বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিতুকে খুন করতে হবে। (খানিকটা থ্রিলার)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X তোমার খারাপ লাগে না? ঃ লাগে তো! লাগে বলেই এভাবে হুট করে নক দেই। - বাকি দিনগুলো অন্যদের নিয়ে ফুর্তি করেও মন ভরে না? ঃ তুমি আমার অন্যরকম ভালোলাগা, আর অন্যমেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করি কিনা জানি না কিন্তু... - কিন্তু কি? আমাকে জ্বালাতে ভালো লাগে এই তো? ঃ তোমার প্রিয় কেউ আছে, যে হয়তো জানেই না তুমি আমাকে ভালোবাসতে! - ভ্যাগাবন্ড তুমি, ছোটবেলায় ভালোবেসেছিলাম, এইতো! ঃ আচ্ছা নিতু ধরো আমাদের অন্যরকম একটা পৃথিবী থাকতো সেখানে.. - দেখো, ছ্যাবলামো আর ওইসব বালমার্কা পিকাপ লাইন অন্যখানে মাইরো। ন্যাকামি ছাড়া আর কি পারো? ঃ আমি তোমাকে সত্যিই... - এই শোনো রাস্তা ছাড়ো, আমি যাবো... নীতুকে পিছু ডাকার সাহস হয়নি, আমি মাঝরাস্তায় বেশ হতবাক হয়েই পরে ছিলাম। আবার ফেসবুকে ওর আর নীলের ছবি দেখলাম। কত হাসিখুশি ওরা! কত মানায় দুজনকে পাশাপাশি। আমার আর নীতুর গল্পটাও মারা গেছে কেবল ইমোজিতে। কথা গুলো হুম, অকে থ্যাংকস আর হাসির ইমোতেই শেষ হয়ে গেছে। যে সময়টায় আমি ছুটছিলাম ব্যস্ত শহরে নিজের পায়ের নিচে একটু শক্ত মাটি, একই সময়ে নীতুর কাছে এসেছিলো নীল। আমার ভালোবাসা ছিলো কিন্তু সেই ভালোবাসা প্রকাশের শব্দগুলো বাচ্চাদের আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারি না টাইপ ছিলো। হুট করেই রাগারাগি করেছিলাম ওর আর নীলের একটা ছবি নিয়ে। ব্যস! ফোনটা অফ করে রেখেছিলো। ব্লক খেয়েছিলাম। অথচ... নীল ছেলেটা ঠিক নীতুকে চিনতে পেরেছিলো। আমার না থাকা সময়টায় খুব করে মেয়েটাকে নিজের কাছে টেনে নিয়েছিলো।আমিও অভিমান করে বসেছিলাম। সিরিয়াসলি বলতে গেলে প্রথমদিন তো ভাতের প্লেটে চোখের জলেই ভাসিয়েছিলাম। এখন বলবেনঃ "আপনি পুরুষ মানুষ নাকি, পুরুষ জাতির কলঙ্গ।" আসলেও তাই। আমি কাপুরুষ ছিলাম কিন্তু সে চলে যাওয়ার পর শিক্ষা হয়েছিলো। একটা ইন্টার্ভিউ বোর্ডে বসে প্রশ্নকর্তাকে রীতিমত যা ইচ্ছা তাই বলেছিলাম। পরে সেই মানুষটাই আমাকে পথ দেখিয়েছে। অনেকটা পথ এগিয়ে দেখলাম। নীলদের ওয়াল ভর্তি কেবল সেই ভালোবাসার ছবি। আর আমি? ছুটছি টাকার পিছে। টাইটা বেঁধে অফিস করছি। নীলের হয়তো নেশার হালকা অভ্যাস ছিলো। নীতুর গায়ে সেসব অত্যাচারের দাগ থাকতো, যেগুলো হয়তো... সেসব দেখে আমি এলোমেলো হতাম। একদিন হুট করে মাথায় ভূত চাপলো।আমিও প্রেম করা শুরু করলাম। সুন্দর করে মিথ্যে বলতে শুরু করলাম। মেয়েদের প্রশংসা শুনে চকচক করতে থাকা নজরে দেখতে থাকতাম। এভাবেই জীবনটা অন্যদিকে গড়িয়ে গেলো, সময় নষ্টের পথে নিয়ে যেতেই আবার থামলাম। গুছিয়ে নিলাম চিন্তাধারা। সুন্দর করে আবার গেলাম নীতুর কাছে, গল্প করলাম, চা খেলাম। চুপচাপ বিদায় নিলাম। ভালো লাগলো সেদিন। সেই ভালো লাগা সেখানেই শেষ করে করে আমি আবার নীতু হারানো আর পাওয়ার মাঝের দিনগুলোতে ফিরে গেলাম। সাইকেল নিয়ে ছুটতে থাকা, আঁকা আঁকি, ট্রাভেল প্যাক নিয়ে দূরে ছুটতে থাকলাম। নতুন মানুষ, নতুন মুখ। অফিসের ব্যস্ত আবহটাতেই মানিয়ে নিলাম। রাগ কমানো শুরু করলাম। কিন্তু পাশাপাশি একটা খুব খারাপ কাজ আমি করেছিলাম। নীলের সাথে কথা বলতাম। টাকা ধার দিতাম, এমনকি নিজে গিয়ে দিয়ে আসতাম। কিন্তু প্রচন্ড গোপনে। শেষ যেদিন ওকে নিয়ে ট্রেনে করে ফিরছিলাম। কেউ লক্ষ্যও করেনি আমি একাই নেমেছিলাম কমলাপুরে। life is unfair! নীলের কোন দোষ নেই। কিন্তু মেঝেতে নীতুর গড়িয়ে কান্নায় আমার ভেতরটা অমানুষিক আনন্দে ভরিয়ে তুলছিলো। নিতুর সো কলড সোয়াগনেস ছিলো না সেদিন। নিতুর প্রতি আমার মায়া কাজ করেনি। আমি ফিরে এসে ওয়াইনের বোতলটা অন্যদের সাথে শেয়ার করেছি। শার্টের নিচে ডান হাতের মাঝামাঝি জায়গায় নীলের তিনতে আঙ্গুল বসিয়ে গেছে। বিশ্বাস করতেও পারেনি আমি ওকে সত্যিই ফেলে দিচ্ছিলাম, রাতের ট্রেনের বাইরের ইলেকট্রিক পোস্টের সাথে ধাক্কা খেয়েছিলো।এতটুকুতেই শেষ। আমি নিতুকে দেখি, নিতু আমাকে ফোন দেয়, আমি কথা বলি। নিতু ঠিক নীলের মত সাপোর্ট করি। একদিন সময় করে আমি নিতুকে সব সত্যি বলবোঃ আসলে নীল ছিলো আমার সৎ ভাই। একই বাবার দুটো ছেলে। বরাবর সব ছাড় দিয়েছি কিন্তু নিতু? নিতুকে আমি কানাডায় নিবো। লেকে জমা বরফের সাদা আস্তরনের মাঝে মেয়েটাকে পানির নিচে ক্রমশ ফ্যাকাশে হতে দেখতে কেমন লাগবে? মেয়েটা কতক্ষন হাত পা ছুঁড়বে। আড়াই মিনিট বাঁচবে তো? বাইরের দেশের পুলিশ ধরতে পারলেও সমস্যা নেই। কিংবা আমি যদি নিজেই লাশ নিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে বলিঃ I killed Nitu cause I loved her! আমি কোন রূপকথার নায়ক না, কিন্তু আমি কারো রূপকথার গল্পের সবচেয়ে নীরব সর্বনাশ, নীতু এখন আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমোচ্ছে... আমি নিতুকে দেখছি, আর পাশের টেবিলে রাখা টিকেট। আবার ভাবলাম যদি নিতুর বদলে আমি মারা যাই? তাহলে ট্রাজেডি শেষে আমিই তো নিতুর নায়ক হবো। আকাশে মস্ত একটা চাঁদ, আমি চাঁদের আলো গিলছি, নিতু আমার কাছেই। একটা সময় কত রোমান্টিকতা আসতো এই চাদের আলোয়, এখন কেবল নিতুর গায়ের গন্ধ আমাকে সজাগ করে দেয়,মাথার ভেতর রক্তের দাবানল জাগে। "নিতুকে খুন করতে হবে।"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now