বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাস্তা দিয়ে হাটছে মিথীলা আর তার ছোট্ট মেয়ে মৌ।গন্তব্য মেয়ের স্কুল।মনে মনে ভাবছে মিথীলা আজ বড্ড দেরি হয়ে গেলো।না জানি মেয়েটাকে আবার ম্যাম এর কাছে বকা শুনতে হয়।সব দোষ মৌ এর বাবার।কতো করে বললাম তুমি যাওয়ার সময় মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিও কিন্তু না উনার একটা কথা এতো তারাতারি মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসলে মেয়ে একা থাকবে। নয় টার পর বের হবে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য, আর এখন আট টা বাজে আমি অফিসে যাচ্ছি। আজ আবার একটা রিক্সা অটো কিচ্ছু নাই।হেটে হেটেই যেতে হচ্ছে তাদের।।
--মামনি একটু আস্তে হাটতে পার না?আমি আর পারছি না এতো দ্রুত হাটতে।
--আরেকটু মা।এই তো স্কুল চলে এসেছি।
,
কিছুক্ষন পরেই মিথীলা তার মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিল।চিন্তা মুক্ত হল মিথীলা সময় মতো মেয়ে কে পৌঁছে দিতে পেরেছে।এবার রিলাক্সে যেতে পারবে সে।রাস্তার সাইড দিয়ে হাটছে।এবার চ্যাম্বারে যেতে হবে। নিচের দিকে তাকিয়ে হাটতেছিল মিথীলা।হঠাৎ সামনে আসা একজনের সাথে ধাক্কা খেলো মিথীলা।মাথা উঁচু করে লোক টাকে কিছু বলতে যাবে কিন্তু লোক টাকে দেখে থমকে গেলো মিথীলা।অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ধাক্কা খাওয়া সামনের মানুষটার দিকে।সামনে দারিয়ে থাকা মানুষটাও হা করে তাকিয়ে আছে মিথীলার দিকে।কিছু মুহুর্ত এর জন্য মনে হচ্ছে পৃথিবীটা স্তব্ধ হয়ে গেছে।সব কিছু থেমে আছে।শুধু তাদের দুজনের চোখ দুটো অবিরত চলছে একে অপরকে দেখার জন্য আর ফিরে যাচ্ছে সেই চির চেনা,আনন্দে থাকা সেই দিন গুলোর দিকে।
,
সাত বছর আগে সদ্যপাশ করে ডেন্টিস হয়েছিল মিথীলা।মিথীলার বাবা তার জন্য একটা চ্যাম্বার খুলে দিয়েছিল।সেই চ্যাম্বার আর পরিবার নিয়েই ছিল সে।পরিবার বলতে একমাত্র তার বাবা ছিল।মা অনেক আগেই মারা গিয়েছিল।এরপর তার বাবা বিয়ে করেনি।মেয়েকে নিজেই আগলে রেখে মানুষ করেছিল।একদিন সকালে চ্যাম্বারে গিয়েছিল মিথীলা।রোগি দেখতে দেখতে হঠাৎ তার ফোন আসে,
--হ্যালো কে বলছেন?
--মিথীলা আমি মিতা বলছি।শুন আজকে আমাদের বাসায় আসবি দুপুরে।
--কিন্তু এটা কার নাম্বার শুনি?
--সেইটা আসলেই বুঝতে পারবি।
--কিন্তু আমি তো চ্যাম্বার চার টায় বন্ধ করি।তাই চার টার আগে যেতে পারব নারে।
--আমি কোনো কথা শুনছি না।আজকের জন্য আর আমার জন্য না হয় একদিন আগেই চ্যাম্বার বন্ধ করলি।আচ্ছা যা আমি তোকে এই চার ঘন্টার যা আয় হবে দিয়ে দিব(একটা দুষ্টামি হাসি দিয়ে বলে মিতা)
--মিতা আমি কি বলেছি আমার টাকার জন্য বন্ধ করতে পারব না।আচ্ছা আজকে দুপুরের আগেই যাব।ঠিকাছে।
--এই তো আমার লক্ষি সুইট জানু টা তারাতারি আসিস হ্যাঁ।
--আচ্ছা বাবা আচ্ছা আসব(হাসি দিয়ে)
,
--ম্যাম পুরো চার মিনিট পঁয়ত্রিশ সেকেন্ড দারিয়ে আছি বেশি কিছু না হক বসতে বলতে পারতেন আউউউ(মুখে হাত দিয়ে)
মিথীলা দেখে একটা সুদর্শন, লম্বা,ফর্সা ছেলে তার সামনে দারিয়ে আছে,
--আজব তো আমি তো আপনাকে লক্ষ করিনি।ফোনে কথা বলতেছিলাম।আচ্ছা বসুন।
--থ্যাংস (মুখে হাত দিয়ে)
--আপনি মুখে হাত দিয়ে আছেন কেনো?
--সেইটা বলব বলেই আপনার কাছে আশা।
--হ্যা বলুন।
,
এর পর ছেলেটি সমস্যার কথা বলে আর মিথীলা তার চিকিৎসা করে ঔষধ দিয়ে দেয়।আর বলে সাত দিন পর আবার আসবেন।
-- কালকে আসলে হয় না(বিরবির করে বলে ছেলেটি)
--কিছু বললেন আপনি?
--না না কিছু বলি নাই তো আউউ(বলেই বেরিয়ে গেলো ছেলে টি)
,
এর পর মিথীলা আরো কয়েক টা রোগী দেখে ঘরির দিকে তাকালো।দেখল বারো টা দশ মিনিট বাজে।আর রোগিও নেই।তাই সে বেরিয়ে গেলো মিতাদের বাড়ির উদ্দ্যেশে।রাস্তায় বের হয়ে একটা অটো নিয়ে চলে গেলো মিতাদের বাসায়।
,
--বাব্বাহ আমার মিতু তো সঠিক সময়ে চলে এসেছে।
--হ্যাঁ আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আমায় ডেকেছে না এসে পারা যায়।তা বলুন কি জন্য এই জরুরি তলব?
--আরে বলব বলব আগে বস কফি খা তারপর না হয় শুনিস।
--কি ব্যাপার আজ এতো খুশি কেনো শুনি?
--দারা আমি আসছি।
এরপর মিতা ঘর থেকে একটা কার্ড এনে মিথীলাকে দেয়,
--এই নে আমার বিয়ের কার্ড। আর তুই তো আমার কলিজার টুকরো তাই বাড়িতে এনেই কার্ড দিলাম তোদের বাসায় যাওয়ার সময় নেই।জানিসই তো বিয়ের কত্ত কাজ।
--কিইইইই তোর বিয়ে আর তুই আমাক এখন বলছিস।কে রে সে।ও নাকি।না আবার অন্য কেউ?
--ওই যাকে মনে জায়গা দিয়েছি।
--এখন বুঝলাম ওইটা কার নাম্বার।
--হ্যা নতুন ফোন নতুন সিম সেই কিনে দিছে।
--বাহ ভালো।তাহলে আজকেই এখানে শীপ্ট করি?
--আজকে মানে তোকে আর যেতেই দিচ্ছি না।সাত দিন পর বিয়ে।বাড়িতে বলে দে তুই এই কয়েক দিন এখানেই থাকবি।
--আচ্ছা আমি ফোন দিয়ে বলে দিচ্ছি।
এরপর মিথীলা বাড়িতে ফোন দিয়ে বলে দেয়।আর মিতার বিয়ের জন্য কাজে লেগে যায়।
,
দেখতে দেখতে ছয় দিন পার হয়ে যায়।আর মিতার বিয়ের দিন চলে আসে।মিথীলা মিতাকে সাঁজাতে ব্যাস্ত।
--কিরে তুই কি শুধু আমাকেই সাঁজাবি নাকি তুইও সাঁজবি বল?
--আরে বিয়ে কি আমার হচ্ছে নাকি যে আমি সাঁজব।
--তোর বিয়ে হচ্ছে না আর সেই জন্যেই তো তুই আরো ভালো করে সাঁজবি।দেখ আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে সাঁজলেও হবে, না সাঁজলেও হবে।তুই বেশি করে সেঁজে নে যেনো তোকে কেউ পছন্দ করে বিয়ে করে নেয়।না হলে সারা জীবন কুমারি হয়ে থাকবি।
--হাহাহাহা আচ্ছা আগে তোকে সাঁজিয়ে নেই তারপর আমি সাঁজব।
--আরে বাদ দে তো তুই সেঁজে নে।
,
এই বর এসেছে বর এসছে বাইরে থেকে হৈচৈ শুনা যাচ্ছে।মিথীলা তারাতারি করে রেডি হয়ে নিয়ে বাইরে গেলো।বরকে দেখার জন্য ।বরের সাথে হাসি ঠাট্টায় মেতে উঠল সে।হঠাৎ লক্ষ্য করল মিথীলা, একটা ছেলে তার দিকে তাকিয়ে আছে।না না তেমন ভাবে না যেমন ভাবে ভাবছেন।একটা রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।কথায় যেনো দেখেছে ছেলেটাকে মিথীলার মনে হল, দুর থেকে ভালো করে চিনতে পারছে না।কিন্তু তার চোখ বড় বড় করে দেখাতে মিথীলা সেখান থেকে চলে আসে।দেখতে দেখতে মিতার বিয়ে হয়ে যায়।আর এই কয়েক দিন মিথীলা চ্যাম্বারে যায়নি।আজ দশ দিন পর সে চ্যাম্বারে গেলো।বেশি একটা রোগী নেই।তাই বসে আছে সে।হঠাৎ করে দরজায় নক করল যেনো কে।মিথিলা ভিতরে আসতে বলল।মিথীলা দেখে সেদিনের সেই ছেলে টা।ভিতরে ঢুকেই বলতে শুরু করে ছেলে টি,
--কি ব্যাপার হ্যাঁ সাত দিন পর আসতে বলে আজ দশ দিন পর চ্যাম্বার খুললেন কেনো।এই তিন দিন দেরি করায় আপনাকে কি করা উচিৎ বলুন।
--এই যে মি.
--রিয়াদ আমার নাম রিয়াদ।
--হ্যাঁ হ্যাঁ মি.রিয়াদ আমি কাজে বিজি ছিলাম তাই আসতে পারি নাই।
--হ্যাঁ তা জানি কি কাজে বিজি ছিলেন?বিয়ে বাড়িতে আনন্দ করে আর উনি কাজে বিজি ছিলেন।এইটাই উনার কাজ।
--আপনি কি করে জানলেন আমি বিয়ে বাড়িতে ছিলাম?ওহ তাহলে সেই রাগী লুক এর চেহারার মানুষটাই আপনি?
--হ্যাঁ আমি।এখন কি কথা বলবেন নাকি আমার চিকিৎসা করবেন।
--হ্যাঁ হ্যাঁ করছি।
,
এরপর থেকেই রিয়াদ নানান অজুহাত নিয়ে মিথীলার চ্যাম্বারে আসে। এভাবেই চলতে থাকে কয়েক মাস।রিয়াদ মিথীলাকে ভালোবেসে ফেলে।তাই সব সময় মিথীলার চ্যাম্বারের আশেপাশে থাকে আর বাড়িরও।এক সকালে মিথীলা একটা ছেলের সাথে চ্যাম্বারে আসে রিক্সা করে।ছেলেটা মিথীলাকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।আর এই টা দেখে রিয়াদ ভয় পেয়ে যায়।
,
হঠাৎ একদিন রিয়াদ চ্যাম্বারে আসে।কিছুক্ষন নিরব হয়ে বসে থাকে। এর পর হুট করেই একটা কাগজ মিথীলার টেবিলের উপর রেখে তারাহুরো করে চলে যায়।মিথীলা কিছু বলার সময় পায় না।মিথীলা কাগজ টা নেয় আর খুলে দেখে।লিখা আছে আজ বিকেল ৫ টায় একটু পার্কে আসবেন প্লিজ।আমি ওয়েট করব।মিথীলা কিছুক্ষন ভাবে কি করবে যাবে কি যাবে না।অনেক্ষন পর সিদ্ধান্ত নেয় যাবে।কী জন্য যেতে বলেছে দেখবে।
,
বিকেল ৫ টা মিথীলা পার্কে অপেক্ষা করছে।এমন টা হবে সে ভাবেনি।মিথীলা ভেবেছে যে, যেহেতু রিয়াদ ডেকেছে সেহেতু রিয়াদ আগে থেকে অপেক্ষা করবে কিন্তু হয়েছে পুরো উল্ট টা মিথীলা অনেকক্ষন থেকে অপেক্ষা করছে কিন্তু রিয়াদের আসার নাম নেই।তাই সে চলে যেতে লাগে।মিথীলা প্রায় চলেই গিয়েছিল হুট করে কথা থেকে রিয়াদ এক গুচ্ছ রজনীগন্ধা ফুল এনে হাঁটু গেরে বসে পরে মিথীলার সামনে।
--আমি তোমাকে প্রথম দেখায় ভালোবেসেছি কোনো দিন বলতে পারিনি ভয়ে।কিন্তু সেদিন দেখলাম কোন ছেলের সাথে রিক্সায় করে চ্যাম্বারে আসলে। তাই ভয় পেয়ে গেছি।এই জন্য আমি বলে দিলাম।কি উত্তর হবে জানি না।আমি এক থেকে দশ গুনব যদি এক্সেপ্ট কর তাহলে আমাকে স্পর্শ করবে আর না করলে চলে যাবে।
চোখ বন্ধ করে এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলে রিয়াদ।এরপর সে এক থেকে দশ গুনতে থাকে।দশ পর্যন্ত গুনে চোখ খুলে।কিন্তু তার সামনে মিথীলাকে দেখতে পায় না।তাই সেখানেই বসে পরে রিয়াদ।ফুল গুলো বুকে জরিয়ে নিয়ে নিরবে চোখের পানি ফেলতে লাগে সে।হঠাৎ করে রিয়াদ উপলব্ধি করতে পারে কেউ একজন তার চোখ দুটো ধরেছে।চোখ থেকে হাত সরিয়ে পিছনে দেখে মিথীলা দারিয়ে আছে।রিয়াদ সাথে সাথে জরিয়ে ধরে।।
--এই কি করছ ছার সবাই দেখছে তো।
--দেখুক আমি আমার ভালোবাসার মানুষটাকে ধরেছি অন্য কাউকে নয়।
--আমি কিন্তু এখনো বলিনি যে আমি তোমাকে এক্সেপ্ট করেছি।
এই কথা শুনার সাথে সাথে রিয়াদ ছেরে দেয় মিথীলাকে।এবার মিথীলা রিয়াদের হাত থেকে ফুল গুলো নিয়ে বলে
--এক্সেপ্ট করব কিছু শর্ত মানতে পারলে।
--আকাশের চাঁদ চাওয়া, আর নিজের রক্ত ঝরিয়ে কোনো শর্ত পালন করতে পারব না।চাইলে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত শর্ত পালন করে তোমাকে নিজের করে নিব।
--কথা দিতে হবে কোনো দিন ছেরে যাবে না।ভালোবাসায় পবিত্রতা থাকতে হবে।কখনও কাছে আসার চেষ্টা করবে না।বিকেলে হাটতে যাবে আমার সাথে।খোলা আকাশের নিচে দুজনে বসে থাকব কিছু সময়।রাতে একা দেখা করতে বলা যাবে না।কিন্তু রাতের বেলা তারা দেখার জন্য একসাথে হাটতে যেতে পারি।বাকি টা পরে বলব।
--আমি সব শর্তে রাজি ম্যাম।আমার ভালোবাসার জন্য আমি সব করতে পারি।
--হ্যাঁ এখন চলেন মহারাজ সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে।
--হ্যাঁ যাচ্ছি তার আগে বল ওই ছেলেটা কে?
মিথীলা একটা হাসি দিয়ে বলে,
--আমার মামাতো ভাই।কাজে এসেছিল।সকালে একসাথে বের হয়েছিলাম সেদিন।আমাকে নামিয়ে সে তার কাজে যায়।
--বাঁচলাম বাবা অন্য কিছু না।
,
এই বলে শুরু হয় কোনো এক সন্ধ্যায় তাদের ভালোবাসার প্রথম প্রহর।চলতে থাকে এভাবে তাদের দিন গুলো।দুজন দুজনের কেয়ার করা।ফোনে কথা বলা,শাসন করা,রাগ অভিমান ভাংগানো।সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছিল তাদের দিন গুলো।এমনি করে একদিন রিয়াদ বলে,
--মিথীলা বাবা আমাকে দেশের বাইরে যেতে বলছে অফিসের কাজে।এক বছর এর আগে আসব না।আমি তোমাকে ছেরে যেতে চাই না।তোমাকে না দেখলে কি করে থাকব আমি।
--রিদু এক বছর তো।।দেখতে দেখতে চলে যাবে।তুমি যাও। দেশে ফিরে তোখন আমাদের কথা দুজিনেই বাড়িতে বলব।
--কিন্তু,,
--কোনো কিন্তু নয়।বেস্ট অফ লাক।
,
এরপর রিয়াদ বিদেশ চলে যায়।।বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পর্যন্ত তাদের ভালোই কথা হয়।এক পর্যায় মিথীলা দেখে রিয়াদ তার সাথে ভালো করে কথা বলছে না।ফোন দিলে রিং হয় রিসিভ হয় না। নিজে থেকে ফোন দেয় না।কখনও ফোন ধরলে যদি বলে ফোন কেনো রিসিভ করে না।।তখন কাজের কথা বলে এরিয়ে যায় রিয়াদ।এদিকে রিয়াদের কথা ভেবে মিথীলা কান্না করে।কেনো রিয়াদ পাল্টে গেলো।আগে তো হাজার কাজের মধ্যেও মিথীলার খবর নিত সময় মতো তাহলে আজ কেনো এরকম করছে।মিথীলা রিয়াদের বন্ধুর থেকে জানতে পারে বিদেশে গিয়ে নাকি রিয়াদ কোন এক মেয়ের প্রেমে পরেছে।কয়েক দিন পর নাকি বিয়েও করবে।মিথীলা এই কথা শুনার পর অনেক কান্না করে।না খেয়ে থাকে। চ্যাম্বারেও যায় না।এমন দেখতে থাকে মিথীলার বাবা মিথীলার বিয়ে ঠিক করে।মিথীলা বিয়ের জন্য না করে কিন্তু তার বাবা বলেছে বিয়ে না করলে তিনিও কিছু খাবেন না।মেয়ের এতো কষ্ট আর সয্য করতে পারছেন না তিনি।বাবার কষ্ট সয্য করতে না পেরে বিয়েতে রাজি হয় মিথীলা।এরপর মিথীলার বিয়ে দিয়ে দেয়।বাসর রাতে মিথীলা তার স্বামী কে সব বলে।মিথীলার স্বামী নাজমুল বলে আমি রিয়াদের জায়গা নিব না শুধু তার পাশে অল্প একটু জায়গা দিও তাতেই হবে।
,
এরপর চলতে থাকে মিথীলা আর নাজমুলের সংসার।আস্তে আস্তে রিয়াদের কথা ভুলতে থাকে মিথীলা।নিজের স্বামী নাজমুল কে আপন করে নেয়।আবার ভালোবাসা নতুন করে শুরু হয় তাদের।তাদের এক ৫ বছরের মেয়েও আছে এখন।আর আজকে সাত বছর পর রিয়াদ কে দেখে মিথীলা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। গাড়ির হর্ণ এর শব্দে হুস আসে মিথীলার।রিয়াদের পাশ কাটিয়ে চলে যেতে লাগে মিথীলা।কিন্তু হাতটা ধরে নেয় রিয়াদ,
--মিথীলা আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না।
--হাত টা ছারুন।আশেপাশের মানুষ দেখছে।কিসের জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন আপনি?
--আমি তোমাকে এখনও ভালোবাসি।সেদিন পরিবারের চাপে আমায় বিয়ে করতে হয়েছিল।আর আমার ওই বন্ধু বাবার কথা মতো তোমাকে মিথ্যা বলেছিল।বাবা আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে জেনে গিয়েছিল তাই বিদেশ পাঠিয়ে দেয়।আর সেখানে একটা মেয়েকে আমার পিছনে লাগিয়ে দেয়।আমি সত্যি অনেক ভালোবাসি।মানছি আমি বিয়ে করেছি কিন্তু তুমি চাইলে আমি সব ছেরে চলে আসতে পারি।
--ভালো করেছেন।আমিও এখন বিবাহিত। আমার স্বামী আর মেয়ে কে নিয়ে সুখেই আছি।দয়া করে আপনি আমাদের মাঝে আসবেন না।আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে সুখে থাকুন(অনেক কষ্টে মিথীলা কথা গুলো বলে।চোখের পানি লুকিয়ে নেয় মিথীলা)
,
এই বলে হাতটা ছারিয়ে নিয়ে চলে যায়।আজ আর চ্যাম্বারে যাবে না মিথীলা।মাথা টা ব্যাথা করছে।চোখের পানি গুলো যেনো কথা শুনছেনা।নিজেদের মতো করে ঝরেই যাচ্ছে।এতো আটকানোর চেষ্টা করছে কিন্তু সব কিছুই বৃথা।।বাড়িতে এসেই দরজা লাগিয়ে কান্না করতে থাকে।কান্না করতে করতে কখন ঘুমিয়ে পরেছে জানে না।মেয়ের ডাকে ঘুম ভাংগে মিথীলার। বাইরে থেকে তার মেয়ে দরজা ধাক্কাচ্ছে।মিথীলা তারাতারি উঠে চোখ মুখ,চুল ঠিক করে নিয়ে বাইরে গেলো।দেখল নাজমুল সহ তার মেয়ে দারিয়ে আছে।
--তুমি আজকে এতো তারাতারি এলে যে।
--অফিসে কাজ নেই তাই চলে এলাম।কি হয়েছে, কখন থেকে মেয়ে দরজা ধাক্কাচ্ছে খুলছ না কেনো?কিছু হয়েছে কি
--না না? কিছু হয়নি।.একটু ঘুমিয়ে পরেছিলাম।মৌ মামনি তুমি যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেও।।
,
রাতে সবাই খাওয়া করে ঘুমিয়ে গেছে।শুধু ঘুমায়নি মিথীলা।তার চোখে এখন ঘুম নেই শুধু আছে পানি।যা অঝর দ্বারায় বইছে।মিথীলা উঠে বেলকনিতে গেলো।আকাশের তারা দেখছে।আর পুরনো কিছু সৃতি মনে করছে।রিয়াদের সংগে একসাথে তারা দেখেছে, চাঁদ দেখেছে,রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটেছে।পুরনো ক্ষত টা নতুন করে আবার উঠেছে। হঠাৎ মিথীলা তার কাধে কারো স্পর্শ পেলো।তারাতারি করে চোখ মুছে পিছন ফিরল দেখল নাজমুল।
--কি হল তুমি ঘুমাওনি?
--তুমিও তো ঘুমাওনি।কি হয়েছে বল তো?
--রিয়াদ এর সাথে দেখা হয়েছিল।ফিরে পেতে চায় আমাকে।
মিথীলার কথা শুনে নাজমুল ভয় পেয়ে গেলো।নাজমুলের মনে হচ্ছে এবার সে মিথীলাকে হারাবে।মিথীলা যদি রিয়াদের কাছে যেতে চায়।নাজমুল ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল,
--তুমি কি ফিরে যেতে চাও রিয়াদের কাছে?
--নাজমুল(এক উচ্চস্বরে বলে উঠল মিথীলা)
--আস্তে আস্তে মৌ ঘুমাচ্ছে।
--আস্তে মানে।রিয়াদ আমার অতীত তার চেয়েও বড় কথা সে আমাকে ছেরে চলে গিয়েছিল।এখন সে ফিরে আসলে আমি কেনো যাব।নাজমুল আমাদের মেয়ে আছে সংসার আছে।তুমি আছ আমার কাছে।হ্যাঁ মানছি রিয়াদ কে দেখে আমার মনে তার জন্য আরো ভালোবাসা জেগেছিল কিন্তু সেটাকে বারতে দেই নাই।সেই ভালোবাসা তোমার ভালোবাসার কাছে তুচ্ছ। তুমি সব জেনেও আমাকে এতো ভালোবেসেছ।যেই ভালোবাসায় কিছু হারানোর ভয় নেই।আর আমি কি না ছেরে চলে যাব।।
নাজমুল মিথীলাকে জরিয়ে ধরে বুকের মধ্যে।এ যেনো এক প্রশান্তি।আজ আবার নতুন করে ভালোবাসতে চাইছে।নাজমুলের চোখেও পানি কিন্তু এটা হারানোর ভয়ে না।বিশ্বাস আর ভালোবাসার প্রাপ্তির জন্যে।আজ যেনো নাজমুল পরিপূর্ণ সব কিছুতেই।
--বাপি তুমি মামনি কে জরিয়ে ধরেছ কেনো?আমাকে জরিয়ে ধরে ঘুম পারাবে না।।
--ওরে দুষ্টরে তুমি এখনও ঘুমাওনি।
--তুমি ঘুম না পারিয়ে দিলে আমার ঘুম কি আসে?
--আচ্ছা চল তোমাকে ঘুম পারিয়ে দেই।
এই বলে তারা তিন জন ঘুমাতে গেলো।নাজমুল মৌ কে ঘুম পারিয়ে দিচ্ছে।মিথীলা নাজমুলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।নাজমুল মিথীলার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।আর মিথীলা চোখের ইশারায় বুঝিয়ে দিচ্ছে এই ভালোবাসা ছেরে সে কথাও যাবে না।এতেই যে পৃথিবীর সব সুখ।নাজমুল মিথীলার চোখের ভাষা বুঝে নিয়ে চোখ বন্ধ করে এক সস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।এ যেনো ভালোবাসার প্রথম প্রহর।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now