানে হেডফোন লাগিয়ে " এশেজ " এর গান চালু করলো
" কি আর হবে এভাবে বেঁচে থেকে " সে দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার কথা ভাবতে শুরু করে কি হবে বেঁচে থেকে?? যার জন্যে বেঁচে থাকবে সে নিজেই তো হারিয়ে গেছে
একটু পড়ে একটা ব্লেড হাতে নিয়ে হাত কাটতে যাবে তখনই তার ফোনে নিরার কল আসে
---- কি করতেছো??
---- কিছু না
----- তোমার কন্ঠ এমন শুনা যাচ্ছে কেন?? তুমি এখনো কান্না করতেছো?? কান্না করো না প্লিজ সব ঠিক হয়ে যাবে। যার কেউ নাই তার আল্লাহ আছে
নিরার সাথে কিছু সময় কথা বলে নির্ভয়ের মনটা ভালো হয় একটু, নিরা তাকে বিভিন্ন ভাবে উৎসাহিত করে তার মন ভালো করার চেষ্টা করে, খেয়েছে কিনা গোসল করেছে কিনা ইত্যাদি খবর নেয়।
তার বিপদের সময় নিরায় তার পাশে এসে দাড়ায়।
এভাবে এক পর্যায়ে তাদের মাঝে রিলেশন হয়, নিরা নিজেই তাকে প্রথম প্রপোজ করে যদিও নির্ভয় রাজি হতে চাই নি কারন মেয়েদের প্রতি তার ঘৃণা জমে গেছে বিশ্বাস করে না সে মেয়েদের অনেকদিন যাওয়ার পর আস্তে আস্তে সে রাজি হয়, তারপর বিয়ে।
অফিসে পৌছে নিরাকে জানিয়ে দেয় ঠিকমতো পৌছেছে কারন জানিয়ে না দিলে চিন্তায় থাকে দুপুরের দিকে
অফিসের কাজের চাপ থাকায় ফোন করা তো দূরের কথা লাঞ্চ করার সময় পায় না নির্ভয়, প্রতিদিন নির্ভয় তাকে জিজ্ঞাস করে লাঞ্চ করেছে কিনা কিন্তু আজ নিরায় তাকে উল্টা ফোন দেয়
----- এই লাঞ্চ করছো?
---- না গো করতে পারি নি, কাজের চাপ অনেক
---- তাহলে কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি বাসায় আসবে, আজকে তোমার পছন্দের খাবার রান্না করেছি
----- ওকে এখন রাখি
অফিস শেষ হতে হতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেলো, বাসায় পৌছে কলিং বেল বাজানোর সাথে সাথেই নিরা এসে দরজা খুলে দিলো
---- কি হলো?? এখানেই দাড়িয়ে থাকবে নাকি ভেতরে আসবে?
---- তোমাকে না আজ অপূর্ব লাগছে, তোমাকে ভেজা চুলে দেখতে খুব ভালো লাগে
------ আগে ভেতরে এসে ফ্রেশ হয়ে খেতে আসো, খাওয়া দাওয়ার নাম নেই খালি আজাইরা পেচাল
----- তোমাকে দেখলে সবকিছু ভূলে যাই, খাওয়া তো পরের ব্যাপার
---- তুমি নাহ!!!
---- আমি কি??
---- কিছু না
রাতেরবেলা নির্ভয়ের মাথায় বিলি কেটে দিচ্ছে
----- সারারাত এভাবে দিলে খুব ভালো লাগতো
---- হুহ শখ কতো!! ঘুমাও এখন
----- তুমি কথা বলো আস্তে আস্তে আমি শুনি, তোমার কথা সারারাত শুনলেও মন ভরবে না
--- পারবো না, আমার ঘুম পাচ্ছে আমি এখন ঘুমাবো।
পরের দিন অফিস থেকে ফেরার সময় বৃষ্টিতে ভিজতে হয় নির্ভয়ের, কারন তার কাছে কোনো ছাতা ছিলো না, আর ভারি বৃষ্টির সময় কোনো রিক্সাও পেলো না
ছোটবেলা থেকেই এক্টু বৃষ্টিতে ভিজলেই তার জ্বর আসে এবারো ব্যতিক্রম না তবে এবারের জ্বর টা একটু বেশিই আসছে
------ তোমার না জ্বরে গা পুরে যাচ্ছে ঔষধ ও তো খেলে না দাড়াও ঔষধ টা নিয়ে আসছি
------- ঔষধের দরকার নেই, এমনিতেই কমে যাবে
------ হুম তোমাকে বলছে বেশি কথা না বলে চুপচাপ থাকো
নিরা ঔষধের সাথে পানি নিয়ে আসলো বালতি করে মাথায় পানি দেয়ার জন্যে
তার জ্বর থাকার কারনে সারারাত ঘুমায় নি নিরা জ্বর পট্রি দিয়ে সারারাত মাথার কাছে বসে কাটিয়ে দেয়।
আযানের সময় তন্দ্রার ভাব আসায় কখন যে নির্ভয়ের উপড়েই ঘুমিয়ে পড়ে বুঝতেই পারে না
সকালে ঘুম ভাঙ্গার পরে নিরার এ অবস্থা দেখে বুঝতে পারে মেয়েটা রাত্রে ঘুমায় নি এক্টু ও। বড্ড ভালবাসে তাকে, তাইতো সারারাত জেগে ছিলো তার জন্যে
---- তোমার জ্বর কমেছে?
---- হুম, মোটামুটি ভালো লাগছে
নিরা মলিন একটা হাসি দিয়ে রান্না ঘরে চলে গেলো।
নিরার হাসির প্রতি সে বরাবরই ক্রাশ খেয়ে এসেছে, আজকেও ব্যতিক্রম না। আজকে ছুটির দিন কাজ নেই তাই নিরাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার চিন্তা করছে নির্ভয়
--------আজকে বিকেলে আমরা ঘুরতে বের হবো
-------- না যাবো না তোমার শরীর খারাপ এই শরীরে তোমার কোথাও যাওয়া চলবো না না
------ আরে কিচ্ছু হবে না, আমি ঠিক আছি তুমি তৈরি হয়ে নিও সন্ধ্যার আগেই
------- ঠিকাছে
রিক্সা করে দুজনে যাচ্ছে নিরার চুলগুলো তার মুখে এসে পড়ছে সেদিকে তার খেয়াল নেই কারন চুলের সুবাস তাকে আসক্ত করে ফেলেছে।
তারা একটা রেস্টুরেন্টের সামনে এসে নামলো।
রেস্টুরেন্টে বসে তারা কিছু খাওয়া দাওয়া করলো এবং পরে হালকা জিনিসপত্র কেনাকাটা করলো।
রাতে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে দুজনেই বসে আছে
------ তোমার হাতে এই টেডি কেন?? এটা কোথায় পেলে?? আমাদের বাসায় তো আর বাচ্চা নেই
---- নেই তাতে কি হয়ছে আসবে তো ( মনে মনে হাসছে)
------ হুম তা ঠিক কিন্তু এখন তো আর নেই।
----- দেখতে দেখে তিন বছর কেটে গেলো আমাদের বিয়ে হয়ছে
---- হুম, একটা কথা বলি?
---- বলো বলো
------ আমাদের ঘরে তৃতীয় ব্যক্তি আসতে চলেছে
---- কি বললা!!! সত্যি????
---- হুম সত্যি
---- কথা আগে বলোনি কেনো
------................( ইমু)
----- ভালবাসি এত্তগুলা
---- আমিও
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now