বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটু কথা ছিল!(জেবা)
--হ্যা বলো।(আমি)
--আজ বিকালে একটু দেখা করতে
পারবে?
--জেবা!! আজ সকালেই তো দেখা হলো।
আবার বিকালে কেন দেখা করতে হবে।
--নিশ্চুপ
--আচ্ছা ঠিকাছে বিকাল চারটায় কলেজ
কম্পাসে চলে এস।
--ঠিকাছে।রাখছি।(আনন্দিত হয়ে)
রাজি হয়ে গেলাম কারন যদি বলি দেখা
করতে পরবো না তাহলে সারা দিন রাত
মনমরা হয়ে থাকবে কারো সাথে কথা
বলবে না আর খাওয়া দাওয়া ঠিক মত
করবে না।সকালেই কলেজে দেখা হলো
অনেক্ষন ঘুরাঘুরিও করলাম জেবার
সাথে।আবার দুপুর হতে না হতেই আবার
দেখা করতে বললো।
জেবা মেয়েটা একটু চাপা স্বভাবের
সবার সাথে মনখুলে কথা বলে না।আমার
সাথেই একটু ফ্রি ভাবে মিশে তবু
পুরোপুরি না।
জেবার এসব আবদার আমি পুরন না
করলে ওর সাথে কেন যেন আমারো
মনটা খারাপ হয়ে যায়।জেবার সাথে
আমার সময়টাও খুব সুন্দর কেটে যায়।
জেবা কথা কম বললেও ওর মুচকি মুচকি
হাসিটা আমার খুব প্রিয়।সারাটা সময়
ওর একটা হাত আমার হাতে ধরা থাকে।
কেন যেন ওর ফর্সা আঙ্গুলগুলো আর
চোখা চোখা নখে আমি আলাদা একটা
মাদকতা খুজে পাই।
বিকালে জেবার সাথে দেখা করতে যেতে
হবে তাই দুপুরে খেয়ে দেয়ে একটা
শান্তির ঘুম দিলাম।ঘুম ভাংল ঠিক
3.53 মিনিটে।ফ্রেস হয়ে কলেজ
ক্যাম্পাসের দিকে রওনা দিলাম।বিকালে
আমাদের কলেজ ছোট খাট একটা
পার্কের কাজ করে।বিকাল হলেই এখানে
কপত-কপতির অভাব হয় না।মাঠটা
ততটা বড় না মাঝারি সাইজের।ঘন
সবুজ ঘাসের উপর অনেক কপত কপতি
আপন মনে কথা বলে যাচ্ছে।
ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর আমার
চোখ চারপাশে তাকাতে লাগল।কালো
সেলোয়ার,,কালো সেলোয়ার ঐতো
এককোনায় বসে আছে।কালো ড্রেসের
প্রতি আমি আগে থেকেই দুর্বল।জেবার
সাথে রিলেসনের পর থেকে একদিনও
জেবাকে আমি কালো ড্রেস ছাড়া দেখি
নি।কি গরম কি ঠান্ডা প্রতিবার
আমার সাথে দেখা করার সময় জেবা
কালো সেলোয়ার আর হালকা মেকাপ
নিয়ে আসবে।জেবা এমনিতেই অসম্ভব
সুন্দরি তারউপর এই কালো ড্রেস চোখ
সরানো কস্টকর হয়ে যায়।
মেয়েটা আমাকে দেখা মাত্রই তার সেই
পাগল করা হাসিটা দিল।আমি জেবার
পাশাপাশি বসে পরলাম।মেয়েটাকে
আজকেন জানি একটু বেশিই সুন্দর
লাগছে।মাথাটা এখনো নিচু করেই আছে।আমি ওর ডান হাতটা ধরতে ধরতে
বললাম।
--বলো কি বলবে?
জেবা কিছু না বলে ওর সাইট ব্যাগটা
থেকে একটা টিফিন ক্যারিয়ার বের
করলো।আমি জানি এতে কি আছে হয়
পায়েস নয়তো ভুনা খিচুরি।জেবা
মাঝেমাঝেই এমনটা করে।বাসায় পায়েস
কিংবা ভুনা খিচুরি রান্না হলে আমার
জন্য নিয়ে আসবে আর নিজ হাতেই
আমাকে খাইয়ে দিবে।টিফিন খোলা শেষে
দেখতে পারলাম একবাটি পায়েস আর
একটা চা চামচ।চামচটা দেখতেই মনটা
একটু খারাপ হয়ে গেলো।
--আজ পায়েসটা কিন্তু আমিই রান্না
করেছি।দেখতো কেমন হয়েছে??
একচামচ আমার মুখে সমনে এনে কথাটা
বলো।আমি তবুও খাচ্ছি না দেখে বলল
--কি হল খাবে না??
--তোমার হাতে খাব!
জেবা আবারো সেই হাসিটা দিল।তারপর
বোতলের পানিতে হাত ধুয়ে আমাকে
খাইয়ে দিল।
--বাহ জেবা তুমিতো আমার মায়ের
চেয়েও ভালো পায়েস রান্না করতে
পার ??
--হুম!বলেছে তোমাকে।এখন চুপচাপ
খাও!
আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে আর বাম হাত
দিয়ে চোখ মুচছে।আমি বলে উঠলাম
--আচ্ছা তুমি খেয়েছো??না খেলেও
আমার কিছু করার নেই এইসবটুকু আমিই
খাব।তুমি বাড়ি যেয়ে খেয়ে নিয়ো
ঠিকাছে??
জেবা বাম হাত দিয়ে আমার নাকটা টেনে
দিয়ে বললা।
--আচ্ছা ঠিকাছে তুমিই খাও।পাগল
ছেলে।
খাওয়া শেষে অনেক্ষন বসে গল্প
করলাম দুজনে।প্রতিবার চলে আসার
সময় জেবা মুখটা অন্ধকার করে ফেলে।
আমারো যে মন খারাপ হয় না তা না।
কেন যেন মনটা ভারি হয়ে আসে।
প্রতিদিন দেখা হওয়ার পরও কেন যে
এমনটা হয় তা আমারো অজানা।আজকে
কেন যেন একটু বেশিই মন খারাপ
লাগছে।জেবার দিকে তাকিয়ে দেখি জেবা
কেদেঁই দিছে।
--কি হলো পাগলি কাদঁছো কেন।
জেবা আমাকে জড়িয়ে ধরে শব্দ করেই
কেদেঁ দিল।আমিও শক্ত করে জড়িয়ে
নিলাম।
--কাল আবার দেখা করবে তো বলো??
--অবশ্যই সোনা কালকেও দেখা করবো।
এখন কান্না থামাও প্লিজ।
--আচ্ছা ঠিকাছে।তুমি বাসায় গিয়ে
আমাকে ফোন দিবে কেমন??
--আচ্ছা পাগলী চলো তোমাকে এগিয়ে
দিয়ে আসি।
--চলো।
জেবাকে এগিয়ে দিয়ে আসতে আসতে
সন্ধ্যা হয়ে গেল।বাসায় এসে ফোন
দিলাম পাগলীটাক কারন আমি জানি
জেবা আমার ফোনের অপেক্ষায়ই আছে।
ফোন ঢুকার সাথে সাথে রিসিভ করলো
জেবা
--এই তো পৌছে গেছি।
--হুম।এখন ফ্রেস হয়ে কিছু খেয়ে নেও
কেমন?
--আচ্ছা।তুমিও খেয়ে নাও রাখছি
তাহলে বাই।
--বাই।
আমার জিবনে সবচেয়ে মূল্যবান পাওয়া
হলো জেবার পবিত্র ভালোবাসা।আমাকে
পাগলের মত ভালোবাসে মেয়েটা।আমিও
জেবাকে ছাড়া আর কাউকে ভাবতে পারি
না।
আমার ভালোলাগা মন্দ লাগা সবকিছুই
জেবার কাছে খুবই মূল্যবান।তেমনি
জেবার ভালোলাগা মন্দ লাগা আমার
কাছে অতি গুরুত্ব পূর্ন।মেয়েটা
সবকিছুর প্রতি অন্যরকম একটা ভালো
লাগা কাজ করে।ওকে ছাড়া আমি
একমুহূর্তো কল্পনা করতে পারি না।
জেবার কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে
ঘুমি গেছি মনে নেই তবে ঘুম ভাঙ্গলো
ফোনের শব্দে।ফোন রিসিব করতেই
জেবা উচ্ছাসিত ভাবে বলে উঠলো
--এই নিরব তুমি এখনি ছাদে চলে যাও।
--কেন ছাদে কেন?
--আরে পাগল যেয়েই দেখনা।
--আচ্ছা যাচ্ছি।একটু ওয়েট করো।
ছাদে উঠতেই চোখে পড়লো বিশাল
অকৃতির চাঁদটা।আজ চাঁদটা তার সব
আলো ঢেলে দিচ্ছে পৃথিবীতে।আসেপাসে
অসংখ্য তারা ঝিকমিক করছে আর
ঠিক মাঝখানে স্নিগ্ধ আলো বিচ্ছুরন
করছে চাঁদটা।
জেবা তখনো লাইনে আছে।কিছুক্ষন
নিরবতার পরে জেবা বলে উঠলো
--আমাদের বাসর রাতে যেন এরকমি
একটা চাঁদ উঠে?
--কেন?
--কেন আবার তোমার হাত জড়িয়ে ধরে
কাধে মাথা রেখে জ্যোৎস্না বিলাস
করবো আমরা।
--হুম।আর জ্যোৎস্না বিলাস শেষে
তোমাকে কোলে তুলে নিয়ে বাসর ঘরে
নিয়ে যাব।
--আচ্ছা আগে বলো কালকে কখন দেখা
করবা?
--কালকে সকাল 9 টায় তোমার বাসার
সামনে এস তারপর ঘুরতে যাব।
--আচ্ছা।আর তোমার জন্য একটা
সারপ্রাইজ আছে!
--কি সারপ্রাইজ বলো?
--কালকে সামনা সামনি বলবো।
--আচ্ছা তাহলে রাখি।শুভ রাত্রি।
--কাল সময় মত আসিও।শুভ রাত্রি।
ছাদ থেকে নামতে ইচ্ছা করছিল না।এত
সুন্দর চাঁদ সচারাচর দেখা যায় না।ছাদে
আরেকটু সময় বসে থেকে রুমে চলে
আসলাম।কালকে আবার সকাল সকাল
বের হতে হবে ভেবে ঘুমিয়ে গেলাম।ঘুম
ভাঙ্গলো ফোনের শব্দে।
--হ্যালো।
--নিরব ভাইয়া আপনি তারাতারি রংপুর
মেডিকেল কলেজে চলে আসেন।(জেবার
ছোট বোন রিমা।)
--কেন কি হয়েছে রিমা।আর জেবা
কোথায় ?
আমার কোন কথার উত্তর না দিয়ে
ফোনটা কেটে দিল।
আচ্ছা জেবার কিছু হয়নিতো ভাবতেই
মনটা ছ্যাত করে উঠলো।আমি ঐ
অবস্থায় উঠে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে
দৌর দিলাম।তারাহুরার সময় কোন
কিছুই তারাতারি হয় না।অটোরিক্সায়
করে পৌছাতে পৌছাতে 20 মিনিট লেগে
গেল।হাসপাতালের ভিতরে ঢুকেই রিমার
দেখা পেলাম।
--কি হয়েছে রিমা??
--ভাইয়া! আপু কালকে ছাদ থেকে নামতে
গিয়ে...............
আর কিছু বলতে পারলো না রিমা।
অঝোড়ে কাদঁতে লাগলো মেয়েটা।রিমা
আমাকে একটা কেবিনের ভিতরে নিয়ে
গেল।কেবিনের ভিতরে জেবার বাবা
মাকেও দেখলাম সবাই কান্নায় ভেঙ্গে
পরছে।বেডের দিকে তাকাতেই আমার
শরীর নিস্তেজ হওয়ার অবস্থা হলো।
আমার জেবা সুয়ে অঘোড়ে ঘুমাচ্ছে।
আমি আস্তে আস্তে ওর বেডের কাছে
চলে গেলাম।দুই হাটু ফেলে বসে পরলাম
মাটিতে।
ওর ডান হাতটা ধরেই চমকে উঠলাম।
হাতটা বরফের ঠান্ডা হয়ে গেছে।সবকিছু
ঝাপসা হয়ে আসছে।ওর দুগাল ধরে
আর্তনাদ করে উঠলাম।
--এটাই তোমার সেই সারপ্রাইজ ছিল।
ছেরেই যখন যাবে তাহলে এতটা
ভালোবাসলে কেন?এই জেবা উঠনা দেখ
আমি এসেছি ঘুরতে যাবা না।এই জেবা
আমার সাথে চাঁদ দেখবে না।
এখন বুঝেছি কেন কালকে আমাকে
জড়িয়ে ধরে কেদেছিলে।সেটাই যে ছিল
তোমার আমার শেষ দেখা ।তখন কি জানতাম
তুমি আর কখনো আমার পাশা বসবে
না।তোমার ফর্সা হাতটা আর ধরতে
পারবো না।আর কখনো তুমি আমাকে
খাইয়ে দিতে পারবা না।আর কখনো
বলবেনা ''আজ
একটু দেখা করতে পারবে?''
এই পাগলী বাসর রাতে আমার পাশে বসে
জ্যোৎস্না বিলাস করবে না।জ্যোৎস্না
বিলাস শেষে আমার কোলে উঠবে না।
এই জেবা উঠনা।কেন আমাদর স্বপ্ন
গুলো পূরন না করেই চলে গেলে।এত
স্বার্থপর কেন তুমি??
শুনলোনা আমার কথা।আমার অপছন্দের
সাদা কাপর পরেই জেবা আমাকে ছেরে
চলে গেল অনেক দূরে।
''ফিরে আসনা
সোনা''
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now