বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ শনিবার।তাই বাধ্য
হয়ে বৃষ্টির মধ্যে
কোচিং এ আসতে হয়েছে।
কোচিং এ আসার পর কিছু
ভালো লাগছে না।তাই
ক্লাস দুইটা করেই
বেরিয়ে পড়লাম।কোচিং
এর বিল্ডিং এর নিচে
দাড়িয়ে আছি।আজকে
ছাতাও আনা হয় নাই।
কপাল খারাপ হলে যা
হয় আর কি!তবে ভাগ্যটা
অনেক ভালো আমার
ব্যাগটা আবার ওয়াটার
Proof ।তাই মোবাইল আর
মানি ব্যাগ আমার
ব্যাগে ঢুকিয়ে নিলাম।
>এই যে ভাইয়া একটা
রিক্সা ডেকে দিন
প্লিজ।(মেয়ে)....
একে তো বৃষ্টি।তার ওপর
আবার ভাইয়া ডাক শুনে
মেজাজ খারাপ হয়ে।
>এই যে আন্টি আমি
নিজেই রিক্সা পাচ্ছি
না।(আমি)
>আমাকে দেখতে কি
আপনার আন্টি মনে হয়!
(মেয়ে)
>তো আমাকে দেখে কি
আপনার ভাই মনে হয়!
(আমি)
>আপনি আমার অপরিচিত
তাই ভাই ডাকলাম।
(মেয়ে)
>আপনিও আমার
অপরিচিত তাই আন্টি
ডাকলাম।(আমি)
>আরে ধ্যাত আপনার কাছ
থেকে হেলপ চাওয়া টা
আমার ভুল হয়েছে।
(মেয়ে)
আমিও আর মেয়েটাকে
কিছু বললাম না।
কিছুক্ষণ পর দেখলাম
একটা খালি রিক্সা।
আমি ডাক দিয়ে যাবে
কিনা জিঙ্গেস করার
পর রিক্সাওয়ালা বলল
যাবে।আমি রিক্সায়
উঠতে যাবো এমন সময়
ভাবলাম মেয়েটা হেলপ
চাইল আর না করাটা
ঠিক উচিত হবে না।
>এই যে নিন আপনার
রিক্সা।আর হ্যা
সরি,আসলে আজ আমার মন
ভালো নেই তাই.....(আমি)
মেয়েটা আমার দিকে
কিছুক্ষণ তাকাই থেকে
বলল।
>ধন্যবাদ আপনি যাবেন
না!(মেয়ে)
>আমার বাসা এখান
থেকে কাছে তাই
হেটেই চলে যেতে
পারবো।(আমি)
মেয়েটা আমার দিকে
একটা ছাতা হাত
বাড়িয়ে দিয়ে বলল...
>এটা নিন,আপনার
কিছুটা কাজে লাগবে।
(মেয়ে)
এই বলে মেয়েটা
রিক্সাতে উঠে চলে
গেল।আমি শুধু তাকিয়ে
ছিলাম।এরপর আমি
বাসায় চলে এলাম।
মেয়েটা দেখতে অসম্ভব
সুন্দরী ছিল।কিন্তু ওর
সাথে আগে কখনো দেখা
হয়নি।আর নামটাও তো
জানা হল না।
ধুর ভালো লাগছে না শুধু
মেয়েটার কথা মনে
পড়ছে।
>এই আবির কিরে চল
এখানে দাড়িয়ে আছিস
কেন?(রাজিব)
>আরে একটা মেয়ে...
(আমি)
>একটা মেয়ে!কোথায়
আমি তো দেখতে পাচ্ছি
না।(রাজিব)
>আরে ধুর শালা..আমাকে
একটা মেয়ে আমাকে
ছাতা দিয়ে হেলপ
করেছিল।(আমি)
>ও তার মানে মেয়েটা
ছাতার জন্য এখানে
আসবে বলছে আর তাই তুই
দাড়িয়ে আছিস।(রাজিব)
>না(আমি)
>তো মেয়েটাকে
চিনিস?কি নাম ওর?
(রাজিব)
>চিনি না এবং নামটাও
জানি না।(আমি)
>তাহলে হাদারাম
এখানে এক ঘন্টা ধরে
দাড়িয়ে আছিস কেন!
(রাজিব)
>যদি মেয়েটা আছে
তাহলে ছাতাটা তো
ফেরত দিতে পারবো।
(আমি)
>শালা আমার মনে হয়
তুই মেয়েটাকে ছাতা
দিবার জন্য দাড়িয়ে
নেই।(রাজিব)
>মেয়েটাকে একবার
দেখার জন্য।(আমি)
>এতোক্ষণ পর তোর পেট
থেকে সত্যি কথা
বেরিয়ে এসেছে।
(রাজিব)
>হুম..(আমি)
>আচ্ছা দোস্ত মেয়েটা
দেখতে কেমন?(রাকিব)
>কেন তা দিয়ে তুই কি
করবি!(আমি)
>আরে দোস্ত জেলাস ফিল
করিস ক্যান।তুই যে
মেয়েটার জন্য দাড়িয়ে
আছিস সেই নিশ্চয়
সুন্দরি হবে তাই আর
কি।(রাজিব)
>হুম(আমি)
আমরা কথা বলতে
ছিলাম এমন সময় আবার
বৃষ্টি শুরু।তাই এক
প্রকার বাধ্য হয়েই
মেয়েটার ছাতাটা
খুলতে হলো।
>ঐ দোস্ত এটা কী?
(রাজিব)
>কোথায় কি দেখি!
(আমি)
দেখলাম ছাতার ফিতায়
একটা নাম লিখা।
নামটা হচ্ছে
মেঘবৃষ্টি।তার মানে
মেয়েটার নাম
মেঘবৃষ্টি।নামটা তো
জানা হলো।আর এখন
বাসায় যেতে তাই আমি
আর রাজিব মেট্রো
বাসে উঠে পড়লাম।
বাসের সিটে একটা
ডাইরী ফেলাম কিন্তু
এটা কার সেটা জানি
না।বাসে পাশের সিটে
বসা মানুষদের জিঙ্গেস
করেও কোনো লাভ হয়নি।
ডাইরীর ভিতর কি আছে
তা আমি দেখেনি।
বাসায় চলে এলাম।
বাসায় এসে দেখি
নাদিম আংকেল আসছে।
কারণ উনার মেয়ের
জন্মদিনের দাওয়াত
দিতে।আমি আমার রুমে
চলে এলাম।
ফ্রেশ হয়ে নাস্ত করে
যখন রুমে এসে গেম
খেলছিলাম।কিন্তু হঠাৎ
ডাইরীটা যখন খুললাম
তখন আমার চোখ গুলো বড়
বড় হয়ে গেল।ডাইরীতে
লিখা আছে"বৃষ্টির
মধ্যে হেলপ করা
ছেলেটাকে বার বার
মনে পড়ছে।প্রথমে
ছেলেটাকে বজ্জাত মনে
হলেও পরে বুঝলাম
ছেলেটা আসলে অনেক
ভালো।"
লেখাটা বড় কথা নয়,বড়
কথা হচ্ছে ডাইরীতে
একটা নাম লিখা আছে
মেঘবৃষ্টি।সাথে একটা
ছবি গাম দিয়ে
লাগানো।
>আবির...(আম্মু)
>জি আম্মু।(আমি)
>আগামী কাল সকালে
তোমার নাদিম
আংকেলের মেয়ের
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে
যেতে হবে।(আম্মু)
>অনুষ্ঠান তো বিকেলে
সকালে যেতে হবে কেন?
(আমি)
>তোমার নাদিম আংকেল
বলেছেন তোমার আংটি
সব একা সামলাতে
পারবে না।তাই আমাকে
যেতে হবে।(আম্মু)
>ওকে।(আমি)
আমি আর আম্মু চলে
গেলাম নাদিম আংকেল
এর বাড়িতে।এখানে
এসে তো আমি একদম
অবাক হলাম।কারণ
এখানে সেই মেয়েটা।
আমাদের দেখে বসা
থকে উঠে দাড়াল সাথে
নাদিম আংকেল এবং
আন্টিও আছে।
>আরে ভাবী চলে এসেছো
ভালোই হয়েছে।(আংকেল)
>ভাবী ও কে?(আন্টি)
>আরে চিনতে পারছো না
ও আমাদের আবির।
(আংকেল)
>ওমা আবির তো অনেক
বড় হয়ে গেছে।তো আব্বু
কেমন আছো?(আন্টি)
>জ্বি আন্টি ভালো।
(আমি)
>ভাবিকে নিয়ে তুমি
কাজ শেষ করো।আর মেঘ
তুই আবির এর সাথে গল্প
কর আমি বাজারে
গেলাম।(আংকেল)
আম্মু চলে গেল আন্টির
সাথে আর আংকেল চলে
গেল বাজারে।আর আমি
বসে আছি মেঘবৃষ্টির
সাথে।কিভাবে কথা
বলা শুরু করবো আমি তা
বুঝতে পারছি না।
>হাই আমি মেঘ।
(মেঘবৃষ্টি)
>হাই আমি আবির।(আমি)
>আবির এখানে একটু পর
মেহমান আসবে তাই চল
আমরা আমার রুমে গিয়ে
বসি।(মেঘ)
>ওকে (আমি)
আমি আর মেঘবৃষ্টি বসে
আছি মেঘবৃষ্টির রুমে।
>সে দিন রিক্সা ঠিক
করে দেওয়ার জন্য
তোমাকে ধন্যবাদ।(মেঘ)
>হুম।তোমার ছাতাটা
এই নাও।সেদিনের পর
থেকে এই ছাতাটা সব
সময় সাথে রাখতাম।
(আমি)
>কেন?(মেঘ)
>যদি দেখা হয় তোমার
সাথে ত্রখন এটা
রিটার্ন দেওয়ার জন্য।
(আমি)
>ও আচ্ছা।(মেঘ)
>তোমার জন্য একটা
তোমার হারিয়ে যাওয়া
গীফট এনেছি।(আমি)
>তাই তাহলে দাও আমার
গীফট।(মেঘ)
>এই নাও তোমার গীফট।
(আমি)
ও ডাইরীটা পেয়ে
পাগলের মত হাসতে
ছিল।আমার দিকে
তাকিয়ে তাকিয়ে
হাসছে।
>এটা আমি হরিয়ে
ফেলেছিলাম।তুমি পেলে
কোথায়?(মেঘ)
>বাসের সিটে।(আমি)
>হুমম।(মেঘ)
>মেঘ একটা কথা বলব
কি মনে করবে নাতো।
(আমি)
>না।তার আগে আবির
তোমাকে আমার কিছু
বলার আছে।(মেঘ)
>বলো।(আমি)
>i Love U (মেঘ)
>সত্যি?(আমি)
>হুম(মেঘ)
>আমি তোমাকে মেঘ।
(আমি)
আমি কথাটা শেষ না
করতেই পাগলিটা
আমাকে জড়িয়ে ধরল।শুরু
হলো আমাদের
ভালোবাসার নতুন
দিগন্ত।বাকিটা
ইতিহাস।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now