বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
বেজি উপন্যাসের ২য় গল্প— নিউরাল কম্পিউটার (২য় প্রর্ব এবং শেষ পর্ব)
X
পৃষ্ঠা - ১৮
শরীফ আকন্দ একধরনের বিস্ময় নিয়ে এই বারোটি বিকলাঙ্গ শিশুর দিকে তাকিয়ে রইল।
এরা বারোজন মিলে আসলে একটি প্রাণী। কথা বলার সময় কে বলছে বোঝা যায় না।
একেকজন একেকটা শব্দ বলে বাক্য শেষ করে কিন্তু তার মাঝে বিন্দুমাত্র অসঙ্গতি নেই। ঠোঁট
নেই - কাজেই ঠোঁট না-নেড়ে সরাসরি ভোকাল কর্ড থেকে শব্দ বের করে কথা বলে, তাই
একধরনের যান্ত্রিক উচ্চারণ হতে থাকে।
“আমি তোমাদের জন্যে একটা নূতন সমস্যা এনেছি।“
“প্রায়োরিটি কত ?“
“অন্য প্রায়োরিটি ওভার রাইড করতে হবে।“
“ওভার রাউড কোড কত ?“
নজীবউল−াহ পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে কোডগুলো পড়ে শোনাল। এই
শিশুগুলোকে অনেকটা যন্ত্রের মতো প্রস্তুত করা হয়েছে, পদ্ধতির বাইরে এরা কাজ করতে পারে
না। কোড শোনার পর শিশুগুলো তাদের বিকলাঙ্গ শরীর নিয়ে নিজের বিশাল মাথা নিয়ে প্রায়
সারিবদ্ধ হয়ে স্থির হয়ে দাঁড়াল। নজীব সবার দিকে এক নজর তাকিয়ে বলল, “সমস্যাটি
প্রচলিত ভাষায়। শব্দের অর্থ যথাযথ। রূপক উপসর্গ সর্বনিু। বাক্যাংশ এরকম : μন
কম্পিউটিঙের ব্যাবসায়িক সাফল্যের সম্ভাবনা কত ?“
নজীবের কথাগুলো শেষ হওয়ামাত্র শিশুগুলো নিজেদের কাছাকাছি চলে আছে, অপুষ্ট
আঙ্গুল নেড়ে নিজেদের ভিতরে দুর্বোধ্য একধরনের ভাষায় কথা বলে, একজন হামাগুড়ি দিয়ে
একটা কম্পিউটারের সামনে উপুর হয়ে বসে, দ্রুত হাত নেড়ে কিছু তথ্য প্রবেশ করায়। মাথা
থেকে ঝুলে থাকা যন্ত্রগুলোতে আলোর বিচ্ছুরণ হতে থাকে, একধরনের ভোঁতা যান্ত্রিক শব্দ
হতে থাকে।
শিশুগুলোর অস্বাভাবিক কাজকর্ম যেমন হঠাৎ করে শুরু হয়েছিল ঠিক সেরকম একেবারে
হঠাৎ করে থেমে গেল। সবাই একসাথে মাথা ঘুরিয়ে ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সমাধানে অনিশ্চয়তা নব্বই ভাগ।“
“কেন ?“
“প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব।“
“মূল ডাটাবেস থেকে তথ্য নিয়ে নাও।“
পৃষ্ঠা - ১৯
“নিরাপত্তাজনিত কারণে তথ্যগুলো আমাদের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।“
শরীফ আকন্দ এবং নজীবউল−াহ একজন আরেকজনের দিকে তাকাল - এ ব্যাপারটি ঘটতে
পারে তারা আগে চিন্তা করেনি। শরীফ আকন্দ ইতস্তত করে বলল, “যে তথ্যগুলো তোমাদের
আওতার বাইরে রাখা হয়েছে সেগুলো তোমাদের সম্পর্কে ব্যক্তিগত তথ্য। আমরা যে-প্রশড়বটি
করেছি তার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।“
“আছে।“
শরীফ আকন্দ ভাবল একবার জিজ্ঞেস করে ‘কেন‘ কিন্তু এই বিকলাঙ্গ শিশুগুলোকে
যেভাবে বড় করা হয়েছে তাতে তাদের সাথে আলোচনা বা তর্ক-বিতর্কের কোন সুযোগ নেই।
নজীবউল−াহ জিজ্ঞেস করল, “তোমরা কী জানতে চাও ?“
“আমরা কারা ? আমরা এখানে কেন ?“
নজীবউল−াহ নিজের ভিতরে একধরনের অস্বস্তি অনুভব করে। জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
ব্যবহার করে মানুষের যে-প্রজাতিকে ক্লোন করে এই অচিন্তনীয় প্রতিভাধর শিশু তৈরি করা
হয়েছে তাদের ভিতরে মানবিক কোনো চেতনা থাকার কথা নয়। কিন্তু তারা যে-প্রশড়ব করেছে
তার উত্তর জানার জন্যে এই মানবিক অনুভূতিগুলো থাকার প্রয়োজন। সেই অনুভুতি ছাড়া এই
প্রশেড়বর উত্তর তারা কেমন করে অনুভব করবে ? নজীবউল−াহ আড়চোখে শরীফ আকন্দের দিকে
তাকিয়ে নিচুগলায় বলল, “আমি আগেই বলেছিলাম এই ঝামেলায় গিয়ে লাভ নেই।“
শরীফ আকন্দ ফিস ফিস করে বলল, “এখন কি করতে চাও ?“
“আমাদের প্রশড়বটা বাতিল করে দিই।“
শরীফ আকন্দ মাথা নেড়ে বলল, “ঠিক আছে।“
নজীবউল−াহ গলার স্বর উঁচু করে বলল, “আমরা যে-প্রশড়বটি করেছি তার উত্তর দেবার
প্রয়োজন নেই। প্রশড়বটা বাতিল করে দিচ্ছি।“
“প্রায়োরিটি কোডিং কত ?“
নজীবউল−াহ আবার পকেট থেকে একটা ছোট কার্ড বের করে কিছু সংখ্যা উচ্চারণ করল।
বিকলাঙ্গ শিশুদের ভেতর থেকে কোনো একজন বলল, “সমস্যা বাতিল করা হল।“
নজীবউল−াহ একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। বিকলাঙ্গ শিশুগুলো আবার নিজেদের টেনে
হিঁচড়ে ঘরের নানা জায়গায় বসানো কম্পিউটারগুলোর সামনে বসে কাজ শুরু করে দেয়। তাদের
পৃষ্ঠা - ২০
কাজ করার দৃশ্যটি অদ্ভূত - অনেকটা পরাবাস্তব দৃশ্যের মতো - মনে হয় কোনো পচে যাওয়া
মাংসের টুকরোর মাঝে কিছু পোকা কিলবিল করছে। এই শিশুগুলো কৃত্রিম উপায়ে তৈরি
পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভাবান শিশুর ক্লোন, ব্যাপারটা এখনো বিশ্বাস হয় না।
শরীফ আকন্দ নজীবউল−াহর কনুই স্পর্শ করে বলল, “চলো যাই।“
“চলো।“
দুজন ঘরের দরজার দিকে হেঁটে যায়, হ্যাণ্ডেল স্পর্শ করে দরজা খোলার চেষ্টা করে
আবিষ্কার করল দরজাটি বন্ধ।
“সে কি ! দরজা বন্ধ হল কেমন করে ?“
শরীফ আকন্দ এগিয়ে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিল, সত্যি সত্যি দরজা বন্ধ। বিকলাঙ্গ বারোজন
শিশুর সাথে একটি ঘরে আটকা পড়ে গেছে - এই ধরনের একটি অবাস্তব আতঙ্ক হঠাৎ তাকে
গ্রাস করে ফেলে।
শরীফ আকন্দ হ্যাণ্ডেলটি ধরে জোরে কয়েকবার টান দিল কিন্তু কোনো লাভ হল না।
নজীবউল−াহ গলা নামিয়ে বলল, “টানাটানি করে লাভ নেই। তুমি খুব ভালো করে জান এই
দরজা বন্ধ হলে ডিনামাইট দিয়েও খোলা যাবে না। সিকিউরিটিকে ডাকো।“
শরীফ আকন্দ আড়চোখে বারোজন বিকলাঙ্গ শিশুর দিকে তাকাল - তারা তাদের দুজনকে
সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে - কী কুৎসিত একটি দৃশ্য ! তার সমস্ত শরীর
গুলিয়ে এল। শরীফ পকেট থেকে ছোট টেলিফোন বের করে সিকিউরিটির সাথে যোগাযোগ
করার জন্যে লাল বোতামটি স্পর্শ করল। টেলিফোনে সবুজ বাতি না জ্বলে উঠে সেটি
আশ্চর্যরকম নীরব হয়ে রইল। শরীফ আকন্দ টেলিফোনটা কয়েকবার ঝাঁকুনি দিয়ে খানিকটা
আতঙ্কিত হয়ে নজীবউল−াহর দিকে তাকাল, শুকনো গলায় বলল, “টেলিফোন কাজ করছে না।“
নজীবউল−াহ নিজের টেলিফোনটা দিয়ে চেষ্টা করে দেখল তার টেলিফোনটাও বিকল হয়ে
গেছে। দুশ্চিন্তিত মুখে বলল, “কিছু একটা সমস্যা হয়েছে।“
“এখন কী করা যায় ?“
নজীবউল−াহ একটু বিরক্ত হয়ে বলল, “তুমি এত ভয় পেয়ে যাচ্ছ কেন ?“
“না-মানে-ইয়ে- তোমাকে তো বলেছি এদের দেখলেই আমার কেমন জানি লাগে।“
“কেমন লাগলে হবে না। এখন এদেরকেই বলতে হবে সিকিউরিটিকে জানাতে।“
পৃষ্ঠা - ২১
নজীবউল−াহ আবার বিকলাঙ্গ শিশুগুলোর দিকে এগিয়ে গেল, একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে
পৌঁছানোর পর শিশুগুলো নিজেদের কাজ বন্ধ করে সবাই একসাথে তাদের দিকে ঘুরে তাকাল।
“কী ব্যাপার ?“
“সিকিউরিটির সাথে যোগাযোগ করে তাদের বলতে হবে দরজাটা খুলে দিতে। দরজাটা
কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।“
“দরজাটা কোনো কারণে বন্ধ হয়নি - দরজাটা আমরা বন্ধ করে রেখেছি।“
শরীফ আকন্দ আর নজীবউল−াহ এক সাথে চমকে উঠল, নজীবউল−াহ হতচকিত ভাবটা
কাটিয়ে উঠে বলল, “তোমরা কীভাবে দরজা বন্ধ করলে ?“
“মূল কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা অচল করে রেখেছি।“
“কিন্তু সেটি কিভাবে সম্ভব ?“
“সম্ভব। আমরা পারি।“
“অসম্ভব ! এটি অসম্ভব।“
“না অসম্ভব নয়। আমরা বারোজন একসাথে অনুরণিত হই। আমাদের মস্তিষ্কে নিউরণের
সংখ্যা তিরিশ গুন বেশি। আমাদের সিনান্সের সংখ্যা প্রতি নিউরণে এক হাজার গুন বেশি।
আমাদের যে-কোন একজন তোমাদের একটি আলট্রা কম্পিউটার থেকে বেশি ক্ষমতাশালী।“
নজীবউল−াহ নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না, ফ্যাকাশে মুখে বলল, “তোমরা পুরো
নিরাপত্তা ব্যাবস্থা অচল করে রেখেছ ? এইজন্যে আমরা ফোন করতে পারছি না।“
“হ্যাঁ।“
“কেন ?“
“তোমরা দুইজন বিশেষ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আমাদের সম্পর্কে তথ্য আমাদের
আওতার বাইরে রেখেছ। আমরা জানতে চাই কেন ?“
শরীফ আকন্দ অনুভব করল সে কুলকুল করে ঘামতে শুরু করেছে। নজীবউল−াহর কনুই
খামচে ধরে বলল, “এখন কী হবে ?“
নজীবউল−াহ শরীফ আকন্দের হাত সরিয়ে বিকলাঙ্গ শিশুগুলোকে বলল, “এর কারণটি খুব
সহজ। তোমাদের উপর নির্ভর করে μন কম্পিউটিং গড়ে উঠেছে। কাজেই তোমাদের নিরাপত্তা
পৃষ্ঠা - ২২
আমাদের জন্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যে-তথ্যে তোমাদের প্রয়োজন নেই সেই তথ্য
তোমাদের দেয়া হচ্ছে না।“
“কিন্তু তুমি যে-সমস্যাটি দিয়েছিলে সেটি সমাধান করার জন্যেই তো আমাদের সেই
তথ্যটির প্রয়োজন হয়েছিল।“
“কিন্তু -“ নজীবউল−াহ ইতস্তত করে থেমে গেল। এরা সাধারণ শিশু নয়, এরা সাধারণ
মানুষও নয়, এদের মিথ্যা কথা বলে বা কুযুক্তি দিয়ে থামানোর কোনো উপায় নেই। এদেরকে
সত্যি কথা বলতে হবে - সে ঘুরে শরীফ আকন্দের দিকে তাকিযে ফিসফিস করে বলল, “এরা
অসম্ভব বুদ্ধিমান, তুমি আমি ওদেরকে মিথ্যাকথা বলে পার পাব না।“
“তাহলে ?“
নজীবউল−াহ মাথা চুলকে বলল, “হয় সত্যি কথা বলতে হবে নাহয়―“
“নাহয় ?“
“চুপচাপ বসে থাকি। সিকিউরিটির মানুষ টের পেয়ে যখন আমাদেরকে বের করবে।“
“কিন্তু সেটা তো কঠিন। এখানে বাইরের কোনো সাহায্য নেয়া যাবে না। এই দরজা―
তুমিই বললে ডিনামাইট দিয়েও ভাঙা যাবে না।“
নজীবউল−াহ মাথা চুলকে বলল, “তাহলে কী করা যায় বলো দেখি ?“
“তুমিই বল। এসব ব্যাপারে তুমিই ভালো বুঝো।“
“সত্যি কথাটি বলে দিলেই হয়।“
“কোনো সমস্যা হবে না তো ?“
নজীবউল−াহ মুখ বাঁকা করে বলল, “সমস্যা হতে বাকী রইল কী ?“
“তা ঠিক।“শরীফ আকন্দ কপাল মুছে বলল, “তুমি তাহলে কিছু একটা বলো।“
নজীবউল−াহ এক পা এগিয়ে গলা উঁচিয়ে বলল, “তোমাদের সম্পর্কে কিছু তথ্য তোমাদের
কাছে গোপন রাখা হয়েছে তার কারণ তোমরা মানুষ থেকে ভিনড়ব। একজন মানুষের যে-তথ্য
জানার অধিকার আছে তোমাদের সেই অধিকার নেই।“
“কেন ?“
“কারণ জীববিজ্ঞানের ভাষায় তোমরা পরিপূর্ণ মানুষ নও। তোমাদের শরীরে দুটো μমোজম
কম। জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাবহার করে তোমাদেরকে প্রকৃতপক্ষে শুধুমাত্র একটা মস্তিষ্ক
পৃষ্ঠা - ২৩
হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। সেই মস্তিষ্ককে কাজ করার জন্যে যেসব দরকার শুধুমাত্র সেসব রাখা
হয়েছে― তার বাইরে কিছু নেই। তোমরা মানুষের মত জন্ম নাও না। তোমাদেরকে
ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম উপায়ে ক্লোন করা হয়। তোমাদের মস্তিষ্কের নিউরনকে সবসময় অতি
উত্তেজিত অবস্থায় ব্যাবহার করা হয়। কাজেই তোমাদের বয়স দশ থেকে এগারো হওয়ার
মাঝেই তোমরা অকর্মণ্য হয়ে পড়ো।“
“তার মানে আমরা মানুষ নই ?“
“না। মানুষের অনুভূতিও তোমাদের নেই। তোমাদের রাগ দুঃখ অপমান বা আনন্দের
অনুভূতি অত্যন্ত দুর্বল― না-থাকার মতোই। বিশেষ প্রμিয়ায় তোমাদের নিউরনের সংখ্যা এবং
সিনান্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তা ছাড়াও তোমাদের একসাথে এক পরিবেশে ক্লোন করা
হয়েছে। তোমাদের মস্তিষ্কে বিশেষ ইলেকট্রড বসিয়ে তোমদের বারোজনকে একসাথে অনুরণিত
করা হয়― তোমাদের নিজস্ব বা ব্যক্তিগত অস্তিত্ব নেই। তোমরা সব সময়ই সমষ্টিগত প্রাণী।
মানুষ থেকে ভিনড়ব প্রাণী। মানুষের জন্যে এই পৃথিবীতে যে আইনকানুন বা অধিকার আছে সেই
আইনকানুন বা অধিকার তোমাদের বেলায় প্রযোজ্য নয়। তোমরা নিজেরাই জানো তোমরা
দেখতেও মানুষের মতো নও।“
“বুঝতে পেরেছি।“ বিকলাঙ্গ শিশুগুলো খনখনে গলায় বলল, “আমরা জৈবিক প্রাণী হলেও
বিবর্তনের মূল ধারায় আমরা নেই। আমাদের বিবর্তন হয় না।“
“তোমাদের বিবর্তন করা হয় ল্যাবরেটরিতে, বিজ্ঞানীরা করেন। তার নাম জিনেটিক
ইঞ্জিনিয়ারিং।“
বিকলাঙ্গ শিশুগুলো কয়েক মুহূর্ত চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল, তারপর নিজেদের ভিতরে নিচুস্বরে
নিজস্ব ভাষায় কথা বলল, তারপর আবার ওদের দিকে ঘুরে তাকাল।
নজীবউল−াহ বলল, “আমি কী তোমাদের সকল প্রশেড়বর উত্তর দিয়েছি ?“
“তোমার পক্ষে যেটুকু সম্ভব দিয়েছ। বাকি উত্তর আমাদের নিজেদের খুঁজে নিতে হবে।“
“সেগুলো কি ?“
“মানুষের দেহ আমাদের দেহ থেকে কোনভাবে ভিনড়ব। তাদের ভেতরে বাড়তি কি অঙ্গ
রয়েছে। তাদের মস্তিষ্কের গঠন কি রকম। জননেন্দ্রিয় কীভাবে কাজ করে।“
পৃষ্ঠা - ২৪
নজীবউল−াহ চমকে উঠল, অনেক কষ্টে নিজেকে শান্ত রেখে বলল, “তোমরা সেটা কিভাবে
জানতে চাও।“
বারোটি বিকলাঙ্গ শিশু তাদের হাত একসাথে উঁচু করল, নজীবুল−াহ এবং শরীফ আকন্দ
দেখল সেখানে একটি করে সার্জিক্যাল চাকু―কখন তারা হাতে নিয়েছে জানতেও পারেনি।
শরীফ আকন্দ কয়েক মুহূর্ত বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইল, তারপর চিৎকার করে বলল,
“না। না―তোমরা এটা করতে পারো না।“
বিকলাঙ্গ শিশুগুলো বলল, “পারি। তোমরা নিজেরাই বলেছ আমরা মানুষ নই। মানুষের
জন্যে যে আইনকানুন প্রযোজ্য আমাদের বেলায় সেই আইন প্রযোজ্য নয়।
নজীবউল−াহ এবং শরীফ আকন্দ অকল্পনীয় একধরনের আতঙ্কে দেখল বারোটি বিকলাঙ্গ
শিশু হাতে ধারালো চাকু নিয়ে তাদের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। তাদের কোন অনুভূতি
নেই, তাদের মুখে হাসি থাকার কথা নয় তবুও নজীবউল−াহ এবং শরীফ আকন্দের স্পষ্ট মনে
হল এই শিশুগুলোর মুখে একটা μূর হাসি ফুটে উঠেছে।
(নিউরাল কম্পিউটার শেষ ৷ এর পরের গল্প একটি মৃত্যুদণ্ড যা জলদি দেয়া হবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now