বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চুক্তির বিয়ে!! - ৪র্থ ও ৫ম পর্ব

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Saiful islam (০ পয়েন্ট)

X !!! ৪র্থ পর্ব , , , , আজ অভ্রের অফিসে খুব জরুরি একটা মিটিং আছে। তাই সকাল থেকে সব কাজ খুব তাড়াতাডি করছে। আমি রুমের বাইরে আড়াল থেকে দাড়িয়ে দেখছি, যতক্ষন ও আমাকে ডাকবেনা রুমে প্রবেশ করা নিষেধ। আর আজ অবদি সেইদিন আসেনি যে অভ্র আমাকে অফিসে যাওয়ার আগে রুমে ডাকবে! হঠাৎ করে কেন জানিনা ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেল। বাবা কে টাই পড়িয়ে টাই বাধা শিখেছিলাম যাতে প্রত্যকদিন অফিসে যাওয়ার সময় নিঝের বরকে টাই বেধে দিতে পারি। তখন আমার ক্ষুদ্র হৃদয়ে এই ভাবনা টা আসেনি যে আসলে এই সপ্ন শুধু সপ্ন হয়েই থেকে যাবে! শাশুড়ি আম্মু ডাক দেওয়ায় ভাবনায় ছেদ হলো। রান্না ঘরে গেলাম। তখন শাশুড়ি আম্মু হাতে নাস্তার ট্রে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, অভ্র কে নাস্তা রুমে দিয়ে আসতে! নাহলে ও নাস্তা করা ছাড়াই বেরিয়ে যাবে। এইসময় রুমে যাওয়ার ঠিক হবে কিনা তা ভাবছিলাম। শাশুড়ি আম্মু বলল, যাও মা দেরি হয়ে যাবে! আমি জানি আমি এখন রুমে গেলে অভ্র ভিষন রেগে যাবে। কিন্তু যদি না যাই তাহলেও নাস্তা না করে চলে যাবে। যা হওয়ার হবে আমি যাবই!!! রুমের দরজার সামনে গিয়ে নক করলাম। ভাগ্যর কি নির্মম পরিহাস নিঝের রুমের নিঝেই নক করে ডুকতে হয়। অভ্র বিরক্ত নিয়ে আমার দিকে তাকালো, :------ কি চাই???? , :----- মা নাস্তা পাঠিয়েছেন! , :------ নিয়ে যাও! আমার এখন সময় নেই! , :----- আপনি কি খালি পেটে অফিস যাবেন? :----- সেটা আমার ইচ্ছা!!আর তোমাকে বলেছি না আমার উপর স্ত্রীর অধিকার দেখাবেনা! , :-----দেখুন আপনি আমাকে স্ত্রীর অভিনয় করতে বলেছেন, আর আমি সেটাই করছি! এখন আপনি যদি নাস্তা না করে বেরিয়ে যান তাহলে মা সন্দেহ করবে! আমি নিয়ে যাচ্ছি নাস্তা..... , :----- এই দাড়াও!!! নাস্তা রেখে যাও! , বাহ!! শাশুড়ি আম্মুর কথা বলাতে কাজ হয়েছে। নাস্তা রেখে চলে এলাম। আজ প্রথম বারের মতো অভ্র আমার কথা শুনলো। নিঝের অজান্তেই কখন জানিনা, ভালবেসে ফেলেছি এই নিষ্ঠুর মানুষের নিষ্ঠুর ব্যবহার কে। কিন্তু কি লাভ যে মানুষটা কিছুদিন পর অন্য কারো হয়ে যাবে তাকে ভালবেসে। তার মনের কোথাও তো আমি নেই। শুধু মাত্র ঘৃনা করে অভ্র আমাকে। তার চেয়ে ভালো ছয়মাস শেষ হওয়ার অপেক্ষা করি। অভ্র অফিসে চলে যাওয়ার পর আমি প্রত্যকদিন এর মতো রুম গোছাতে এলাম। বিছানার উপরে এটা কার ফোন? হ্যা অভ্র এর ফোন! আজ ও ফোন ভুলে রেখে অফিসে চলে গেছে। দৌড়ে বারান্দায় গেলাম এই আশায় যে ও এখন ও যায়নি। কিন্তু আফসোস ওর গাড়ি টা নেই, তার মানে চলে গেছে! প্রত্যকদিন ও দুপুরে শাশুড়ি আম্মুর ফোনে কল দিয়ে ও খেয়ে নিয়েছে এটা বলতো। তারপর আমি খেতাম। আজ ও কিভাবে বলবে, আর আমি কিভাবে জানব ও খেয়েছে কিনা। শাশুড়ি আম্মু কে গিয়ে বললাম, ও ফোন রেখে গেছে! তখন শাশুড়ি আম্মু যা বলল তার জন্য আমি সেটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। :------ মা তুমি অভ্রের অফিসে গিয়ে ওর ফোন টা দিয়ে এসো। এটা কি বললেন উনি। যে ছেলে আমাকে নিঝের রুমে সয্য করতে পারেনা। আমি কিভাবে তার অফিসে যাব। শাশুড়ি আম্মু বলল, :---- এতো ভয় পাচ্ছ কেন? তোমার বরের অফিস তুমি যাবানা সেটা কি করে হয়। আমি নিঝেও তো মাঝে মাঝে তোমার শশুর আব্বুর অফিসে যেতাম বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে ডাকতো। এই বলে মা হেসে দিলেন। আমি মনে মনে বললাম, আমার কপাল তো আর আপনার মতো নয়! মুখে বললাম, :----- না মা! আমি অফিসে গেলে ভাল দেখায়না। আমি যাবনা। :----- আমি বলছি তো কিছ হবেনা। তুমি যাও! এখন যদি আমি না করি উনি নির্ঘাত সন্দেহ করবেন । তাই ছটপট রেডি হয়ে নিলাম। অভ্রের ফোন নিয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম। ড্রাইবার আমাকে নিয়ে যেতে লাগল অফিসের দিকে। হার্ট বিট ক্রমশ বেড়েই চলছে, জানিনা আজ আমার জন্য কি অপেক্ষা করছে। দেখতে দেখতে অফিস চলে এলো। ড্রাইবার গাড়ির দরজা খুলে দাড়িয়ে রইল। আমি ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামলাম। ড্রাইবার কে বললাম, আমি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে! অফিসে ডোকার পর রিসেপশানে গিয়ে বললাম, আমি মি. অভ্র চৌধুরীর সাথে দেখা করতে চাই! রিসেপশান এর মেয়েটি জিজ্ঞাস করল, :---- মেম আপনি ওনার কি হন? কাইন্ডলি একটু বলবেন! , কি বলব আমি? নিঝেকে কিভাবে অভ্র এর স্ত্রী এর পরিচয় দেব? আমি তো অভ্রের চুক্তির বউ! রিসেপশান এর মেয়েটির কথায় ঘোর কাটলো, :---- কি হলো মেম? , :---- জি, আমি ওনার স্ত্রী! :---- জাস্ট এ মিনিট মেম। উনি কাকে যেন কল করে ডাকলেন। একটা পিয়ন এসে আমাকে অভ্রের কেভিন এ নিয়ে গেল। অভ্রের কেবিনে ডুকতেই অভ্র পিয়নকে যেতে বলল। তারপর ঠাস!!! করে দরজা বন্ধ করে দিল। আমি আওয়াজ শুনে ভয়ে পেলাম। :----- কি চাই তোমার??? আমাকে কি শান্তি মতো বাঁচতে ও দেবেনা?? :---- আসলে......... , :----- চুপপপ!!! একদম চুপ! তোমার মত মেয়েদের আমার ভাল করেই চেনা আছে। সকালে তোমার কথা মতো নাস্তা করেছি বলে, চোখে সর্ষে ফুল দেখছ? , :---- দেখুন!! আপনি আপনার ফোন রে................. কথা শেষ করার আগেই ফোন টা কেড়ে নিয়ে একটা আচাড় মেরে টুকরো টুকরো করে ফেলল! খুব ভয় পেয়ে চোখ বন্ধ করে নিলাম আমি। :------ কতবার বলেছি তোমায়, আমার সামনে স্ত্রী সাজার কোন দরকার নেই! আমি তোমাকে শুধু ঘৃনা করি। শুনতে পাচ্ছো!!! শুধু ঘৃন্না!!!! আই জাস্ট হেইট ইউ!!!(চেঁচিয়ে বলল) বের হয়ে যাও!! এক্ষুনি বেরিয়ে যাও........... অফিসের সব স্টাফের সামনে এইভাবে অপমান করল আমায়! কি অন্যায় করেছি আমি আল্লাহ?? কোন পাপের শাস্তি দিচ্ছ আমায়? দৌড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলাম। অনেক কষ্টে কান্না চেপে রাখলাম ড্রাইবারের সামনে। বাসায় এসেই কার ও সাথে কথা না বলে রুমে ডুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম। বাথরুমের শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে লাগলাম। এখন আমার কান্না কেউ শুনতে পাচ্ছেনা। কেউ না!!!! অনেক্ষন ভেজার পর বের হলাম। আর শাশুড়ি আম্মুর কাছে গেলাম। উনি রান্না করছিলেন আমি গিয়ে ওনাকে জড়িয়ে ধরলাম। উনি বললেন, :----- কি হয়ছে মা?? অভ্র কিছু বলেছে? , :----- না আজ মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে। :----- আমি কি তোমার মা না। আমি কি তোমাকে মায়ের চেয়ে কম ভালবেসেছি??তুমি তো আমার মেয়ে। , :----- না মা আসলে তা নয়। আসলে অনেকদিন মা কে দেখিনি তো তাই। , :---- পাগলি মেয়ে একটা! একি মা তোমার গায়ে তো জর! হঠাৎ মাথা টা ঝিমঝিম করে উঠল, এরপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফেরার পর দেখি আমি আমার রুমের বিছানায় শুয়ে আছি। আর পাশে শাশুড়ি আম্মু কেদে কেদে আমার মাথায় জলপট্টি দিচ্ছেন।আর ওনার পাশে ডাক্তার এর সাথে আমার শুশুর আব্বু কথা বলছেন, :----আমার বউমা ভাল হয়ে যাবে তো ডাক্তার? , :----- ওনাকে জর কমার ইঞ্জেকশান দিয়ে দিছি। আর কিছু ঔষুধ দিয়েছি এগুলা খেলে জর কমে যাবে। , :---- জি ধন্যবাদ!! চলুন আপনাকে এগিয়ে দিই। ওনারা বেরিয়ে গেলে শাশুড়ি আম্মু বললেন, অভ্র কে ফোন দিলাম কিন্তু ওর ফোন তো সুইচ অফ। আর রাত ও তো কম হলোনা এখন ও ফিরছেনা কেন জানিনা। আমি জিজ্ঞাস করলাম, কয়টা বেজেছে? , উনি বললেন, রাত ১১ টা। আমার চিন্তা শুরু হলো অভ্র তো এত দেরি করেনা কখন ও। আজ কি আমার উপর রেগে আছে বলে বাসায় আসছেনা! ঠিক তখনি কলিং বেল বেজে উঠল, অভ্র এসে গেছে! শাশুড়ি আম্মু ওকে বকা দিতে লাগলেন। আমি শুয়ে শুয়ে ভাবছি, আর তো মাত্র কয়েক টা মাস বাকি এরপর সবাইকে ছেড়ে অনেক দুরে চলে যেতে হবে। জানিনা কি আছে আমার ভাগ্যে?? , , !!(৫ম পর্ব) , , , , , আজ আমাদের বিয়ের ৮ মাস পূর্ন হলো। তার মানে আর মাত্র ৪ মাস পর চুক্তি শেষ হয়ে যাবে!! আর সাথে আমার চুক্তির বউ এর অভিনয় ও। অভ্রের অফিসের শার্ট আইরন করছি, তখনি ফোন টা বেজে উঠল। স্ক্রিনে তানিশার নাম ভেশে উঠল। তানিশা আমার কলেজ লাইফের ফ্রেন্ড, শুধু ফ্রেন্ড বললে ভুল হবে আমার একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড। কেউ কাওকে ছাড়া কিছুই বুঝতাম না। ২ মাস হলো ওর বিয়ে হয়ছে। অবশ্যই লাভ ম্যেরেজ। ধ্যেত!!! পুরোনো কথা ভাবতে গিয়ে ফোন টাই রিছিভ করা হলোনা। তাই এবার আমি ব্যেক করলাম! , আমি:----- হ্যালো!! , তানিশা:--- কিরে বর কে পেয়ে আমাদের ভুলে গেলি?? , আমি:---- কি যে বলিস! তো কেমন আছিস?? , তানিশা:---- এইত ভালোই! পাবেল আমাকে খারাপ থাকতে দেবে বল। তোর কি খবর? অভ্র তোকে নিশ্চই অনেক ভালবাসে?? , আমি:-----...............( কি বলব বুঝতে পারছিনা) , তানিশা:---- কিরে চুপ করে গেলি কেন? এনি প্রব্লেম? , আমি:--- আরে ছাড় না! কিছু না। অভ্র আমাকে অনেক ভালবাসে, তুই কল্পনাও করতে পারবিনা। ( জানি এটা মিথ্যা) , তানিশা:---- হুম। ভাল তো বাসতেই হবে, তুই তো তোর সব ভালবাসা তোর ফিউচার বরের জন্য জমিয়ে রেখেছিলি। কলেজ লাইফে এতো প্রোপোজ পেয়ে তোর একটাই কথা ছিল, তোর সব ভালবাসা শুধু তোর বরের জন্য!! তাইনা রে?? , আমি:--- হুম। তো তোরা কোথাও বেড়াতে যাচ্ছিস না?? , তানিশা:---- ওওও শিট!! ভুলেই গেছি তোকে বলতে, আমি আর পাবেল মহামায়া তে বেড়াতে যাচ্ছি আর আমরা চাই তুই আর অভ্র আমাদের জয়ন কর! , আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। যার সাথে ৮ মাসে শপিং পর্যন্ত যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি আমার সেখানে মহামায়া তো কল্পনার বাইরে! , আমি:----- আসলে অভ্রের অফিসে অনেক কাজ রে। এইবার তোরা ঘুরে আয়,আমরা পরেরবার যাব। , তানিশা:----- দেখ আমি তোর কোনো কথা শুনবো না, তুই অভ্র কে ফোন টা দে আমি বুঝিয়ে বলব। , আমি:----- প্লিস দোস্ত একটু বোঝার চেষ্টা কর! , তানিশা:---- ঠিক আছে তাহলে আমরা ও যাবনা। এত কষ্ট করে প্লেনিং করলাম আর তুই কিনা যাবিনা। , আমি:--- দেখ পাগলামি করবিনা। পরিস্থিতি বুঝতে হবে তোকে! , তানিশা:---- এটা তুই বলছিস? যে তৃষ্ণা কলেজ লাইফে এত চঞ্চল ছিল সে কিনা এখন সাংসারিক হয়ে গেছে। আমেজিং এত চেঞ্জ!! , আমি:--- আচ্ছা তানিশা আমি তোর সাথে পরে কথা বলব। অভ্রের অফিসের সময় হয়ে গেছে! , তানিশা:--- অকে রাখছি। ভাল থাকিস!! , আমি:---- বায়! নিঝেদের খেয়াল রাখবি। , , , ঠিক তখনি অভ্র চলে এলো। , অভ্র:---- সেই কখন শার্ট টা আইরন করতে দিয়েছি আর তুমি এখানে আড্ডা মারছো?? , আমি:--- না আসলে আমার এক বন্ধু............ , অভ্র:--- ওওও বুঝেছি!! আমি যেহেতু ইরা কে ভালবাসি তাই তুমি ও তোমার লাইন সেটিং করে ফেলছো। , আমি:--- দেখুন আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন। , অভ্র:--- ভুল তো এতদিন বুঝতাম যে তুমি একটা ভদ্র পরিবারের মেয়ে। এখন তো দেখছি নিঝের বর থাকতে অন্য কারো সাথে অবৈধ প্রেম করছো?? , আমি:--- প্লিস চুপ করুন!! , অভ্র:----- কি চুপ করব আমি?? আর তো মাত্র ৪ মাস এরপর তুমি যার সাথে খুশি পিরিত করবে!! এখন আমার শার্ট টা তাড়াতাড়ি আইরন করে আমাকে উদ্ধার করো! , এই বলে দ্রুত গতিতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। ছেলেটা আমাকে এত অপমান করে কি পায়?? চুক্তির হলেও আমি তো ওর স্ত্রী। আমাকে ভালবাসতে না পারলেও অন্তত ঘৃনা না করুক। ওর শার্ট টা বিছানায় রেখে বারান্দায় চলে গেলাম। আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছি, জিবন টা কেন এমন হলো!! আমার সব চেয়ে বড় কষ্ট এটা নয়, যে আমার বর আমাকে ভালবাসেনা বা আমার সামনে অন্য একটা মেয়ের সাথে রাতের পর রাত কথা বলে কাটায়। কষ্ট তো এটাই সকলের সামনে আমার সব কষ্ট লুকিয়ে সুখে থাকার অভিনয় করতে হয়। আর সবাই আমার এই অভিনয় কে বাস্তব ভাবে যে আসলেই আমি সুখে আছি। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে চিৎকার করে সবাইকে বলি, না!!!!!!!! আমি সুখি নই!!!!! খুব কষ্টে আছি আমি............! খুব কষ্টে আছি। কতদিন মা কে দেখিনি। খুব ইচ্ছা করে মায়ের কোলে মাথা রেখে নিঝের সব কষ্টের কথা বলে ফেলি! পারিনা আমি কাওকে কিছুই বলতে!! ................ বারান্দা থেকে দেখছি অভ্র গাড়ি নিয়ে অফিসে চলে গেলো। চোখের জল মুছে শাশুড়ি আম্মুর কাছে গেলাম। ওনার কাছে গেলে আমি সব কষ্ট ভুলে যাই। গিয়ে দেখলাম উনি খুব খুশি। খুশির কারন জানতে চাইলে উনি বললেন, পাশের বাসার ভাবির এক ফুটফূটে ছেলে হয়ছে। উনি আমাকে ও সাথে নিয়ে বেবি টা কে দেখতে গেলেন! খুব কিউট বাবু টা। বাবুটা ঘীরে আজ তাদের বাসায় আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সত্যি এই নিসঃপাপ শিশুরাই পারে সবাইকে নিমিষেই আনন্দ দিতে! শাশুড়ি আম্মুর অনুরোধে বাবু টা কোলে নিলাম। অনুভুতি টা কেমন ঠিক ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা। বাবু টা আমার কোলে তার ছোট ছোট হাত পা নাড়িয়ে খেলছে। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। এখন আমার মন খুব ভাল হয়ে গেছে। বাসায় ফেরার পর শাশুড়ি আম্মু আমার হাত ধরে বললেন, :---- মামনি, তোমার কাছে একটা জিনিস চাই, দেবে?? , :--- বলুন না মা! আপনার কি চাই। , :---- মা আমি আর তোমার শশুর আব্বু চাই তোমার কোল আলো করে আমার অভ্রের ও এমন এক ফুটফূটে সন্তান ঘরে আসুক। আমাদের ও তো ইচ্ছা করে একটা ছোট দাদুভাই এর সাথে খেলা করতে বলো। ছেলে হোক আর মেয়ে হোক একটা হলেই চলবে! কি, দেবে তো? আমার মাথায় যেন আকাশ বেংগে পড়ল। এই আমি কি শুনছি!! আমি শাশুড়ি আম্মুর হাত ছেড়ে দৌড়ে রুমে চলে এলাম। কি বলব ওনাদের!! আমি যে কোনদিন তাদের এই আশা পুরন করতে পারব না। কোনো দিন না!! আমি তো আর মাত্র ৪ মাস অভ্রের স্ত্রী। আর যে অভ্র আমাকে এত ঘৃন্না করে তার কাছে আমি কোন মুখে সন্তান চাইব?? খুব কান্না পাচ্ছে আমার!! বার বার মনে পড়ছে বাবুটা আমার কোলে খেলছিল। আমার ও তো এমন একটা আদরের সন্তান হতে পারত!! কিন্তু না!!! আমি তো কোনদিন মা হওয়ার সুখ পাবোনা। আর ৪ মাস পর কোথায় আমার ঠাই হবে আমি তো সেটাও জানিনা। তাহলে আমি কেন এইসব ভাবছি। না তৃষ্ণা!! তুই অভ্রের চুক্তির বউ। আর চুক্তির বউদের এইসব ভাবতে নেই। আর এটাই তোর নিয়তি। তোকে শক্ত হতে হবে! অভ্রের সুখের দিকে তাকিয়ে তোকে তোর নিয়তি কে মেনে নিতে হবে। হ্যা, আমাকে পারতেই হবে। অভ্র আমাকে ভালবাসেনা তাতে কি, আমি তো ওকে ভালবাসি। আর ওর সুখ যদি আমার চলে যাওয়ার মধ্যে থাকে, তবে আমি তাই করব! আর মাত্র চার মাস আমাকে একিভাবে অভিনয় চালিয়ে যেতে হবে। আর বাবা মা হজ্জে চলে গেলেই, আমি ও চলে যাব অজানার উদ্দেশ্য এরপর আমার অভ্র ইরা কে নিয়ে সুখে থাকবে। আর ইরা বাবা- মায়ের ইচ্ছা টা পুরন করতে পারবে! ততদিন আমি কোনো মতে তাদের ম্যানেজ করে নেব। .................................. রাতে অভ্র বাসায় এসে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ল। আমি ও কাজ শেষ করে রুমে আসলাম তখন যা দেখালাম ভয় পেয়ে গেলাম! দেখলাম অভ্র আমার ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছে। আমি এগিয়ে আসতে ফোন টা আমাকে দিয়ে হাসি মুখে বলল, নাও কথা বলো! চেয়ে দেখি তানিশার নাম্বার। চমকে উঠলাম তানিশা উল্টা পাল্টা কিছু বলল না তো অভ্র কে। ভয়ে ভয়ে ফোন টা কানে দিলাম!! , :---- হ্যালো! , :---- অভ্রের সাথে কথা বললাম রে। ও তো বলছে ও এখন ফ্রি আর তুই চাইলে ও অফিস থেকে ছুটি নিবে।( নিঝের কান কে বিশাস করতে পারছিনা) আড় চোখে অভ্রের দিকে চেয়ে দেখলাম, ও মুচকি হাসছে। , আমি:---- আচ্ছা ঠিক আছে! , তানিশা:---- আর শোন, কাল আমি আর তুই সপিং করব! রেডি থাকবি। এই বলে ফোন কেটে দিল তানিশা। অভ্রের কাছে গেলাম!.... :---- এইসবের মানে কি?? আপনি ওর কাছে মিথ্যা বললেন কেন? , :---- আমি তো মিথ্যা বলিনি! , :---- মানে? , :---- মানে খুব সোজা! তুমি আমার জন্য ৮ মাস ধরে অভিনয় করে উপকার করছ! বিনিময় আমার ও কিছু করা উচিৎ, তাইনা? এমনে ও আমি ফ্রি তে কাওকে দিয়ে কাজ করাইনা! , আমি:--- দেখুন!! এটা কিন্তু বাড়াবাড়ি হচ্ছে! , অভ্র:---- এত কথা না বলে চুপ করে ঘুমাও! আর ওই ড্রয়ারে দশ হাজার টাকা আছে। কাল সপিং করতে লাগবে! , আমি:---- দেখুন আমি এতদিন যা করেছি সেগুলা মন থেকে করেছি। আপনার বাবা মা কে আমি নিঝের বাবা- মায়ের মতো ভালবেসেছি। আর বিশাস করুন ওগুলা অভিনয় ছিলনা! পিছন ফিরে দেখি অভ্র ঘুমিয়ে পড়েছে। তার মানে আমার কোনো কথাই শুনেনি। আমি ও ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে উঠে তানিশার সাথে সপিং মলে গেলাম। তানিশা নিঝের জন্য আর আমার জন্য মেচিং করে শাড়ি কিনল। ওর এই অভ্যাস টা এখন ও যায়নি। কলেজ লাইফে ও সব কিছু মেচ করে কিনতাম আমরা। যাইহোক, আমি শাশুড়ি আম্মু আর আব্বুর জন্য ও জামা কিনলাম। তানিশা পাবেল এর জন্য শার্ট কিনেছে আমাকে বলল, কিরে তুই অভ্রের জন্য কিছু নিবিনা?? তানিশার সামনে ইচ্ছা না থাকা সত্তেও অভ্রের জন্য কালো রঙগের একটা শার্ট কিনলাম। আমি জানি, অভ্র জান গেলেও এটা পড়বেনা। শপিং শেষে বাসায় ফিরলাম। আর মাত্র ২ দিন পর আমরা মহামায়ার উদ্দেশ্য যাত্রা করব। শাশুড়ি আম্মু কে ওনাদের জন্য আনা গিফট দিতেই বললেন, :----- পাগলি মেয়ে, ঘুরতে তুই যাচ্ছিস আমরা নই। , শশুর আব্বু বললেন, দেখতে হবেনা বউমা টা কার? এই কথায় সবাই হেসে দিল। আমি রুমে এসে অভ্রের জন্য কেনা শার্ট টা আলমারি তে রেখে দিলাম। আমি জানি এটার স্থান এই আলমারি ছাড়া আর কোথাও হবেনা! , , ২ দিন পর................ , আজ আমরা মহামায়া যাব ট্রেনে করে। আমি যে শাড়ি টা তানিশার সাথে মেচ করে কিনেছিলাম সেটা পরলাম, আর অভ্র আমাকে অভাক করে দিয়ে আমার আনা শার্ট টা পরলো!! আমি হা করে তাকিয়ে আছি বলে, কাছে এসে বলল :---- আমি এই শার্ট না পরলে তোমার ফ্রেন্ড সন্দেহ করত! এই ছাড়া অন্য কিছু ভাবার ভুল করোনা! , আমাদের সিট পাশাপাশি পড়েছে। আর তার বিপরিতে তানিশাদের সিট। ওরা দুজন খুব হেসে হেসে কথা বলছে! আমরা দুজন শুধু নিরব! নিরবতা বেংগে আমি জিজ্ঞাস করলাম, :------ ইরা কি জানে যে আপনি আমার সাথে ঘুরতে যাচ্ছেন?? , :----- সেটা না জানলেও তোমার চলবে। আমার ব্যক্তিগত ব্যপারে নাক গলানোর দরকার নেই তোমার! ....................... চুপ করে বসে আছি। কি দরকার কারও সাথে কথা বলে অপমানিত হওয়ার! , , , , , কি মনে হয়?? অভ্র কি ভালো হয়ে গেছে?? , , চলবে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now