বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বয়ফ্রেন্ড"
সকালবেলা ক্লাস ছিল । গেট দিয়ে
একটু বের হয়েছি এমন সময় উপর তলার
আন্টি ডাক দিলেন । আমি উপরে
তাকিয়ে দেখি আন্টি বারান্দায়
দাড়িয়ে আছে ।
-জি আন্টি বলেন !
-তুমি কি কলেজে যাচ্ছ বাবা ?
-জি আন্টি ।
-বাবা একটা উপকার করবে ?
-জি আন্টি বলেন ।
-আজকে নিশির বাবা বাসায় নেই আর
আমার শরীরটাও ভাল যাচ্ছে না । তুমি
কি নিশিকে একটু স্কুলে নামিয়ে
দিতে পারবে ।
নিশি ?
এই সকাল বেলা করে ? আমার মনের
ভিতর একটা সুক্ষ আনন্দ বয়ে গেল । আজ
তাহলে নিশির সাথে রিক্সায় চড়া
হয়েই যাবে !
ভালতো !
আমি রিক্সা নিয়ে নিশির জন্য
অপেক্ষা করতে লাগলাম । কিছুক্ষন
পরেই নিশি নিচে নেমে এল । পরনে
স্কুল ড্রেস আর হাতে পানির ফ্লাক্স ।
আমার কেন জানি নিশিকে দেখে
হাসি চলে এল ।
যেন পিচ্চি একটা বাচ্চা !
কিন্তু এই পিচ্চি মেয়ের সে কি ভাব !
আমি নিজে কত বার নিজে রিক্সায়
নিয়ে ঘুরতে চেয়েছি কিন্তু নিশি
আমাকে একদমই পাত্তা দেয় নি ।
এই তো মাস খানেক আগের কথা । আমি
রিক্সায় করে আসছিলাম । দেখি
নিশি ওর স্কুলের সামনে দাড়িয়ে
আছে । গেটের কাছে । বোধহয় ওর
মায়ের জন্য অপেক্ষা করছে ।
আমি এই ব্যাপারটা এখনও ঠিক বুঝি না
। এতো বড় মেয়েকে কেউ সাথে করে
স্কুলে নিয়ে যায় ? আবার সাথে করে
স্কুল থেকে নিয়ে আসে ?
আমার তো মনে হয় নিশির বান্ধবীরা
এই ব্যাপারটা নিয়ে হাসিহাসি করে
। আমি রিক্সা থামিয়ে নিশিকে
বললাম
-বাসায় যাবে না ?
নিশি কেমন মুখ শুখনো করে বলল
-জি যাবো ।
-তা এখানে দাড়িয়ে কেন আছো ?
-আম্মু আসবে ।
-তোমার স্কুল ছুটি হয় কয়টায ?
-দেড়টায় ।
আমি ঘড়ি দেখলাম । প্রায় দুটো বেজে
গেছে ।
-আরে অনেক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছো
তো । আসো ! আমার সাথে আসো ।
-জি না । আম্মু বকবে ।
-আরে বকবে না । এসো ।
-জি না আপনি চলে যান । আপনার
সাথে রিক্সায় চড়বো না ।
আমি আরো কিছু বলতে চাইলাম কিন্তু
বললাম না । আসে পাশের কয়েকজন
কৌতুহলী চোখ আমাদের উপর ছিল ।
আমি কিছু না বলে চলে এলাম । মনের
ভিতর সুক্ষ একটা অপমান বোধও হচ্ছিল
।
যখন বাসায় আসলাম তখন দেখি নিশির
আম্মু বাসা থেকে বের হচ্ছে । আমি
কেবল আন্টিকে বললাম
-নিশি স্কুলের সামনে দাড়িয়ে আছে
।
-আজকে একটু দেরী হয়ে গেছে ।
-হুম । আমি ওকে নিয়ে আসতে
চেয়েছিলাম কিন্তু ও আমার সাথে
আসতে চাইলো না ।
আন্টি আমার দিকে একটু তাকিয়ে
থেকে চলে গেল তাড়াহুড়া করে ।
সেদিন নিশিকে নিজে ডেকেও
রিক্সায় চড়াতে পারি নাই আর আজকে
নিশি নিজে এসে আমার রিক্সায়
চড়তেছে !
এই হল মজা !
নিশি রিক্সায় উঠে বসলো ! কেমন যেন
একটু জড়সড় আর চুপ চাপ ! আমি আছি
আনন্দে । মনের ভিতর একটা ফুর্তি ফুর্তি
লাগছে ।
মেয়ে হিসাবে নিশির সুনাম সারা
এলাকা জুড়েই। অনেকে ওর সাথে
সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু
নিশি কাউকেই ঠিক পাত্তা দেয় নি ।
আর ওর সাথে একই বাসায় বাড়িতে
থাকার কারনে এমনিতেই পাড়ার অন্য
ছেলে গুলোর ঈর্ষার পাত্র ছিলাম আর
আজকে ওর সাথে রিক্সাতে চড়তে
পেড়ে তো তাদের ঈর্ষার আগুনে আর
একটু কেরোসিন ঢেলে দিলাম !
আমি কেবল একটু অপেক্ষা করছি কেউ
একজন দেখুক ! একজন দেখলেই সারা
পাড়া জেনে যাবে ! আমি এদিক
ওদিক দেখতে লাগলাম, কিন্তু কোথাও
কেউ নাই ।
নাহ ! পোলাপাইন কামের সময় থাকে
না ।
মোড়ের মাথায় এসে কাউকে আশা
করেছিলাম কিন্তু এখানেও নাই ! অবশ্য
এতো সকালে কেউ ঘুম থেকেই উঠে
নাই মনে হয় !
নাহ হল না !
কাজ হল না !
-কি ব্যাপার এতো বার এদিক ওদিক
তাকাচ্ছেন কেন ? কাকে খুজছেন ?
-যে কাউকে ?
-মানে ?
-মানে হল একজন কে খুজতে যে
আমাদের কে একসাথে দেখুক !
নিশি আমার দিকে কেমন
অবিশ্বাসের চোখে তাকালো !
তারপর বলল
-আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারলাম না !
আপনি কেন চাচ্ছেন কেউ আমাদের
দেখুক ?
আমি অবাক হওয়ার ভান করে বললাম
-আরে তোমার সাথে রিক্সায় উঠলাম
এটা কেউ দেখবে না ?
নিশি আমার থেকেও অবাক হওয়ার
ভাব করে বলল
-কেন শুনি ?
-আরে সুন্দরী মেয়ের সাথে রিক্সায়
উঠলাম যদি সেটা যদি কাউকে
দেখাতেই না পারলাম তাহলে কি
লাভ বল !
নিশি কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে
থেকে বলল
-আচ্ছা ! আমার সাথে রিক্সায় উঠলেন
সেটাতে কোন অনুভুতি নাই কেউ
দেখলো না এইটাই আপনার কাছে বড়
ব্যাপার?
এই বলে নিশি অন্যদিকে তাকালো !
আমি কেবল অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম
নিশি মুখ ভার করে ফেলেছে !
-আরে ! তা হবে কেন ? তোমার সাথে
রিক্সায় ওঠা সত্যি ......
আমি কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেলাম
।
আমার মনে কেবল একটা প্রশ্নই দোলা
দিল কি ব্যাপার নিশি এই ভাবে রাগ
করলো কেন ?
কেন রাগ করলো ?
-এই ! শুনো !
কোন খোজ নাই ! আমি যে ওর পাশে
বসে আছি বা আমি যে ওকে কিছু
বলতেছি কোন খোজ নাই !
এই মেয়ে গুলাকে বোঝতে পারে কার
সাধ্য ?
সেদিন এই মেয়েই আমার সাথে
রিক্সায় উঠতে চায় নাই আর আজকে যখন
রিক্সায় উঠেছে আমি আনন্দিত কিনা
এই নিয়ে রাগ করে বসে আছে । আশ্চর্য !!
কি করবো ?
আর খুব বেশি সময় নেই নিশির স্কুল
আসতে ! মেয়েটা যদি মুখ গোমড়া
করেই নেমে যায় তাহলে ব্যাপারটা
কেমন হয়ে যাবে !
জীবনের প্রথমে নিশির সাথে
রিক্সায় উঠলাম আর শেষ হল একটা মুখ
গোমড়া দিয়ে !
আমি সাহস কর নিশির হাত ধরে এদিকে
টান দিলাম ! একটা ঝাড়ি খাওয়ার
সম্ভাবনা ছিল কিন্তু দেখলাম নিশি
কিছু বলল না ! নিশি হাত ছাড়িয়ে
নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে শান্ত
কন্ঠে বলল
-কি বলবেন বলেন ?
-তোমার হাতে কোন পাওয়ার ষ্টেশন
আছে ? বা নেগেটিভ চার্জ ?
-মানে কি ?
-না তোমার হাত ধরেই আমার সারা
শরীরে কেমন একটা কারেন্ট প্রবাহিত
হল ! আমি মানে আমার রক্তের গ্রুপ এ
পজেটিভ কিনা ! নেগেটিভ
পজেটিভে সংঘর্ষ !!
-ফাজলামো করেন ?
-না সত্যি ! দেখ ! আর একবার হাত ধরতে
দেও ঠিক আবার শক খাবো ! এই দেখো !
এই বলে আমি আবার ওর হাত ধরলাম !
এবং একটা শক খাওয়ার মত অভিনয়
করলাম !
নিশি আবার ওর হাত ছাড়িয়ে নিল !
-আরে দেখো না !
-হয়েছে ! আপনার আর ঢং করতে হবে
না !
নিশির মুখে হাসি ফুটলো ! যাক
হাসিতো ফুটলো !
-আপনি খুব ফাজিল !
-আর তুমি খুব সুন্দর !
-হয়েছে ! লজ্জা শরম কিচ্ছু নাই !
-আচ্ছা ! দাড়াও যাবার সময় তোমার
খবরই আছে !
-ইস ! আপনার সাথে গেলে তো !
-মানে কি ? একা একা কিভাবে
যাবা ? তোমার মায়ের না শরীর
খারাপ ! এই জন্যই তো আমাকে
দেহরক্ষী করে পাঠালো !
-পাহারাদার !!
-পাহারাদার ?
আরো কিছু বলার ছিল কিন্তু দেখলাম
নিশির স্কুল চলে এসেছে ! নিশি
নেমে গেল ! যাওয়ার সময় কেবল বলল
-আমার স্কুল দেড় টায় ছুটি হয় !
-আমি জানি !
কলেজে দুইটার দিকে এটা ক্লাস ছিল
। ক্লাসটা না করেই এলাম ! কলেজ
লাইফে একটা দুইটা ক্লাস না করলে
কোন ব্যাপার না !
রিক্সা নিয়ে এসে দেখি নিশি
দাড়িয়ে আছে ।
রিক্সা থামাতেই ও রক্সায় উঠে
বসলো !
কোন কথা ছাড়াই ! আমি আসে পাশে
একটু লক্ষ করে দেখলাম বেশ কিছু
কৌতুহলী চোখ আমাদের দিকে
তাকিয়ে আছে !
-চলুন !
রিক্সাওয়ালা মামাকে চালাতে
বললাম
-ওরা কি তোমার বান্ধবী ?
-হুম !
-তোমার বান্ধরীরা আমাদের দিকে
এভাবে তাকিয়ে ছিল কেন ?
-আপনাকে দেখছিল !
-আমাকে ? কেন ?
নিশি একটু হেসে বলল
-এমনি !
-আচ্ছা তুমি ওদের কি বলেছ ?
-কি বলবো ?
-না মানে একটা ছেলের সাথে একই
রিক্সায় আসলে আবার যাচ্ছ ! তাদের
মনে তো একটা কৌতুহল আসতেই পারে !
তাদের কে কি বলেছ ?
-শুনুন কি বলেছি বা কি বলবো সেটা
আমার ব্যাপার ! আপনি আপনার টা
চিন্তা করেন । আপনার ঐ পাড়ার
লোকদের ফোন দেন । সকাল বেলা না
আফসোস হচ্ছিল কেউ দেখলো না !
এখন
দেখুক !
-সত্যিই ফোন দেবো ?
-দেন । আমারতো আর ভয় নাই !
আমি একটু হাসলাম । বললাম
-না থাক ! কেউ দেখুক বা না দেখুক,
কিছু যায় আসে না ! একই সাথে
রিক্সায় চড়েছি এটাই বড় কথা !
হঠাৎ নিশি রিক্সা দাড়াতে বলল !
-কি হল ?
-কিছু না !
-তাহলে রিক্সা দাড়াতে বললে
কেন ?
নিশি আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে
থেকে বলল
-এই জন্যই আপনার এতো দিনে কোন
গার্লফ্রেন্ড হয় নাই !
-মানে কি ?
-মেয়েদের কিভাবে পটাতে হয়
আপনার জানা নাই ! সকাল বেলা যখন
সাহস করে হাত ধরেছিলেন মনে
হয়েছিল নাহ, আমি যেই রকম
ভেবেছিলাম আপনি সেই রকম না !
কিন্তু এখন দেখছি সেই রকমই ।
-মানে কি ?
-মানে বুঝেন না । এই গরমের বেলায়
একটা মেয়ে আপনার সাথে রিক্সায়
যাচ্ছে ! মেয়েটার গরম লাগছে না ?
-আচ্ছা ! বাতাস করবো ? গরম লাগছে ?
আমার কথায় নিশি বেশ বিরক্ত হল !
কিছুক্ণ সরু চোখে তাকিয়ে রইলো
আমার দিকে তারপর চোখের ইশারায়
দেখিয়ে দিল । আমি ওর চোখ ইশারার
দিকে তাকিয়ে দেখালাম ওখানে
একটা একটা আইসক্রিমের ভ্যান !
আমি মুহুর্তের ভিতরেই বুঝে গেলাম
কি করতে হবে ।
আসলেই আমি একটা গাধা ! নিশিকে
তো আরো আগেই আইসক্রিম
খাওয়ানোর দরকার ছিল ।
লাফ দিয়ে দুটো চকবার কিনে আনলাম
।
যখন আমাদের রিক্সাটা পাড়ার ভিতর
এসে ঢুকলো দেখলাম মোড়ের কাছে
আমাদের এলাকার বেশ কিছু
পোলাপাইন দাড়িয়ে আছে । আমাকে
আর নিশিকে এক রিক্সায় দেখে ওদের
চোখ বড় বড় হয়ে গেছিল ! ওদের সামনে
দিয়ে যখন আমাদের রিক্সাটা
যাচ্ছিল আমার নিজের কাছে তখন
মনে হচ্ছিল যে আমি এই এলাকার
রাজা ! নিজের রানী কে নিয়ে
রিক্সা ভ্রমনে বের হয়েছি । মুখে একটা
বিজয়ীর হাসি ! আমার প্রজা গুলো
আমাকে দেখে সালাম ঠুকছে !
বাসার কাছে যখন রিক্সা থেকে
নামলাম নিশি আমাকে বলল
-আপনার আশা তো পুরন হল ! সবাই তো
দেখলো ! এখন নিশ্চই সবাইকে গিয়ে
গাল গল্প দিয়ে বেরাবেন !
-না ! না ! ছিঃ ! আমাকে দেখে
তোমার এমন ছেলে মনে হয় ?
-না্হ ! মনে হবে কেন ! আমি জানি !
শুনুন আমি আশা করবো আপনি যা
বলবেন
সত্যটা বলবেন !
আমি বললাম
-আচ্ছা আমি সত্যটাই বলবো !
নিশি আমার কথা শুনে একটু খুশি হল মনে
হল ! বলল
-আপনি একটা কথা জানতে
চেয়েছিলেন না ?
-কোন টা ?
-ঐ যে আমার বান্ধবীদের আপনাকে
নিয়ে আমি কি বলেছি ?
-হুম !
-এই নিন ! এই কাগজে লেখা আছে !
নিশি আমার দিকে একটা দুমড়ানো
কাগজ এগিয়ে দিয়েই ভিতরে চলে
গেল । চলে গেল বললে ভুল হবে ! দৌড়
দিল !
আমি কাগজটা খুলতেই একটা ধাক্কার
মত খেলাম !
সেখানে কেবল একটা শব্দই লেখা
ছিল !
"বয়ফ্রেন্ড" !!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now