বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সীমা ভাবে যে হয়ত সিয়াম হাসপাতালে ভর্তি তাই সে হাসপাতালে যায় সিয়ামকে আবার দেখার প্রতিক্ষায়।কিন্তু সীমা হাসপাতালে গিয়ে সিয়ামকে অনেক খুজেও পায়না। তখন এক ভদ্রলোক সিমার হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে দিয়ে বলে যে চিঠিটা সিয়াম সাহেব দিয়েছেন তাকে ( সীমা)।সীমা অধীর আগ্রহ নিয়ে চিঠিটা খুলে এবং চিঠিটা পড়ে সে স্তম্ভিত । চিঠিতে লিখা ছিল::--
সীমা,
আমি জানি আমি তোমাকে অনেক কস্ট দিয়েছি।তোমাকে অনেক কাদিয়েছি।তোমাকে আমি সুখে রাখতে পারিনি।তুমি আমাকে তোমার নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালবেসেছিলে,বেশি বিশ্বাস করেছিলে।কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি তোমার এই বিশ্বাস কে ভাঙতে চাইনি।কখনোই চাইনি।আচ্ছা বলত কি দোষ করেছিলাম আমি!! সেজন্য এত বড় এক অন্যায় হল আমার সাথে!সেদিন যখন দেখলাম পুলিশ এক অসহায় যুবককে অমানুষিক নির্যাতন করছে, আর রাস্তার ধারের অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে,অথচ কেউই এগিয়ে যাচ্ছে না,তখন ছেলেটাকে দেখে আমার খুব মায়া হয়।আমিইই যাই ছেলেটাকে বাচানোর জন্য।কিন্তু তখন পুলিশরা আমাকে সন্দেহ করে বসে।তারা আমাকে থানায় ধরেও নিয়ে যায়।বিশ্বাস করো আমি তখনোও বুঝতে পারিনি যে কেন আমাকে থানায় নিয়ে এসেছে।কিছুক্ষণ পরে জানতে পারি যে সেই যুবকটা নাকি আইএসের সাথে জড়িত।আর সেই যুবকটা বলেছে যে আমিও নাকি তার সাথে, আইএসের সাথে জড়িত।তুমিই বল তোমার সিয়াম কি এমন কখনো করতে পারে!!তুমি ত জানো যে এখনোও আমি রক্ত দেখে ভয় পাই আর আমি কিনা আইএসের সাথে জড়িত!!অনেক বোঝাতে আমি তাদেরকে চেষ্টা করেছি যে আমি এমন নই।আমি শুধু যুবকটাকে বাচানোর জন্য এসেছিলাম।এমনকি ঐযুবকটাকে আমি কোনোদিনো দেখিনি। কিন্তু তারা আমার কথা শুনলনা।যাচাই করলনা সত্যকে।যাকে আমি উপকার করলাম, যাকে বাচানোর জন্য এগিয়ে গিয়েছিলাম,সেইই আজ আমাকে ফাসিয়ে দিল।একেই বোধহয় বলে ভাগ্য!!হয়ত ভাগ্য আমার সহায় ছিল না। তাই ত খুন না করা সত্ত্বেও আমাকে খুনি প্রমানিত করা হল!! আর মাত্র কয়েকদিন, আর তারপর আমি মৃত্যুপথযাত্রী। হয়তবা ফাসি হবে আমার!! তুমি কি জানো আমি তোমাকে ১বছর আগে ডিভোর্স পেপার কেন পাঠিয়েছিলাম! কারন আমি চেয়েছিলাম যে তুমি আমাকে ছাড়া সুখে থাক।থাকার অভ্যাস করো।আমি চাইনি যে তুমি একটা আসামী র বউ হয়ে চিরকাল সমাজের চোখে নিন্দিত হও।আমিও যে তোমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালবেসেছি তাই কি করে পারতাম বল তোমার কস্ট সহ্য করতে!"তোমাকে সমাজের সকলের সামনে অপমানিত হতে দেখে!! তাইই তোমায় কিছু জানাইনি।দূরে থাকতে চেয়েছি সবসময়.।কিন্তু পারিনি।জানো খুব কস্ট হয়েছে আমার জেলখানা র ভিতরে।আজকেই তোমাকে চিঠিটা দিতে বলেছিলাম কারন আজকের এই দিনে তোমার আর আমার বিয়ে হয়েছিল!" কতই না সুখে ছিলাম আমরা!!
আমি হাসপাতালে কেন চিঠিটা রেখেছিলাম জানো!" কারন তুমি একদিন বলেছিলে যে হাসপাতাল তোমার অনেক প্রিয় জায়গা কারন সেখানে মানুষ কে চিকিৎসা করা হয়,মানুষ এর কস্টকে দূর করা হয়!!সেজন্য আমি তোমার প্রিয় জায়গায়ই চিঠিটা রেখে এসেছিলাম!
আচ্ছা শুন, আমার একটা শেষ ইচ্ছা আছে,রাখবে! আমি জানি তুমি রাখবে! তাই বলছি আমি ত আর মাত্র কয়েকদিন এই পৃথিবিতে আছি! জানো এই পৃথিবী টা অনেক নিষ্ঠুর।! দেখ আমরা এই একই পৃথিবী তে থেকেও দেখা করতে পারছিনা তবে চিন্তা করোনা, আমি সবসময় তোমার পাশে ছায়া হয়ে থাকব! এই পৃথিবী তে থাকবনা তাই কি হয়েছে,আমি ত আকাশেই থাকব।আরো বেশি কাছে থাকতে পারব তখন।কারন কি জানো! তোমার মুখটা কিন্তু চাদের মতো আর আমি আকাশের চাঁদ হয়েই তোমার কাছে থাকব,তোমার মাঝেই মিশে থাকব! মিশে থাকব তোমার ঐমুখে কারন তোমার মুখেই ত চাঁদ থাকে তাই না! আমি জানি এখন হয়ত তুমি অনেক কান্না করছ কিন্তু খবরদার! একদম কান্না করবে না!! কান্না করলে ত তোমার মুখের ওই চাদটা ডুবে যাবে! তোমার মুখ তখন ত কালো মেঘে ছেয়ে যাবে! তখন আমি কি করব!! আমি যে চাঁদ হয়ে তোমার মুখেই থাকতে চেয়েছি! অনেক কাছে থাকতে চেয়েছি,এই আশ্রয় টুকু প্লিজ কেড়ে নিও না প্লিজ প্লিজ!!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now