বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জন্ম পরিচয়হীন (এতিম)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অনয় (০ পয়েন্ট)

X লেখাঃ- অনয়.............. স্টেশনের প্লাটফর্মে বসে আছি অনাগত ট্রেনের অপেক্ষায়। ট্রেনে আসা ভিআইপি যাত্রীদের সাথে আনীত মালামাল বহন করে গন্তব্যে পৌছে দিব। বিনিময়ে কিছু টাকা পাব যা আজ আমার অনাহারের অবসান ঘটাবে। আমি কোনভাবে এসএসসির গণ্ডী পেরিয়ে এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছি। কলেজে ভর্তি আর প্রয়োজনীয় বই কিনতে গিয়ে কিছু জমানো টাকা ছিল তাও শেষ। গতকাল ভেবেছিলাম বিকালে যদি বের হতে পারি তাহলে অন্ত্যত আজকের অনাহার থাকাটা ঘুচাতে পারবো। কিন্তু বিধি বাম তা আর হয়ে উঠেনি। উপরিওয়ালা হয়তো পণ করেছেন আমাকে না খাইয়ে রাখবেন। তাই রাবুর মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে নিয়ে সদর হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। হাসপাতাল হতে ফিরতেই রাত হয়ে গিয়েছিল তাই সম্ভব হয়নি। আমি পত্রিকা বিক্রির পাশাপাশি সময় পেলে এ কাজ করি। কলেজে ভর্তির জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে দুদিন হল পত্রিকা নিয়ে বের হয় না। আজ বের হয়েছি তবে হাতে টাকা নেই পত্রিকা কেনার টাকাগুলো গতকাল রাবুর মার ঔষধ কেনা বাবদ খরচ করে ফেলেছি। এর আগে অবশ্য ট্রেনে ডিম বিক্রি করতাম। তখন আমি ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি। একদিন ট্রেনে ডিম বিক্রি করার সময় হঠাৎ অনিচ্ছাকৃতভাবে এক অতি বিশিষ্ট ভদ্রলোকের পরিহিত সাদা পেন্ট আর চকচকে পলিশ করা জুতোয় ডিম ধোয়া পানি আর বিট লবন পরে যায়। লোকটিকে দেখে মনে হয়েছিল কোন জমকালো অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বের হয়েছিল। আমার এহেন কাজে সেদিন আর তিনি যেতে পারেন নি। তাই বলে আমাকে ছেড়ে দেয় নি। গরীবদের কোন ছোট খাটো ভুলেও ধনীরা আশীর্বাদ করতে কখনই কৃপণতা করেন না। তারা সর্বদায় মুঠো ভরে দেন। সেদিন আমার বেলায়ও তাই হয়েছিল। ভদ্রলোক বিন্দু মাত্রও কৃপণতা করেন নি। আমাকে বেদড়ক আশীর্বাদ করেছিলেন। "সেদিন আপন মনে সৃষ্টকর্তাকে ভিশন বকা দিয়েছিলাম....... তার সৃষ্টি বিশাল আকাশ পানে চেয়ে অঝর ধারায় কেঁদেছিলাম....... কেন সৃষ্টি করেছে আমায় এ ধাধা বার বার জিজ্ঞাসা করেছিলাম...... কিন্তু সৃষ্টিকর্তা তার নিরবতা ভাঙ্গে নি, তাই আমার এ ধাধার উত্তরও পাওয়া হয় নি।" তারপর থেকে আর কোনদিন ট্রেনে ডিম বিক্রি করতে উঠিনি। আমার কাঙ্খিত ট্রেন প্লাটফর্মে ঢুকেছে। আমিও এগিয়ে যাচ্ছি ট্রেনের দিকে। কারন আমি এখানে একা নয় আরও অনেকে আছে যারা একই কাজ করার জন্য এসেছে। তাই সামনে না থাকলে কাজ নাও পেতে পারি। হঠাৎ চলন্ত ট্রেন থেকে একটি ছেলে হিরোচিত ভাবে নামতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে আমার গায়ে ধাক্কা লেগে পড়ে যায়। এতে তার হাত পায়ের বিভিন্ন অংশের চামড়া উঠে যায়। এটা দেখে তার সাথে আসা বন্দুরা আমার উপর বিনা অপরাধে চড়াও হয়। আর "বাস্টার্ড" বলে গালি দিতে থাকে। উপস্থিত সাধারনের কল্যাণে আমি নির্দোষ প্রমানিত হয়। তাদের করা আঘাতে যতটা না কষ্ট পেয়েছি তার চেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েছি "বাস্টার্ড" বলে গালি দেয়ায়। তখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করতে ছিল..... """ডন্ট কল মি বাস্টার্ড। আই এম নট এ বাস্টার্ড। ইউ আর বাস্টার্ড বিকজ ইউ আর ব্লাইন্ড হো ইজ এ ক্রিমিনাল বাট ডিনাইজ। বাস্টার্ড দ্যাট মেন হো ইজ রেসপনসিবল ফর মাই বর্ন, বাস্টার্ড দ্যাট উইমেন হো গেভ মি বার্থ এন্ড থ্রোন মি ইন টু দ্যা ড্রেইন। বাট আই কান্ট বিকজ আই এম রিয়েলি এ বাস্টার্ড হো হ্যাজ নো বার্থ আইডিনটিটি"""। আমি কিছুই বলতে পারিনি। আমার সারা পৃথিবী যেন অমাবস্যার ঘোর অন্ধকারে ডেকে গিয়েছিল। আর সব লোনা জল এসে মুক্তি পাওয়ার আপন উল্লাসে মেতেছিল। আমার বয়স যখন সাত কি আট মাস হবে তখন কে যেন আমায় ড্রেনে ফেলে গিয়েছিল। রাবুর খালা আমার পালিত মা তুলে নিয়ে এসেছিলেন। আমার ভাগ্য আর বিধাতার সহায়তাই সেদিন বেচে গিয়েছিলাম। তবে এতে বিধাতারই লাভ হয়েছে। আমার কষ্টগুলো বহন করার জন্য তাকে কষ্ট করে আর কাউকে সৃষ্টি করতে হয়নি। নানা জনে নানান কথা বললেও আমার পালিত মা তাতে কখনই কর্ণপাত করেন নি। নিজের কোন সন্তান ছিল না বলে কষ্ট করে নিজ সন্তানের মত আমায় লালন পালন করেছেন। অন্যের বাসায় কাজ করেছেন, নিজে অনাহারে থেকেছেন কখনো আমাকে না খাইয়ে রাখেননি। আমার বয়স যখন সাত বছর একদিন বিকালে খেলতে গিয়ে রাবুকে একটু বেশি মেরেছিলাম। এর আগেও আমি রাবুকে মেরেছি কিন্তু কখনো বিচার দেয়নি। সেদিন বিচার দিয়েছিল রাবু তার মার কাছে। আর রাবুর মা আমায় ভিশন মেরেছিল। সেদিন প্রথম আমি জানতে পারি আমার কোন জন্ম পরিচয় নেই। আমি এতিম। আমাকে নাকি ড্রেন থেকে তুলে আনা হয়েছে। আমি নাকি কারো পাপের ফসল। তারা নিজেদের দৈহিক চাহিদা মিটাতে গিয়ে ভুল করে ফেলেছিল। যেই ভুলের ফল আমি। আমিও নাকি তাদের মতোই হবো। আরও অনেক অশালীন ভাষায় গালি দিয়ে ছিল। সেদিন তার সব কথার মানে না বুঝলেও এটুকু বুঝেছিলাম যে পালিত মা আমার আপন মা নন। তখন চোখে লোনা জলের স্রোতধারা বহমান। রাগ করে বাড়ি থেকে চলে এসেছিলাম। সারারাত স্টেশনের অভার ব্রিজে কাটিয়েছি। সব শুনে আমাকে খোজে না পেয়ে মা প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিল। পরেরদিন ফজরের আযানের সময় এসে মা আমাকে জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে সে কি কান্না। তারপর আমায় সাথে নিয়ে বাড়িতে যায়। রাতে মা যে ভাষায় কাজ করে সেখানে মাকে খাওয়ার জন্য দুটো আপেল আর কয়েকটা আঙ্গুর দিয়েছিল সেগুলো আমাকে বের করে দেয়। আমি মুখে দিতে গিয়ে মাকে জিজ্ঞাসা করি মা তুমি তো আমার আপন মা নও, রাবুর মা বলেছে তাহলে আমার আপন বাবা মা কে। আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করেছে। সাথে আমিও। আমাদের কান্নার আওয়াজ শুনে রাবু এসে কাঁদতে কাঁদতে বলতেছে রাকিব ভাইয়া তুমি আমাকে অনেক মের আমি মাকে কখনই বলবো না তবুও তুমি চলে যেও না। রাবুর কথা শুনে আমার কান্না আরও দ্বিগুণ হয়েছে। নিজেকে সামলে নিয়ে মা আমাদের দুজনের কান্না থামিয়ে আপেল আর আঙ্গুর খেতে দিয়ে রান্না করতে চলে যায়। রান্না শেষ করে আমার বইগুলো গুছিয়ে ব্যাগে ভরে দেয়। আমি যেন খেয়ে রাবুকে সাথে নিয়ে স্কুলে যায় এ কথা বলে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায় মা। সেদিনই কাজ শেষে ফেরার পথে রাস্তা পার হতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মা। আমার ঘটনার জন্য আনমনে ছিল বলেই তিনি মারা যান। আর রাবুর মা তার বোনের এই মৃত্যুর জন্য নিজেকেই দায়ী মনে করেন। তারপর থেকে আমি রাবুদের সাথেই আছি। মা মারা যাওয়ার দুই বছর পর রাবুর বাবাও পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। মনে হয় মহান সৃষ্টিকর্তা এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য আর কোন মানুষ তৈরি করেন নি একমাত্র আমি ছাড়া। তখন অভাবের অনাটনে পড়ে রাবুর মার বারন সত্বেও আমি ট্রেনে ডিম বিক্রি শুরু করি। পরে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় ডিম বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে পত্রিকা বিক্রি করি আর সুযোগ পেলে এই কাজ করি। আজকের ঘটনাটা রাবু কিংবা রাবুর মা কাউকেই জানাতে পারবো না। তাহলে হাজার কষ্ট হলেও তারা আমায় আর আসতে দিবে না। এতে করে আমার আর রাবুর পড়াশুনা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই নিজের ভিতরেই রেখে দিব। আজ পালিত মার কথা ভিশন মনে পড়ছে। সর্বদায় প্রার্থনা করি তিনি যেন জান্নাতি হন। আমি প্রার্থনা করি সেই বাবা মার জন্য যাদের ঔরসে আমার জন্ম হয়েছে। আল্লাহতায়ালা যেন তাদের সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করে দেন। তারা হয়তো অপারগ ছিল যে কারনে আমাকে তাদের পরিচয়ে পরিচিত করেনি। তাদের হাত পা হয়তো শিকলে বাধা ছিল যেকারনে আমার আশ্রয় হয়েছিল ড্রেনে। আমি বিশ্বাস করি কোন বাবা মা-ই কখনো সন্তানের অমঙ্গল কামনা করেন না। আমার বাবা মা ও আমার মঙ্গল হবে ভেবে সেখানে ফেলে এসেছিল। তবুও কিছু কথা অব্যক্তই রয়ে যায়। হয়তো........ " ছেলেটির সুদর্শনের মায়ায় কিংবা যৌবনের তাড়নায়, মেয়েটি এসেছিল ছেলেটির কাছে, ছেলেটিও যৌবনের তাড়নায় সাড়া দিয়েছিল নগ্নতা ছড়িয়ে ছিল দুজন দুজনার মাঝে। নগ্নতা শেষে সময় গড়িয়েছে যত দুরত্ব বাড়তে বাড়তে এক সময় হয়ে গেছে ক্ষত, দু জনেই পায়তারা করে গেছে দুজন দুজনকে এড়িয়ে যাওয়া যায় যত। একদিন অবুঝ মেয়েটির মনে অশুভ দুলাচল অবশেষে দুলাচল সত্তি হয়ে আমি তার ফল, সময় না হতেই লোকচক্ষুর আড়ালে পৃথিবীতে এনে, সবার আড়ালেই আবার জায়গা দিয়ে ছিল পরিত্যাক্ত ড্রেনে। সমাজ, লোক লজ্জা আরও কতকিছুর ভয় জানা জানি হয়ে গেলে যদি আর ভাল ঘরে বিয়ে না হয়, যৌনতার প্রাধান্য টা তাদের কাছে এত বেশি মৃত্যু ভয় সর্বদা তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হয়। ♦♦♦♦♣♣♣♦♦♦♦


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now