বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
,
,
আমি তৃষ্ণা। সবে মাত্র অনার্স কম্পলিট করলাম, এর মধ্যে বাবা উঠে পড়ে লেগেছে আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য।
তাই প্রায় প্রত্যক সপ্তাহে ছেলেদের পরিবার আমাকে দেখে যায়। বাট আমি ছেলের কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়ে বলে দিতাম যে আমার ছেলে পছন্দ হয়নি!
আর আমার বাবা হতাশ মুখে তাদের ফিরিয়ে দেন!
আজ আবার আমি সেজে গুজে পাত্র পক্ষের সামনে বসে আছি। পাত্র ইঞ্জিনিয়ার, তাই এবার বিয়ে বাঙগা টা সহজ হবে বলে মনে হয়না। বাবা তো ভিষন খুশি,পারলে এখনি আমাকে বিয়ের পিড়িতে বসিয়ে দিত। যাই হোক,পাত্রের মা আমাকে বিভিন্ন ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যেন আমি কোন কাচের তৈরি সুন্দর পুতুল,আমাকে নিয়ে গিয়ে ঘরের এক কোনে সাজিয়ে রাখবেন।
মনে মনে অপেক্ষা করছি কখন আমাদের মানে আমাকে আর পাত্র কে একা কথা বলার সুযোগ দেবে।
আমার হুবু শুশুর মশাই আমার মনের কথা হয়ত বুঝতে পারলেন তাই আমাদের আলাদা কথা বলার জন্য পাঠানো হলো!,
,
আমি তাকে আমার রুমে নিয়ে এলাম। উনি তখন থেকে নিচের দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি ও অবশ্যই নিচের দিকেই তাকিয়ে আছি, তাই এখন অবদি তার মুখ খানা দেখতে পেলাম না।
অবশেষে আমি যখন প্রথমে মুখ উঠিয়ে বলতে যাব, যে আমি বিয়েতে রাজি না তখনি তাকে দেখে থ হয়ে গেলাম!
এটা ছেলে নাকি রুপকথার রাজকুমার?
একটা ছেলে এত সুন্দর হয়ে কি করে। আমি লজ্জা সরমের মাথা খেয়ে হা করে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। কিন্তু উনি আমার দিকে একবার ও তাকাননি।
আমার ঘোর কাটলে আমি জিজ্ঞাস করলাম, আমাকে আপনার পছন্দ হইছে?
,
উনি সংক্ষেপে হ্যা বললেন। আশ্চর্য এই লোক টা একবার ও আমার দিকে তাকালো না। আর বলছে কিনা পছন্দ হইছে! উনি কি লজ্জা পেয়ে তাকাচ্ছেন না নাকি অন্য কিছু।
দুর ছাই!!!! এগুলা কি ভাবছি আমি। এমন রাজপুত্রের মতো বর পাবো। ভাবতেই আনন্দ লাগছে। ওনাকে নিয়ে ফিরে গেলাম।
সবাই কে বললাম, আমাদের একে অপরকে পছন্দ হইছে।
সবাই উচ্চস্বর এ আলহামদুলিল্লাহ! বলে উঠল! বাবা কে আর পায় কে! তখনি সবাই কে মিষ্টি খাইয়ে বিয়ে ঠিক করতে লেগে গেলেন!
আমি লজ্জা পেয়ে ভিতরে চলে গেলাম। কিন্তু ছেলেটার কথা ভাবতেই অবাক লাগে একবার ও তাকালো না। আমি কি দেখতে অতই খারাপ? আয়নার দিকে তাকিয়ে নিঝেই নিঝেকে জিজ্ঞাস করছি!
না কলেজ লাইফে অনেক ছেলের ক্রাশ ছিলাম আমি। কাওকে গ্রহন করিনি নিঝের বরের সাথে প্রেম করব বলে।
তখনি আমার ছোট ভাই এসে বলল, আপু!!!! সামনের শুক্রবারে তোর বিয়ে!!
,
আমি লজ্জায় বালিশে মুখ লুকিয়ে ফেললাম। আমার বিয়ে হবে, একটা সাজানো সংসার হবে ভাবতেই অবাক লাগছে।
,
দেখতে দেখতে সেই দিন চলে এলো। আজ আমার বিয়ে। একদিকে আনন্দ অন্যদিকে প্রিয়জন দের ছেড়ে যাওয়ার ব্যেথা।
অনেক ঝামেলা শেষে বিয়ে টা সম্পু`ন হলো। এখন আমি সবাইর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে একটা সাঝানো গাড়ি করে শুশুরবাড়ি যাচ্ছি। পাশে বসে থাকা আমার বর একটু ও কথা বলছেনা আমার সাথে। হয়ত উনি কথা কম বলেন। সেই যাইহোক এইবার থেকে উনি আমার। শুধুই আমার। আমার মতো করে ভালবাসব তাকে!
,
,
,
এখন আমি একটা বিভিন্ন রুকমের ফুলে সাঝানো খাটে বসে আছি। এটাই আমার বাসর রাত। অপেক্ষা করছি আমার বরের জন্য।
,
দরজা টা আস্তে করে খুলে উনি ভিতরে ডুকলেন। আমি নিচে নেমে ওনাকে সালাম করলাম। আমি ভাবছি, উনি আমাকে উঠিয়ে বুকে ঝড়িয়ে ধরবেন কিন্তু উনি সেটা করলেন না।
আবার গিয়ে খাটে বসলাম। উনি আমার থেকে কিছু টা দুরে বসে বললেন,
দেখ আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই! আমার কথা মন দিয়ে শুনবে!
আমি একটা মেয়ে কে খুব ভালবাসি। আর সে ও আমাকে খুব ভালবাসে। কোন একটা কারনে বাবা ওকে পছন্দ করেননি।
উল্টা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য মেয়ে দেখতে লাগলেন। তোমার ছবি দেখার পর বাবা - মা তোমাকে খুব পছন্দ করেন। আর আমাকে বলেন কাল তোমাকে দেখতে গিয়ে যাতে দেখার সাথে সাথেই হ্যা করেদিই। আর যদি আমি সেটা না করি আমি আমার বাবার মরা মুখ দেখতে হবে!তাই বাধ্য হয়ে তোমাকে বিয়ে করতে হলো।
,
,
মুহুরতের জন্য আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। না এই হতে পারেনা! যাকে নিয়ে এত সপ্ন দেখলাম সে অন্য কাওকে ভালবাসতে পারেনা। এটা শুনার আগে আমি মরে গেলাম না কেন। শরিরের প্রত্যক টা কোষে তীব্র ঝন্ত্রনা অনুভব করছি। আজ বুঝতে পারলাম কেন সেদিন উনি আমার দিকে না তাকিয়ে হ্যা বলে দিয়েছিলেন। আল্লাহ আমার সাথেই কেন এমন হলো। আর পাচ টার মেয়ের মতো আমার কেন সংসার করা হলনা। আমার যাইহোক উনি যাকে ভালবাসে তাকে যেন পায়।
তাই আমি বললাম, বেশ আপনি কি চান তবে? ডিবোর্স দিতে হবে তাইতো?
,
উনি উঠে ড্রয়ার থেকে একটা কাগজ এনে আমার হাতে দিলেন। তাতে লেখা বিয়ের এক বছর পূর্ন হতেই আমি নিঝের ইচ্ছায় ওনাকে ছেড়ে চলে যাব!
উনি আমার দিকে কলম এগিয়ে দিয়ে বললেন, এই পেপারে সাইন করে দাও! ১ বছর পর আমার বাবা-মা হজ্জ করতে যাবেন। তখন তুমি এই পেপার এর চুক্তি অনুযায়ি নিঝের ইচ্ছায় চলে যাবে। আর আমি (ইরা) আমার ভালবাসার মানুষকে বিয়ে করব। আর বাবা মা ফিরে আসলে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব। তাহলে তারা আমাদের মেনে নেবে।
তাই ১ বছর তোমাকে আমার স্ত্রির অভিনয় করে যেতে হবে। কিন্তু কোনোদিন আমার কাছে স্ত্রির অধিকার চাইতে আসবেনা।
আমি সোফায় ঘুমাচ্ছি। আর তুমি খাটে ঘুমাও।
এই বলে উনি চলে গেলেন। আমি অবাক হয়ে ওনার কথা শুনছিলাম। ভাগ্য আমায় এতো সুন্দর বাসর রাত উপহার দিল। আমার বরের দেওয়া চুক্তি পত্রে সাইন করে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।
ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পড়লাম। নিঝের অজান্তেই চোখের কোন থেকে জল গড়িয়ে পড়ছে। আজ থেকে শুরু হল আমার চুক্তির বিয়ের জিবন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now