বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
----কলেজে আসবি না?(আমি)
----না।
----কেন, কী হয়েছে?
----কিছু হয়নি।
----তাহলে আসবি না কেন?
----ধূর! এমনি আসবো না।
----মন খারাপ নিশ্চয়?
----হুম।
----ভীষন খারাপ বুঝি ?
----হুম।
----আমাকে মিস করছিস?
----হুম।
----তাহলে কলেজে আয়।
----হুম! এই না, আমি আসবো না, হাট যা
।
----একটু আগেই তো বললি।
----ভুল করে বলে ফেলেছি।
----বাদ দে, তুই কলেজ আসবি এটা জানি।
----কুত্তা, তুই যা আমি আসবো না।
----কলেজে আজকে ইরা এসেছে, তোর সাথে দেখা করবে বললো, আমরা এক সাথে বাসে।
----থাক আমি আসছি নড়লে খবর আছে তোর আজ।
----আচ্ছা, ইরা আর আমি গল্প করি ততক্ষণ।
----মর।
----আচ্ছা, বাই।
এ কেমন বিচার গো আল্লাহ?
জোর করে বললেও আসবে না, আর কোনো মেয়ের কথা বললে পেছনে পাগলা কুকুর তাড়া করলে যেমন ভাবে দৌঁড়াই, এমনি করে আসবে।
মেয়ে দের মন, ওদের চাল চলন বুঝা,
আমাদের মতো সাদু ছেলেদের নয় রে নয় বোঝা পাগলা।
কলেজ ক্যাম্পাসটা ছেলে মেয়ে তে ভরা, তবুও কেমন মরূভূমির ন্যয় লাগছে। নিঃসঙ্গতা ঘিরে আছে আমাকে। মিস করছি খুব কাউকে, তীব্র ভাবে।
যায় হোক! সে আসুন আপাতত আমাদের সম্পর্কে কিছু বলি শুনেনিনন কাজে আসবে।
আমি হৃদয় বাবু! আর যার সাথে কথা বলছিলাম সে হলো মিষ্টি ইসলাম।
আমার আর ওর পরিবারের খুব একটা মিল আছে।
সম্পর্কে না, মানে চলাচল এর দিক থেকে।
আমি যেমন মা বাবার এক মাত্র ছেলে ও তেমন একমাত্র মেয়ে।
আমরা অর্নাস ২বর্ষতে পড়ি। আর সব থেকে বড় বিষয় হলো আমরা একে অপর এর খুব ভালো বন্ধু।
কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় ও আমার বন্ধুর থেকেও অনেক কিছু।
বুঝতে পারি না কেনো এমন হয়। ও এমনি কিছু কিছু কথা বলে, মনে হয় আমি ওর এয়ে মানে এয়ে আরকি, বুঝেনিন।
যাই হোক! এবার বর্তমান এ ফেরা যাক।
রাগিনী টা আসছে খুবি ব্যস্ত। এসেই একটা ঝাড়ি দিলো।
----ঐ কুত্তা! ইরা কই?(মিষ্টি)
----ও তো আসেনি। (আমি)
----তাহলে আমাকে মিথ্যা বললি কেন?
----তুই কলেজে আসছিলি না তাই।
----তোরে মনডা কই এখন কাঁচ্চা চাবাই খাই। ????
----বাসা থেকে খেয়ে আসিসনি?
----না। "রেগে বললো"
----জানিস আমার কেমন হচ্ছিলো?
----না, বল শুনি?
----হঠ্যাৎ কেমন চাপা কষ্ট হচ্ছিলো।
----আমার জন্য?
----হুমম।
----কান্না পাচ্ছে তোর কথা শুনে। আমার জন্য তোর কষ্ট হয়?
----কুত্তা, ঐ টা ইরার জন্য, অনেক দিন দেখিনি বান্ধবীরে তাই।
----একটু আগে যে বললি?
----ভুলে বলে ফেলেছিলাম গাধা।
----ওহহ্, ভালো।
----ক্লাসে যাবি না?
----যাবো না তো কি তোর সাথে প্রেম করবো ?
----কুত্তা, বিড়াল, গরু কী বললি?
----ভুল করে বলে ফেলেছি।
----তুই একটা।
----ভদ্র ছেলে।
----ওলে ওলে বাবালে! বাবু টা কতো ভদ্র।
----এমন করে বলিস না, কুঁচ কুঁচ হোতা হে।
----ঢং করা বাদ দে, চল ক্লাসে।
----চলেন।
আমাদের এমন টম এন্ড জেরির মতো ঝগড়া লেগেই থাকে সবসময়।
আর তাইতো আমাদের বন্ধুত্বটা এতো মিষ্টি হয়ে আছে।
ওকে জ্বালাতন করি সব সময়।
ফেসবুক, নাম্বার সবসময় জ্বালাতন করি এমনটা করতে ভালো লাগে।
আমাদের দিন গুলো এমনি করে চলে।
কিন্তু যেতো দিন যায় ততো আমার মনে ওর জন্য কেন জেনো একটা স্বপ্নের ঘর তৈরি হচ্ছে।
তাহলে কি ওকে ভালোবাসে ফেললাম?
ছি ছি, আমি এইসব কি বলছি, ও জানলে কি ভাববে বলোতো ?
.
রাতে ছাদে একা বসে আছি, হঠ্যাৎ মিষ্টির কথা মনে পড়লো।
ভাবলাম এটা কল দিয়ে দেখি ধরেকি না।
কলটা দিলাম, সাথে সাথে এক্টিপ করলো
----হ্যালো!
----বল?
----কি করিস?
----শুয়ে শুয়ে আমার তোলা ছবি গুলো দেখছিলাম।
----আমারে দুই একটা দে আমিও দেখি।
----যেগুলো আছে ওগুলো দেখ।
----ওগুলো তো পুরানো।
----তাতে কি?
----নতুন টা দেখার ফিলিংস অন্য রকম।
---- আমাকে নিয়ে কিসের ফিলিংস?
----না মনে, দেখার কথা বলছি,, ছাড়তো?
----হুমম।
----কিন্তু একটা সেন্ড কর, বেশী না?
----দাঁড়া তোর শ্বশুর এর ছবি দিচ্ছি।
----দে তোর আব্বার ছবিই দে?
----হুমম।
----হা হা হা, আমার শ্বশুর এর ছবি, মানে তোর বাবা আমার শ্বশুর?
----এয়য়য়ে না না , বাদর, হ্রমি, কুত্তা আমি তো ভুল করে বলে ফেলেছি।
----হা হা হা!
----হিহিহি,, বাদর একটা আমি রখছি বাই।
----এই শুনন, এই মিস্টি শুন, একটা টুঁ টুঁ টু।
যাহ্ কেটে দিলো, কিন্তু আমি তো হাসতে হাসতে শেষ প্রায়।
মাঝে মাঝে ভুল করে এমন কিছু কথা বলে।
যা আমার মনের দরজায় কে যেনো কড়া নাড়ে।
মেয়েটা তো এমনি ভুল করে অনেক কিছু বলে ফেলে।
এভাবে কাটতে থাকলো আমাদের সুন্দরময় দিন গুলি।
মিষ্টির সাথে দুস্টামি,
ওকে জ্বালাতন, ছোট খাটো বিষয় নিয়ে রাগ অভিমান নিয়েই চলছে।
একদিন সকালে কলেজ আসার সময় আমায় কেনো যানি ভাবাচ্ছে মিস্টিকে নিয়ে।
মিষ্টির কথা বার্তা আর চালচলন দেখে মনে হয়, আমাকে ভালোবাসে। আবার মনে হয়,
বন্ধুর সাথে মজা করতে পারে, এটা মজা করে বলে হয়তো।
আজাইরা চিন্তা করতে করতে কলেজে গিয়ো দেখি মহারানী আমার আগে এসে বসে আছে।
কাছে গিয়ে বসে পড়লাম আমি।
একি! আজ দেখছি কোন রিয়াক্ট নেই, কিচ্ছু নেই, চুপচুপ হয়ে আছে কেন?
এই মেয়ে চুপ করে আছে দেখে অবাক লাগছে আজ।
নিশ্চয় কিছু একটা ঘটেছে, আমি সোজা প্রশ্ন করলাম!
----কী হয়েছে মন খারাপ কেন?
----কিছু না।
----কী হয়েছে বলনা আমার?
----আমার বাড়ি থেকে বিয়ে ঠিক করছে এখন আমি বিয়ে করবো না।
----আরেব্বাস,, বলিস কী? বিয়া খাবো ইয়াহু।"বুকের মাঝে মোচড় দিয়ে উঠলো তবুও বললাম।"
---- এক চড়ে তোর মুখের নকসা বলদে দেবো। ????
----আচ্ছা, তো সমস্যা কী বিয়ে করে ফেল?
----না আমি আমার পছন্দে বিয়ে করবো, আমর মনের মতো কাওকে?
----তো এখন আঙ্কেল কে কী বললি?
----ভুলে বলেছি আমি একজন কে ভালোবাসি ।
----খাইছে, তারপর?
----তার নাম, কী করে, সব বললাম।
----কার কথা বলেছিস তুই? "চুপসে গিয়ে বললাম"
----আমি বলেছি।
----কার নাম বলেছিস, কেনো হার্টফেল করাচ্ছিস?
----তোর কথা বলেছি বাবাকে।
----আমি শেষ, এখন আমার কি হবে? আল্লাহ গো?
----ঐ মেয়েদের মতো করিস কেন?
----চুপ তুই কি বলেছিস জানিস ?
----হুমম, আজ তোকে বাসায় নিয়ে যেতে বলেছে।
----আমি হালাল হতে চাই না রে।
----আমি বিপদে আর তুই এমন করছিস?
----উফ্, আচ্ছা যাবো, কিন্তু।
----কিন্তু কি?
----যদি সে রাজী হয়ে যায় তখন?
----হলে তো আরো ভালো।
----কী?
----না মানে, পরে মিথ্যা বলে কাটিয়ে দেবো।
----তোর ভাবসাব সুবিধার না একদম।
----বেশী ফ্যাচ ফ্যাচ করিস না, এক ঘুসিতে নাক ফাটিয়ে দেবো কিন্তু।
তর পর আর কি মনটা যেনো ভয়ে দৌঁড়া দৌঁড়ি করছে কোথাই লুকাবে, কোথাই লুকাবে।
এই মেয়েটার ভুলের জন্য আমার বিপদে পড়তে হয়। আল্লাহ জানে কী হবে।
যা হবে ভালো হবে, মেনে না নিলেও ভালো,
আর নিলেতো কথায় নাই আর হে হে।
কলেজ শেষ করে মিষ্টির সাথে তার বাসায় গেলাম।
বাহ্ বাড়িটার ভিতর টা খুব সুদর করে গোছানো, পরিপাটি ভাবে।
আন্টি আর আঙ্কেল দেখলাম বসে আছে ঘরে, তাদের কে সলাম দিয়ে ভালোমন্দ জিজ্ঞাসা করে বসে গেলাম।
প্রাণটা আমার যায় যায় অবস্থা ।
ভয়ে আমার হাটু কাঁপা শুরু হয়ে গেছে প্রায়।
নিজেকে তবুও কন্ট্রোল করলাম কোনো মতে,
তার পর মিষ্টির বাবা বললো!
----কী করো তুমি?
----জি অঙ্কেল পড়া শোনা করছি, অর্নাস ২ন্ড ইয়ার।
----ভালো, তোমরা কই ভাইবোন?
----আমি একাই।
----হুম,তোমার বাবা কী করে?
----জি, মার্কেটে একটা কাপড় এর দোকান আছে।
----ভালো, মিষ্টি সব বলেছে তোমার বিষয়ে?
----কি বলেছে জানতে পারি একটু ?
----এই যে, মানে, তোমরা একে অপরকে পছন্দ করো।
----আর কিছু বেলেছি কী?
----হ্যা, তুমি তো কান্না কাটি করে পাগল হচ্ছো।
----....?"হতভম্ব! বাপে বলে কী? "????
----তুমি খাওয়া দাওয়া করছো না, সব কিছু প্রায় ছেড়ে দিয়েছো।
----কী বলেন?"হ্রামি টা আমার ইজ্জতটা একেবারে শেষ করে দিলো, ওর আজ খবর আছে।"
----দেখো বাবা! মিষ্টি আমার এক মাত্র মেয়ে, ওর খুশিতে আমাদের খুশি, সেই খুশিটা কী করে কেড়ে নেই বলো?
----.......?"????????☺"
----তাই ভাবলাম, তোমার সাথে দেখা করা দরকার মনে হলো।
" আমার এতো খুশি লাগে কেনো রে?কুত্তি তোর আজ একটা ভুল কথায় মেঘ না চাইতে বৃষ্টি নামালো"
----এটা হয়তো আসা করোনি এতো সহজ কি করে হয়?
----না মনে, হ্যা ঠিক বলেছেন।
----বাবার মতো বাবা যে হবে সে আমার মতো কথা বলবে,
সব কিছু ভালো আছে যখন তাহলে কেনো অমত দেবো। আর তোমাকেও আমাদের অনেক পছন্দ হয়েছে।
----..........?"ইসস বলে কী শরমে তো মাথা নিচু করে আছি , কি করতে এসে কী হয়ে গেলো সব। "
----এখন তোমার মা বাবাকে তুমি বলো" তারা কথা বলে তোমাদের বিয়ের ব্যবস্ততা করি।
----আপনারা যা ভালো মনে করেন।
----তোমার মা বাবাকে পাঠাবা, না আমরা যাবো?
----আমি তাদের কে পাঠাবো।
----তাহলে আর চিন্তা করে মাথা নষ্ট করো না, কান্না করো না, ভালো মতো খাওয়া দাওয়া করো, ঠিক আছে।
----জ্বি আঙ্কেল অবশ্যই।
তাহলে এখন আসি আঙ্কেল?
----দুপরে খাওয়া দাওয়া করে তারপর যেও।
----অন্য দিন খাবো আজ না।
----হবে না আজ খেয়ে যেতে হবে।
----আঙ্কেল,
মানে আমি কি মিষ্টির সাথে দেখা করতে পারি?
----হুমম, পারো।
----ধন্যবাদ,, তাহলে আসি, আসসালামু ওয়ালাইকুম।
বলে তড়িঘড়ি করে তাদের সামনে থেকে চলে আসলাম।
ভয়ে তো আমার বিশাল প্রাণটা চুপসে শুটকি মাছ হয়ে গিয়েছিলো।
কী না কী বলে সেই ভয়ে।
কিন্তু মিষ্টি আমার নামে এতো গুলো মিথ্য বললো, ওর আজ খাইছি আমি।
ঘরে উকি দিয়ে দেখি গুটিসুটি মেরে বসে আছে।
----আসতে পারি?
----হুমম।
----এটা কি হলো বলতো?
----সবি কপাল।
----তার মানে।
----কেন, এতে তুই খুশি না?
----না মনে, হ্যাঁ মনে, না হ্যাঁ!
----কুত্তা সঠিক কথা বল?
----আমরা তো বন্ধু তাই না? "ভাব নিয়ে"
----তাহলে বাবাকে বলি না করতে?
----আরে হা হা, আমি তো হে হে, মজা করছিলাম আরকি ।
----তুই যে আমার ভালোবাসি এটা আমি জানি, আর আমি বাবাকে ভুল করে না ইচ্ছাকরে বলেছিলাম তোর কথা।
----কেনো?
----কারণ, তোকে মানে আমি, তোকে এয়ে মানে..!
----এতো এয়ে টিয়ে করার কী আছে, বলার সাহস নেই তোর।
----ঐ আমার সাহস নেই কুত্তা আমি তোকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না। "দাঁড় করিয়ে জামার কলার ধরে দুই হাত দিয়ে।"
----কালার ছার লাগছে। তাহলে আগে কেন বলিস নি?
----মেয়েরা কখনো বলে না গাধারাম, বুঝতে হয়।
----বুঝতাম! কিন্তু ভয় করতো বন্ধুত্ব এর ভয়ে।
----এখন তো আর ভয় নেই এখন তো বল?
----তাহলে কলার ছার।
----না বললে ছাড়বো না, বল বলছি? ????
----আচ্ছা আমি তোকে সত্যি অনেক অনেক ভালোবাসি যা তুই কল্পনাও করতে পারবি না।
----সত্যি তো?
----তিন সত্যি অনেক ভালোবাসি।
----আমিও তো ভালোবাসি হৃদয় বাবু।
----কলার ধরে রাখবি একবার বুকে আসবি না?
----না হাট।
----আয়না প্লিজ?
----আচ্ছা বাবু।
জীবনে এই প্রথম কাউকে বুকে এতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম,
পৃথিবীর সব সুখ যেনো আমাকে ঘেরাও করে রেখেছে।
ভাবতে পারিনি এমন করে মিষ্টিকে আমি কাছে পাবো।
সবি আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি যেটা করে ভালোর জন্য করে।
মিষ্টির ভুল কথায় আজ তাকে পেলাম
কিছু কিছু ভুল মানুষ এর জীবনে, সত্যি ভালো ও কল্যাণময় কিছু হয়ে দাঁড়ায়।
আল্লাহ রহমতে আমাদের বাকি দিন গুলো হয়তো এমনি ভাবে কেটে যাবে।
পৃথিবীর সব ভালোবাসা গুলো জেনো এমনি করে তার পূর্ণতা পাই।
এখন বিয়ের জন্য রেডি হতে হবে,
আপনারা থাকেন আমি যায়।।
বিয়েতে সবার দাওয়াত থাকলো,
খালি হাতে কেউ না আসার চেস্টা করি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now