বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চকচকে ছুরিটা বাড়িয়ে ধরল অন্তুর দিকে। ‘ফোনটা ধরো বাবু।
বলবা সব ঠিক আছে। উল্টাসিধা কিছু কইলে তুমি শেষ!’
দুই দিন পর ১৯ এপ্রিল। পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা! অথচ খালাতো বোনটার বিয়ের তারিখ পড়ার আর সময় পেল না! বাসা খালি করে সবাই উধাও। অন্তু যথেষ্ট বড় হয়েছে। দুটি দিন সাবধানে একা থাকতে পারবে, এমনটাই ধারণা সবার। কিন্তু নিচতলার গাছপালায় ছাওয়া বাড়িটায় একা একা থাকলে যে অন্তত ভূতের ভয় করবে, এমনটা মানতে রাজি নয় কেউ।
বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা। আপন মনে হাঁটতে হাঁটতে পড়ছিল অন্তু। সদর দরজা যে খোলা, বেমালুম ভুলে গেছে সেটা।
এদিকে অন্তুর মা-বাবা আর বড় বোনের চলে যাওয়ার দৃশ্য আগেই দেখেছিল মুখোশধারী লোকটা। ধারালো ছুরি হাতে দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ল নির্দ্বিধায়। হ্যাংলা-পাতলা অন্তুকে নিয়ে মোটেও টেনশন করল না তাগড়া লোকটা। ছুরিটা দেখাতেই ঢোক গিলল অন্তু।
‘টুঁ শব্দ করবা না!’
‘আপনার যা যা লাগে নিয়ে যান! আ আ আমার পরীক্ষা। মানে আমি কিছু বলব না!’
‘টাকা আর গয়না কোথায় আছে দেখাইয়া দাও, বাবু। বাকি কাজ আমার। ’
‘জি, ওই যে আলমারিতে যা আছে। কিন্তু তালাটা একটু কষ্ট করে ভাঙতে হবে আপনাকে। কারণ বাড়ির লোকজন সবাই চলে গেছে। ’
‘বাহ! গুড গুড! আমার হাতে অনেক টাইম। আস্তে-ধীরে সব নিয়া যাইতে পারব। ’
এমন সময় বেজে উঠল অন্তুর মোবাইল ফোন। মা ফোন করেছেন। সব ঠিক আছে কি না তা জানতে নিশ্চয়ই। আততায়ী এসে চকচকে ছুরিটা বাড়িয়ে ধরল অন্তুর দিকে।
‘ফোনটা ধরো বাবু। বলবা সব ঠিক আছে। উল্টাসিধা কিছু কইলে তুমি শেষ!’
অন্তু তা-ই করল। টেনশন করতে নিষেধ করল মাকে। এরপর রেখে দিল। ডাকাত লোকটা আপন মনে গুছিয়ে নিচ্ছে জিনিসপত্র। এদিকে ভয়ে পড়ায়ও মন বসছে না অন্তুর। এমন সময় আবার ফোনের রিংটোন। এবার ফোন করেছে সহপাঠী রাতুল। ফোনটা কেড়ে নিতে যাচ্ছিল ডাকাতটা। তার আগেই অন্তু বলল, ‘আমি ফোন না ধরলে ও সন্দেহ করবে, পরে মাকে জানাবে। ’ কাজ হলো। অনুমতি মিলল ফোন ধরার।
‘কিন্তু কথা সব আগের মতো বলবা, ঠিক আছে? যদি কও ডাকাত আসছে বাসায়, তাইলে পুলিশ আইসা তোমার লাশ পাইব। আমারে পাইব না। ’
অন্তু ফোন রিসিভ করেই বলতে লাগল, ‘রাতুল, কী রে খবর কী? রিভিশন সব দেওয়া হয়েছে? শোন, অ্যাকাউন্টিংয়ের নোটগুলো জুবায়ের চেয়েছিল। কিন্তু আমি এখন কী করে দিই! আর শোন, বাসায় কেউ নেই। সবাই বেড়াতে গেছে। আর হ্যাঁ, ফিজিকস প্রথম পত্রের পরদিন আমার কাজিনের বিয়ে পড়ে গেছে। ওই দিন সেকেন্ড পেপারের পরীক্ষাটা না থাকলে যেতে পারতাম; কিন্তু পারিনি। ওকে, পারলে আমাকে হেল্প করিস একটু। রাখি। ’
কথা শুনে ডাকাত লোকটা খুশি। সে চলে গেল টিভি, ফ্রিজ—এসব নামাতে। কাকে যেন ফোন করে ভ্যানগাড়িও আনতে বলেছে। অন্তুর হাত থেকে ফোনটাও কেড়ে নিয়েছে এর মধ্যে। এদিকে আলগোছে পড়ার রুমে ঢুকে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিল অন্তু। আধাঘণ্টা না যেতেই দরজায় পায়ের শব্দ। এরপর কানে এলো ধরপাকড় আর ধস্তাধস্তি। ওয়াকি-টকির ঘরঘর শব্দটা শুনে বুঝল, সময়মতোই এসেছে পুলিশ। যাক, রাতুল ধরতে পেরেছে বিষয়টা।
এবার বলো, অন্তুর কোন কোন কথায় রাতুল বুঝতে পেরেছে যে সে বিপদে পড়েছে। কালের কন্ঠ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now