বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিয়ের আগের রাতে বাড়িতে বেশ হৈচৈ হচ্ছে। সবাই অনেক আনন্দ করছে। এটাই যে শেষ বিয়ে বাড়ির ছেলে মেয়েদের মধ্যে। এরপর শুরু হবে নাতি নাতনীদের বিয়ে দেওয়া। জনাব আকবর সাহেবের ছোট ছেলের বিয়ে আজ। ছোট বললেও সে অতোটা ছোট নয়। বয়স চব্বিশ পেরিয়ে পঁচিশ এ পা দিয়েছে কিছুদিন হল। লম্বা,সুদর্শন, গারো ফর্সা, সুঠাম দেহের অধিকারি ছেলে মেঘ। তিন বোনের একমাত্র ভাই সে। বড় দুই বোনদের বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। ছোট বোনের বিয়ে হল মাস তিনেক হবে। বাড়িটা এখন ফাঁকা থাকে। বাবা ছেলে সকালে বের হয়ে গেলে সারাদিন বাড়িতে তালা ঝুলে। কারন মেঘের মা মারা গিয়েছে বছর তিনেক আগে। এরপর মেঘের বাবা আর বিয়ে করেনি। কি ভাবেই বা করবে। ছেলে মেয়ে এতো বড়, নাতি নাতনি আছে এখন কি বিয়ে করা সভা পায়। শুধু শুধু লোক হাসানো হবে। তাই সবাই মিলে এক প্রকার জোর করেই বিয়ে দিচ্ছে মেঘ কে। মেঘ বলেছিল সে এখন বিয়ের জন্য প্রস্তুত নয়। কিন্তু বাবা আর বোনেদের কথার কাছে হার মানতে হয়। আগামিকাল বিয়ে। তোরজোর চলছে বিয়ের। সবাই বাইরে কাজ করছে। মেঘ তার ঘরে জানালার পাশে আনমনে দাঁড়িয়ে আছে আর চাঁদ দেখছে। মেঘের ঘরের জানালা দিয়ে চাঁদটা বেশ সুন্দর দেখা যায়। আজকের চাঁদটা কতো সুন্দর!একিবারে পরিপূর্ণ গোল চাঁদের আলোয় আলোকিত হয়ে গেছে চারদিকে। নিস্তব্ধ পরিবেশে থাকতে ভালোই লাগছে মেঘের। এমন সময় মেঘের বড় বোন হৃদিতা ঘরে এলো,
---ভাই জানালার পাশে কি করছিস?রঅনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পর।
মেঘ অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
---না তেমন কিছু করছি না। রাতের জোস্ন্যা ভরা চাঁদটা দেখছিলাম।
---ঘুমিয়ে পর কাল আবার সকাল সকাল উঠতে লাগবে।
এই বলে হৃদিতা চলে যেতে লাগল। পিছন থেকে মেঘ বলে উঠল
---আপু একটু শোন?
---হ্যাঁ বল ভাই কিছু বলবি?
---এদিকে আয়। বিছানায় বস।
হৃদিতাকে হাত ধরে টেনে বিছানায় বসিয়ে দিল মেঘ। আর দরজটা বন্ধ করে দিল।
---কিরে ভাই দরজা বন্ধ করছিস কেনো? তুই ঘুমা আমার কাজ আছে যে।
---বস না একটু আমার কাছে। মিতা আপু আর কানন আপু তো আছেই। ওরা আজকে রাতের জন্য সামলে নিবে।
---আমি এখানে থেকে কী করব শুনি?
---তোকে কিছু করতে হবে না। তুই শুধু আমার পাশে বসে থাকবি, আমার মাথায় বিলি কেটে দিবি।
বলেই মেঘ বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরল তার বোন হৃদিতার পায়ের উপরে। ভাইএর এরকম পাগলামি সেই ছোট থেকে দেখে এসেছে হৃদিতা। ভাইএর যদি মন খারাপ থাকে তাহলে হৃদিতাকে বসিয়ে তার পায়ের উপরে মাথা রেখে গল্প করে।
---ভাই তোর কি মন খারাপ? কিছু হয়েছে?
---আচ্ছা আপু আজকে যদি মা থাকত তাহলে কী হতো বল তো?
হৃদিতা কিছু বলে না। কি বলবে সে? মাকে যে সেও হারিয়েছে।
---কি আর হত বল আমার বিয়েটা হতো না এতো তারাতারি বল। বাড়িতে কেউ নেই বলেই তো আজ আমার বিয়ে হচ্ছে এতো তারাতারি।সব কষ্ট গুলো আমাকেই সহ্য করতে হয়।তাকেও ভুলে যেতে হবে। আচ্ছা আপু মা কি উপরে গিয়ে আমাদের ভুলে গেছে? একটিবারের জন্যেও আসে না। আমাদের কথা কী তার মনে পরে না?
---ভাই এইসব কথা থাক তুই ঘুমিয়ে পর।
---আপু বিয়েটা এখন না হলে কী খুব সমস্যা হবে বল?
---দেখ ভাই বাবার বয়স হয়েছে কখন কী হবে বলা যায় না? বাড়িতে একটা মানুষ থাকলে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়। আমরাও শ্বশুর বাড়িতে মন দিয়ে সংসার করতে পারব।
---তাহলে কী তোরা তোদের ভালোর জন্য আমাকে বিয়ে দিচ্ছিস?
এবার হৃদিতা চুপ হয়ে যায়। এই প্রশ্নের উত্তর যে নেই তার কাছে।
---কী হল আপু কিছু বললি না যে?
---আচ্ছা ভাই তুই কী এখনও তাকে ভুলতে পারিসনি?
এবার হৃদিতার কথা শুনে মেঘ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। অঝর দ্বারায় কেদেঁই চলেছে মেঘ। হৃদিতাও বাঁধা দিচ্ছে না। বাঁধা দিয়েই বা কি হবে। ছেলেটা অনেক দিন যাবৎ কান্না করেনি। বিয়ের আগের রাতে একটু কান্না করে নিজেকে হালকা করে নিক। তাহলে ভালো লাগবে।
---আপু সে আমাকে কেনো ছেরে চলে গেলো বলতে পারিস? সে এতোটা নিষ্ঠুর হতে পারলো কি করে বল তো? (কেঁদে কেঁদে বলল মেঘ)
---কি করবি ভাই? যে যাবার সে তো যাবে। কেউ যেতে চাইলে তো আর তাকে আটকে রাখা যায় না। সেই ক্ষমতা আমাদের নেই।
---আমার যে খুব কষ্ট হচ্ছেরে আপু।আমি তাকে ভুলতে পারিনি যে। কাল যে আমার জীবন সঙ্গীনি হবে তাকে কী আমি তার জায়গাটা দিতে পারব বল?
--ভাই অতীত ভুলে যা। ওকে মনে রেখে নিজেকে কষ্ট দিস না আর যে তোর জীবনে আসছে তাকেও কষ্ট দিস না। মেয়েটার কী দোষ বল? সে তো আর জানেনা তোর জীবনে অন্য কেউ ছিল।
--জানে না মানে? তোরা দেখেতে গিয়েছিলি তখন বলিসনি?
--বলেছি যে তুই অন্য কাউকে ভালোবাসিস, সে তোকে ছেরে গেছে এখন ওই তোর সব।
--আদৌ কী সে আমার সব হয়ে উঠবে?
--তোকে করে নিতে হবে ভাই।
,
,
আরো অনেক গল্প করল হৃদিতা আর মেঘ। গল্প করতে করতে এক সময় মেঘ ঘুমিয়ে পরল। হৃদিতা আস্তে করে মাথাটা পায়ের উপর থেকে সরিয়ে বিছানায় শুয়ে দিল। চোখ দুটো মুছে দিল। পাগল ছেলে একটা। কষ্ট ছারা আর কিছুই পেলো না। এবার আর কষ্ট থাকবে না। রিংকু তোর সব কষ্ট ভুলিয়ে দিবে। এরপর হৃদিতা চলে যায় মেঘের ঘর থেকে।
,
,
পরের দিন সকালে ছোট বোন কানন এর ডাকে ঘুম ভাংগে। তারাতারি করে তৈরি হয়ে নেয়। হুলুদ হয়। বর যাত্রী যায়। বিয়ে করে নিয়ে আসে নতুন একজন মানুষকে। মেয়েটা বাসর ঘরে একা বসে আছে। মেঘ ছাদে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আজ আকাশে চাঁদ দেখা যাচ্ছে না। চাঁদ টা মেঘে ঢাকা পরে গেছে। ঢেকে গেছে অন্ধকারে সারা দুনিয়া। হঠাৎ কারো হাতের স্পর্শ পেলো মেঘ।
--কী'রে ভাই তুই ছাদে কেনো? মেয়েটা ঘরে একা বসে আছে।
---ও হৃদি আপু তুই। যেতে মন চাচ্ছে নারে। কোন মুখে তার সামনে গিয়ে দারাব বলতে পারিস?যেখানে আমি তাকে মেনে নিতে পারছি না। আমার অস্তত্বিতে অন্য কেউ আছে।
---আবারও সেই এক কথা। কতো করে বললাম তোকে সব কিছু ভুলে যা। চল ঘরে চল। মেয়েটা আর কতোক্ষন একা বসে থাকবে।
,
এই বলেই হৃদিতা মেঘ কে নিয়ে গেলো তার ঘরে।হৃদিতা বলল,
---যা ভাই। সব কিছু ভুলে নতুন জীবন শুরু কর।
মেঘ আর কিছু বলল না। ঘরে ঢুকল সে। ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিল। ফুল দিয়ে সাঁজানো খাটের উপর বসে আছে সদ্য শ্বশুর বাড়িতে আসা মেয়েটা। মেঘ ভাবছে তাকে কি আজকেই সব বলে দিবে? নাকি কিছুদিন পর। অনেক ভেবে মেঘ সিদ্ধান্ত নিল যে, সব আজকে বলবে। কি হবে লুকিয়ে রেখে? সব তো এক দিন জানবেই।এরপরেও যদি মেয়েটা থাকতে চায় থাকবে। না হলে তাকে মুক্ত করে দিব। জোর করে আটকে রাখব না।
---আপনি সব কিছুর জন্য প্রস্তুত আছেন তো?
মেঘ এর কথা শুনে মেয়েটা নরে চরে উঠল। মনে হচ্ছে ভয় পেয়েছে।
---ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি বলছি আমার কথা শুনার জন্য প্রস্তুত আছেন তো? কারন আমার কথা গুলো শুনে হয় তো আপনার ইচ্ছে হতে পারে আমার সাথে আর সংসার করবেন না।
---আজকে না বললেই কী নয়? কথা তো পরেও শুনা যাবে(নরম সুরে বলে উঠল মেয়েটি)
----আমি সব কিছু আজকে বলে দিতে চাই। না হলে নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হবে।
---আচ্ছা বলুন কী বলতে চান?
---আমি একজন বিবাহিত পুরুষ। আমার জীবনে অন্য কেউ ছিল। কিন্তু সে আমাকে ছেরে চলে গিয়েছে। তাকে আমি কতোটা ভালোবাসি বলে বুঝাতে পারব না। তার জায়গা টা আমি কাউকে দিতে পারব না। হয় তো আপনাকেও না। আমি বিয়ে করতে চাইনি। এতোদিন আমাকে নিয়ে মেয়ে দেখতে যেত। আমি আমার সত্য কথা সবা মেয়ে কে বলে দিতাম তাই কেউ বিয়ে করতে চায়নি। আপনাকে আমি দেখতে যেতে পারিনি কিন্তু হৃদি আপুকে বলেছি আপনাকে যেনো সব বলে। জানি না আপু আপনাকে কি বলেছে?
---হৃদি আপু আমাকে আপনার সব কথাই বলেছে কিন্তু আপিনি যে বিবাহিত সেটা বলেনি।
---সেটা বলার কথাও নয়। কারন আপুও জানে না আমি বিবাহিত। জানেন সে আমাকে নিজে কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিল শুধু একটা কথা বলেছিলাম বলে।
---কি বলেছেন মেয়েটাকে.?
---একদিন অন্য এক ছেলের সাথে তাকে দেখেছিলাম। তখন বলেছি তুমি আমাকে ভালোবাস না তাই ওই ছেলের সাথে ঘুরেছ। আর এই কথা শুনে সে আমাকে সেদিনি বিয়ে করেছিল। এরপর বাড়িতে আমি তার কথা বলি। সবাই রাজি ছিল।বিয়েও ঠিক হয়েছিল আমাদের। কিন্তু হঠাৎ করে সে আমাকে না বলে আমার জীবন থেকে চলে গেলো।
----কী এমন হয়েছে যে আপনাকে ছেরে চলে গিয়েছে সে?
---জানতে চান কী হয়েছিল?
--হ্যাঁ জনিতে চাই। বলুন আপনি।
--বলব না দেখাব। সে এখন কথায় আছে আমাকে ছেরে চলুন।
বলেই পিছনের দরজা দিয়ে যেতে লাগল মেঘ। সাথে নতুন বিয়ে করা বউ। মেয়েটাও কিছু বলছে না। সে জানতে চাইবে সেই মেয়ের কাছে, কেনো মেঘ কে ছেরে চলে গেলো, যে তাকে এতো ভালোবাসে? অনেকক্ষন হাটার পর একটা জায়গায় এসে থামল মেঘ। চারপাশে দেওয়াল দিয়ে ঘিরে দেওয়া আছে। মেঘ ভিতরে ঢুকল। মেয়েটা গেটের উপরে দেখল কিছু একটা লিখা কিন্তু অন্ধকার থাকায় ভালো করে দেখতে পেল না। অনেকক্ষন পর মেয়েটা ভিতরে ঢুকল। ঢুকেই যা দেখল তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। মেয়েটা দেখল মেঘ একটা কবরের পাশে মোমবাতি জ্বালিয়ে পাশেই মাটিতে বসে আছে। মেয়েটা মেঘের কাছে গেলো আর বল,
---কোথায় সে?
--মেঘ কাঁপা কাঁপা ভেজা কণ্ঠে বলে উঠল এই কবরে শুয়ে আছে সে। ছয় মাস হল সে আমাকে ছেরে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিল। আমাদের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর যখন শপিংএ গেছিলাম আমরা হঠাৎ করেই সেদিন শপিং মলে রক্ত বমি করতে থাকে মেঘা। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার বলে তার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে। যা লাস্ট স্টেপ এ পৌঁছেছে । কিছুই করার নেই। সে আর দুই দিনের অথিতি মাত্র। সেদিন আমি কিছু বলতে পারিনি। তার সামনে গিয়ে দারাতে পারিনি। সে আমাকে দেখার জন্য যখন ব্যকুল হয়ে পরেছিল তখন অনেক কষ্টে নিজের কান্না চেপে তার সামনে গিয়েছিলাম। আর আমাকে বলেছে আমাদে এই বিয়ের কথা যেনো কেউ না জানে। আমি যেনো নতুন কাউকে নিজের করে নেই। ভালো থাকি সব সময়। কথা গুলো শুনে সেদিন তাকে জরিয়ে ধরে অনেকক্ষন কেদেঁছিলাম। এক সময় সে আমার বুকে মাথা রেখে চিরতরে চলে যায়।
বলেই মেঘ ডুকরে কেদেঁ উঠে। মেয়েটা কি বলবে ভেবে পায় না। তার চোখেও পানি। চোখ মুছে দেখল মেঘ আরেকটা মোমবাতি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
---জানেন সে অন্ধকার এ খুব ভয় পায়। তাই আমি প্রতিদিন সন্ধ্যে এখানে এসে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেই। আজকে বিয়ে বাড়ির জন্য দেরি হয়ে গিয়েছল। তাই আপনাকে সাথে করে নিয়ে এলাম।
,
,
ভোর হয়ে এসেছে এবার মেঘ বলল,
---চলুন যাওয়া যাক। বাড়িতে আবার আমাদের খুঁজতে পারে।
--হ্যাঁ চলুন।
বলেই মেঘ আর মেয়েটা বাড়িতে গেলো। মেয়েটা আসার সময় সেই কবরের পাশে বলে এসেছিল মেঘ কে আর কোনো কষ্ট পেতে দিবে না। সে সব কষ্ট মুছে দিবে মেঘের জীবন থেকে।
,
চুপিসারে মেঘ আর মেয়েটা ঘরে ঢুকল।
---আপনি শুয়ে পরুন। আমার জন্য সারারাত ঘুমাতে পারলেন না। আর এইসব নিয়ে ভাবার দরকার নেই। আপনাকে আমি অবহেলা করব না বা স্ত্রীর মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করব না। কিন্তু মেঘা কে আমি ভুলতে পারব না।
---না এখন আর ঘুমাব না। আর ভাবনা চিন্তার কথা পরে ভাবা যাবে। কিন্তু মেঘার জন্য নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন কেনো? আপনার কষ্টে কি মেঘা কষ্ট পাচ্ছে না? মেঘা চাইত না তার মেঘ কষ্ট পাক। তাহলে কেনো এরকম করছেন? আমি আপনার কাছে জোর করে কিছু চাইব না।ভআপনাকে আমি স্বামী হিসেবেই ভালোবাসব। আর সেই ভালোবাসা দিয়েই একদিন আমার কাছে ফিরিয়ে আনব আপনাকে।
---আচ্ছা ফ্রেশ হয়ে আসুন। আর হ্যাঁ আপনার নামটা যেনো কী?
---লাবন্য আক্তার রিংকু। সবাই রিংকু বলে ডাকে।
মেঘ আর কিছু না বলে বাইরে গেলো। বাইরে বৌভাতের বেশ আয়োজন চলছে। মেঘ শুধু দেখছে আর ভাবছে সব কিছুই মনের মতো হচ্ছে। যেরকম টা ভেবেছিল করবে তেমন টাই হচ্ছে শুধু নতুন বউএর জায়গায় অন্য কেউ। মেঘ দেখল লাবন্য তার বড় বোনের সাথে কথা বলছে। হাতে হাতে কাজ করে দিচ্ছে। হৃদিতা মানা করছে কিন্তু কোনো বাঁধা না মেনেই কাজ করছে লাবন্য।
,
,
দেখতে দেখতে বৌভাত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে বাড়ির মানুষ কমতে থাকে। তার তিন বোনও চলে যায়। হৃদিতা সবার শেষে যায়। যাওয়ার আগে মেঘ কে বলে,
---ভাই রিংকু কে কষ্ট দিস না। মেয়েটা বড় ভালোরে। তোর সব জেনেও তোকে আগলে রেখে ভালোবাসতে চায়। বোন হয়ে আমরা জানতে পারলাম না তোর বিয়ে হয়েছে। অথচ মেয়েটা যেনেও কিছু বলছে না। ভালো থাকিস
মেঘ কিছু বলে না। হৃদিতা যাওয়ার পরে সে লাবন্য কে অনেক কথা শুনায়। তাকে বিশ্বাস করে কথা গুলো বলেছিল আর সেই বিশ্বাসের এই প্রতিদান দিল লাবন্য। আরও অনেক। লাবন্য কিছু বলে না।
,
,
মেঘ প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী অফিস বাড়ি সব দিকেই খেয়াল রাখে। প্রয়োজন ছারা লাবন্যের সাথে কথা বলে না। মেঘ অফিসে গেলে লাবন্য সারাদিন বাড়িতেই থাকে। বাড়ির কাজ করে লাবন্যের শ্বশুর বাসায় থাকলে গল্প করে মেঘ কে নিয়ে, মেঘের মাকে নিয়ে। এভাবেই চলছে মেঘ আর লাবন্যের সংসার। এদিকে মেঘ খেয়াল করছে লাবন্যের অভ্যাস কিছুটা মেঘার মতো। এই যেমন হঠাৎ করেই ফোন দিয়ে বলবে এখনি বাসায় আস (মেঘা বলত পার্কে আস) যদি বলে কেনো? বলবে দেখার ইচ্ছে হয়েছে তাই। রাতের বেলা হাটতে যাওয়া।বআইস্ক্রিম খাওয়া। মেঘ এসব দেখে মাঝে মাঝে তার মনে হয় সে মেঘাকে দেখছে। মেঘার পছন্দের সাথে লাবন্যের পছন্দও মিলে যাচ্ছে।
,
,
সময় কি ভাবে কেটে যায় বলতে পারে না। দেখতে দেখতে মেঘ আর লাবন্যের বিয়ের এক বছর হতে চলল। আর এর মাঝেই মেঘ লাবন্যকে ভালোবাসতে শুরু করে। কিন্তু সেটা মেঘার মতো সভাব বলেই। মেঘ ভাবে মেঘা তার কাছে ফিরে এসেছে। বিবাহ বার্ষিকী তে মেঘ এর ভালোবাসার কথা জানাবে লাবন্য কে। এদিকে লাবন্য তার কাজ করেই চলেছে। নিজেকে প্রতিনিয়ত মেঘার মতো গড়ে তুলছে। মেঘার পছন্দ অপছন্দ অভ্যাস সব নিজের করে নিচ্ছে। আর এই সব কিছুতেই সাহায্য করছে মেঘের বড় বোন হৃদিতা। হৃদিতা মেঘার বিষয় সব জানত তাই লাবন্যকে সাহায্য করছে। হৃদিতা চায় তার ভাই ভালো থাকুক।
,
,
আজ মেঘ আর লাবন্যের বিবাহ বার্ষিকী। মেঘ ভোরে উঠে মেঘার কবরের পাশে যায়।
---যানো মেঘা লাবন্য মেয়েটা ঠিক তোমার মতো। নিজের অজান্তেই কখন যে তাকে ভালোবেসেছি বলতে পারি না। কিন্তু তোমার ভালোবাসা কমেনি। প্রথমে তোমার জন্য যেই ভালোবাসাটা ছিল আজও আছে। আর চিরকাল থাকবে। আচ্ছা আজকে কি লাবন্যকে বলে দিব আমার ভালোবাসার কথা। মেয়েটাও তো চায় তার স্বামী তাকে ভালোবাসুক। তাকে কি কষ্ট দেওয়াটা ঠিক হচ্ছে বল?
এইসব বলছে আর মেঘের চোখ দিয়ে অঝর দ্বারায় ঝর্রনার মতো পানি ঝরছে। মেঘ চোখ মুখ মুছে মেঘাকে বিদায় জানিয়ে বাসায় গেলো। দেখল লাবন্য একমনে জানালার পাশে বসে আছে। মেঘ কিছু না বলে ফ্রেশ হয়ে বাইরে বেরিয়ে গেলো। উদ্দ্যেশ ফুলের দোকান। মেঘার পছন্দের সব ফুল নিবে আজকে। মেঘা সাদা গোলাপ খুব ভালোবাসত। মেঘা বলত,আমাদের ভালোবাসা এই সাদা গোলাপের মতো সুন্দর হয় যাতে কোনো প্রকার বিপদের ভয় না থাকে। লাল রং তো রক্তেরও হয়। মেঘ ফুল নিয়ে আর আইসক্রীম নিয়ে বাসায় গেলো। বাসায় যেতে যেতে সন্ধ্যে হয়ে গেছে। দেখল লাবন্য এখনও জানালার পাশে বসে আছে। গাল বেয়ে পানি পরছে হাতে। চোখের পাপড়ি গুলো অনড় ভাবে আছে।মনে হচ্ছে একধ্যানে বসে কাউকে নিয়ে ভাবছে। কিন্তু কি ভাবছে মেঘ জানে না। মেঘ কাশি দিল।ভমেঘের উপস্থিতি জানান পেয়ে লাবন্য চোখ মুছে ফিরে তাকাল। দেখল মেঘ হাত পিছনে করে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
---চোখে কী কিছু পরেছে? না কাউকে নিয়ে ভেবে চোখের পানি ফেলছেন?
---হয় তো কিছু পরেছে। আপনি বসুন আপনার জন্য চা নিয়ে আসছ।
বলেই লাবন্য চলে যেতে লাগল। মেঘ এক হাত দিয়ে লাবন্যকে টেনে তার সামনে নিয়ে এল। একিবারে মেঘের চোখ বরাবর লাবন্যের চোখ। লাবন্যের চোখে মুখের দিকে তাকিয়ে মেঘ বুঝতে পারল এই চোখে কাউকে হারানোর ভয় আছে।আছে অগাত ভালোবাসা। কষ্ট মাখা মুখ। এই মুখে আর কষ্টের ছাপ দেখতে চায়না মেঘ। ফুল গুলো সামনে এনে মেঘ বলল,
---লাবন্য আমি মেঘাকে হারিয়ে তোমাকে পেয়েছি। তোমার মাঝেই যেনো আমি মেঘাকে দেখতে পাই। তোমার ভালোবাসায় নিজেকে আবদ্ধ করতে চাই। আর কষ্ট দিতে চাই না তোমাকে। আমাকে ক্ষমা করে দিও এতোগুলো দিন তোমাকে কষ্ট দেওয়ায়। আমি মেঘাকে ভালোবাসতাম এখনও বাসি। তার জায়গায় অন্য কাউকে বসাতে পারব না কিন্তু তোমাকেও মেঘার থেকে কম ভালোবাসব না। জানই তো প্রথম,,,
মেঘ কে থামিয়ে দিয়ে লাবন্য বলল,
---প্রথম প্রেম কখনও ভুলা যায় না। সেইটা আমিও জানি। তাই তো শত ব্যস্ততার মাঝে তাকে মনে রাখি। আমিও এই দিন টার জন্যই অপেক্ষা করেছি। আমিও যে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি মেঘ।প্রথমে তোমার বোনেদের জন্য আর মেঘার কথা ভেবে তোমাকে কষ্ট পেতে দিতে চাইনি। কিন্তু এখন যে আমিও তোমাকে ভালোবাসি। আমাকে আর ফিরয়ে দিবে না তো মেঘ।ভালোবাসার মানুষটার কাছ থেকে পাওয়া কষ্ট যে। মৃত্যুর থেকেও বেশি কষ্ট। আমি সেই কষ্ট আবার ফিরে পেতে চাই না।
---আবার ফিরে পেতে চাও না মানে?তোমাকে কী আগে কেউ এমন কষ্ট দিয়েছিল?
লাবন্য কথা ঘুরিয়ে বলল,
--মেঘ আজ মেঘার কবরের পাশে যাবে না?মেঘা যে অন্ধকারে ভয় পায়।
লাবন্যের কথা শুনে মেঘ লাবন্যকে নিয়ে মেঘার কবরের পাশে যায়। মোমবাতি জ্বালিয়ে দেয়। আর বলে,
---মেঘা আমাদের জন্য দোয়া করিও আমরা এক নতুন জীবনে পা রেখেছি। তোমার স্মৃতি নিয়ে আর লাবন্যের ভালোবাসা পেয়ে বাকিটা জীবন কাটাতে চাই।
বলেই লাবন্য আর মেঘ চলে আসে। পিছনে হয়তো মেঘা এক শান্তি আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ছারে। অবশেষে নিজের ভালোবাসার মানুষকে সঠিক মানুষের হাতে দেখতে পেয়ে। এবার মেঘা নিশ্চিন্তে পরপারে থাকতে পারবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now