বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রিয় বাবা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অনয় (০ পয়েন্ট)

X লেখাঃ- অনয়........... মৃত্যুর সাথে সন্ধি করেই জীবনের আগমন। এই সন্ধি ভঙ্গ করার ক্ষমতা জীবনের নেই। তাই জীবনের সাধ্য নেই মৃত্যুকে এড়িয়ে যাওয়ার। তবুও সফল হবেনা জেনেও জীবনের মৃত্যুকে দুরে রাখার হাজারও চেষ্টা। বাবাও চেষ্টা করেছিলেন মৃত্যুকে এড়াতে। কিন্তু পারেননি। হার মানতে বাধ্য হয়েছেন মৃত্যুর কাছে। সবাইকে ফাকি দিয়ে মৃত্যু এসে তাকে নিয়ে গেছে দুরে। অনেক দুরে। যেখান থেকে কেউ কখনো আসেনি ফিরে। প্রিয় বাবা, তুমি কেমন আছ? ভাল আছো তো? বড্ড বেশী জানতে ইচ্ছে করে। বাবা তুমি কি রাতের আকাশে তারা হয়ে আছো? সবাই বলে মানুষ মরে গেলে নাকি তারা হয়ে যায়। তবে তুমি কোন তারাটা আমায় চুপি চুপি এসে বলে যাও। আমি কাউকে বলবো না। একা একা প্রান ভরে দেখবো। দেখ বাবা মা না একটুও ভাল না। তোমার একটা ছবিও এলবামে বন্দি করে রাখেনি। বল তো রাখা কি যেত না? তবে তো তোমায় দেখতে পেতাম তাই না? জান বাবা নানুর কাছে শুনেছি তুমি মারা যাওয়ার পর যখন তোমায় কবরে রেখে আসছিল আমি নাকি ভিশন কেঁদেছিলাম তোমার জন্য। তুমিও কি কেঁদে ছিলে আমার মত? কেঁদেছিলে তাই না বাবা? তবে চলে গেলে কেন তাহলে? প্লিজ ফিরে আসো। ওখানে কি তোমাকে আটকে রেখেছে কেউ? বল আমায় আমি তাদের আচ্ছা করে বকে দেব। জান বাবা স্কুলে যখন স্যার অভিবাবক সঙ্গে আনতে বলতো আমি পারতাম না। মা আমাদের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়ার জন্য চাকরি নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তাই তাকে কখনই পেতাম না। আর তুমি তো ফাকি দিয়ে চলে গেছো দুর অজানায়। জান বাবা আমি যখন ক্লাশ টুতে পড়ি তখন স্যার আমার সাথে তোমার আর আম্মুর নাম লিখতে বলেছিল। আমি লিখেও ছিলাম কিন্তু স্যার তোমার নামের আগে মৃত শব্দটি বসিয়ে দিল। আমি কয়েক জনের বাবার নাম দেখার পর এই শব্দটি না পেয়ে স্যারকে জিজ্ঞাসা করলাম কেন তোমার নামের আগে মৃত শব্দটি লিখে দিল। সেদিন স্যার আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল মৃত শব্দটার মানে। কিন্তু আমি বুঝেছিলাম কিনা মনে নেই। শোন বাবা আমি তোমাকে একটা কথা বলি। আবার কাউকে বলবে না কিন্তু তাহলে মাকে বলে দেবে। আর মা আমায় ভিশন বকবে। আমি না প্রতিদিন স্কুলে গিয়ে চুরি করে সুমনের ব্যাগ খুলে দেখতাম। কি খাবার নিয়ে এসেছে। ওর বাবা নাকি তাকে ভিশন আদর করে। তাই তার জন্য ভাল ভাল খাবার নিয়ে আসে। মা ও আমার ব্যাগে খাবার তুলে দিত তবুও কৌতুহল হত সুমনের ব্যাগ খুলে দেখার। বাবা তুমি আবার আমায় ভূল বুঝ না। আমি কখনই তার খাবারে হাত দিতাম না শুধু দেখতাম। আচ্ছা বাবা, বাবার আদর কেমন হয়? তুমি কি বলতে পার? কখনো পাইনি তো তাই তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি। অন্য কাউকে বললে হয়তো হাসবে না হলে করু না করবে। জান বাবা ঈদের সময় সবাই যখন তাদের বাবার হাত ধরে ঈদগাহ মাঠে যেত তখন আমি তোমায় ভিশন মিস করতাম। তুমিও কি ওখানে ঈদগাহ মাঠে যেতে? বল না বাবা, তুমিও কি আমায় মিস করতে? ভয় পেও না বাবা আমি সত্যি বলছি কাউকে বলবো না। জান বাবা সুমনের বাবা না অনেক দুরে চাকরি করে। যখন বাড়ি আসে তখন সুমনের জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর খেলনা, নতুন শার্ট, প্যান্ট, জুতা আর ভাল ভাল খাবার নিয়ে আসে। তাহলে তুমিও তো দুরে থাকো। তুমিও কি আমার জন্য অনেক খেলনা কিনেছ? তাহলে আস না কেন সুমনের বাবার মত। আচ্ছা বাবা তুমি কি আড়ি দিয়েছো আমার সাথে তা না হলে কথা বল না কেন আমার সাথে। দেখ আমিও কিন্তু কথা বলবো না তোমার সাথে। জান বাবা আমি না অনেক বড় হয়ে গেছি। সাথে সাথে তোমাকে মিস করার পরিমানটাও বেড়েছে বহুগুনে। আচ্ছা বাবা একটা বলবে আমায়, তুমি কি পথ ভুলে গেছো? তা না হলে আস না কেন। সবাই বলতো তুমি নাকি অনেক চালাক ছিলে। এখন দেখ তুমি কত্ত বোকা হয়ে গেছো। পথ চিনে বাড়ি-ই আসতে পার না। আর চিনবেই বা কেমন করে। সবকিছু তো বদলে গেছে। আগে যেখানে শুধু মাঠের পর মাঠ ছিল আর এখন সেখানে বাড়ির পর বাড়ি। আমাদের টিনের তৈরি ঘরটাও এখন কংক্রিটে বদলে গেছে। আগে কুপির আলোয় ঘর আলোকিত থাকলে ঘরের চারপাশ অন্ধকারে ঢাকা থাকতো। আর এখন বিদ্যুতের আলোয় জলমল করে। জান বাবা আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ধরে কিছুদুর যাওয়ার পর যে বিশাল কড়ই গাছ ছিল ওটা কেটে ফেলেছে। অনেক বাধা দিয়েছি তবুও শুনেনি কেটে ফেলেছে। আমি মনে মনে তোমাকে কত ডেকেছি। যাতে তুমি এসে তাদের বকে দাও যেন না কাটে। কিন্তু তুমি আসনি। ওদের জয় হয়েছে। বাবা তুমি কি দেখতে পাচ্ছ আমার চোখ হতে লোনা জল বেরি গাল বেয়ে মাটিতে নামছে। আমার হাত আর চলতেছে না। কেমন যেন নিথর হয়ে আসছে। ভাল থেকো বাবা যেখানে যেভাবেই থাকো। আজ তবে এখানেই রাখি। সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস, বছরের পর বছর পেরিয়ে যায় তবু কেহ ফিরে আসে না। সময়ের স্রোতে জীবনের নিয়মের বাস্তবতায় কত প্রিয়মুখ যোগ হয় স্মৃতির আয়নায়। হারানোর শত ক্ষত ভূলে তবুও ছুটে চলি বেচে থাকার তাড়নায়। মনে হয় জয়ী আমি মৃত্যুকে ধোকা দিয়ে দুরে ঠেলে দেয়ায়। না হলে আমি এখনো বেচে কেন এ নিখিল ধরায়। ♦♦♦♦♣♣♣♦♦♦♦


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমার প্রিয় বাবা
→ প্রিয় বাবা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now