বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সেদিন বৃষ্টি নেমেছিল (শেষ পর্ব)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অনিক কুমার (০ পয়েন্ট)

X কিসের কাজ এখানে ভাইয়া?' অর্ণব বলল, 'কাজটা তোমার সাথেই, শ্রুতি।' 'আমার সাথে? আমার সাথে কি কাজ? আর আপনি আমার নাম কিভাবে জানলেন?' শ্রুতির মুখের ভাব দেখে মনে হচ্ছিল ও খুব অবাক হচ্ছে এই সিচ্যুয়েশনটা দেখে। উফফফ...! মেয়েটা এত্ত ব্রিলিয়ান্ট, পড়াশোনায় ভাল। তবুও কবে থেকে ওকে আড়াল থেকে দেখছে অর্ণব, ও টেরও পায়নি। কি আর করার আছে। হয়ত কখনো খেয়ালই করে নাই। যাই হোক। এখন এর কথায় আসি। শ্রুতির প্রশ্নের কি উত্তর দিবেঅর্ণব বুঝে উঠতে পারছে না। ও বলল, 'শ্রুতি, অনেক কথা আছে তোমাকে বলার। আমি এখানে আজকেই প্রথম আসিনি। গত তিন মাস থেকে ডেইলি আসি। এসে দূর থেকে তোমাকে দেখে যাই। এতদিন পর্যন্ত নিজেও বুঝতে পারিনি যে তোমার জন্য আমি কি ফীল করি। তোমাকে সায়েন্স ফেয়ারে দেখার পর থেকে পাগলের মত হয়ে গেছি। চাইলে অনেক আগে এসেই তোমাকে বলতে পারতাম এগুলো। কিন্তু তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে কখনো বলতে পারিনি। যদিও তুমি কখনো আমার ছিলে না, কিন্তু তোমাকে দূর থেকে দেখার এইটুকু সুযোগ ও যদি হারিয়ে ফেলি, সেই ভেবে কখনো তোমার সামনে আসতে পারিনি। কিন্তু আজ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। এক মুহূর্তের জন্য মনে হল আজ বলতে না পারলে আর কখনোই বলতে পারবনা। তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়টা এখনো আমার মাঝে আছে। তবুও বলছি....' এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেল অর্ণব। শ্রুতি নিশ্চুপ হয়ে কথাগুলো শুনে গেলো। একটা কথাও বলল না। যেন এক মুহূর্তের জন্য সব থেমে গেল। যে দমকা হাওয়াটা উঠেছিল, হয়ত সেটাও। অর্ণব বলল, 'আমি তোমাকে ভালোবাসি, শ্রুতি। I Love You.' মুহূর্তের ঐ নিস্তব্ধতা যেন এক ঝড়ের বেগে কেটে গেল। খুব জোড়ে বাতাসটা বইছে। শ্রুতি কিচ্ছু না বলে শুধু একবার অর্ণবের দিকে তাকাল। সেই চাহনিতে কত যে কিছু কথা লুকিয়ে ছিল, সেটা অর্ণবের বুঝতে আর বাকি থাকল না। কিন্তু কি সেই আড়াল করা কথা? সেটা তো অর্ণব এখনো বুঝতে পারছে না। কি করে বুঝবে? সব কথা যেমন বলা যায় না, সব ভাষাও তেমন বোঝা যায় না। শ্রুতির ওই চাহনির ভাষা বোঝার ক্ষমতা হয়ত অর্ণবের ছিল না। পরে হবে কি না তা তো আর আমাদের জানা নেই।আর শ্রুতি কি করল? শ্রুতি নিঃশব্দে সেখান থেকে চলে গেল। যেন ওর কিছু যেয়েই আসে না। ও ওর মত গিয়ে রিকশায় উঠল। অর্ণব যেন সহ্য করতে পারছিল না শ্রুতির এই নীরবতা।শুধু অর্ণব কেন? থেমে থাকা সেই বৃষ্টিটাও শ্রুতির এ নীরবতা সহ্য করতে না পেরে মুষড়ে পড়ল। প্রবল এক বৃষ্টি শুরু হল। মুষল ধারার বৃষ্টি। শ্রুতি রিকশায় উঠে হুডটা তুলে দিল। আর অর্ণব সেই বৃষ্টিতেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। যেন সময়টা আবার থেমে গেছে। সময়টা আজ ভিন্ন ভিন্ন কারণে বারবার অর্ণবের জন্য থেমে যাচ্ছিল। আর যে ভয়টা এতদিন থেকে সে পাচ্ছিল, সেটা হয়ত আজ সত্যি হয়েই গেল। ও হয়ত সত্যিই হারিয়েই ফেলল শ্রুতিকে চিরতরের জন্য। বৃষ্টিতে পুরোপুরিভাবে ভিজে গেছে অর্ণব। আর সবসময়ের মতই দাঁড়িয়ে থেকে দেখলশ্রুতির রিকশায় চলে যাওয়া। কিন্তু আজকে যেন কিছুটা আলাদা হল দৃশ্যটা? কিছুটা সামনে গিয়েই শ্রুতির রিকশাটা থামল। অর্ণব যেন তার মূর্তিরূপ হতে ফেরত এসে কিছুটা সক্ষম হল তার জমে থাকা মস্তিষ্ককে এটা জিজ্ঞেস করতে যে কেন থামল রিকশাটা? নষ্ট হয়ে গেল? না কি...? এখনো অর্ণবের মনে ক্ষীণ একটা আশার আলো জ্বলছে যার উপর নির্ভর করে ওর নিঃশ্বাসটা এখনো যেন চলছে। অর্ণব দেখল ঐ বৃষ্টির মধ্যেই নীল শাড়ি পরা অপ্সরীর মত একটা অবয়ব তার দিকে ঘুরে তাকাল। মুষল বৃষ্টির মধ্যে এতক্ষণ সব ঝাপসা দেখলেও এই দৃশ্যটা খুব স্পষ্টই দেখল অর্ণব যে শ্রুতি তার দিকে ফিরে তাকিয়েছে। শ্রুতি রিকশা থেকে মাথাটা বের করে এই বৃষ্টির মধ্যে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বলছে, 'বৃষ্টি অনেক বেড়ে গেছে। আপনি পুরো ভিজে গেছেন তো। রিকশায় উঠে আসুন। নয়ত ঠাণ্ডা লেগে গেলে কালকে আর আসতে পারবেন না। মনে নেই? গত মাসে তিন দিন অসুস্থ ছিলেন বলে আসেননি। আমি তো ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম কি আবার হল? প্রতিদিন পশ্চিমে উঠা সূর্য তিন দিন থেকে উঠছে না কেনো? এখন চলুন, উঠে আসুন, নয়ত আবার অসুস্থ হয়ে পরলে কালকে আর আসতে পারবেন না। আমার আবার চিন্তা হবে।' কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে গেল শ্রুতি। বলতে বলতেই ওর হাতটা বৃষ্টিতে অর্ণবের দিকে বাড়িয়ে দিল। পরে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিল। যে হাসির হয়ত কোনো ব্যাখ্যা ছিল না কারোর কাছে। এমন একটা হাসির জন্য তো অর্ণব ওর জীবনটাও হাসতে হাসতে দিয়ে দিবে। শুধু অর্ণব কেনো? প্রাণের থেকেও প্রিয় মানুষটার মুখে সুখের একটু হাসির জন্য তো যে কেউ হাসতে হাসতে তার জীবন দিয়ে দিবে। কি? দিবে না? এই এক মুহূর্তে অর্ণবের জীবনটাই পালটে গেল। ও তো ততক্ষণে অনেকটা দৌড়েই রিকশার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। অর্ণবের যে তখন কি মনে হচ্ছিল, কি যে ভাবছিল সে, সেটা আসলেই বলে বোঝানো যায় না। শুধু বলা যায়, এ মুহূর্তে যদি মৃত্যুও এসে হাজির হত, তাও হয়ত অর্ণব খুশি মুখে বরণ করে নিত শুধুমাত্র শ্রুতির কথা ভেবে। অর্ণব শ্রুতির সামনে এসে দাঁড়ালে শ্রুতি আবার অর্ণবকে উদ্দেশ্য করে সেই হাসিটা দিল। যা অর্ণবকে পাগল করে দিচ্ছিল আর বানিয়ে তুলছিল তাকে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী আর খুশি মানুষটা। ব্যাস! আর কি। শ্রুতির বাড়ানো হাতটা ধরে এক লাফে অর্ণব উঠে গেল রিকশায়। আর হুডটা তো তোলাই ছিল যা মনের না বলা কথাগুলো আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য ছিল যথেষ্ট। রিকশা চলতে লাগল। তবে হ্যাঁ, সবসময় তো রিকশায় একজনই উঠে। আজকে দুজন উঠার জন্য রিকশাওয়ালা মামা ভাড়া বেশি চাবে কি না সে দায়িত্ব কিন্তু আমার না। কিন্তু এটা ঠিক, দায়িত্বটা বৃষ্টি নিতে পারে। কারণ সেদিনের বৃষ্টিটাই হয়ত এই ভালবাসার মানুষগুলোকে এক করেছিল। কাছে এনেছিল। সব স্বপ্নগুলোকে সত্যি করে তুলেছিল। সবই তো হয়েছিল সেদিন সুন্দর। হয়ত ময়ূরেরা নেচেছিল সেদিন, হয়ত প্রকৃতি আঁকড়ে ধড়েছিল সবুজকে, হয়ত নদী হয়ে উঠেছিল মনের আয়নার মত স্বচ্ছ। হয়ত সেদিন আরো কারোর ভাগ্য একে অন্যের সাথে জুড়ে গিয়েছিল। কারণ...সেদিন বৃষ্টি নেমেছিল....????????????


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now