বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রোমান্টিক ভালবাসার গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)

X ঘরে বসে গেমস খেলছি। আর গান শুনছি,, তখনই মা এসে ডাক দিল,, - নীল, দেখতো বাবা কে আসছে, - কই, কে আসলো? - কলিং বেল চাপছে। - আচ্ছা দেখছি। . অফিস বন্ধ, কোথায় একটু নিজের ইচ্ছেমত কিছু করবো, তা রেখে এখন যেতে হচ্ছে কে আসছে সেটা দেখতে!! দরজা খুললাম। দরজা খুলেই দেখি এক মধ্য বয়স্ক মহিলা.... - আপনাকে তো চিনলাম না ! - একি তুমি জানো না? - কি জানবো। - তোমাদের নিচতলায় ভাড়ায় আসছি আমরা। আর আজকে আমাদের এ বাড়িতে উঠার দিন, তাই দেরী না করে সকাল সকাল এসে পড়লাম। - ওহ্,, হ্যাঁ, মা তো আমাকে বলেছিল কিন্তু আমারি মনে নেই। ভেতর আসুন। . তারপর আমার ক্লাশ অফ গেম রেখে ওনাদের হেল্প করতে লাগলাম। আমাদের বাড়িটা দুতলা। আর আমরা দুইতলায় থাকি। আমি মা আর বাবা। তিন জনের ছোটো পরিবার। আমি আর বাবা দুজনেই চাকরি করি। আমি কেবল ৩ মাস হলো জয়েন্ট করেছি। পড়াশুনা শেষ করে আর দেরী করিনি, বাবার সাহায্য নিয়ে চাকরিতে জয়েন্ট করেছি। . এখন বাবা ছেলে দুজনেই চাকরি করি। নিচতলাটি ফাকাঁ পরে আছে তাই ওটা ভাড়ায় দিয়েছে। আর শহর অঞ্চলে এখন প্রায় সবাই বাড়ি খুঁজে,, যারা অন্য জায়গায় থেকে আসে। . নতুন ভাড়াটিয়া মাত্র তিনজন দেখতে পেলাম,, আন্টি, অাঙ্কেল আর একটা বাচ্চা মেয়ে,, ছোট ঐ সাত আট বছরের হবে। মালপত্র গুছিয়ে দিতে দিতে বললাম,, - আন্টি আপনারা কি এই তিনজনই থাকবেন? - না বাবা!! আমার বড় মেয়ে আসবে বিকেলে। আবার কালকে এখানকার কলেজে ভর্তি হবে। - ওহ্। - তুমি একটু দেখো বাবা,, নতুন জায়গা কাউকে চিনি না,, আর কলেজের বেশী কিছু বুঝিও না। তুমি একটু সাহায্য কোরো। - আচ্ছা দেখা যাবে। . তারপর আমি বাকি কাজ করে আমি আমার রুমে চলে আসলাম। তিনদিনের ছুটি পেলাম, তবুও এ কদিন বোধ হয় ওনাদের কাজ করতে হবে। অফিসের কাজ আবার বাড়ির কাজ, শুধু কাজ আর কাজ। . রুমে এসে কতখন টিভি দেখে আবার শুয়ে পড়লাম। শুধু ঘুম আসে। উঠলাম একেবারে বিকেল বেলা। বিকেলে উঠে ভাবলাম একটু বাইরে থেকে হাটাহাটি করে আসি। তাই চললাম বাইরে ঘুরতে। দরজা থেকে বার হতেই একটা ছোট্ট ধাক্কা খেলাম। ধাক্কাটা আমার কাছে ছোট মনে হলেও আরেক জনের কাছে হয়তো বড় মনে হচ্ছে। কারণ আমি তো ইয়ং ম্যান,, আর ওটা হয়তো কোনো মেয়ে থাকবে। . - এই যে চোখে দেখতে পান না? - দেখি তো। - ঘোড়ার ডিম। কি দেখেন হ্যাঁ? - আমার সামনের পরীটাকে দেখি। - হোয়াট? - সরি, কিছু না। - যত্তোসব,, আপনি দেখতে পান না, আমি দরজা দিয়ে ঢুকছি তবুও আপনি একসাথে বার হলেন কেন? - আপনি চোখে দেখতে পানন না, আমি দরজা দিয়ে বার হচ্ছি, তবুও ঢুকলেন কেন? - ধ্যাত, পাগল কোথাকার, সরুন!!! - আচ্ছা, জান। - হোয়াট জান,, - শুধু শুধু, হোয়াট হোয়াট করছেন কেন? আপনি কি আমার পারসোনাল কেউ নাকি যে জান বলবো। আমি বলছি যান। - ওকে ওকে। . তারপর ওনাকে ভেতরে যেতে দিয়ে আমি বাইরে চলে আসলাম। মনে হয় এটাই আন্টির বড় মেয়ে। অনেক সুন্দর কিন্তু খুব রাগী টাইপের,, দেখেই বোঝা যায়। . তারপর একটু বাইরে হাটাহাটি করে বাড়িতে চলে আসলাম। বাড়িতে এসে, দরজার সামনে আসতেই আবার সেই নাম হারা পরীর সামনে। - এইযে চাপুন, দরজার সামনে কি করছেন। - আপনি এখানে এই সন্ধ্যা বেলা কি জন্য আসছেন? - ভেতরে যাব তাই আসছি। - ভেতরে যাবেন কেন হ্যাঁ? - ( আমার বেহুঁশ হবার অবস্থা, ভুল করে আবার কার বাড়ি চলে আসলাম) আচ্ছা, চলে যাচ্ছি। - যান। . তারপর আবার গেটের সামনে চলে আসলাম। তখন গেটে তো ঠিক নামই দেখলাম, আমার বাবার নাম দেওয়া আছে,,, তারপর আবার দরজার সামনে গেলাম। গিয়ে দেখি, ওই মেয়ে আর মা বসে আছে দরজা থেকে একটু ভেতরে,, আমাকে দেখতে পেয়েই মা বললো,, . - নীল, এতক্ষন কোথায় ছিলিস ? - বাইরে। - এতক্ষন বাইরে কি? - বাড়ি খুঁজতে ছিলাম। - কার বাড়ি ? - আমার। - পাগল হলি কবে? - এই একটু আগে। - চুপ, রুমে যা। আচ্ছা.... . - আন্টি ওনি কে? - আমার একমাত্র ছেলে। - কিইইইই? - কেন? আগে দেখোনি? - বিকেলে দেখছিলাম বাড়িতে,, বাড়ি থেকে বার হচ্ছিল তাই ভাবছি অন্য বাড়ির কেউ হবে হয়তো। - হিহিহি,, . মা আর ওই বজ্জাত মেয়ের এই টুকু কথা শুনেই এসে পড়লাম। আমাকে বাইরের ছেলে ভাবার কি আছে? আমাকে দেখে কি এ বাড়ির ছেলে মনে হয় না? . এভাবে পাঁচ দিন চলে গেল। এই পাঁচদিনে ওদের সাথে আমাদের খুব ঘনিষ্ঠতা হয়ে গেছে। ওই মেয়ে সবসময় মা'র পেছনে পরে থাকে আর সবসময় কি যেন গুজুর গুজুর করে দুজনে মিলে। কিন্তু আমি এখন এগুলো কেয়ার করি না, আমার মতো আমি আছি। তারপর শনিবার সকালে ঘুমিয়ে আছি। ভাবছি আজ অফিসে যাব না, শরীরটা একটু খারাপ লাগছে তাই। কিন্তু কাউকে বলিনি। - নীল, অফিস যাবি না ? - না মা। - তাহলে একবার Girl's কলেজে যা তো। - Girl's কলেজে গিয়ে কি করবো? আমি Girl's নাকি? - সাদিয়াকে নিয়ে যা। - সাদিয়া.... এটা আবার কে ? তোর আন্টির বড় মেয়ে। - ওহ্, তাহলে ওই ঢংগীটার নাম সাদিয়া!! - চুপ.... ওকে নিয়ে যা! - কেন? - ভর্তি হবে তাই। - সেদিন না ভর্তি হওয়ার কথা ছিলো? - সেদিন হয় নি,, আজকে হবে । - আচ্ছা, দেখা যাবে। - তাড়াতাড়ি। . ও মাই গড, এখন কি এই মেয়ে মানুষটাকে ক্ষ্যাপাতে হবে নাকি? একা যেতে পারে না! আবার আমাকে সাথে নিতে হবে । এই কদিনে একেবারে মা'র মাথায় চড়ে বসছে। কিভাবে যে মেয়ে গুলো এতো তাড়াতাড়ি করে আরেক জনের সাথে মিশতে পারে কে জানে? . অনিচ্ছাকৃত ভাবে উঠতে হলো,, ডাইনিং টেবিলের কাছে এসে দেখি সে আগেই রেডি হয়ে আছে আর বসে বসে আমার প্লেটে রাখা ডিমে ভাগ বসিয়েছে। - আমার ডিম খেলেন কেন? - আমি আপনার ছোট, সো তুমি করে বলাই বেস্ট। - ওকে ওকে, ডিম কোথায়? - কোথায় আবার,, আমি খেয়ে নিয়েছি। - তোমারটা তো খেয়েছো আবার আমার টায় ভাগ বসিয়োছো কেন? - এমা আর কোথায় পর থেকে, যার সবকিছুতেই অধিকার স্বরুপ ভাগ বসাবো, তারটায় আগে থেকে ভাগ বসালে কী হবে শুনি ? - হোয়াট? - কিছু না। - উল্টো পাল্টা কিছু বলবে না কিন্তু ! - তাড়াতাড়ি খান তারপর চলুন। - আচ্ছা। . তারপর ফ্রেস হয়ে, খাওয়া শেষ করে ওকে নিয়ে বার হলাম। আবার রাস্তায় এসে, যখন গাড়িতে চড়বো তখন,, - এই একটা রিক্সা ডাকুন তো। - AUTO-তে যাব। - না, রিক্সায় যাব। - রিক্সায় কেন? - এমনি। - আচ্ছা ! . - আমি নিশ্চিত এ মেয়ের কোনো বাজে ধান্দা আছে, নাহলে এসব অদ্ভুত ধরনের ব্যবহার করে কেন? তারপর বাধ্য হয়ে একটা রিক্সা ডাকলাম। রিক্সায় উঠে আমি একটু সরে বসলাম। যাতে ওর সাথে বেশি ছোয়া না লাগে। ডিজিটাল মেয়ে, কি থেকে আবার কি বলবে ঠিক নেই। . - এই আপনি এতো সরে বসলেন কেন? - এমনি। - হুহ ( একটু খানি আমার কাছে আসলো) - এই কি করছো? ওদিকে যাও ! - আর জায়গা নাই,, তাই দুজন একসাথেই বসবো। - এই দেখো বড়দের মতো পাকলামী করবে না। - আমি ছোট নাকি? - হুম। - এই দেখুন ফাজলামো করবেন না কিন্তু, আমি ডিপ্লোমা করছি ,, সো আমি বাচ্চা মেয়ে নই। - বাব্বা,, - হু। . তারপর ঝামেলাটাকে কলেজে রেখে আসলাম। আর আমি বাড়িতে চলে আসলাম। বাড়িতে এসে শরীরটা একটু ভালো লাগছে,, তাই ছাদে গেলাম,, ছাদের ফুল গাছ গুলোতে জল দিতে। জল দেওয়া শেষে হেডফোন লাগিয়ে ওখানেই বসে পড়লাম। হালকা বাতাস আসছে তাই। খুব ভালো লাগছে। এভাবে দুপুর হয়ে গেল। যখন ১ টা বাজে তখন আমার ঘর থেকে কি যেন ভাঙার শব্দ এলো। . শব্দটা এতো জুরে হইছে যে, আমার হেডফোন ভেদ করে কানের কাছে চলে এলো, তাই দৌড়ে নিচে গেলাম। গিয়ে দেখি আমার পছন্দের ফুলদানি যেটা কয়েক দিন আগে কিনে এনে টেবিলে রেখে দিছিলাম ওটা ওই সাদিয়া ভেঙে দিয়েছে। . - এটা কি হলো? - ভালই হয়েছে। - ভাঙলে কেন এটা? - বেশ করেছি। - ভালভাবে কথা বলো! - আমাকে রেখে চলে আসলেন কেন? - আমি কি তোমার জন্য ওখানে দাঁড়িয়ে থাকবো? - হ্যাঁ হ্যাঁ থাকবেন। - হোয়াট??? কেন থাকবো? - কারণ, আমি.... - কি? - কিছু না। - শুধু শুধু আমার পছন্দের ফুলদানিটা ভেঙে দিলে ! - আপনি জানেন আমি একা আসার সময় কতগুলো বদমাশ ছেলে রাস্তায় আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো আর কি যেন বলছিল। - তাকাবেই তো। এতো সুন্দর হয়ছছো তারা কি তোমার দিকে না তাকিয়ে ৭০ বছরের বুড়ির দিকে তাকাবে নাকি?? - আপনিও বলছেন এ কথা?? - বলবো না তো কি করবো,,, হিজাব বা বোরকা পরে চলতে পারো না। - আচ্ছা, তাহলে এরপর ওগুলোই পরবো ( মাথা নিচু করে বললো) - যাও এখন, - আচ্ছা। . তারপর ওকে নিচে পাঠিয়ে দিলাম। যত্তোসব, নিজের প্রতি কেয়ার নেই, আমার সাথে রাগ দেখায়। প্রত্যেক মেয়েরেই উচিত রাস্তায় বোরখা বা হিজাব পরে চলা। কারণ তাতে ওদের নারিত্ব বজায় থাকে। অন্যথায় রাস্তায় ছেলেরা তাকিয়ে থাকবে । আর যখন হিজাব ছাড়া বার হয় তখন ছেলে গুলো তাকিয়ে থাকে তখন ওদের দোষ দেয়। ওদের কোনো দোষ থাকে না। কারণ সুন্দর দেখলে সবাই তার দিকেই তাকিয়ে থাকে। . নারী হলো সৌন্দর্যের অন্যতম। তাই তাদের যতটা সম্ভব নিজেকে ঢেকে রাখা উচিত, নয়তো নিজেকে অন্যের কাছে বিলিয়ে দিতে হয়। তাই যতটা সম্ভব হিজাব পরে বা ধর্মীয় নীতি চলে রাস্তায় চলা উচিত। নাহলে হিতে বিপরীত হবে। . এগুলো ভাবতে ভাবতে বিছানায় বসে পড়লাম। খুব রাগ হচ্ছে ওর উপর, কোথাকার কোন মেয়ে, দুদিন আমাদের বাড়িতে থেকেই আমার জিনিস ভাঙচুর করছে। মা ও কিছু বলে না,, কিন্তু আদর করে ওকে অনেক। আর মা'র আদর পেয়েই ও একেবারে মাথায় চড়ে বসছে। . এভাবে চলে গেল ছয়মাস। এখন আমার মতো একটা পাওয়ার ফুল শয়তানও ওই পেত্নীটার কাছে হার মানতে বাধ্য। কারণ এখন মা'র পিছু ছেড়ে আমার পেছনে থাকে। সবসময় এখন আমার পেছনে ঘুরঘুর করে। যতটা সময় অফিসে থাকি ততটা সময় শান্তি পাই। বাড়িতে আসলেই সাদিয়া এসে ঘ্যানর ঘ্যানর শুরু করে দেয়। . আর পারা যায় না এ মেয়েটাকে নিয়ে। সবসময় বিরক্ত করে। কি চায় ও? আমাকে কেন শুধু বিরক্ত করে। মা এসব দেখে তবুও কিছু বলে না,, আরও ওর সাথে তাল মেলায়, খুব রাগ হয় তখন। . এখন আবার তুমি করে বলা শুরু করছে। সাহস খুব বেড়ে গেছে। রাত ১২ টার সময় ফোন করে বলে,,, এই চলো না একটু ছাদে যাই.... তখন ইচ্ছে করে নিচ তলায় গিয়ে,, সাদিয়াকে তুলে নিয়ে দুতলা ছাদে থেকে ছুড়ে নিচে ফেলে দিই। যত্তোসব উটকো ঝামেলা। খুব রাগ হয় ওর উপর। . তবুও কিছু বলতে পারি না। কারণ ওর পিছনে আমার বাবা মা আছে,, একটু কিছু উচুঁ গলায় বললেই,, মা'র কাছে গিয়ে আরও বেশি করে বানিয়ে বানিয়ে বলে,, তারপর মা আমাকে আচ্ছা করে বকে দেই,, সেইজন্য কিছু বলতে পারছি না। . শুক্রবার বিকেলে বাড়ির সামনে একটা ছোট বাগান আছে সেখানে বসে আছি। কোথা থেকে যেন সাদিয়া এসে হাজির। একটা হলুদ শাড়ি পড়া। খুব সুন্দর লাগছে ওকে, অন্য দিনের থেকে হাজার গুণ বেশি সুন্দর,, কারণ এর আগে কখনো ওকে শাড়ি পড়া অবস্থায় দেখিনি তাই। . - এই শুনো, আমাকে কেমন লাগছে? - ভালো। - শুধু ভালো। - একদম পরীর মতো। - সত্যিই? ( খুশিতে লাফিয়ে উঠলো) - হুম। - এইজন্যই তো আমি তোমাকে এতো ____ - এতো কি? - না কিছু না। - বলো....? - ভয় করে,, পরে বলবো। - আচ্ছা। - চলো ঘুরতে যাব। - না। - কেন? - আমার সাথে তুমি ঘুরতে যাবে কেন? - বারে,, তাতে কি হইছে? - অন্যরা কি ভাববে,, যে আমি বউ নিয়ে ঘুরতে বার হয়েছি। - হিহিহি, ভাবলে ভাবুক, সমস্যা কি? একদিন আগে আর পরে তো বউ হবোই। - মানে!!! - কিছু না, চলো তো এখন। - আমি যাব না, ব্যাস। - কেন যাবে না,,, চলো না প্লিজ। - বলছি না যাব না ( ধমক দিয়ে বললাম) . ধমক দিয়ে বলার পর আর কিছু বলছে না,, চুপচাপ আমার সামনে দাড়িয়ে আছে। চোখ দেখে বোঝা যায়, লাল হয়ে গেছে, এখনই কেঁদে দিবে.... আর তখনই আমার এক কলিগের ফোন আসলো... মেয়েটাও আর সময় পাইলো না,, এখন ফোন করেছে,, এমনিতেই মুড খারাপ। . তারপর কলটা ধরে অফিসের কাজ নিয়ে কথা বলতে বলতে সাদিয়ার থেকে দূরে চলে গেলাম। আর দেখি ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ফোনে কথা বলা শেষে, ফোনটা রুমে বিছানার উপর রেখে বাথরুমে গেলাম। . বাথরুম থেকে এসে আমার বসকে একটা ফোন করব, তাই ফোনের কাছে গেলাম.... একি ফোন কোথায় গেল? যেখানে রেখেছি সেখানে নেই,, আমার বিছানার পাশে রাখা মগ থেকে বুদবুদের শব্দ শুনতে পেলাম। ওটার কাছে গিয়ে দেখি,, আমার ৩০ হাজার টাকার ফোন,, জলে পরে সাঁতার কাটছে। . ও মাই গড, এটা কি হলো? কে করলো এ কাজ? ধপাস করে ফ্লোরে বসে পড়লাম। বাইরে থেকে হাসির শব্দ শুনতে পেলাম,, গিয়ে দেখি সাদিয়া। বুঝতে পারলাম ওই করছে এ কাজ। . ঠাস করে একটা, রাগের বশে জোরে চড় মারলাম। খুব বেড়ে গিয়েছো না ? তারপর দেখি আমার চোখের দিকে তাকালো.... তারপর কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। আমার চোখ তখন রাগে লাল হয়ে গেছে। . তারপর আর সেদিন আমার সামনে আসেনি। তারপরের দিন একবার না দুইবার সামনে পড়ছিল কিন্তু কিছু বলেনি,, আরও আমাকে এড়িয়ে চলে গেছে। এতো দিনে তাহলে শিক্ষা হয়েছে। আমিও আজ একটু শান্তি পেলাম। . এক সপ্তাহ কেটে গেল কিন্তু এখনো ও আমার সাথে কথা বললো না,, আমার সামনেও আসলো না। আসলেও আরও এড়িয়ে চলে যেত। সেদিন মারা বোধ হয় ঠিক হয়নি। এখন খুব খারাপ লাগছে। যে মেয়ে সবসময় আমার পিছনে পরে থাকতো আমাকে বিরক্ত করতো, আজ এতোদিন হয়ে গেল একটা কথাও বলেনি। খুব মিস করছি এখন পাগলীটার পাগলামী গুলো। . ভাবলাম কাল একটা ওর জন্য অফিস থেকে আসার সময় গিফট আনবো আর তারপর ওকে দিয়ে সরি বলবো.... . সকালে উঠে ওদের কারও কোনো সাড়াশব্দ পেলাম না। তাই আমি শুধু অফিসে চলে গেলাম। বিকেল ৫টায় অফিস থেকে আসলাম,,, গিফটটা পিছনে লুকিয়ে বাড়িতে ঢুকে সাদিয়ার রুমের দিকে গেলাম, ""রুমে গিয়ে দেখি কেউ নেই। মানে বাইরে ঘুরতে গেছে,,, মা'কে বলে দেখি, কোথায় গেছে ওরা? . মা'র রুমে গিয়ে দেখি চুপ করে বসে আছে খাটের উপর,,, - মা সদিয়া কোথা গেছে? - তুই শুনে কি করবি? - বলো না,দরকার আছে। - চলে গেছে। - কোথায় গেছে? - আমাদের বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায়। - মানে!!! - আজ দুপুরে গেছে। - কি বলছো তুমি? - হুম, জানিস-বাবা মেয়েটাকে একদম নিজের মেয়ে ভেবেছিলাম,,, ভাবছিলাম তোর বউ করে সারাজীবন এখানেই রেখে দেব। কিন্তু কোনো কারণ না বলেই হুট করে চলে গেছে। সাদিয়ার নাকি আর এ বাড়িতে ভালো লাগে না। - ওওও..... কিন্তু আমাকে বলার প্রয়োজন মনে করলো না। - আমি কি করবো বল? . ধীর পায়ে আমার রুমে গেলাম। গিয়ে দেখি আমার বিছানার উপর ভাঙা জোড়া দেওয়া আগের সেই ফুলদানিটা। আর ওটার ভেতর একটা কাগজ.... পড়তে বসলাম.... . প্রিয় নীল বাবু,, জানি না তুমি আমাকে কি ভাবো,,, কিন্তু আমি তোমাকে নিয়ে ভালবাসার কথা ভাবতাম। আমি তোমাকে সেই প্রথম থেকেই ভালবাসি। কিন্তু কখনো বলিনি,, ভাবছি তুমিই আমাকে বলবে। তাই আমি সবসময় তোমাকে বিরক্ত করতাম, তোমার কাছে যাওয়ার জন্য। যাতে তুমি আমাকে ভালবাসো। কিন্তু এতদিনে আমার একবারও মনে হয়নি তুমি আমাকে ভালবাসো। আর যেদিন আমাকে মারলে, সেদিন আমি একেবারে শিউর হইছি,, তুমি আমাকে একটুও ভালবাসো না, শুধু ঘৃণা করো। তাই ভাবলাম ভালবাসার মানুষের ঘৃনা নিয়ে কয়দিন তার সামনে থাকা যায়। চলে যাওয়াই ভালো। তাই তোমাকে না বলে চলে আসলাম। এতদিন অনেক বিরক্ত করছি প্লিজ ক্ষমা করে দিও,, আর কোনো দিন তোমার সামনে আসবো না। ভালো থেকো। ইতি,, তোমার জন্য পাগলী হয়েছিলাম,,, বিরক্ত কারিণী সাদিয়া। . ওটা পড়ে কেন যেন এখন খুব কষ্ট হচ্ছে। যে মেয়েটা আমাকে এতো ভালবাসে আর আমার একটু ভালবাসা পাওয়ার জন্য সবসময় আমার পেছনে ঘুরঘুর করতো আর আমি তাকে এভাবে অবহেলা করছি,,, এখন আমার নিজের উপরই খুব ঘৃনা হচ্ছে। . এখন কোথায় পাবো ওকে।।। . এভাবে ২ সপ্তাহ চলে গেল। তবুও ওকে পাচ্ছি না। অনেক খুঁজলাম,, খুব মিস করছি ওকে। আমিও এখন ভালবেসে ফেলেছি। তারপর মাথায় আসলো, মা'র ফোনে সাদিয়ার নাম্বার আছে। . নাম্বার খুঁজে বার করে আমার ফোনটা দিয়ে কল করলাম। একটু সময় রিং হওয়ার পর, ধরলো,,, - হ্যালো সাদিয়া। - আপনি কে? - নীল। - ফোন দিয়েছেন কেন? - একটু দেখা করবে প্লিজ। - ক্ষমা তো চেয়েই নিয়েছি। আবারও মারতে চান। - এভাবে বলো না প্লিজ। দেখা করো একটু। - দেখা করে কি করবেন? - আগে আসো। - আচ্ছা। . তারপর জায়গা বলে দিলাম কোথায় আসবো। ভাগ্য ভালো পাগলী রাজি হয়েছে আসতে, নয়তো আমি হয়তো মরেই যেতাম। . তার পরের দিন কয়েকটা গোলাপ ফুল নিয়ে হাজির হলাম আমাদের দেখা করার জায়গায়। দেখি ও আগেই আসছে। - সাদিয়া এভাবে চলে আসছো কেন? - এমনি! ( নিচু স্বরে, আস্তে করে) - আমাকে ভালবাসো এখনো? - ইয়ে মানে! - বলো.... - হুম। - ফিরে আসবে আমার কাছে? - কিন্তু আপনি তো ভালবাসেন না। - আপনি হলাম কবে? আগে না তুমি করে বলতে। - সরি। - আর কে বলছে আমি তোমাকে ভালবাসি না। - আপনার ব্যবহারেই বুঝছি। - ইচ্ছে করছে এখন আরেকটা থাপ্পড় দিতে। - দিতে সমস্যা কোথায় ? - চুপ.....আই লাভ ইউ ( হাটু গেড়ে প্রপোজ করলাম) - ফাজলামো করছেন? - হোয়াট....ফাজলামো ? - এইযে আমাকে ভালবাসেন। - এতে ফাজলামোর কি আছে। - আচ্ছা ভালো নাই বাসলাম, বিয়ে করবে চলো। - বিয়ে কেন? - এমনি। - কিন্তু, - কোনো কিন্তু নয় (হাতটা ধরলাম) পাগলী জানো এ কয়দিন কত কষ্টে ছিলাম? - কেন কষ্টে ছিলা হ্যাঁ? ( কান্না সুরে) - তোমাকে ছাড়া। - তাহলে মারছিলে কেন? না মারলে তো আর আসতাম না। - ফোন জলে চুবিয়ে ছিলেন কেন? - ওই মেয়ের সাথে কথা বলছিলে তাই। - বাব্বা এতো রাগ? - অনেক ভালবাসি, তাই কারও সাথে আর কথা বলতে দেব না, হু। ( বুকে মাথা রেখে কাদতেঁ লাগলো) - এই পাগলী কাঁদছো কেন? - আর মারবে না তো? - বিয়ে করে নিই তারপর দেখা যাবে। - শয়তান আমি তোমার বউ হবো না ! - তাহলে,,, - আমি নীলের বউ হবো, নীল ভালো। তুমি খারাপ... - হিহিহি, পাগলী একটা। - তোমার। - বাড়িতে চলো। - তুমি যাও,, আমি একা যেতে পারবো। - জ্বী না,,, তোমাকে সোজা আমার বাড়ি নিয়ে যাব। - মা'কে তো বলি নাই। - পরে ফোন করে বলবে আমি আমার বরের বাড়ি চলে এসেছি, তুমি তোমার বিয়াই বাড়ি চলে আসো। - পাগল একটা। - চলো। - আচ্ছা। - হাতটা ধরি? - ধরেই তো আছো। - আরও শক্ত করে। - ব্যথা যেন না পাই। - আচ্ছা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now