বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাদা শাড়ী ১ম পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাকারিয়া আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X আমার লাইফের সাথে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। যা মনে হলে আজ ও আমার বুকের ভিতর টা শিউরে উঠে। ঘটনাটি ২০০৮সালে মে মাসে ঘটেছিল। আমার গ্রামের বাড়ি বাক্ষ্মনবাড়িয়া জেলার কসবা থানার শিকার পুর গ্রাম। বাড়িতে আমি, আমার ছোট ভাই, আমার বড় ভাবি আর ছোট বাতিজা এবং বাতিজি থাকতাম। আমার বাড়িতে তখনও বিদুৎত সংযোগ আসেনি। যার কারনে হারিকেন ব্যবহার করা হত। সন্ধ্যা হলেই চারদিকে তিমির অন্ধকার নেমে আসত।আমার বাড়ির বর্ণনাটা দিয়ে রাখা ভাল। আমাদের বাড়িটা ছিল একটু আলাদা। আমাদের বাবা চাচার ৫ পরিবার ছাড়া আশে পাশে বাড়িঘর কম ছিল। দাদুর কাছ থেকে শুনেছি আমাদের বাড়ির জায়গাটা নাকি আগে একটি কবরস্থান ছিল। পরবর্তীততে সেখানে মাটি ভরাট করে বাড়ি বানানো হয়েছে। আমাদের ঘরটা ছিল পূর্ব দিকে আর পশ্চিম দিকে ছিল আমার ছোট চাচার ঘর।আমাদের ঘরের বাম পাশে ছিল বড় একটা বাঁশের বাগান আর ডান পাশে ছিল আমার আরেক চাচার ঘর।আমাদের বাড়ির পশ্চিম দিকে ছিল একটা পুকুর আর পূর্ব দিকে ছিল আরও একটা পুকুর।আর পূর্ব দিকের পুকুর টার পাড় গেশে ছিল আমাদের গ্রামের কবরস্থান। যা আমাদের ঘর দেখে ১০-১৫ হাত দুরে ছিল।বাড়িতে কারেন্ট না থাকার জন্য ৯ টা ১০টার মধ্যে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে যেতাম।যার কারনে মধ্যে রাতে একবার উঠতে হত প্রসাব করার জন্য।যেহেতু আমি আর আমার ভাই ছোট ছিলাম তাই বাইরে আসলে ভাবিকে ডেকে নিয়ে আসতাম।ভাবি বের হলেও আমাকে নিয়ে আসত।মাঝে মাঝে ভয়ে বের হতাম না। আমাদের বাথরুম টা ছিল পশ্চিম দিকের পুকুর পাড়ের ছোট চাচার ঘরের ডান পাশে।যখন রাতে প্রসাব করতে বের হতাম হারিকেন নিয়ে বের হতাম। বাহিরে বের হয়ে উপরের দিকে তাকালেই ভয়ে গা হিম হয়ে আসত।বাড়ির চারদিকে কালো অন্ধকার ঘিরে আছে। পাশের বাশ বাগান টা যেন এখনি আমাদের বাড়ির ওপর হেলে পড়বে।নানান ধরনের ভয় মনে কাজ করত। একদিন রাতে হঠাত আমার ঘুম ভাঙ্গলো,মনে হলে ভাবি মনে হয় আমাকে ডাকছে।আমি বিছানা থেকে উঠে ভাবির রুমে গিয়ে দেখলাম ভাবি ঘুমে মগ্ন হয়ে আছে। বুঝতে পারলাম হয়ত আমার মনের ভুল।আমি আর ভাবিকে ডাক না দিয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলাম।অনেক্ষন চেষ্টা করার পর ও ঘুম আর আসছেনা। ভাবলাম প্রসাব করে এসে আবার শুয়ে পড়ব। বিছানা থেকে উঠে ভাবিকে ডাক দিলাম ভাবি ভাবি... কিন্তু আজ যেনো ভাবি গভীর ঘুমে মগ্ন।অনেক ডাকাডাকির পর ভাবি আজ উঠলনা।ভাবলাম হইত সারাদিন পরিশ্রম করেছে তাই হইত ঘুমটা একটু বেশি,তাই ভাবি কে ছাড়াই আমি বের হলাম।হারিকেন টা হাতে নিয়ে দরজার কাছে রেখে দরজাটা খুললাম। দরজাটা খুলার সাথে সাথে কেমন যেন একটা ঠান্ডা বাতাস আমার গায়ে লাগল।আমি পুরো শিউরে উঠলাম। যাক সাহস করে হারিকেন টা হাতে নিয়ে বাইরে বের হলাম।আমি টয়লেটের দিকে যাচ্ছি আর মনে মনে আল্লাহকে স্বরন করছিলাম।হারিকেন টা বাইরে রেখে বাথরুমের ভিতর ডুকলাম।আমার প্রসাব করা প্রায় শেষ এমন সময় দপাস করে পুকুরে কি যেন একটা পরল তেমন টা শব্দ আমার কানে আসল।আমি তাড়াতাড়ি বের হয়ে বাইরে এসে হারিকেন টা হাতে নিয়ে পুকুরের দিকে চোখ দিলাম কিন্তু না কিছুই ত দেখা যাচ্ছে না।আমার মনে কেমন যেন একটা ভয় কাজ করছিল। আমি ঘরে আসার জন্য সামনের দিকে এগোতে লাগলাম কিন্তু কেন যেন আমার পা গুলো সামনের দিকে এগোচ্ছে না কেউ যেন আমার পা গুলো জোর করে ধরে আছে। আমি অনেক কষ্টে ঘরের দরজার কাছে এসে একটা লাফ দিয়ে ঘরে ডুকে তাড়াতাড়ি করে দরজাটা লাগিয়ে দিলাম।ভয়ে আমার মাথা বেয়ে ঘাম পড়ছিল।আমি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ি। বিছানায় অনেক্ষন গড়াগড়ি করার পরও ঘুম আস্তেছিল না। কেমন যেন একটা ভয় কাজ করছিল।অনেক কিছু চিন্তা করতে করতে চোখে ঘুম এসে যায়। হঠাৎ একটা শব্দে আবার ও আমার ঘুম ভেঙে যায়।আমি আওয়াজ টা আবার ও শুনতে পেলাম। আওয়াজ টা ছিল,,, বুড়ো মানুষ যেমন লাঠিতে বর করে হাটলে যেমন টা ঠাক ঠাক করে আওয়াজ হয় ঠিক তেমন টায়।আওয়াজ টা আমাদের ঘরের দক্ষিণ কোনা থেকে আস্তে আস্তে উওর দিকে যাচ্ছিল।আমাদের ঘরটি ছিল টিনের যার কারনে বাইরের আওয়াজ টা খুব পরিষ্কার ভাবে শুনা যাচ্ছিল।শব্দটা আমার পা থেকে আস্তে আস্তে আমার মাথা বরাবর এসে থেমে গেল। আমি ভয়ে চাদরটা পুরো নাকে মুখে ডেকে দিলাম।কিছুক্ষন পর সেই শব্দটা আবার ও শুনতে পেলাম কিন্তু এবার শব্দটা এক জায়গাতে হচ্ছে সামনে পিছনে কোন দিকেই যাচ্ছেনা ঠিক আমার মাথা বরাবর।আমার ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছে। চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না।মনে মনে দোয়া পড়ছি কিন্তু আওয়াজের শব্দটা আরোও বেড়ে যাচ্ছে।আমি ভয়ে চোখ বুঝে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।আর মনে মনে দোয়া পড়তে লাগলাম।দোয়া পড়তে পড়তে কখন যে ঘুময়ে পরলাম তা নিজেরি অজানা।সকালে যখন চোখ খুললাম ঘড়িতে প্রায় সকাল ৯টা বাজে। রাতের ঘটনাটা ভাবির সাথে শেয়ার করলাম ভাবি আমাকে বলল এগুলো নাকি মনের ভয়। কিন্তু এর কিছু দিন পর এমন এক ঘটনা ঘটল যা ভাবিকে ও হতবম্ব করে দিয়েছে।সেই মূল ঘটনাটি (সাদা শাড়ি) আগামী পর্বে দিব।আর সেটা নির্ভর করে আপনাদের ওপর। লাইফে ১ম বারের মত ফেসবুকে গল্প শেয়ার করলাম।যদি বানান ভুল হয়ে থাকে নিজ দৃষ্টিতে ক্ষমা করবেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now