বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নামধারী (পতিতা)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অনয় (০ পয়েন্ট)

X লেখাঃ- অনয়........... আজ আমি পতিতা বলে সমাজের চোখে ঘৃনার পাত্রী। নটি, খানকি, বেশ্যা আরও কত নাম নাম আমার। পতিতালয়ের বাহিরে আমার কোন অস্তিত্ব নেই। দুধের শিশু থেকে আবাল বৃদ্ধা পর্যন্ত সবাই থুথু ছিটায় আমার দিকে। আমি পতিতালয়ে বলে আমার উপাধি পতিতা কিন্তু যে পুরুষ পতীতালয়ে এসে আমাকে আষ্টে পৃষ্টে ভক্ষন করে যায় তার কোন নাম নেই। তাকে কোন উপাধি দেয়া হয় না। কারন সমাজে তার অস্তিত্ব আছে। প্রকাশ্য দিবালোকে যারা পার্কে বসে অশ্লীলতা করে যায় তাদের কোন নাম দেয়া হয়। তারা সমাজের চোখে অপরাধী নয়। সব অপরাধ আমার কারন আমার নামের পাশে পতিতা উপাধিটা লাগানো আছে। যারা বিয়ের আগে আবদ্ধ রোমে রাতভর যৌনতার স্বাদ নিল তারাই আমার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলে আমি পতিতা। তাহলে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন তারা কি????? আমার সমাজে বিয়ে হয় না। কারন আমি পতিতা। আর যে মেয়েটি হোটেলে দিনের পর দিন রাত্রি যাপন করল তাকে সমাজ কখনই তিরস্কার করেনা। কারন সমাজের চোখ সেই অব্ধি কখনই পৌছায় না। সেখানে সমাজ অন্ধ। শোন হে সব্য সমাজের মুখোশ ধারী প্রানী আজ আমি পতিতা বলেই তোদের মা বোনেরা নিরাপদ। তারা রাস্তায় অবাধে চলতে পারে। আমি পতিতা না হলে তারা কখনই রাস্তায় বের হতে পারতো না। মুখোশ ধারীদের লালসার শিকার হত অবাধে। আর সেই তোরা আমায় পতিতা বলে গালি দেস যারা রাতভর আমায় ভোগ করে গেলি। তোরা কত না সভ্য???? আমি কি জন্ম থেকেই পতিতা ছিলাম??? না কি তোরা আমায় পতিতা বানিয়েছিস???? কখনও এ খবর জানতে চেয়েছিস??? আমি তোদেরই মত সাধারন মানুষ ছিলাম। চারদিকে রাস্তায় ঘেরা ছোট্ট একটা সবুজ গ্রাম আমার পুথিলিয়া (কাল্পনিক)। রাস্তার দুই ধারে কৃষ্ণচূড়া আর শিমুলের প্রাধান্য। বসন্তে তাদের রক্তিম রুপ পুথিলিয়াকে ভরা যৌবনময় করে তোলে। এমন কাউকে খোজে পাওয়া যায় না যে পুথিলিয়ার প্রেমে মজে না। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা চোট্ট নদীটি গ্রামকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। এই গ্রামেরই এক কোনে আমাদের ছোট্ট কুড়ে ঘর। বাবা নেই। আমি আর মা। আমাদের সুখের সংসার। মা এই পুথিলিয়ার মাথা মিঞা বাড়িতে ঝি এর কাজ করে। যা আনে তা দিয়ে আমাদের দিব্যি চলে যায়। মা অক্ষর জ্ঞানহীন হলেও আমাকে পড়াশুনা করানোর প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। আমি তখন ক্লাশ সেভেনে পড়ি। মা কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কাজে যেতে কষ্ট হত তার। তাই আমাকে মাঝে মাঝে যেতে হতো। মা কাজে যেতে দেরি করলে বা মিস করলে মিঞা সাহেবের ছোট ছেলে আসতো ডাকতে। প্রথমে তার মার কথায় আসলেও পড়ে প্রায় নিজে থেকেই আসতো। তার সৌন্দর্য ছিল চোখে লেগে থাকার মত। তার প্রেমে পড়বে না পুথিলিয়ায় এমন কাউকে খোজে পাওয়া দুস্কর ছিল। আমিও যে তাকে দেখে ক্রাশ খায়নি এটা বললে মিথ্যা বলা হবে। তবে কখনই তা সীমা লঙ্গন করেনি। অসুস্থতার কারনে মার ধীরে ধীরে শ্রবণ শক্তি হ্রাস পায়। কিছুদিনের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই আমাকেই যেতে হতো মিঞা বাড়িতে কাজ করতে। প্রথম প্রথম মিঞা সাহবের ছোট ছেলে আমার সাথে কথা না বললেও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। আমি বা মা কেউ যেতে একটু দেরি করলেই আমাদের বাড়িতে চলে আসতো ডাকতে। আমি বুঝতে পারতাম সে আমায় কিছু বলতে চায়। কিন্তু আমার অবস্থান সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম তাই সর্বদায় এড়িয়ে গেছি। একদিন মা যেতে দেরি করায় সে এসেছে ডাকতে। কিন্তু ও আসার আগেই মা বেরিয়ে পড়েছিল। তার সাথে রাস্তায় দেখা হয়েছিল কিনা জানি না। মা তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়েছে শুনে আমার কাছে এক গ্লাস পানি খেতে চায়। আমি তখন স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছি। আমি তাকে পানি দিয়ে টেবিলের দিকে যাচ্ছি ব্যাগ গোছাবো বলে। এমন সময় আমার মাংস পিন্ডের উপর দিয়ে হঠাৎ ঝড় বয়ে গেল। আমি কোন ভাবে ছাড়িয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। সেদিন আর স্কুলে যাওয়া হয় নি। আমি সারাদিন কেদেছি। মা বাড়িতে আসা মাত্রই আমি মাকে সব বলি। কিন্তু শুনছে কিনা বুঝিনি তিনি আবার পাশের বাড়িতে যাবেন বলে বেড়িয়ে পড়েন। চার পাঁচদিন মিঞা সাহেবের ছোট ছেলে আমাদের বাড়ি আসে নি। আমিও আর তাদের বাড়িতে যায় নি। একদিন মা আবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় যেতে পারে নি। কিন্তু সেদিন তাকে যাওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে বলে দিয়েছিল মিঞা সাহেবের স্ত্রী। কারন তারা কেউ বাড়িতে থাকবে না বেড়াতে যাবে। আসবে সন্ধ্যায়। ছোট ছেলে বাড়িতে একা থাকবে। মা যেন গিয়ে রান্না করে দেয়। সব শুনে আমি যাব না বললেও মা আমাকে জোর করে পাঠায় মিঞা বাড়িতে। আর সেদিন আমায় একা পেয়ে মিঞা সাহেবের ছোট ছেলে চুড়ান্ত নোংরামি করেছিল। আমি বাড়িতে এসে মাকে সব কিছু বলি। তারা সন্ধ্যায় ফিরে এলে মা আমাকে নিয়ে মিঞা বাড়িতে যায়। আর মিঞা সাহেবের স্ত্রীকে সব খুলে বলি। যার ফল আমি আজ পতিতালয়ে। মিঞা সাহেবের স্ত্রী সব শোনার পর মিঞা সাহেবকে জানায়। আর পরের দিন ই আমার বিয়ে হয়ে যায়। এক অচেনা লোকের সাথে। আমি বা মা কিছুই বলতে পারিনি মেনে নেওয়া ছাড়া। মিঞা সাহেব ঘটককে আমার জন্য পাত্র দেখতে বলায় ঘটক তার পরিচিত পাত্র এনে দেয়। আমার চেয়ে বয়সে দ্বিগুনেরও বেশি। বিয়ের নয় দিন পর বর আমায় নিয়ে শহরে চলে আসে। শহরে আসার পনের দিন ভালই ছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে গেছে। ভাল ভাল খাইয়েছে। আর দিন রাত কতবার মেলামেশা করেছে তার কোন অন্ত নেই। আমি অপারগ হয়ে যদি বলতাম আমি কি কোথাও চরে যাব নাকি না আপনি চলে যাবেন। এভাবে পাগলামি করতেছেন। আমার বুঝি কষ্ট হয় না। কোন উত্তর দেয়নি শুধু হেসেছে। আমি পুথিলিয়ার ফেরার জন্য অস্থির ছিলাম। মাকে দেখবো বলে। ষোলতম দিন সকালে আমাকে রেড়ি হতে বলে ওর খালার বাসায় নিয়ে যাবে তারপর সেখান থেকে পুথিলিয়ায় আমার গ্রামে মার কাছে। কিন্তু তা আর হয়নি। আমি আজও সেই খালার কাছেই আছি যিনি এ পতিতালয়ের মাতা। ফেরা হয়নি পুথিলিয়ায়। ফেরা হয়নি মার কোলে। শুনেছি মা নাকি আমি চলে আসার চারমাস পরেই মারা গেছে। সেদিনও বিচার হয়নি অপরাধীর। বিনা অপরাধে আজ আমি পতিতালয়ে। কিন্তু যারা আমাকে এই পতিতালয়ে ঠেলে দেওয়ার নেপথ্যে ছিল তারা আজও সমাজে মাথা উচু করেই বেচে আছে। "আজ আমি পতিতা তবে পেটের দায়ে নয় আমার পতিতা বৃত্তির টাকাতে তোদের সংসারও বয়, আমি ঘৃণিত নয় ঘৃণিত তোরা মুখোশের আড়ালে থেকে আমার মত হাজারও পতিতা বানিয়েছিস যারা এপারেতে সুখে থাক, সুখেই যেন তোদের জীবন বয় মনপ্রাণে অপেক্ষায় থাকিব আমি সেদিন আখিরাতে যেন তোদের বিচার হয়।" ♦♦♦♦♣♣♣♦♦♦♦


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now