বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
অদ্ভুত শ্রেণিবিন্যাস ও বন্ধুত্ব
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সিয়াম (০ পয়েন্ট)
X
এমনিতেই আজ প্রাইভেটের দেরী হয়ে গেছে। জোরে সাইকেলে প্যাডেল মারছি। তার ওপর এই শীতে ঘামছি। একদল মেয়ে আসছে। আরও জোরে প্যাডেল মারছিলাম যাতে তাড়াতাড়ি পাশ কাটিয়ে যেতে পারি। যাবার সময় এক ছেলের দেখা। সকাল ৯ টার সময় সাইকেল চালিয়ে আসছে। মুখে একটা ব্রাশ বেশ জোরেশোরে ঢুকানো। সম্ভবত এর ভিতরে পেপসোডেন্ট ছিল কারন দুর থেকেই টয়লেট পরিষ্কার করার নীল পানিগুলার মত গন্ধ আসছিল। সবমিলিয়ে কি যে এক বিদঘুটে পরিবেশ!! ও দুহাত দিয়ে সাইকেল চালাচ্ছে। হাত দুটো বন্ধ থাকায় মুখের ব্রাশে হাত দিয়ে দাতও মাজতে পারছে না। ভিতরের পেস্টগুলো ঠোটের একপাশ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে। পুরো ল্যাড়াব্যাড়া অবস্থা। ইদানীং প্রানীর শ্রেনীবিন্যাস করার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। ভাবলাম এই মহাশয়েরও শ্রেণীবিন্যাস করি। যেহেতু এর চেহারা দেখতে মানুষের মত, সাইকেলও চালাতে পারছে তাই একে 'মনুষ্য' প্রজাতিতে স্থান দেয়া যেতে পারে। তবে এর গোত্র নিয়ে সমস্যায় আছি। এর মুখ দিয়ে পেস্ট বেরোচ্ছে কুকুরের মত কিন্তু মুখটার আকৃতি বানরের মত। অনেক চিন্তা করে একে মানুষ প্রজাতির কুকুর গেত্রে স্থান দেয়া হলো। ঘামগুলো শুকোতে আরম্ভ করেছে। কারন এই প্রথম কোনে প্রানীর শ্রেনীবিন্যাস এত সুন্দরভাবে করলাম।
আবার সাইকেলে জোরে প্যাডেল মারছিলাম। মেয়েগুলোকে আর মানুষ প্রজাতির কুকুরটাকে এতক্ষণে পাশ কাটিয়ে দুরে চলে এএসেছি। শ্রেনীবিন্যাস করতে করতে ইব্রাহিম নগরের ভাঙ্গা পুলটার কাছে এসে পড়লাম। অর্থাৎ এবার নামতে হবে। নামার আগেই দেখলাম সামনে পুরো পুলটি ফাকা। শুধু একটি মেয়ে পার হবে বলে যাচ্ছে। মেেয়েটার একটা জিনিস চোখে পড়ল, তার গোড়ালিটা দেখা যাচ্ছে। দাদু আমাকে গোড়ালি দেখে শ্রেনীবিন্যাস করার একটা সহজ পদ্ধতি শিখেছিলেন। তবে এটা কোনো প্রজাতিভিত্তিক শ্রেনীবিন্যাস না, সুন্দর আর কম সুন্দরের শ্রেনীবিন্যাস। যে মেয়ের গোড়ালি যত সুন্দর সে তত বেশি সুন্দরী। আর গোড়ালি যত পরিষ্কার সেও তত পরিচ্ছন্ন। দাদুর এই পদ্ধতিটা আজ কাজে লাগবে। এজন্যই আমি দাদুর সাথে এখনও থাকি। ছোটবেলায় দাদুর সাথে ঘুমানো শুরু করেছিলাম এখনো চলছে। ছোটবেলায় দাদু আমাকে গল্প শেনাতো। এখন শ্রেনীবিন্যাস শিখি। যদিও দাদু এখন নিয়মিত হাদিস চর্চা করেন তবুও দেরিতে হলেও তিনি শোয়ার আগে আমার সাথে দশ মিনিট হলেও গল্প করেন। যাইহোক মেয়েটির গোড়ালি দেখে শ্রেনীবিন্যাস করলে কোনো কারন ছাড়াই সুন্দরীদের দলভুক্ত হবে। তবে গোড়ালি দেখে এতটা শিওর হওয়া যায়না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম সামনে গিয়ে ভালো করে শ্রেনীবিন্যাস করব। সামনে যাওয়ার দরকার হলো না। মেয়েটি আমার দিকে হালকা ঘুরতেই আমি সবকিছু বুঝে গেলাম। তবে তার ঠোট অতিরিক্ত লাল ছিল। বুঝলাম না ব্যাপারটা। মনে হয় মেয়েটি আমার সাথে প্রতারনা করার চেষ্টা করছে।
ছোটবেলায় দোকান থেকে কৌটার মধ্যে লাল লাল এক প্রকার জিনিস দিয়ে অবন্তীর সাথে ডাক্তার ডাক্তার খেলতাম। এই মেয়েও মনে হয় ওগুলো মেখে এসেছে। তবে মনে হলো মেয়েটি হয়তবা ছেলেদের দেখে ঠোটের রঙ পাল্টাতে পারে। আর এ দিয়েই সে আমার সাথেও প্রতারনার চেষ্টা করছে। যদি সে রঙ পাল্টাতে পারে তাহলে তাকে সন্দেহ ছাড়াই মানুষ প্রজাতির গিরগিটি গোত্রভুক্ত করা যায়। আহ... একদিনে এর আগে কখনও একটির বেশি শ্রেনীবিন্যাস করিনি। আজ করলাম দুটি।
নাজমুলকে ফোন দিলাম। আমারই তো দেরি হয়ে গেছে অনেক, সে বলে তার নাকি আরও একটু দেরি হবে। শালাকে ভালোবেসে 'শুওর' বলে গালি দিলাম, তাড়াতাড়ি প্রাাইভেটে আয় শুওর। বিজনেস পার্টনার হওয়ায় আর কিছু বললাম না। কোনোমতে প্রাইভেটে পৌছালাম। বিশ মিনিট লেট। কিন্তু মুবিিনও আমার লেটে যাওয়ার ফায়দা নিতে শুরু করল। বসার জায়গা দিচ্ছে না। একে তো আমি মানুষের তালিকাতেই রেখেছি। এ কেন পিশাচের মত আচরণ করবে?? এর শ্রেনীবিন্যাসের ব্যাপারটা আবার দেখতে হচ্ছে তো। না থাক। এখন পড়ায় মন দিতে হবে। আজ আর এর শ্রেনীবিন্যাস করব না। করলে হয়ত পিশাচ গোত্রে জায়গা দিতাম। এরই মধ্যে নাজমুল এসে উপস্থিত।
প্রাইভেট শেষ। কিন্তু শিমুল এখনো নেই। ভাবলাম তার সাথে একটু খেলা যাক। ফোন দিলাম,
- শিমুল... শিমুল...।
- হ্যা বল।
- আরে ভাই মনিরিয়ার সামনে তাড়াতাড়ি আয়।
- ক্যান রে, কি হইছে?
- আমরা প্রাইভেট শেষে কলেজ যাচ্ছিলাম। যাওয়ার সময় এক ছেলে মিরাজের নাকে ফটাস করে ঘুসি মেরে নাকটার অবস্থা পুরাই ছ্যাদাব্যাদা করে ফেলছে। তাড়াতাড়ি আয় ভাই। আর শোন, কিছু টাকা নিয়ে আসিস। ওর ব্যান্ডেজ করাতে হবে।
- মিথ্যা কথা কইস না মিয়া।
- আরে ভাই সত্যি রে। বিশ্বাস না করলে আসিস না।।।
এদিকে আমার অ্যাক্টিং দেখে মুবিনরা তো হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দিচ্ছে। এর মাঝে আমার অ্যাক্টিং দেখে তো নাজমুলের আবার মুত্রের চাপ দিছে। মিরাজকে বললাম, শোন ভাই। ও টাকা নিয়া আসতিছে। তোকে ভালোমতো অভিনয় করতে হবে। তোর নাক ফাটার অভিনয়টা যেন ভালো হয়। মুবিন একটা সাদা রুমাল ওর মুখে মেরে দিল। নাকে রুমাল দিয়ে মিরাজকে পুরাই গর্দভ গর্দভ লাগছে। এর মাঝে শিমুল আবার ফোন দিল। আবার অ্যাক্টিং করলাম। একটু পর সে আসল। মনে মনে বলছিলাম, গর্দভটা পুরাই হাতি হয়ে গেছে। আমার অভিনয়ের কিছুই ধরতে পারে নাই। আহা। অনেকদিন পর বন্ধুর টাকাগুলোকে খেলে দিয়ে বেশ ভালো লাগলো।
বাড়ি ফিরে আসছি। আবার সেই মানুষ প্রজাতিভুক্ত গিরগিটি গোত্রের মেয়েটা। কিন্তু তার ঠোটে লাল লাল জিনিসটা আর নেই। ঠোট দিয়ে কি এমন কাজ করল যে লাল লাল জিনিসগুলো ঠোট থেকে উধাও হয়ে গেল??
ব্যাপারটা রহস্যজনক!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now