বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নাম কি তোমার? এতো রাতে এই নির্জন
যায়গায় একাকী বসে আছো যে?
মেঘা:- আমি কই যামু, কোথায় বইসা
থাকমু তা যাইনা আপনার কি?
শুভ্র:- পাগলামি করোনা, এখন রাত ৯ টা
বাজে।আজে বাজে ছেলেরা রাস্তায় ঘুরছে।
বাসায় চলে যাও।
মেঘা:- যামু না।রাইতে এনেই ঘুমামু।আমি
অনেক জেদী বুঝছেন।গ্রাম থাইকা পালাই
আইছি।মাত্র ১৬ বছর আমার, একটা আধা
বুইরা ব্যাটার লগে বিয়া দিবার ধরছিলো।
কাথা বালিশ ও নিয়া আসছি।
এই গাছের নিচে শুইয়া পরমু।
এই সজীব তরুলতা যে মানসিক অনুভুতি
নিয়া নির্মম খেলায় মাতে না।
শুভ্র:- না,এখানে রাতে ঘুমোনো যাবেনা।
খারাপ ছেলেরা তোমার ক্ষতি করবে।
মেঘা: এহ,আমার ক্ষতি করবো!এমন ঘুষি
মারমু লুঙি তুইল্লা দৌর মারবো আম্মা
আম্মা কইরা।আর কি ক্ষতি করবো হুম?
শুভ্র:- খারাপ কাজ করবে তোমার সাথে
জোর করে।তুমি কিচ্ছু করতে পারবেনা।
মেঘা: - ধুর বোকা।পারবো না।আমার কি
কম শক্তি আছে নাকি!
শুভ্র:- পত্রিকা কিংবা নিউজে দেখছোনা
প্রতিদিন কত্তো মেয়েকে ধরষণ করা
হচ্ছে!
মেঘা:- ধরষণ এটা আমার কেমন জিনিশ!
ক্যামনে করে! বেশী লেকচার মাইরেন না
কইলাম।তাহলে কিন্তু আপ্নারে ধরষণ
করুম হুম,।
শুভ্র:- চুপ করো ইডিয়ট।এতো বড় ঢেঙি
মেয়ে এটাই বোঝেনা।
মা বা বোন কিছু শেখায় নাই তোমারে?
শারী ঠিক করে পরো।
মেঘা:- ওই বেটা আপনি আমারে ঝাড়ি
মারেন ক্যান? খামছি দিমু কিন্তু।কামরাই
মুখ লাল কইরা দিমু। যান ভাগেন।
মেয়েটার অবুঝ আজগুবি স্বভাব আমাকে
চুম্বকের মতো টানতে শুরু করলো। ওর
মায়াবী অবুঝ অবুঝ চেহারার দিকে তাকিয়ে
থাক্তেই ইচ্ছে করছে।
মেঘা:- ওই, আমার না খিদা পাইছে।কিছু
খাইতে দেন না?রাইত থাইকা কিচ্ছু খাই
নাই।
শুভ্র:- হুম দিবো। আমার সাথে আমার
মেসে চলো।এখানে একটু পরে ভুত
পেত্নীরা খেলা করতে আসবে।
মেঘা:- ও বাবাগো,ও মাগো।
ও আমাকে অবুঝ বাচ্চাগুলোর মতো
শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো .
আমি নিস্তব্ধ মুরতির মতো দারিয়ে
রইলাম।এক বিন্দুও নরতে পারছিলাম না।
শুভ্র:- এই মেঘা,ভয় নেই, ছারো বলছি?
তারপর ও আমার গলা ছেড়ে দিলো।
শুভ্র:- হি হি হি।কি মজা কি মজা।আপনার
গালে লিপ্সটিক এর অনেক গুলা দাগ।হি হি
হি,হু হু হু হা হা হা।
শুভ্র:- চুপ করো মেঘা,এমন পাগলামো
করেনা।আমার মেসে চলো।
মেঘা:- হুম,চলেন।অই আপনার প্যাট টা
এতো মোটা ক্যান? আপনি কি প্যাটলা!
এখন থাইকা কম খাইবেন।দেখছেন না আমি
কি সুন্দর চিকনা।
শুভ্র:- চুপ করো বলছি।রাস্তার মধ্যে
আর এক্টাও কথা নয়।মেসে গিয়ে কথা হবে।
মেঘা:- ওকে আংকেল।
শুভ্র:- ওই,আমি তোমার আংকেল!
মেঘা:- হুম,
শুভ্র:- আর কখনো আংকেল বলবেনা
আমাকে।
মেঘা:- তাইলে কি কমু,প্যাটলা না লম্বু!
শুভ্র:- আজব তো! রাগাবেনা বলছি!
মেঘা:- হুম,আর কমুনা,এই কান ধরছি।মাফ
করেন।
শুভ্র:- আমাকে ভাইয়া বলবে কেমন?
মেঘা:- হুম,আচ্ছা।আমারে একটা গান
শুনাইবেন?
শুভ্র:- নাহ,এখন সম্ভব না।আগে মেসে
চলো।
তারপর রিক্সায় ওঠা মাত্র রিক্সা ওয়ালার
আজাইরা প্যাচাল শুরু।
মামা সেই মানাইছে।বিয়া কইরা ফালান।
মেঘা:- ওই কি কইলেন! কারে বিয়া করমু
আপ্নারে?
না গো আফা।এমন জাতীয় কপাল কি
আমাগো আছে নি!
ওই মামার কথা কইলাম।
মেঘা:- প্যাটলায় ভুরি না কমাইলে হ্যারে
কোনো মাইয়া বিয়া করবো নাকি! খালি
প্যাটটাই আগে আগে দৌরায়।
দেখছেন না আমারে কোন চিপাত
ফালাইছে!
আমি ওর অবুঝ কথা গুলি শুনে এবার আর
রাগ করে থাকতে পারলাম না।
দু দুটি বছর কেটে গেছে। কেউ আর মেঘার
খোজ নিতে আসেনি।মাস দুয়েক পর ওর
hsc ফাইনাল।ওর মধ্যে বিশেষ
পরিনতিবোধ চলে এসেছে।ও এখন আর
আগের মতো অবুঝ পাগলামি করেনা।
আমাকেও খুব বেশী অবহেলা করে।কথা
বললে উত্তর না দিয়েই চলে যায়। বাসায়
থাকলে সারাদিন আম্মুর আচল ধরে ঘুরতে
থাকে।তবে বাবাকে ভীষণ ভয় পায়।আমার
বাবা মা ওকে নিজের মেয়ের মতো করে
ভালোবাসে।তবে ওর অবহেলিত আচরন
গুলি আমাকে মাঝে মাঝে ভীষণ কষ্ট দেয়।
না হয় ভুল করে ভালোবাসি কথাটা
বলেছিলাম! আগে জানলে কখনই বলতাম
না।আসলে ওর অনুভুতিতে প্রেমের
বিন্দুমাত্রও অস্তিত্ব নেই।
"''"' নারী শান্তশিষ্ট লেজবিহীন আজব
এক প্রানী,অবহেলা করতে করতে এক সময়
সেই অবহেলিত মানুষ টাকেই সবচেয়ে বেশী
ভালোবেসে ফেলে"""""
সেই আশায় বিরহে পাথর হয়ে বসে আছি।
কবে পাবো বালিকার মধুময় উত্তর।
সে দিন প্রচুর জোস্না ছিলো।ও ছাদে
বসে একা একা জোস্না বিলাস করছিলো।
আমি ছাদে আশা মাত্র চলে যেতে উদ্দত
হয়েছিলো।
আমি পেছন থেকে হাত টা টেনে ধরলে ও
হোচট খেয়ে উলটে পরে।পায়ে অনেক বেশী
ব্যাথা পায়।
মেঘা:- ও মাগো,
আমি ওকে ধরে তুলার চেষ্টা করছি, কিন্তু
ও কিছুতেই উঠে দাড়াতে পারছেনা।
শুভ্র:- মেঘা,sorry.মাফ করে দাও।আমাকে
ধরে উঠে দারানোর চেষ্টা করো.
মেঘা:- পারছিনা,হাটু মচকে গেছে।আন্টিকে
ডাকেন প্লীজ।
শুভ্র:- আম্মু বাজারে গেছেন।আমি
তোমাকে কোলে করে রুমে নিয়ে যাচ্ছি।
মেঘা চুপ করে রইলো। না জানি মনটা
শীতল হতে শুরু করেছে কিনা।চোখের
ভাষায় যে অসীম পবিত্রতা।
আমি ওকে কোলে করে শিরি বেয়ে নেমে
চলেছি।ও খুব শান্ত নয়নে আমার চোখে
চোখ রেখে চেয়ে আছে।
""''" মেয়েদের নিষ্পাপ হাসির আরালে
লুকিয়ে থাকা পবিত্রতা মিশ্রিত
ভালোবাসা খুব কম জনি অনুধাবন করতে
পারে,যে মন থেকে অনেক বেশী
ভালোবাসে তার জন্য এই অনুভুতির কাছে
যাওয়া অনেক সহজ তর।
শুভ্র:- মা তুমি কখন আসলে?
মা:- এই মাত্র,কি হয়েছে ওর!
শুভ্র:- মা পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে।
মা:- সাবধানে নামাস রে বাবা আমার লক্ষী
মা টাকে।এবার নিয়ে চার বার ওকে আঘাত
করলি! তোর কি মায়া দয়া নাই রে! শুভ্র।
এমন কিউট মেয়ে টাকে বার বার কাদাইস
ক্যানরে।
শুভ্র:- মা,আমি ইচ্ছে করে ওকে কষ্ট দেই
নি তো. ভুলে হয়ে গেছে।
মা:- আরে তুই কাঁদছিস ক্যান।বোকা ছেলে
আমার,আমি বুঝলাম তো?
যা গোসল করে খেতে আয়।ঘেমে জবুসবু
অবস্থা।
শুভ্র:- ওকে,মা।তুমি ওকে একটু দেখো
ভালো করে।
মেঘা:- আন্টি শুভ্র ভাইয়ের কোনো
দোষ নেই। ভুলে হয়ে গেছে।
মা:- এখন উত্তর দিবেনা মা ওর কথার।
তিলে তিলে কয়লার মতো খাটি করে নিস
মা শুভ্র কে। যখন বুঝবি শতভাগ
ভালোবাসে তখন কাছে টেনে নিস মা।আগে
বুঝতে দিস না।
""'' পুরুষ একটা অতিকায় পাথর পিন্ড,এরা
নারী রুপশ্রীকে ভালোবাসে,নারীর রুপ
এদের কে চুম্বকের মতো টানে,কারনে
কিংবা অকারনে নারী বদল করে,নতুন নতুন
রুপশ্রীতে মাতে।
এদের কে তিলে তিলে জ্বালিয়ে পুরিয়ে
ক্ষত বিক্ষত করে যাচাই করে নিতে হয়।
মেঘা:- আন্টি,আমার যে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।
আমি যে ওনাকে অনেক বেশী ভালোবাসি।
ইদানিং ওনার চেহারাটাও কেমন জানি
শুকিয়ে গেছে।আর কতো দিন আন্টি?
আমি যে আর পারছিনা।
মা:- কাঁদিস নারে লক্ষী মা।আর দিন
পাঁচেক দেখ।ছেলেদের মন বোঝা বড় দায়।
ওরা যে আবেগে ভাসে,আর বাস্তবতাই
নারীর অবলম্বন।তুই একটু ঘুমা মা,আমি
মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।আমার কিউট
মাম্মীটা।
2
মেঘা:- আন্টি,ও আন্টি।
আন্টি:- কি হয়েছে মা!
মেঘা:- আমার কেনো জানি ঘুম আসছেনা।
খুব খারাপ লাগছে।
আন্টি:- বাবা,মায়ের কথা মনে পরেছে
বুঝি?
মেঘা:- হুম।
আন্টি:- কেদোনা লক্ষী আম্মু।
আমাকে মা বলে ডাইকো।আমি যে
তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা।
কিরে শুভ্র! রাত ১২ টা বাজে।সকালে
ভার্সিটি যেতে হবে।রুমের সামনে লটর পটর
কি জন্য? যা রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পর।
শুভ্র:- মা একটা অনুমতি নেয়ার জন্য
আসলাম।সকালে তো তোমাকে পাওয়া
যাবেনা। তুমি তো জগিং এ বের হবে!
মা:- বল,কি বলবি?
শুভ্র:- কাল ভার্সিটি তে কন্সার্ট আছে।
আমি মেঘাকে নিয়ে যেতে চাই।ও তো বেরই
হয়না।দেখছোনা চেহারাটা কেমন জানি
শুকিয়ে গেছে?
মা:- ও কি তোর বউ! যে সাথে করে নিয়ে
যাবি। বেহুদ্দা ছেলে একটা!
মেঘা মায়ের কথা শুনে লজ্জায় লাল হয়ে
মায়ের আচলে মুখ লুকিয়ে শুয়ে রইলো।
আমি মাকে ভীষণ ভয় পাই।তাই মাথা নত
করে রুমে এসে শুয়ে রইলাম।
"""মানুষ মাত্রই আজব আজব
কান্ড,আজবের পেছনে ছুট,তারপর গজব
দেখে পলায়ন।
মেঘা তুমি কি একদিনো বুঝবেনা আমাকে?
একটি বারের জন্য ভালোবাসি কথাটি
বলবেনা।
চারদিক থেকে ধেয়ে আসছে অসহায়
উদ্দীপনা গুলি।
আমার প্রিয়া যে আমার নয়।
ওর মনে যে আমার বিন্দুমাত্র অস্তিত্ব
নেই।যদি থাকতো অন্তত একটি বারের
জন্য ভালোবাসি বলে বুকে জরিয়ে
নিতো।
প্রচুর জ্বরে কাপছি থর থর করে।বিছানা
থেকে ওঠার শক্তি অবধি নেই।
আমার এমন অবস্থা দেখে মা শিয়রে বসে
কেদে কেদে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছেন।
ডাক্তার আংকেল এক সপ্তাহ রেস্ট এ
থাকতে বলেছেন।
জ্বরের চেয়ে জ্বরার প্রবনতাই নাকি
বেশী।
ওই যে চোখে ভাসছে সেই বিক্ষাত উক্তি,
রোগ শোক জ্বরা তারপর mrittu.
" নারী কে ভালোবেসো, এরা পুরুষের
ভালোবাসা পেতে চায়,যে ভালোবাসায়
থাকে অনাবিল পবিত্রতা,থাকেনা রক্ত
মাংসের নরম মধুময় স্তুপের প্রতি
বিন্দুমাত্র আকাঙ্ক্ষা।
শুভ্র:- মা,ও মা মেঘা কোথায়?
মা:- ওই ঘরে বসে সেই সকাল থেকে ফুঁপিয়ে
কাঁদছে।চোখ গুলি ফুলিয়ে ফেলেছে কাদতে
কাদতে।
শুভ্র:-কার জন্য কাঁদছে মা?
মা:- জানিনা বাবা।ওকে ডেকে দিচ্ছি
জিজ্ঞেস কর।
এই মেঘা,মা এদিকে আয় তো।শুভ্রর
মাথাটা একটু টিপে দে তো মা।আমি একটু
বাহির থেকে ঘুরে আসছি।
মেঘা:- হুম আন্টি,আমি আসছি।
মেঘা ছল ছল চোখ নিয়ে আমার পাশে
এসে বসলো।কিছু বলছেনা।চোখ দিয়ে
অবিরাম অশ্রু ঝরিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
কি অবুঝ আর পবিত্র সেই কান্না।ক্রন্দন
রত রুপশী নারীই হচ্ছে জগতের সব চেয়ে
সুন্দর তম বস্তু।
শুভ্র:- মেঘা।
মেঘা:- হুম।
শুভ্র:- কাঁদছো কেনো?
মেঘা:- আপনার অনেক জ্বর।
শুভ্র:- এ জন্য।
মেঘা:- হুম।
শুভ্র:- কিছু বলো মেঘা প্লীজ।
মেঘা:- আমার ভয় করছে।
শুভ্র:- তোমার কপল এর নিচে হেলে পরা
চুলগুলো একটু ছুয়ে দেখি?
মেঘা:- হুম।
শুভ্র:- আমার কপালে একটা আদর দিবা।
মেঘা:- আমার ভয় করে,আপনি দেন আমার
কপালে।
শুভ্র:- আমার জ্বর কমে গেছে মেঘা।
তারপর মা কোত থেকে জানি রুমে এসে
উপস্থিত হলেন।
মা:- শুভ্র,এখন ঘুমিয়ে পর।মেঘা তুমি
আমার সাথে এসো। গোসল করে একটু
বাহিরে বের হবো।
শুভ্র:- মা,আমিও যাবো।
মা:- একটা ও কথা বলবিনা।ঘুমা বলছি।
তারপর আমি মন খারাপ করে শুয়ে রইলাম।
মা মেঘাকে নিয়ে শপিং এ গেছেন।
আমি চুরি করে মেঘার ডাইরি টা পরে সব
কিছু বুঝতে পারলাম।
আজকের দিন টা কেনো জানি eid eid
উপলব্ধি আসছে।
""""কল্পনা বিলাসী কে গো তুমি?
আমার আমির কল্পনা, নাকি অজান্তার
ভালোবাসা? আমার আকাশে এলে বুঝি
নিজেরী অজান্তে""""""
বছর খানেক কেটে গেছে।অনার্স ফাইনাল
দিয়ে অনেক টাই ফ্রি আমি।
মা মেঘার চুল আছরিয়ে দিচ্ছেন।
ও মাঝে মাঝে আর চোখে আমার দিকে
তাকাচ্ছে।আমি মায়ের এক কাধে হেলান
দিয়ে রইলাম।
মা:- কি রে কিছু বলবি?
শুভ্র:- মা আমার চুল গুলোও আছরায়
দাওনা?
মা:- যা রুম থেকে চিরুনি নিয়ে আয়?
আমি পারমুনা,তোর চুলে কি সব গিট রে
বাবা! মেঘা দাও তো একটু আছরিয়ে মা।
আমি রান্না ঘরে গেলাম।
শুভ্র:- মেঘা একটু হাত টা বারাও না, ছুয়ে
দেখি?
মেঘা:- হুম নেন।
শুভ্র:- অনেক নরম তোমার হাত গুলি।সব
সময় ধরে থাকতে ইচ্ছে করে।মেঘা?
মেঘা:- হুম।
শুভ্র:- মাকে আমাদের ইয়ের কথা
বলোনা?আমার তো ভয় করে।
মেঘা:- মা নিজেই বলেছেন আমাকে।
শুভ্র:- তাহলে আমাকে বলেন নি কেনো?
মেঘা:- মেয়ের নাম আঞ্জুম।
শুভ্র:- আজব তো! এটা কি রকম সিধান্ত!
মাথাটাই খারাপ করে দিলে সকাল সকাল।
মেঘা:- আঞ্জুম চৌধুরী মেঘা।
আমার বাবা মাও রাজি।ওনারা কাল
আসছেন।
শুভ্র:- মানে তুমি আমার বউ।এমন কিউট
একটা বউয়ের স্বপ্ন যে কত্তো দেখেছি!
মা:- ওই শুভ্র তো র কি অফিস নাই?
কয়টা বাজে এখন? সারাদিন বউয়ের লেজ
ধরে ঘুরবি নাকি?
শুভ্র:- কই মা, মেঘার তো লেজ নাই।মেঘা
ঘোরোতো একটু পেছনে।
মেঘা:- মা দেখো আমার সাথে কেমন
করছে তোমার ছেলে।
মা:- শুভ্র যা বলছি।আর শোন বউমার
জন্য চাটনি নিয়া আশিস আসার সময়।
শুভ্র:- মা মেঘা কি আমার বউ হয়ে গেছে?
আজ আমাদের বাসর রাত।মেঘা কি অপরুপ
সাজেই না ঘোমটা মাথায় বউ সেজে বসে
আছে।যে মেয়েটাকে এতোদিন এতো
কাছাকাছি দেখে গেলাম আজ কেনো জানি
তার সামনে যেতে ভীষণ ভয় করছে।
এক পরিচিত ভাবী এসে আমার ঘারে হাত
দিলেন।তন্দ্রা ভাবী, ভীষণ দুষ্ট
স্বভাবের।
মুখে কিচ্ছু আটকায় না?
তন্দ্রা:- শুনলাম মেয়ের নাকি আগে
একবার অল্প বয়সে বিয়ে হলেছিলো।
ওদের গ্রামের পাশেই আমার শশুর বারী।
লোকে কানাঘুসা করছে।পাচ মাসের একটা
বাচ্চাও ছিলো।ওকে রেখে নাকি ঢাকায়
পালিয়ে এসেছে?তোর কাছে সব কিছু
গোপন করা হয়েছে।
আমি আর নিজেকে সংযত রাখতে পাড়লাম
না।মাথাটা বন বন করে লাটিমের মতো
ঘুরছে।ছিহ,মেঘা তুমি কি করে আমার সাথে
এমন প্রতারনা করলে।
""""""অতিরিক্ত বিশ্বাস হচ্ছে এক
ধরনের মানসিক জঘন্যতম দুর্বলতা,আমি
সেই জ্বলন্ত উপলব্ধি।
রুমে ঢুকেই গেইট টা লক করে দিলাম।
সব কথা যখন মেঘা কে বললাম।ও কিচ্ছু
বলছিলো না শুধু কাঁদছিলো।
শুভ্র:- আমার উত্তর চাই! না হলে
পরীক্ষা করে দেখতে বাধ্য হবো।
মেঘা:- কি পরীক্ষা করবেন আপনি?
আর আমাকে বিশ্বাস করেন না আপনি।
কি নির্মম ভাবেই না কাঁদছিলো,অনেক
মায়া হচ্ছিলো,কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে
কঠিন হতে বাধ্য করেছিলো।
শুভ্র:-আমি তোমার সতীত্ব পরীক্ষা
করে দেখতে চাই।তুমি নিজেই দেখাও।তুমি
সতী না হলে আমি তোমাকে ছুয়েও
দেখবো না।
মেঘা কাঁদতে কাঁদতে রুম থেকে বেড়িয়ে
গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু
করলো।
মেঘা:- মা,ও মা,উনি আমাকে,,,,,,,,
আর কথাই বলতে পারছিলো না।
তারপর ধীরে ধীরে সব কিছু মায়ের কাছে
খুলে বলেছিলো।
মা এসে আমার দু গালে অনেক জোরে দু টা
থাপ্পর দিয়েছিলো।
আমার মা একজন বিচক্ষন নারী। উনি না
বুঝে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন না।
মা:- ওই তন্দ্রাই তোকে এই সব বলেছে।
ওই বিবাহিত মেয়েটাই তোকে বিয়ে করতে
চেয়েছিলো।অনেক ছলচাতুরী করতো
আমার কাছে।ওর বর নাকি বিকলাঙ্গ হয়ে
গেছে accident করে।এ জন্য তেলে বেগুনে
জ্বলছে।
এখন শামলা মেঘাকে।ওকে তুই অনেক বড়
কষ্ট দিয়ে ফেলেছিস।
মেয়েটা কতো স্বপ্ন নিয়ে বাসর ঘরে
তোর অপেক্ষা করছিলো! তুই কুলাঙ্গার
একটা এই কথা বলেই মা কাঁদতে শুরু
করলেন।
3
আমার মা মেঘাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে আমার
কাছে পাঠিয়ে দিলেন।মেঘা অনেক বেশীই
শান্ত আর নীরব হয়ে গেছে বড় হওয়ার
সাথে সাথে।
কি করে পারলাম এমন একটা পবিত্র মেয়ের
সাথে এমন অশ্লীল ভাষায় কথা বলতে!
""প্রতিটা মানসিক অস্তিত্বে মিশে আছে
অশ্লীলতা, কোনোটা নীরবে থেকে যায়
আর কোনোটার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
যে যতোটা সভ্য, তার অশ্লীলতার
প্রকাশ ও ততটাই নগন্য।
মেঘা কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পাড়ছেনা।
অবুঝ শিশুর মতো মাথা নিচু করে কেপে
কেপে কেঁদেই যাচ্ছে অহর্নিশ।
আমারো প্রচুর কাঁদতে ইচ্ছে করছে যে
ওকে বুকের মধ্যে শক্ত করে চেপে ধরে।
আমি ওর ঘোমটা টা সরিয়ে দিয়ে মুখ খানা
উপরে তুলে ধরলাম আলতো করে।এই
কয়েক মিনিটের বিরহে লাল টক টকে হয়ে
গেছে আমার প্রেয়সী।
মেক আপ গুলি অশ্রুজ্বলে নিস্তেজ হয়ে
যাওয়ায় ওকে আরো বেশী রুপশী লাগছে।
"""' রুপ যে তার অন্ধকারাচ্ছন্ন আবহ কে
নিমিশেই উরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অজান্তে
কোনো এক মধুময় স্বপ্ন রাজ্যে।
মেঘা:- কি দেখছেন এভাবে?
শুভ্র:- তোমাকে।অনেক কষ্ট পেয়েছো
তাই না?
মেঘা:- হুম,অনেক বেশী কষ্ট পেয়েছি।অন্য
কারো মুখ থেকে শুনলে এতোটা আঘাত
পাইতাম না।
শুভ্র:- সরি মেঘা।আমাকে মাফ করে
দিছো তো?
মেঘা:- নাহ,মাফ করতে পারিনি।
জানেন আমি আপনাকে অনেক বেশী
ভালোবাসি।আর আমি জানি আপনি
আমাকে আরো অনেক বেশী
ভালোবাসেন।এ জন্য ক্ষমা করতে
পারছিনা।
""" ক্ষমার অস্তিত্ব তখন তীব্র সংকটে
পরে যায়, যখন সব চেয়ে আপন মানুষ টা
অবিশ্বাস নামক তীর টা hrithpinde ছুরে
মারে,এই ব্যাথা যে আমি কিছুতেই সইতে
পারছিনা।
শুভ্র:- মেঘা,আমি কি করলে সেই ব্যাথা
থেকে নিস্তার পাবে তুমি?
মেঘা:- আমাকে সব সময় আপনার হৃদয়ে
গেথে রাখবেন।তাহলে ধীরে ধীরে ক্ষত টা
শুকিয়ে যাবে। আর প্রতিদিন একবার করে
আমার প্রেমে পড়বেন।প্রতিদিন নতুন
করে ভালোবাসা শুরু না করলে অবিশ্বাস
এসে বাসা বাধে।ধীরে ধীরে রঙিন স্বপ্ন
গুলি রংহীন হয়ে যায়। তখন শত চেষ্টা
করেও আগের মতো করে ভালোবাসা যায়
না।
শুভ্র:- এখন থেকে আমি তোমার আচল
ধরে ঘুরবো। তুমি সেখানে যাবে সেখানেই
যাবো।আরে আমি তো এটাই চাই।প্লীজ
লক্ষী বউ মাকে একটু বুঝাইও।
মেঘা:- বোকা ছেলে একটা!তখন তো বিয়ে
হয়নি।এ জন্য মা এক টু আধটু দুরত্ব বজায়
রাখতেন।কোনো ভুল ভাল কিছু না করেন
যেনো এ জন্য।
মা কাল আমাকে বলেছেন ছেলেকে তোর
হাতে তুলে দিলাম মা,ও একটু অগোছালো
আর সরল একটু গুছিয়ে নিস ওকে।
শুভ্র:- ওহ মেঘা,আমি কি তোমার সাথে
ভুল ভাল কিছু করতে পারি! এটা তুমি ভাবতে
পারলে?
মেঘা:- রাগ করবেন না প্লীজ! মজা
করলাম তো!
শুভ্র:- আমাদের মেয়ের নাম কি রাখবে
মেঘা?
মেঘা:- জাহ,দুষ্ট।
শুভ্র:- বলোনা মেঘা?
মেঘা:- মেয়ে হবে কি করে জানলেন?
শুভ্র:- স্বপ্নে কবেই বিয়ে বাসর বাচ্চা
কাচ্চা হয়ে গেছে আমাদের।প্রথম সন্তান
মেয়ে।দ্বিতীয় টা মেয়ে আর ৩ য় টা ছেলে।
নাম রাখা হয়নাই একটারো।
মেঘা:- ওই,আমার ভীষণ লজ্জা লাগছে
তো!
পরদিন সকালে মায়ের চেঁচামেচিতে ঘুম
ভাঙলো।
মা:- মা মেঘা উঠে রেডি হয়ে নাও,তোমাকে
নিয়ে একটু বাহিরে যাবো।
মেঘা:- আসছি মা।ওই আমার আচল ধরে
রাখছেন কেনো?
শুভ্র:- আমিও যাবো তো?
মেঘা:- আপনি কই যাবেন শুনি!এ সব
মহিলা মানুষের কাজ।আপনার না অফিস
আছে।
শুভ্র:- মাকে বলোনা,হানিমুনে যাবো
তোহ?
মা মেঘাকে নিয়ে বাহিরে গেছেন।বাসা
আত্নীয় স্বজনে ভরা।গেইট খোলা
ছিলো।আমার খালাতো দুই বোন রুমে
ঢুকে পরলো।চরম ফাজিল দুইটাই।রিমি
ক্লাস ১০ এ পরে আর রুপা ১২ ক্লাসে।
শুভ্র:- ওই তোমরা আমার রুমে অনুমমতি
না নিয়ে এসেছো কেনো?
রুপা:- ভাইয়া ক্যামেরা টা নিতে এসেছি।
শুভ্র:- ক্যামেরা মানে!
রুপা:- মানে আপনাদের প্রেম লিলা সেই
ক্যামেরায় বন্দি হয়ে গেছে।৫০০ টাকা দিন।
কেল্লা ফতে।
শুভ্র:- সময় আমারো আসবে বুঝলি!
দুইটারে যদি ড্রেনের পানিতে না চুবাইছি!
এই নে! এখন বল ক্যামেরা কই!
রুপা:- আপনি খোজেন বইসা বইসা। আমি
চললাম।
শুভ্র:- ওই,রুপা দাড়া বলতাছি।আরো ৫০
টাকা দিতেছি।এমন করিশ না লক্ষী বোন!
রুপা:- আমি চললাম।আর কোনো কথা
নাই।
ঘন্টা খানেক পর মেঘা আসলো মাকে
নিয়ে।আমি রুম তন্ন তন্ন করে খুঁজে রুমের
অবস্থা খারাপ করে ফেল্মাম।কিন্তু ওটার
অস্তিত্বও পাইলাম না।
মা:- ওই তোর কি মাথার একটা তার ছেড়া
নাকিরে!এ কি অবস্থা রুমের!
বাবাও এসে পড়লেন।
বাবা:- ছেলে তোমার সারকাসের স্টেজ
সাজাচ্ছে।হা হা হা।
বাবার কথায় মেঘাও মুচকি হাসছে।কি নাইস
লাগছে ওকে।
মা বাবাকে ধমক দিয়ে বললেন?
মা:- তুমি থামবে! পুরা বাপের মতো বিটলা
বাজ হইছে ছোরাটা।শুভ্র জবাব দে
বলছি?
শুভ্র:- মা মানে ওইটা খুজছিলাম?
মা:- আজব তো! ওইটা মানে কি?
শুভ্র:- মা মানে মেঘা জানে।ওকে বলো।
আমি একটু বাদরুমে যাচ্ছি। ও বাবাগো
গেলোরে!
কিছুক্ষন পর ফ্রেস হয়ে এসে দেখলাম
মেঘা রুম গোছাচ্ছে।
শুভ্র:- মেঘা পাইছো ওইটা?
মেঘা:- এই যে নেন পাইছি।
শুভ্র:- আরে ওটাতো জাঙিয়া!
মেঘা:- মা বুঝতে পেরেছেন।উনিই খুঁজে
দিতে বলেছেন।
শুভ্র:- মেঘা,ওটা রাখো বলছি।কি লজ্জা
জনক ব্যাপার।ওটা তো বাবার
পরিত্যাক্ত।রুপারা ক্যামেরা লাগিয়েছে
রুমে।
মেঘা:- হা হা হা হি হি হি।আর নাহ মজা
করছে।ওই টাকা দিয়ে ওদের সাথে আমিও
ফুচকা খেয়ে আসলাম।ওরা যে কি মজা
করছে আপনার কান্ড নিয়ে।রুপা অনেক
ভালো মেয়ে অরে কিছু বইলেন না।একটা
ছেলে নাকী ওর জীবন টা নিয়ে গেমস
খেলছে।প্রেম আছে।পারসোনাল ছবি গুলা
নাকি সবাইকে দেখিয়ে দিবে বলে হুমকি
দিচ্ছে।আপ্নারি ফ্রেন্ড নাকি ওই বখাটে
ছেলেটা।
রুপা অনেক কান্না কাটি করলো আমাকে
আরালে নিয়ে।আপনাকে এই সব বলার
শাহস নাকি পাচ্ছেনা।কিছু একটা করেন
রুপার জন্য।না হলে মেয়েটার বেচে থাকার
ইচ্ছটাই মরে যাবে।
""" আমাদের সমাজে আজ দু একজন বাজে
মেয়ের অশ্লীলতা সভ্য শ্লীল পবিত্র
মেয়েদের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।পুরুষ
তান্ত্রিক সমাজ নারীর রক্ত মাংসের
স্বাদে মনের খোরাক মেটাচ্ছে।তারপর
ভালোবাসা ধীরে ধীরে নিস্ক্রিয় হয়ে
যাচ্ছে,মেয়েটাকে ডাস্টবিনে ছুরে ফেলে
দেয়া হচ্ছ।
এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ মা বোনের
জাতকে একেবারে নিম্ন লেভেলে নামিয়ে
ভোগ করার কামনায় মগ্ন।সব নারী যে
ছলনাময়ী নয়,আমরা ভুলে গেছি
মমতাময়ীর কোনো পুরুষ বাচক শব্দ
নেই।
4
তিন দিন থেকে মুশুল ধারে bristy হচ্ছে।
পথ ঘাট মাঠ প্রান্তর
কাদাচ্ছন্ন।রুপা খুব বেশী নীরব হয়ে গেছে।
চোখের
কোনে কালচে দাগ পরে গেছে রাত্রি জেগে।
ও
কিছুতেই সব কিছু ভুলে নতুন জীবনে ফিরে
আসতে
পাড়ছেনা।
"""""মন থেকে ভালোবাসতে পারা
মেয়েদের মন ভাঙে
শুধু একবার,তারপর শুরু হয় কি নির্মম
যন্ত্রণা। না পারে বাচার মতো
বাঁচতে,না পারে অন্য কিছুতে শান্তনা
নিতে।
মেঘা:- রুপা,দু দিন থেকে কিছু খাওনি
বোন,কিছু খেয়ে নাও
প্লীজ,শুভ্র কিছু একটা করবে দেইখো?
রুপা:- কি করবে ভাবী! শুভ্র ভাই নিজেও
লজ্জায় আমার সামনে
আসবেনা হয়তো ওই সব ভিডিও দেখলে।
শাওন আমার সব
শেষ করে দিয়েছে।কি বিশ্বাস টাই না
করেছিলাম! বাবা মা
আমাকে দেখে এড়িয়ে চলে যাচ্ছেন? আমি
যে বেচে
থেকেও মরার মতো বেচে আছি।তারপর
রুপার কান্না তীব্র
থেকে তীব্রতর হতে শুরু করলো।
ভাবী আমি সন্তান সম্ভবা।বাবা মা
জানতে পাড়লে হয়তো
কষ্টে পাথর হয়ে মরে যাবেন। আমার মরে
যাওয়া ছাড়া আর
কিচ্ছু করার নেই ভাবী।
মেঘা:- কাঁদিস না বোন।
""'ছেলেদের জীবন যতোটা সহজ
মেয়েদের ঠিক
ততোটাই কঠিন, এদের যে ধুকে ধুকে তিলে
তিলে
বেচে থাকতে হয়।কাউকে বলিস না বোন।
আমরা দু জনি ওর
কাছে বিকেলে যাবো।সেই লম্ফট টার
কাছেই যেতে
হবে বোন।অনুনয় বিনয় করতে হবে।
বিকেলে রুপা মেঘাকে নিয়ে শাওনের বাসায়
এসেছে।
শাওন:- আরে আমার সুন্দরী ভাবী। তো
শুভ্র আসলো না
যে? কেমন আছো রুপা তুমি?
মেঘা:- ভাই আপনার সাথে রুপা কিছু কথা
বলবে এ জন্য আসলাম।
শাওন:- প্লীজ, ওই সব নিয়ে আমি আর
কিচ্ছু বলতে চাইনা।আর
অজান্তেই ফিজিক্যাল রিলেশন হয়ে
গেছে।এটা এখন কমন
ব্যাপার।
মেঘা:- অজান্তে একবার হতে পারে।কিন্তু
আপনি ওকে
অসংখ্যবার ইউস করেছেন।
শাওন:- তো কি হইছে! আজকাল এ সব হয়
ই।আমি তো
আরো অনেকের সাথেই এমন করি।
তারাতো কেউ কিচ্ছু
বলেনা।বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলো রুপা।আর
হুমকি ধামকি তুলে
নিলাম।ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে,
তারপর বিয়ে করে
সংসার করো কারোর সাথে।
মেঘা:- ছিহ,আপনি কি জানোয়ার!
শাওন:- হুম,আরো নিম্ন লেভেলের।ওই
রুপাই একদিন পাবলিক
প্লেসে আমাকে থাপ্পর দিয়েছিলো সবার
সামনে।ওর
কারনে ইভ টিজিং এর মামলায় আমার
ফিউচার টা নষ্ট হয়ে গেছে।
ও আমার সামন দিয়ে হেটে যেতো ওর বয়
ফ্রেন্ড কে
নিয়ে।আমাকে দেখে ভেংচি কাটতো।মজা
করতো। আরে
ভালো না বাসিস ঠিক আছে।শান্তনা তো
দিতে পারতি? তোর
জন্য ই তো এই ব্রেলিয়ান্ট সম্ভ্রান্ত
পরিবারের ছেলেটা
রাস্তায় নেমে এসেছিলো।তারপর ধীরে
ধীরে নষ্ট
হয়ে গিয়েছিলাম।নেশা করতাম খারাপ কাজ
করতাম।
যে ছেলেটা মানুষের চোখের জ্বল মুছে
দেয়ার জন্য
জীবন বাজি রাখতো সে আজ বদ্য
উন্মাদ।
ভাবী ও আমাকে সেই সময় যদি একটি
বারের জন্য শান্তনা
দিতো আমাকে বুঝিয়ে বলতো আমি
নীরবেই ওকে
ভালোবেসে যেতাম।
আর ও কি না আমাকে বার বার খোচা
দিতো। আমি দেখতে
সুন্দর না,ওর বয়ফ্রেন্ড এর পা মুছার
joggota নাই আমার।
তারপরো সব কষ্ট নীরবে সয়ে গেলাম।
কিন্তু একদিন ও
আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বাসায় আটকে
রেখে পুলিশে
ধরিয়ে দেয়।আমি নাকি ওকে রেফ করার
জন্য এসেছি।বাবার
অনেক টাকা ওর।পুলিশ কেও টাকা দিয়ে ঠিক
পটিয়ে নেয়।
আমার ভার্সিটি লাইফের দু টা বছর
ওখানেই শেষ হয়ে যায়।
এসে জানতে পারলাম বাবা মা সুইসাইড
করেছেন।ওদের যে
একমাত্র স্বপ্নের নাম ছিলো শাওন।
ফিরে এসে জানতে পারলাম রুপা খুব ভেঙে
পরেছে।ও
যাকে লাভ করতো সে নাকি বিবাহিত
ছিলো।এ কথা শোনার পর
আমি রুপার কাছে ছুটে যাই। ওকে
ভালোবাসা দিয়ে স্বাভাবিক
জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসি।ভালোবাসা
ধীরে ধীরে
কমে যেতে থাকে চাপা ক্ষোভ আর
অভিমানে।আমার কি
দোষ ছিলো বলেন! আমার পরিবার
আমার সাজানো ফিউচার
কে ফিরিয়ে দিবে বলেন?আমি হাসতে
হাসতে ফাসির মঞ্চে
যেতে রাজি আছি।কিন্তু এই জঘন্য
মেয়েটাকে আমার সামন
থেকে চলে যেতে বলেন।আর শুভ্র ওর
বোনের
জন্য সব কিছু করতে পারে।ওকে দূরে
থাকতে বলেন
ভাবী। না হলে তাকে হারাতে বাধ্য হবেন।
আমি মানুষ নই
অমানুষ।
বিপন্ন মানবতার নব বুলি আমি।
রুপার কান্না যে শেষ হওয়ার নয়।
প্রতারনা ধরষণ মামলায় শাওনের ফাসির
রায় হয়েছে।কিন্তু তার
সাথে যে জঘন্য প্রতারনা হয়েছে তা
আরালেই থেকে যায়।
তার যে ক্ষমতাবান মামা কাকা খালু নেই?
আছে শুধু লাইসেন্স
krito একটা উন্মাদ মানসিকতা।কেন্দ্রিয়
কারাগারে নেয়ার সময়
পুলিশের রাইফেল কেড়ে নিয়ে নাকি নিজের
মাথায় নিজেই
গুলি চালিয়ে দিয়েছে।
রুপা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।
কারো দিকে তাকায় না।
ওর ফুটফুটে সন্তান টা সারাদিন মেঘার
কোলে থাকে।
শুভ্র:- আরে মেঘা, তুমি এই অবস্থায় রুম
গোছানোর কাজ কি
জন্য করছো? তলপেটে ব্যাথা পেলে কি
হবে বলতো।
আমাদের বাবু আর আমার লক্ষী বউ দু
জনী তো কষ্ট
পাবে।
মেঘা চোখ বন্ধ করো সারপ্রাইজ আছে।
মেঘা:- হুম করলাম।তুমি সত্যি ই অনেক
দুষ্ট! কি করে দিলে!
আমি তো মায়ের সাথে বাহিরে যাবো? ওহ
যন্ত্রণা!
শুভ্র:-আরে নতুন করে লিপ্সটিক লাগিয়ে
নিলেই তো
হলো।ওকে আমি লাগিয়ে দিচ্ছি।
মেঘা:- নিজের মুখের গুলা আগে ঠিক করেন
গিয়ে।আর
এখন আর আপনাকে তুমি বলতে ভয়
লাগেনা বুঝলেন?
""""" সত্যিকার প্রেম গুলি আসলে
অফুরন্ত শান্তির আবেশ,যার
শুরু আছে কিন্তু শেষ নাই,প্রতিদিন একটু
একটু করে বারতেই
থাকে।
তিন তিন টি বছর দেখতে দেখতে কেটে
গেছে।
আমাদের দু ছেলে হয়েছে।ইটকিরি ফিটকিরি
দু ভাই প্রচুর দুষ্ট।
সারাদিন মায়ের সাথে দুষ্টমি করে।আমি
কোলে নিলেই আমার
জামা কাপর নষ্ট করে দেয়।
শুভ্র:- আচ্ছা মেঘা,ওরা এমন ফাজিল
কেনো? দেখো জামা
কাপর নষ্ট কইরা দিয়া কেমন খিল খিল
কইরা হাস্তেছে।তুমি ও বুঝি
এমন ছিলে?
মেঘা:- যাহ, পচা একটা।মায়ের কাছে শুনেছি
তুমি নাকি ক্লাস ১০ এ
ও বিছানায় শিস করে দিতে।
শুভ্র:- প্লীজ মেঘা,ইটকিরি ফিটকিরির
সামনে বইলো না।
দেখছোনা কি ভাবে তাকিয়ে আছে আমার
লক্ষী আব্বু
দুইটা।
মেঘা:- তোমার মেয়ে সন্তানের অনেক
ইচ্ছে তাই না?
শুভ্র:- না মেঘা,আর নয়।এই দু সন্তান
জন্ম দিতে তোমার যে
যন্ত্রণা হয়েছে তা আমি খুব কাছে থেকে
দেখেছি।আমি
আমার সন্তান কে নিজের জীবনের চেয়েও
বেশী
ভালোবাসি।আর তোমাকে তাদের থেকেও
বেশী
ভালোবাসি।ডাক্তার আংকেল বলেছেন
এর পর সন্তান
প্রসবে অনেক রিস্ক আছে তোমার জন্য।
তোমার কিছু
হয়ে গেলে আমি সাথে সাথেই মরে যাবো।
এই বাচ্চারা তোরা একটু ঘুমোতে,আমি
তোদের মায়ের
সাথে একটু প্রেম করি।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথা প্রায় নষ্ট হয়ে
গেলো।
প্রটেকশ্ন পিল গুলি ময়লার ঝুড়িতে।
মেঘা,এই মেঘা কই তুমি।
মেঘা:- আসছি তো! একটু সময় দিবে
তোহ?
শুভ্র:- এ গুলা কি!
মেঘা:- রাগ করোনা প্লীজ।এখন আর কিছু
করার নেই?
আমাদের আর একটা সন্তান আসবে।কিচ্ছু
হবেনা দেইখো।
আল্লাহ আছেন তো?
শুভ্র:- আরে তুমি বোঝোনা ক্যান?
সন্তানের চেয়ে
তোমার মুল্য অনেক বেশী আমার কাছে।
তিন মাস পর মেঘা অনেক বেশী অসুস্থ
হয়ে পরলে রাত ১১
টায় ওকে ঢাকা মেডিকেলের
ইমারজেন্সিতে নেয়া হয়।
মেঘার অবস্থা শোচনীয়।আমার খুব বেশী
কষ্ট
হচ্ছিলো।বাবা রক্ত সংগ্রহ করতে
গেছেন।মা পাশের
বেন্সে বসে এক নাগারে কেঁদেই যাচ্ছেন।
মেঘার বাবা মা
রাতেই র ওনা দিয়েছেন গ্রাম থেকে।
ডাক্তার আংকেল এসে আমার কাধে হাত
রেখে বললেন।
যে কোনো কঠিন পরিস্থিতির জন্য
প্রস্তুত থাকো বাবা।প্রচুর
রক্তক্ষরন হয়ে গেছে।এখনো বন্ধ হয়নি।
খুব খারাপ অবস্থা।
আমার নির্মম কান্না দেখে উনি আমাকে
বুকে শক্ত করে
জড়িয়ে ধরলেন।আর কানে কানে
বললেন,,,,, she is
dead,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তারপর আমি উন্মাদের মতো চিৎকার
করে কাদতে শুরু করলাম
শত শত মানুষের সামনে।
আমার মেঘাকে তোমরা কই নিয়ে
যাচ্ছো?আমি ওকে একটি
বারের জন্য ছুয়ে দেখতে চাই।আমার যে
অনেক কথা বাকি
রয়ে গেছে।আমি ওর চোখ কান মুক নাক
চুল আর একটি
বারের জন্য ছুয়ে দেখতে চাই।আমাকে
ছেড়ে দিন
আপ্নারা।এতোটা নির্মম হবেন না।আমি
ছুয়ে দিলে ও আবার
জীবন ফিরে পাবে।আমাকে যেতে দিন।আমি
আমার মেঘার
কাছে যাবো।মেঘাকে নিয়ে যাবেন না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now