বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
যারা ভূত বিশ্বাস
করেন না, এ লেখাটি
তাদের জন্য নয় ।
কেননা এটা একটি ভূত
সংক্রান্ত লেখা
যেখানে আমি আমার
নিজের জীবনে ঘটে
যাওয়া একটি ভৌতিক
ঘটনা বর্ণনা করেছি।
যে ঘটনাটি আজো আমার
কাছে জীবন্ত । যে
ঘটনাটির কথা মনে
হলে এখনও আমি
মাঝরাত্রিরে ঘুম থেকে
জেগে উঠে বসে থাকি
ভূতের ভয়ে ।
ঘটনাটি ঘটেছিল আজ
থেকে প্রায় ১৫ বছর
আগে। কিন্তু আমার কাছে
মনে হয় এইতো সেদিন
ঘটলো ঘটনাটি ।
ঘটনাটির কথা মনে
হলে আমার হাত পা
এখনও ভয়ে ঠান্ডা হয়ে
যায় । আমারা তখন
পুরানো ঢাকাতে থাকি ।
বাবা সরকারি চাকুরি
করেন । বলা নেই কওয়া
নেই হঠাৎ করেই আমরা
বড় লোক হয়ে গেলাম ।
তা ও বাবার এক ফুপুর
কল্যাণে । বাবার
বড়লোক ফুপুর মৃত্যুর পর
তার বিষয় সম্পতির
ছোট একটি অংশ
আমাদের বড়লোক করে
দিল রাতারাতি ।
আমারা ভাড়া বাসা
থেকে আমরা নিজেদের
বাড়ীতে উঠলাম । তাও
আবার তিন তলা বাড়ী ।
৬টা ভাড়াটিয়াসহ
বিশাল বাড়ী । আমরা
উঠেছি দোতালায় ।
সারা দিন ভাই
বোনদের সঙ্গে আনন্দ
করে সময় কাটে ।
বাড়ীর সামনে দু’টো বড়
বড় মেহগনি গাছ । তার
একটিতে ছোটকাকু
দোলনা টানিয়ে
দেয়াতে আমাদের
আনন্দের মাত্রা বেড়ে
গেছে কয়েক গুন । সারা
দিন হৈই চৈই । বিকেল
বেলা সবাই মিলে
ছাদে খেলা করতাম ।
এতো বিশাল ছাদ আমি
আগে কখনও কল্পনাও
করতে পারতাম না তা
আবার নিজেদের । ছাদ
সাধারনত মা তালা
দিয়ে রাখতেন । শুধু
বকেল বেলায় খুলে
দিতেন । সন্ধ্যার পর
শুধু পড়তে বসতাম ।
রাতে খাওয়া দাওয়ার
পর কাকুর কাছে গল্প
শুনতে বসা । কাকু নিত্য
নতুন ভূতের গল্প বলে
আমাদের ভয় পাইয়ে
দিতেন । মাঝে মাঝে
মাও আমাদের সঙ্গে
এসে যোগ দিতেন । গল্প
শেষে মা প্রায়ই হেসে
বলতেন । ভুত বলে কিছু
নেই ।
দেখতে দেখতে আমার
এস এস সি পরীক্ষা চলে
এলো । ভাল রেজাল্ট
করতে পারলে বাবা
রেসিং সাইকেল কিনে
দেবো । তাই রাত জেগে
পড়া শুনা করছি । ভাল
রেজাল্ট করার চাইতে
আমার সাইকেলটার
দিকেই বেশি মনোযোগ ।
বাসার সবাই ঘুমিয়ে
গেলেও আমি সারা রাত
জেগে পড়ি । মাঝে
মাঝে ঘরের ভেতর
হাটা হাটি করি ।
বেশি খারাপ লাগলে
ছাদে চলে যাই । কাকুর
ভাষ্য মতে রাতের
একটি ভাষা আছে ।
তাছাড়া রাতের আকাশ
ও আমার দেখতে খুব ভাল
লাগে । বিশাল রহস্যময়
আকাশের শৈল্পিক
কারুকার্য আমাকে সব
সময় মুগ্ধ করে ।
সেদিন ছিল পূণিমার
রাত । রাত প্রায়
তিনটা বাজে । আমি
গভীর মনোযোগ দিয়ে
পড়ছিলাম । বাসার
সবাই ঘুম । হঠাৎ ছাদ
থেকে ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে
এলো । বিকেল বেলায়
আমরা ছাদে খেললে
যেমনটি শব্দ হয় ঠিক
তেমনটি । আমি বেশ
অবাক হলাম , এতো রাতে
ছাদে আবার কে খেলছে !
কাকু আর আমি একই রুমে
থাকি । বেশ কয়েকবার
শব্দ হওয়ায় কাকুকে
ডাক দিলাম । কাকুর
উঠার নামটি নেই ।
নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে ।
অনেকক্ষন ডাকা ডাকি
করার পরে কোন রকম
মাথা তুলে বললেন তুই
গিয়ে দেখনা কে ? ইদুর
টিদুর হবে হয়তো । বলে
কাকু আবার নাক ডাকতে
শুরু করলেন । এদিকে
ছাদের শব্দ দৌড়া
দৌড়ি পর্যায় পৌছে
গেছে । আমি আশ্চর্য
হয়ে লক্ষ করলাম আমার
তেমন ভয় করছেন । বরং
দেখতে ইচ্ছে করছে
এতো রাতে ছাদে কে
দৌড়া দৌড়ি করছে ।
আমাদের রান্না ঘরের
দেয়ালে মা ছাদের
চাবি ঝুলিয়ে রাখেন ।
আমি ঘর থেকে বেড় হয়ে
ছাদের চাবি নিলাম ।
আমাদের ফ্লাট থেকে
বেড় হতেই ডান দিক
দিয়ে উঠে গেছে
ছাদের সিঁড়ি । প্রতিটি
বারান্দায় বাতি
জ্বলছে । তিন তলার
বারান্দা গুরে ছাদের
সিঁড়ি । আমি ছাদের
সিঁড়িতে উঠার পরও
আমার কোন ভয় লাগছিল
না । তিন তলা থেকে
ছাদের ছাদের দরজা
দেখা যায় । বন্ধ দরজা
। তালা দেখা যাচ্ছে ।
তবে ছাদে শব্দ করছে
কে ?
আমি ছাদের তালা খুলে
ফেললাম । চাঁদের আলোয়
ছাদ ভেসে যাচ্ছে ।
ছাদে বেড় হলেই
সামনে রবিন চাচ্চুদের
৪ তলা বাড়ী । রবিন
চাচ্চুদের বাসা থেকে
আমাদের পুরো ছাদটা
দেখা যায় ।
ছাদের এ মাথা ; ও
মাথা বেশ ভাল করে
দেখলাম কেউ নেই ।
আমি বেশ অবাক হলাম ।
তা হলে শব্দ করলো কে ?
পানির ট্যেন্কির উপড়
দেখলাম । না । কেউ
নেই । এবার কিন্তু
আমার গা বেশ কেমন
ছমছম করছে । আশে
পাশের বাড়িগুলোর
দিকে বেশ কয়েকবার
তাকিয়ে আমি নীচে
নেমে এলাম ।
ঘরে এসে ডকডক করে দু
গ্লাস পানি খেলাম ।
এমনিতেই আমি বারবার
হিশু পায় বলে
রাতেরবেলা পানি কম
খাই । কিন্তু সেদিন
তেস্টা যেনো আর
মিটছিলো না । ২য়
গ্লাস পানি শেষ করার
মুর্হুতে আবার ধুপ ধুপ
শব্দ ভেসে এলো । আমি
গ্লেলাসটি রেখে উঠে
পড়লাম । ছাদের
সিঁড়িতে এসে দেখি
ছাদ তালা মারই আছে ।
দরজা বন্ধ । কিন্তু
দরজার ওপাশেই কে
যেনো দৌড়াচ্ছে । আমি
ভয়ে ভয়ে তালা খুলে
ছাদে এলাম ।
আবারও চাঁদের আলোয়
চোখ ভেসে গেলো । আমি
পুরো ছাদ বেশ ভাল করে
দেখলাম । না । কেই
নেই । নিজেকে কেমন
বোকাবোকা মনে হলো ।
নিজেকে শান্তনা
দিলাম হয়তো রাত
জেগে পড়ার ফলে উল্টা
পাল্টা শব্দ শুনছি ।
ছাদ তালা দিয়ে
নামার জন্য পেছন
গুড়তেই চমকে উঠলাম ।
হাতের ডান পাশে
সিঁড়ির শেষ মাথার
ছাদের দেয়াল ঘেষে
কে যেনো বসে আছে ।
ভয়ে আমার বুক তখন
হাপারের মতো উঠা
নামা করছে । আমি কোন
রকম জিজ্ঞষ করলাম ।
কে ! কে ওখানে ?
হালকা আলো স্পষ্ট
দেখা যাচ্চে দু’হাটুর
মাঝ খানে মাথা রেখে
কে যেনো বসে আছে ।
ছোট্র শরীরটা দেখে
আট দশ বছরের বাচ্চা
বলে মনে হলো । আমি
কানে তখন কিচ্ছু শুনছি
না ।
চোখেও ভাল করে
দেখছি বলে মনে হলো
না ।
শুধু তাকিয়ে আছি । আর
জোড়ে জোড়ে চিৎকার
করে জিজ্ঞেস করছি কে !
কে ওখানে ?
বেশ কয়েক বার
চিৎকার করতেই সামনে
বসে থাকা কায়াটা
হাটু থেকে মাথা তুলে
আমার দিকে তাকালো ।
ভয়ে আমি চমকে উঠলাম
। জাপানি ভুতের
সিনামায় দেখা আট নয়
বছরের একটি ছেলে
আমার দিকে হাটু থেকে
মুখ তুলে তাকালো । বড়
বড় দুটো চোখ । সমস্ত মুখ
কেমন ফেকাসে হয়ে
আছে ।
অনেকক্ষন পানিতে
ভিজলে চামড়া যেরকম
ফেকাসে হয় তেমনটি ।
আমি আরো জোড়ে
চিৎকার করলাম কে
কে ?
ছেলেটি কোন উত্তর
দিলো না শুধু একটি হাত
আমার দিকে বাড়িয়ে
দিলো ।
আমি ভয়ে তখন কি ভাবে
যে নীচে নেমে এলাম
বলতে পারবো না ।
যখন চোখ খুললাম তখন
দেখি আমি বিছানায়
শুয়ে আছি মা ;বাবা,কাকু
আর একজন ডাক্টার
আমায় ঘিরে আছেন ।
বাবা কাকুকে বকছেন
আমদের কেন ভুতের গল্প
শুনায় তার জন্য । মা’র
হাতের ফাঁক দিয়ে
আমার চোখ যখন দরজার
কাছে গেলো তখন আবার
চমকে উঠলাম । ছাদে
দেখা ছেলেটি দরজার
কাছে দাঁড়িয়ে আছে ।
আমার চোখা চোখি
হতেই । ডান হাতটি
আমার দিকে বাড়িয়ে
দিলো । আমি আবার
জ্ঞান হারালাম ।
সে বার আমাকে
অনেকদিন হাসপাতালে
থাকতে হয়েছিলো ।
কিন্তু আশ্চর্যের
বিষয় এই যে, সে
রাতের পরে ঐ
ছেলেটিকে আর কোনদিন
আমাদের ছাদে দেখা
যায়নি। সে রাতে অবশ্য
আরেকটি ঘটনা
ঘটেছিল, সেটি হলো
আমাদের পাশের বাসার
রবিন চাচ্চু ঐ রাতেই
মারা গিয়েছিলন । ভাল
মানুষ হঠাৎ নাকি কি
দেখে খুব ভয়
পেয়েছিলেন ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now