বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পাত্রী যখন ছাত্রী ২য় পর্ব

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাকারিয়া আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X -------------------------- ২য় পর্ব, ----------- :-তা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই,,,(আমি) :-কিছু করার নেই মানে। বাবা,ওর পরিক্ষার আর মাত্র চারদিন বাকি। তুমি এমন করতে পারো না।(আন্টি) :-একথাটা আপনি ইশিতাকে একটু বুঝিয়ে বলুন যে,ওর এখন পড়াশোনা করার দরকার,সামনে ওর পরিক্ষা আর হ্যা, আপনি যেহেতু এতো করে বলছেন,আমি আসবো। :-আচ্ছা,আমি ইশিতাকে বুঝিয়ে বলবো।আর বাবা,তুমি কিন্তু অবশ্যই আসবে,,,, :-আচ্ছা,এখন তাহলে আমি আসি,,, এই বলে আমি পেছন দিকে একফাক তাকিয়ে দেখলাম ইশিতা দরজার পাশে দাড়িয়ে আছে। তারমানে ইশিতা,আমার আর তার মায়ের মধ্যকার আলাপ গুলো দরজার পাশে থেকে শুনেছে। শুনলে আমার কি? আমি আর কিছু না ভেবে ইশিতাদের বাসা থেকে বাহির হয়ে আসলাম। "কি মেয়েরে বাবা? সামনে পরিক্ষা।কোথায় এখন ভালো করে পড়াশোনা করবে।আর তা না করে কি সব নিয়ে ভাবছে।" ধ্যাত,এই মেয়েটা আমার মেজাজটা খারাপই করে দিলো। কিন্তু আপনারা এটা ভাববেন না যে,ইশিতা দেখতে খারাপ? আসলে ইশিতা দেখতে যেমন সুন্দর তেমন মায়াবতি ও এবং অনেক মেধাবিও বটে।এককথায় বলতে পারেন,ইশিতা হবে যেকোন ছেলের দেখার ক্রাশ। কিন্তু আমার এতে করে কোন মাথাব্যথাই নেই। কেন নেই,,,? সেটা আমি আপনাদের এখন বলতে পারবো না। ওহ হো,,, আপনাদের তো আমি আমার পরিচয় দিতেই ভুলেই গেছি। তাহলে আপনাদের আমার পরিচয়টা দিয়েই দিই। তাহলে শুনুন,,, আমি রাজু।এবারে মাস্টার্স শেষ করেছি এবং আজ থেকে আরো এক সপ্তাহ আগে একটা বেসরকারি প্রতিষ্টানে চাকরি ও পেয়ে গেছি। প্রায় সকল টিউশনিই ছেড়ে দিয়েছি। শুধুমাত্র ইশিতাদেরটা ছাড়তে পারি নাই। কেন পারি নাই? সে কারণটা হলো ইশিতার সামনে ইন্টারের ফাইনাল পরিক্ষা। মেয়েটা আমাকে খুব ভালোবাসে,সেটা আমি ভালো করেই বুঝি।আর ওকে আমি ও পছন্দ করি। কিন্তু এতে করে আমার কিছুই করার নাই। আজ থেকে সাত বছর আগে,ধরেন আমার ইন্টারের ফাইনাল পরিক্ষার পরেই আমি গ্রাম থেকে এই অচেনা শহরে এসে উঠি নিজেকে প্রতিষ্টিত করার জন্য। হ্যা,আজ আমি পেরেছি নিজেকে প্রতিষ্টিত করতে। এমনও সময় আমার গেছে,যে আমি না খেয়েও ছিলাম। এই শহরে এসে কষ্টটাকে আমার জীবন সঙ্গী হিসেবে নিয়ে আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাই। আবশ্যক,আমার পড়াশোনা চালানোর খরচ চালাতে এবং বাড়িতে টাকা পাঠাতে আমার করানো টিউশনি গুলোই এই পর্যন্ত ভুমিকা পালন করে গিয়েছে।এছাড়া আমার আর কোন উপায়ই ছিলো না। আপনাদের তো বলাই হয়নি,,,, আমি হলাম একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে।বাড়িতে আমার মা-বাবা আর ছোট এক ভাই-এক বোন রয়েছে। আমি আমার পরিবারের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে এ শহরে আসি। আর আমাকে প্রত্যেক মাসে মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়। আপনারা হয়তো এটা ভাবছেন,আপনাদের আমি কেন এসব বলছি? এসব বলার কারণটা আপনারা বুঝবেন আমার লেখার পরিপেক্ষিতে। যাইহোক আমি এবার ইশিতার সম্পর্কে কিছু বলি,,,, ইশিতা হলো তার বাবা- মায়ের একমাত্র সন্তান।তার মা-বাবা তাকে খুব ভালোবাসে। টাকা-পয়সার অভাব নেই।তাই, ইশিতা যা চায় তাই পায়।তবে এটা ভাববেন না মেয়েটা অহংকারি। আর তার মা-বাবা হলো সহজ সরল মনের মানুষ। আমার মতে উনাদের মত মানুষই হয় না। আমি আজ দুবছর ধরে ইশিতাকে পড়িয়ে আসছি। তাই উনারা আমাকে নিজের ছেলের মতোই দেখে।উনারা আমার প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সবসময়ই পাশে থাকেন। আমি যতগুলো টিউশনি করাইতাম,সবগুলো থেকে আমি এই টিউশনিটাতে যথার্থ পরিমানে অর্থ পেতাম।যার কারণে,আমাকে বাড়িতে টাকা পাঠাতে হিমশিম খেতে হতো না। আপনাদের তো একটা কথা বলাই হয় নাই,,,,,, আমার এতো তাড়াতাড়ি চাকরি পাওয়ার পেছনে যার অবদান রয়েছে,তিনি হলেন ইশিতার বাবা। উনার সহযোগিতায় আমি বিনা ঘুষে এবং বিনা পরিশ্রমে এত সহজে চাকরি পাই। কারণ,বর্তমানে মামা- খালু ছাড়া চাকরি পাওয়াই দুষ্কর ও ভাগ্যের ব্যাপার।আর সেটা আমায় আপনাদের আর বুঝিয়ে বলতে হবে না।আপনার এসব ভালোই বুঝেন। আপনারা হয়তো বা,আমার এসব কথা বলার কারণটা বুঝে গিয়েছেন।আর যদি বুঝে না থাকেন,তাহলে আমিই বুঝিয়েই বলি,,,,, ইশিতাদের অবস্থান আর আমাদের অবস্থানের কথাতো আপনাদেরকে আমার আর বলতে হবে না। ইশিতার বাবা-মা আমার জন্য যাই করেছেন,তা আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের। এখন আপনারাই বলেন,আমার কি উচিত হবে,উনাদের সরলতার সুযোগ নেওয়া,,,? এসকল কথা বিবেচনা করে,আমি ইশিতার দেওয়া ভালোবাসার প্রস্তাব প্রত্যাখান করি। যাইহোক,আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতে আমি আমার ভাড়া বাসায় পৌছে গেলাম। -------------- (চলবে,,,,,,) -------------- (আপনাদের বলে রাখি,যদি গল্পে কোনরকম ভুল বা কোনরকম খারাপ দিক দেখেন।তাহলে সে দিকটা কমেন্ট বক্সে অবশ্যই তুলে ধরবেন)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পাত্রী যখন ছাত্রী
→ ছাত্রী যখন পাত্রী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now