বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অভ্র তুই কি সত্যি চলে যাবি আমাদের ছেড়ে?
হ্যা রে অলক। আমাকে পারলে তোরা ক্ষমা করে দিস।আমার পক্ষে আর দেশে থাকা সম্ভব না।
জানিস ই তো বাবা মা কবে থেকে আমার যাওয়ার জন্য বলছে।
এত দিন যাই নি কারন আমি একটা মায়াজালে আটকে ছিলাম।
আজ তো সেই মায়া জাল থেকে ও মায়া আমাকে মুক্ত করে দিছে।তাই আর না এবার এ দেশের পাট চুকিয়ে সারা জীবনের মত চলে যাব আমেরিকা।
তোদের খুব মিস করবো রে দোস্ত।( কান্না চোখে অভ্র)
আমরাও তোকে খুব মিস করবো, খুব মনে পড়বে তোকে।
জানি না আর কোন দিন দেখা হবে কিনা তোদের সাথে ভাল থাকিস সবাই।
এবার আমাকে বিদায় দে আমার ফ্লাইটের সময় হয়ে গেছে।
আদি টা যে কই গেছে যাবার সময় ওর সাথে দেখা হলো না। ওকে বলে দিস। আসি রে
এই অভ্র একটু দাড়া আমি এসে গেছি।
এই নে এটা তোর জন্য কথা দে তোর ফ্লাইট হবার আগে এটা খুলবি না।(হাপাতে হাপাতে আদি)
ওকে খুলবো না বাট এতে কি আছে আর তুই বা এত সময় কই ছিলি?
সে অনেক কথা তোর লেট হয়ে যাচ্ছে তুই ভাল থাকিস দোস্ত। আমাদের মনে পরলে আসিস দেখা করতে।
কথা হচ্ছিল অভ্র আর ওর বন্ধুদের। অভ্রের বাবা মা গত ৪ বছর ধরে আমেরিকা থাকে অভ্র এখানেই থাকত। অভ্র দেশ ছাড়ার কারন টা অবশ্য কারুর অজানা নই।
অভ্রর সাথে মায়া নামের একটা মেয়ের পরিচয় হয় ৪ বছর আগে।মায়া আর অভ্র একই কলেজেই একই সাথে পড়ত।
অভ্র এবার অনার্স শেষ করল।ওকে বাকি টা পরে বলি দেখি আদি অভ্র কে কি দিল।
অভ্রের বিমান টা যখন তার বিশাল পাখা মিলে দিল দিগন্তে তখন অভ্রের মনে হল আদির গিফটের কথা।
অভ্র গিফট টা খুলতেই অবাক হয়ে গেল।
এ তো মায়ার ডাইরি।কিন্তু আদি কোথায় পেল? যে মেয়ে কে অভ্র ১ টা বছর ধরে সারা শহর তন্নো তন্নো করে ও খুজে পাইনি তার ডাইরি আদি কই পেল?
এমন হাজার প্রশ্ন ঘুরছে অভ্রের মাথায়।
ডাইরির দিকে তাকাতেই দু ফোটা অশ্রু গরিয়ে পরল ডাইরির উপর মনের অজান্তেই।
অভ্র চোখ মুছে ডাইরি টা খুলল।
১ম পৃষ্ঠা
আমি মায়া বাট কারও মনে আমার জন্য একটু মায়া হয় না।আমার আজ খুব মাকে মনে পরছে। মা ত আমাকে ছেড়ে ঐ দুরের আকাশের তারা হয়ে গেছে।
২য় পৃষ্ঠা
আজ আমার সৎ মা আমার হাতের উপর গরম পানি ঢেলে দিছে মা। জান মা আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।
এভাবে পড়তে থাকে অভ্র মায়ার জীবনের না বলা কিছু কথা।
২০ তম পৃষ্ঠা
মা জানো আজ আমার কলেজের ১ম দিন ছিল।
কলেজে একটা ছেলে আমাকে অনেক অপমান করেছে। আসলে ওর কোন দোষ নেই মা আমি তো অনেক বোকা তাই।
জানো মা ছেলে টা না আমার গায়ে পচা ডিম মেরেছে।
এই মা তুমি রাগ করলা? প্লিজ ওর উপর রাগ করো না। ওর মন টা অনেক ভাল।জানো মা ঐ ছেলে টা একজন অসুস্থ মাহিলা কে নিজের হাতে খাইয়েছে।সে খেতে পরছিল না বলে। আমি দেখেছি।
২১তম পৃষ্ঠা
মা গো আজ ও আমাকে সবার সামনে আবার অপমান করেছে।আমি মোটা ফ্রেমের চোশমা পড়ি বলে।
২২ তম পৃষ্ঠা
জানো মা ও আজ আমার গায়ে পানি ঢেলে দিছে ক্যান্টিনে।
সবাই আমাকে দেখে খুব হাসছিল।
এভাবে চলে হঠাৎ অভ্র চোখ পরে
২৮তম পৃষ্ঠা
জানো মা আজ আমার অভ্র অন্য একটা মেয়ে কে ফুল দিয়ে প্রোপজ করেছে।
কিন্তু মেয়ে টি ওর দেওয়া ফুলটা ছুরে ফেলে দিল।
না না মা তুমি কি ভাবছো? আমি কষ্ট পেয়েছি ও অন্য কাউকে ভালবাসে বলে?
হ্যা মা আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি তবে ও অন্য কাউকে ভালবাসে বলে না ওর ভালবাসা মেয়েটি মাটিতে ছুরে ফেলে দিছে বলে।
মা তুমি দেখবা ঐ ফুলটা আমি নিয়ে এসেছি ।
তুমি হাসছো কেন মা? আমি কি করে ওর ভালবাসা কে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে আসবো বলো?
তাই কুড়িয়ে নিয়ে এসেছি ওর ভালবাসা কে।
এবার অভ্র আর তার চোখের পানি ধরে রাখতে পারল না। মায়া আমাকে এতো টা ভাল যদি বাসে তবে আমাকে ছেড়ে চলে গেল কেন?
৩০তম পৃষ্ঠা
মা তুমি আমার অভ্রর জন্য দোয়া করো ও এক্সিডেন্ট করেছে। ওর রক্ত লাগবে মা কিন্তু আমি দিতে পারছি না। তুমি তো জানো আমি কেন দিতে পারবো না।পারলে আমার শরীর থেকে সব রক্ত দিয়ে দিতাম।
তবে মা আমি আমার এক স্টুডেন্ট কে কল দিয়ে ডেকে নিয়ে তার রক্ত দিয়েছি।
তুমি দোয়া করো ও যেন ভাল হয়ে যায়।
৩১ তম পৃষ্ঠা
মা আজ আমি অনেক হ্যাপি অভ্র আমার সাথে ভাল ভাবে কথা বলেছে আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে চায়।
তারপর ওদের ফ্রেন্ডশিপ হয় ওরা একে অপরের কাছা কাছি আসে অভ্র আস্তে আস্তে মায়ার মায়ায় পরে যায়।মায়া ছিল ট্রপার স্টুডেন্ট আর অভ্র তো পড়তই না। মায়া অভ্র কে পড়াত।এভাবে কেটে যায় ৩ টা বছর।
আসলে মায়া মেয়ে টা খুব সাধারণ একটা মেয়ে কিন্তু তার প্রতিভা ছিল অসাধারণ।
একদিন অভ্র মায়া কে প্রোপজ করে দিলো।কিন্তু মায়া অভ্র কে ফিরিয়ে দিলো।
অভ্র হাল ছাড়ার পাএ না সে একদিন কলেজের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সোসাইট করবে বললো। যদি মায়া তাকে ভাল না বাসে।
তখন মায়া তার হাতের একটা রিং দেখিয়ে বললো তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
তারপর ৩ দিন আর কলেজে আসে নি মায়া।
এদিকে অভ্র মায়া কে না দেখে পাগল প্রায়।
৩ দিন পর মায়া কলেজে এসেই অভ্র সাথে দেখা করলো।অভ্র মায়াকে জোরিয়ে ধরে কান্না শুরু করলো
মায়া তুমি তোমার হাতের রিং খুলে ফেল আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।প্লিজ তোমার পায়ে পড়ি আামকে ফিরিয়ে দিও না।
মায়া বার বার বলছে ছাড়া আামাকে ছাড়ো।অভ্র কিছুতেই ছাড়ছিল না অবশেষে মায়া নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে অভ্রর গালে কষে একটা থাপ্পড় মেরে দিল।
আর আসিফ নামের একটা ছেলে কে দেখিয়ে বলল,এর সাথে তার ২ দিন হল বিয়ে হয়ে গেছে।
এই বলে মায়া ঐ ছেলে টার সাথে চলে গেল আর অভ্র পাথরের মত দাড়িয়ে মায়ার চলে যাওয়া দেখছে।
তার পর আর মায়াকে দেখা যায় নি ১ বছর।
অভ্র অনেক খুজেছে বাট পাইনি।
তাই এক বুক কষ্ট নিয়ে অভ্র চলে যাচ্ছে দেশ ছেড়ে।
চলুন দেখি অভ্র আর কি দেখল ডাইরিতে।
৫০তম পৃষ্ঠা
মা আজ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে মা। মা আমি বাঁচতে চাই আমি আমার অভ্রকে নিয়ে বাঁচতে চাই। আমি ওকে আজ অনেক কষ্ট দিয়েছি মা।
আমি ওকে মিথ্যা বলেছি। বলেছি আমার বিয়ে হয়ে গেছে। কারন আমি এটা না বললে ও আমাকে ছাড়ত না। আমি কি করে বলতাম আমার আর বেশি সময় নেই। আমি এটা বললেও ও আমাকে বিয়ে করত আমি জানি।কিন্তু আমি কি করে এই দু দিনে জীবনে ওকে জোরাতাম।
শেষ পৃষ্ঠা
অভ্র
আমি জানি তুমি আমাকে অনেক ভালবাসো।আমিও তার চেয়ে হাজার গুন তোমায় ভালবাসি।
তবুও নিয়তির কাছে হেরে গেলাম।কারন আমার ব্লাড ক্যান্সার।ডাক্তার বলেছে আমি খুব বেশি হলে ৩ মাস আছি।আমি এখন হাসপাতালের বেডে।
তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে তবুও তোমায় ডাকি না কারন তোমাকে দেখলে আমার যেতে খুব কষ্ট হবে।
তোমাকে মিথ্যা বলার জন্য সরি।
এই এটা কি করছো চোখ মুছো আমি তোমার জন্য উপারে অপেক্ষা করবো। আমার এই পারের স্বপ্ন টাকে পুরন করার জন্য।
অভ্র তুমি আদি কে মাফ করে দিও আমি ওকে বলতে না করেছিলাম তাই বলে নি তোমাকে আামর কথা।
আর তুমি আমার শেষ ইচ্ছা পুরন করো প্লিজ তুমি তোমার বাবা মার কাছেই থেকে যেও।
ভালথেকো বিদায়।
ইতি
তোমার মায়া
তার পর অভ্র আবার ছুটে এসেছিল তার মায়ার কাছে কিন্তু দুঃখ জনক হলো অভ্র এসে মায়াকে আর পায়নি।তার মায়া সব মায়াজাল কাটিয়ে তত দিনে চলে গেছে না ফেরার দেশে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now