বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি রোজ স্বপ্ন দেখি। বেশির ভাগ সময় স্বপ্নগুলো আজিব হয় যেমন, কুত্তা দৌঁড়ানি দিচ্ছে, বা পরিক্ষা হলে বসে আছি সব কমন কিন্তু কোন কলমই লিখছেনা অথবা আর মাত্র ৫মিনিট বাকি, অথবা কোন আনটি সাইজের মেয়ের সাথে বিয়ে হচ্ছে। ভালো স্বপ্ন দেখি খুব কম। যখনি ভালো কোন স্বপ্ন দেখি তখনি আমার ড্যাডি হারামির কল আসে। আমার ভালো স্বপ্ন বলতে ক্যাটরিনা টাইপ একটা মেয়ের সাথে বিয়ে হচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কবুল শুনিনি। কবুল বলার আগেই ড্যাডি হারামির কল আসে। আজও তার ব্যতিক্রম হলোনা। বৌ কবুল বলার পূর্বেই ড্যাডির কল।
ফোনটা বাঁজছে, রিংটোন হলোঃ
.
.
-জ্বী ড্যাডি হুজুর হুকুম কইরা ফালান।
.
--বেলা কতো হইছে জানিস? এখনো বিছানায় কি?
.
-কাজ বলেন।
.
--ভারত থেকে তোর এক ফুপু আসছে তোর চাচ্চুর বাসায়। গিয়ে বাসা নিয়ে আয়।
.
-যো হুকুম জাহাপানা। অর কোনো হুকুম?
.
--জলদি যা।
.
-জ্বী আব্বা হুজুর।
.
ড্যাডি না বলে তো লাভ নাই। যতো যাই বলি কাজ করতে বাধ্য।
পাজ্ঞাবী গায়ে দিলাম। প্যান্ট পড়তে গিয়ে পড়লাম মুশকিলে। গতকালকে বেল্ট ছিঁড়ে গেছে। বেল্ট ছাড়া প্যান্ট কোমড়ে থাকতে নারাজ। বেল্ট ছাড়া প্যান্ট মহাশয় মধ্যাকর্ষন বল প্রমাণে ব্যস্তহয়ে পড়েন।
মোটা দেখে ১টা দড়ি বেল্টের জায়গায় ঢুকিয়ে গিট্টু দিলাম।
চাচার বাসার সামনে ১০মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি। মোর ড্যাডি বলেন চেহারা আর বেশভুষা দেখে যদি হিরুইঞ্চি ধরার যদি সরকারি তালিকা করা হয় তোর নাম থাকবে সবার শীর্ষে। তার প্রমাণ বহুবার পেয়েছি। দরজার ফাঁক দিয়ে আমাকে দেখার পর কাজের মেয়ে দরজা খুলছেনা। এদিকে তাঁড়াহুড়ার মধ্যে সকালে টয়লেট যাই নাই। যদি ৫মিনিটের মধ্যে দরজা না খুলে তাহলে অঘটন ঘটে যাবে। যাক চাচি আম্মা দরজা খুলা মাত্র তাদের বাথরুমে দৌঁড় দিলাম। বাথরুমে নাহয় ঢুকলাম কিন্তু দড়ির গিট্টু খুলছেনা। বাথরুমের দরজা খুলেই চাচি আম্মাকে ডাক দিলাম।
--নাজমুল কি হইছে?
.
-চাচি আম্মা জলদি ১টা ছুড়ি দেন।
.
--ছুড়ি কি করবা?
.
-প্রশ্ন পরে, আগে ছুড়ি এনে দেন।
.
ছুড়ি নিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলাম। তারপর দড়ি কেটে যা করার করলাম। ওই মিয়া লেখা পড়ে হাসো ক্যান? তুমি মনে হয় করোনা?
দরজা খুলে দেখি দরজার বাইরে সবাই দাঁড়িয়ে। চাচি আম্মার হাতে ছুড়ি দিয়ে রুমে ঢুকলাম। এতোদিন দেশি সুন্দরী দেখে ক্রাশ খাইছি এখানে দেখি ইন্ডিয়ান সুন্দরি। সুন্দরীকে দেখে প্রশ্ন করলামঃ
.
-ইয়াং লেডি কাইসা হালুকা?
.
সুন্দরী ট্যারা চোখে তাকিয়ে বললোঃ
--জ্বী…
.
-কেমন আছেন?
.
--ভালো।
.
ফুপুকে সালাম দিলাম। পরিচয় দিলাম। বললাম মোর হারামি বাপ পাঠিয়েছেন আপনাকে নিয়ে যেতে। ফুপুকে সাথে নিয়ে আসছি। টমটম থেকে নেমে বাসা ঢুকতেছি টমটম ওয়ালা ডাক দিলোঃ
--ভাই ভাড়া দেন।
.
-কিসের ভাড়া?
.
--কিসের ভাড়া মানে, আসলেন যে।
.
-আমি আনতে বলছি? আপনি বলছেন ভাই যাবেন নাকি, আমি বলছি যাবো। আমি ঠিকানা বলেছি আপনি এনে দিছেন। ভাড়ার কথা আপনি আমি কেউ বলিনি।
.
--ভাই প্যাচাল বাদ দিয়ে ভাড়া দেন।
.
-টাকা নাই ভাই।
.
--টাকা নাই মানে?
.
-বিশ্বাস না হলে পকেটে হাত দিয়ে দেখেন।
.
পকেট এগিয়ে দিলাম। তিনি পেছনের পকেট ও পাজ্ঞাবীর পকেটে হাত দিলেন। ১টা মোটা দড়ি ছাড়া কিছুই পেলেন না।
.
পেছন থেকে ফুপুর সুন্দরী মেয়ে হাসতে হাসতে বললোঃ
--পাগল নাকি পকেটে দড়ি কে নিয়ে ঘুড়ে?
.
-আমি নিয়ে ঘুড়ি।
.
--সামনের পকেট থেকে হাত বের করেন সেগুলোও চেক করুক।
.
-পকেট থেকে হাত বের করলে প্যান্ট মধ্যাকর্ষন বলের প্রভাবে নিচে পড়ে যাবে। সেই দৃশ্যটা কি তোমার দেখা ঠিক হবে?
.
--ওহ্ এবার বুঝছি বাথরুমে ঢুকে কেন ছুড়ি চাচ্ছিলেন। আর পকেটে দড়ি কেন।
.
-বাহ্ বিউটি উইথ ব্রেইন, ভেরি রেয়ার। আম্মা আমার জন্য এমন বৌমা খুঁজছেন।
রাজি থাকলে হ্যাঁ বলুন।
.
আমার কান্ড কীর্তি দেখে ফুপু বিরক্ত হয়ে টাকা বের করে দিলেন। আমার হাতে ২০০টাকা দিয়ে বললেনঃ
--যাও আগে একটা বেল্ট কিনে আনো। পকেটে হাত দিয়ে রাখবানা।
.
-ধন্যবাদ ফুপু। আপনাকে সালাম করতাম কিন্তু তার জন্য পকেট থেকে হাত বের করতে হবে।
.
--থাক লাগবেনা। যাও বেল্ট কিনে নিয়ে আসো।
.
-জ্বী ফুপু তবে ১টা সমস্যা।
.
--আবার কি?
.
-ভাড়া নেই।
.
ফুপু আরেকটা ১০০টাকার নোট বের করে দিলেন।
.
-ফুপু ১টা রিকুয়েস্ট।
.
--কি?
.
-টাকার কথা আমার বাপ হারামি কে
ভুল করেও বলবেন না। নাহলে বাসায় ভাত বন্ধ সাথে প্যান্ট খুলে কাচা বেত দিয়ে আমার পাচা লাল করে দিবে ।
.
--আচ্ছা বলবোনা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now