বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যে প্রেম জানে কাঁদাতে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)

X মেয়েটা বৃষ্টি ভীষণ ভালোবাসতো! বৃষ্টি এলেই ছাদে চলে যেত. কখনো'বা হাত বাড়িয়ে ব্যালকুনিতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি ধরতো. কখনো বা একাকী বসে মেঘলা দিনের গান গাইতো. অসাধারন দেখতে লাগে ওকে. মায়াবী চেহারার জন্যই হয়তো বাবা মা নাম দিয়েছিলেন মিষ্টি.শুভ্র খুব লাজুক টাইপের একটা ছেলে।পাড়ার বখাটে ছেলেদের ভীষণ ভয় পায় ও. আসলে ভয় পাওয়ার পেছনে একটা ভয়ংকর কারন আছে। ওদের মুখের ভাষা বিচ্ছিরি ধরনের। পরিবেশ পরিস্থিতি না বুঝেই অশ্লীল সব শব্দ বলতে থাকে.যা শুনতে অভ্য হতে পাড়েনি এখনো শুভ্র। মিষ্টি মেয়েটা খুব বেশিই অবুঝ আর ভ্রমন বিলাসী। ছোটকাল থেকে শুভ্রর সাথে মিশতো। সব সময় ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকতো। সেই ভাইয়াকে সে নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছিলো।যদিওবা শুভ্র বুঝতে পেরেছিলো।তবুও না বোঝার ভান করতো।আসলে শুভ ওকে সব সময় বাচ্চা মেয়ে মনে করতো।আর ওকে নিয়ে কখনো ওভাবে ভাবতে চাইতো না।ওর সামনে বেড়ে ওঠা মেয়েটাকে ও সব সময় ছোট্ট বোনের মতো স্নেহ করতো। এ জন্য বুঝতে পাড়ার পর কিছুটা দুরত্ব বজায় রেখে চলতে শুরু করলো। সে দিন প্রচুর বৃস্টি হচ্ছিলো। বন্ধুদের সাথে মাঠে ভিঁজতে গিয়ে পিছলে পরে ইটের উপর।অনেক বড় ধরনের আঘাত পেয়েছিলো মেয়েটা। ওর বন্ধুরা ওর এ অবস্থা দেখে পালিয়ে গিয়েছিলো। মেয়েটা মাঠের মাঝখানে বসে কেঁদে কেঁদে ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলো। উঠে দাঁড়ানোর চেস্টা করছিলো। কিন্তু কিছুতেই পারছিলো না। শুভ জানালা দিয়ে দেখছিলো। আশে পাশে কেউ ছিলো না।তাই ছুটে গিয়েছিলো। মিষ্টি ওঠো বলছি?শুভ্রর হাত ধরে ও উঠে দাঁড়ালো। কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিলো মিষ্টির। কান্না করে বলছিলো,,, ও ভাইয়া আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।সইতে পাড়ছি না ভাইয়া! মেয়েটা এমনিতেই বৃস্টিতে ভিঁজে জব জব করছিলো। এতো বেশি কষ্ট পাচ্ছিলো যে শুভ্রর ঘারে প্রায় নুয়ে পরছিলো। অনিচ্ছা থাকার পরো শুভ্র ওকে ওর রুমে নিয়ে আসে কোলে করে। ও শুভ্রর গামছা দিয়ে মাথা মুখ মুছছিলো আর মুখ বাঁকা করে নাক কুচকাচ্ছিলো। ছেলেদের এটাই একটা সমস্যা.এরা প্রচুর অগোছালো।সব কিছুর মধ্যে ঘামের বিদঘুটে গন্ধ লেগে থাকে। ওর পা হতে প্রচুর পরিমানে ব্লেডিং হচ্ছিলো। সে দিকে ওর কোনো খেয়ালই ছিলোনা। এস এস সি দিয়েছে মাত্র।মেয়েটা অবুঝ ই তো বটে। হয়তো কোথায় বেড়ুনোর আগে মায়ের কাছে এখনো সাজিয়ে নেয় নিজেকে। এই মিষ্টি পা টা একটু উপড়ে তোলো না? শুভ্র স্যাভলন আর ব্যান্ডেজ নিয়ে আসলে ও মাথা নিচু করে বসে রইলো। কোথায় কেটেছে দেখি? এবার ও খুব বেশি লজ্জা পেয়ে যায়. না ভাইয়া,আমাকে দিন আমি নিজেই করে নিচ্ছি। আরে বোকা বলবা তো কোথায় কেটেছে! ইনফেকশন হলে পরে বুঝবা! এবার ও কান্না করতে শুরু করলো। ডুকরে কাঁদছে মেয়েটা। সে দিন শুভ্রর প্রথম বার মনে হয়েছিলো এমন একটা অবুঝ মেয়ের ভালোবাসা বুঝেও প্রত্তাক্ষান করছে কি জন্য? এমন করে আর কেউ কি ভালোবাসবে কেউ ওকে।মিষ্টি শুভ্রর চোখের দিকে তাকিয়ে কেঁদে যাচ্ছে অহর্নিশ। যতটা না যন্ত্রণায় তার চেয়েও বেশি আবেগে। বৃস্টির প্রচুর বরষনে ওর কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিলো না।কিন্তু চোখ গুলি অশ্রুতে টলমল করছিলো। ওর কষ্ট গুলি কেনো জানি শুভ্রর হৃদয়ে খুব তীব্র ভাবে আঁচর কাটছিলো। ওর প্রতি অজানা একটা মায়াবী টান অনুভব করছিলো। ওকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে ওর কষ্ট গুলি নিবারন করে দেয়ার ইচ্ছে হচ্ছিলো। কিন্তু কি যেনো এক কারনে পারছেনা। প্লীজ মিষ্টি এমন করেনা!প্রচুর ব্লেডিং হচ্ছে তো।দাও আমি বেধে দিচ্ছি? এবার ও জেদ করে বসলো। প্লীজ ভাইয়া মাফ করেন!আপনি সব জেনে শুনেও ভান করেন আমার সাথে!আমাকে এত্তো অপছন্দ আপনার!মেনে নিলে কি হয়!সবি তো বোঝেন!কেবল কাছে টেনে নিতে জানেন না!এই জগতে আমার মতো করে কে এমন খোজ খবর নেয় আপনার! শুভ্র আর ওকে কথা বলতে দিলোনা। মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরেছে।ও শুভ্রর চোখের দিকে অবুঝ ছল ছল চোখ দুটি দিয়ে কি মায়াবী ভাবেই না চেয়ে আছে। শুভ্রও চেয়ে আছে ওর চোখে চোখ রেখে। মিস্টি:- ভাইয়া আমার হাঁটুটে কেটে গেছে অনেক খানি। শুভ্র:- ও আচ্ছা,,,,,,,,, দাও আমি ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছি.আর লজ্জার কিছু নেই . আমি তো তোমার বড় ভাই তাই না। তোমার থেকে পাঁচ বছরের সিনিয়র। শুভ ওকে ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে।আর নানান সব কথা বলছে। মিষ্টি শুভ্রর চুল গুলি টেনে ইলিবিলি খেলছে। শুভ্র কিচ্ছু বলছেনা।কেবল চুপচাপ নিজের কাজ করে যাচ্ছে। মিষ্টি :- ওই ভাইয়া,তুমি না পঁচা। শুভ্র মুখে মুচকি হাসি নিয়ে বললো. কেনো? বুইড়া হইয়া গেলা অথচ একটা প্রেম করতে পাড়লেনা! শুভ্র মুচকি হাসিটা মুখে ধরে রেখে বললো, ওসব নিয়ে ভাবতে আমার ভালোলাগেনা মিষ্টি। এক ঘন্টা পর বৃস্টি থেমে গেলে ওকে রিক্সায় করে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে এসেছিলো শুভ্র। শুভ্র চলে আসার সময় শুভ্র কে মাঝপথ থেকে ডেকে নিলো। মিষ্টি :- ভাইয়া জানো আমাদের না আর কখনো দেখা হবেনা। অনেক দিন থেকে তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম।বাট তুমি তো আমার কথা পাত্তাই দাওনা।সব সময় হাসি ঠাট্টা করে উড়িয়ে দাও। এবার সুভ্রর বুকের মধ্যে তীরের মতো কী যেনো আঘাত করলো। ভাইয়া আমার না ব্লাড ক্যান্সার. যে কোনো সময় মরে যাবো আমি। আজ রাতেও হতে পারে এমন কিছি. নতুবা কাল পরশু। ডাক্তার আংকেল আব্বুর সাথে কথা বলেছিলেন। আমি লুকিয়ে শুনেছিলাম।তিনি বলেছিলেন এপ্রিলের শেষ নাগাদ অবধি বড়জোর বাঁচতে পারি। আজ এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখ. তিন তিন বার রক্ত বমি হয়েছে ভাইয়া সকালে।শরীরের সেল মেমব্রেন গুলি ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরন হচ্ছে।শুরুতে যদি ধরা পরতো তাহলে হয়তো আরো কয়েকটা বছর বাঁচতে পারতাম।মনে হয় কলিজাটা গলে বেড়িয়ে যাচ্ছে আমার অহর্নিশ । আমি বুঝতে পাড়ছি ভাইয়া। আমার ভিতরটা কেমন জানি জ্বলছে।খুব ইচ্ছে করছে একটা কথা তোমাকে বলার জন্য।আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি ভাইয়া।তুমি কি আমাকে ভালোবাসো? কথা শেষ না হতেই মিষ্টি কাঁদতে কাঁদত ভিতরে চলে গেলো। শুভ্রর অনেক কিছু বলার ছিলো।তবুও সে নির্বাক হয়ে দাড়িয়ে রইলো।মিষ্টি ওর রুমের জানালার গ্রীলে দাড়িয়ে শুভ্র কে দেখছে।ওদের দুজনের চোখেও অশ্রু।চলছে দুজনার নীরব নিস্তব্ধ হৃদয়ের কথন। কেনো এমন হয় মানব জীবনে!এতো কষ্ট কেনো মানসিক অনুভুতিগুলিতে। শুভ্র:-মিষ্টি. একবার নেমে আসো প্লীজ?তোমাকে আমি ওপারে চলে যেতে দিবোনা.আমি এমন টা করতে পাড়ি না। মিষ্টি নিচে নেমে আসে.ওর মা জাহানারা বেগম বাঁধা দেয় না।শুভ্রর কন্ঠস্বর ওনার কান অব্ধি পৌঁছে গেছে.তিনি তবুও বাঁধা দিচ্ছেন না।এই কয়টা দিনই তো মাত্র। তারপর নয়নের মনির ঠিকানা হবে অন্ধকার কবরে।আর কক্ষনো কড়া শাসন করা হবেনা।হবেনা মেয়ের অভিমান ভাঙানো।মিষ্টি নিচে নেমে এসেছে।শুভ্র ওকে খুব তীব্রতার সাথে বুকের মধ্যে জরিয়ে ধরে। শুভ্র:-মিষ্টি, আমার জান প্রান,আমার প্রানের প্রেয়সী মিষ্টি। প্লীজ একবার বলো!প্লীজ মিষ্টি শুধু একবার বলো! তুমি যা বলেছো সব মিথ্যে।তুমি আমাকে কনভেন্স করার জন্য এসব কথা বলেছো। মিষ্টি :-শেষ বেলায় এসে বুকে আশ্রয় দিলেন ভাইয়া.এটাও কম কিসে!আমি যে এখন মরেও শান্তি পাবো।এর চেয়ে ভালো ইচ্ছে পুরনের গল্প আর কিই বা হতে পারে বলেন তো? একটা চুমু দিন না ভাইয়া? শুভ্র:-একটা নয় প্রেয়সী। তোমার চিবুকে,ঠোঁটে,নাকে,কপালে এত্তুগুলা চুমু দিলাম। মিষ্টি :-শুভ্র ভাই।এখন ছাড়েন তো।বট গাছের নিচে আমার কয়েকজন বান্ধবী দাড়িয়ে দেখতেছে।ওই যে তাকান ডান দিকে? শুভ্র:-ওরা অনেক দুষ্ট তাই না? মিষ্টি :-আমিও তো।একটা কথা বলি? শুভ্র:-হুম বলো। মিষ্টি :-আমাকে বাঁচাতে পারবেন ভাইয়া? আমার অনেক অনেক বছর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করছে। শুভ্র:-তুমি মরে গেলে আমি নিজেও মরার মতো হয়ে যাবো।তুমিহীনা হয়ে বাঁচতে চাইনা আমি।তোমাকে বাহিরে নিয়ে যাবো উন্নত চিকিৎসার জন্য। মিস্টি:-তাতে তো লাভ হবেনা ভাইয়া। আমার ভিতরের শিরা উপশিরা,মজ্জা সব কিছুতে ক্ষত মারাত্নক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।এই কয়েক টা দিন আপনার বুকে মাথা রেখে কাটিয়ে দিতে চাই।আপনার হাতে হাত রেখে চলতে চাই।সবাইকেই তো চলে যেতে হবে একদিন।না হয় আমি একটু আগেই চলে গেলাম। শুভ্র মিষ্টির আলিঙ্গনে বাঁকা চাঁদের কীরন এসে উপছে পরে।জোস্না রাত্রির আবাহন ধীরে ধীরে গভীর থেকে গভীর হতে থাকে।মিস্টির শরীর এমনিতেই অনেক দুর্বল। তার উপর জেকে বসেছে অনাবিল ক্লান্তিময় আবহ।শুভ্র পাশের একটা জারুল গাছের নিচে বসে আসে।মিষ্টি তার বুকের জমিনে আসন করে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।কিছুক্ষন পর শুভ্র ওর শার্ট প্যান্ট এ ভেঁজা ভেঁজা অনুভব করে।এ তো সাধারন কোনো ভেঁজা নয়।রক্ত!মিষ্টির মুখ হতে বেয়ে পরা রক্ত।এখনো ঝরেই যাচ্ছে। মিষ্টি :-আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে ভাইয়া। দম বন্ধ হয়ে আসছে।আমাকে একটু বাসায় নিয়ে চলো না।সময় যে শেষ হয়ে এলো।এই বুঝি আমি মহাকালের চিরন্তন অজানায় হারিয়ে যাবো যাবো।আপনার বুকে শুয়ে আছি।শুয়ে থেকে বিদায় নিচ্ছি।এই বুকটা এর পর খালি খালি করবে।আমি থাকবো না তাতে কি.সময়ের স্রোত সব কিছুকে স্বাভাবিক করে দিবে।আমার শুন্যতা অন্য কেউ পুড়ন করে দিবে।বিদায় ভাইয়া। মিস্টির নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। সেই মৃত লাশটা বুকের মধ্যে চেপে ধরে চিৎকার করে কেঁদে যাচ্ছে শুভ্র।আশে পাশে অনেক মানুষ জমে গেছে।কেউ শুভ্র কে সরিয়ে নিচ্ছে অনেক অনেক অনেক দূরে, কেউবা মিষ্টিকে নিয়ে যাচ্ছে শুভ্রর দুচোখের আরালে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now