বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুল জীবনে ভালোবাসার গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাকারিয়া আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X ১ম পর্বের পর থেকে,,,,, জেরি আমার দিকে কি রকম হিংসা টাইপ চেহারা নিয়ে তাকিয়ে আছে। আজ প্রথম দিনেই স্কুলে এসে সেই পারফরমেন্স করলাম,। গ্রুপের ঘন্টা শেষ, সবাই নিচতলায় যাচ্ছে, আমি জেরির আগে আগে সিড়ি দিয়ে নামছি। এমন সময় বলে উঠল,,, -স্কুলে প্রথম দিনেই এসে বাড়া বাড়ি করার শুরু করে দিছস তাইনা (পিছন থেকে বলল) আমি জেরির দিকে ফিরে বললাম- -কিসের বাড়াবাড়ি করলাম আমি।(আমিও কম যাইনা সাথে সাথে উত্তর) -ঐ তোর সাহসতো কম না আমার মুখের উপর কথা বলছ(জেরি) মেজাজটা গরম কইরা দিল, -তুই কি এমন মেয়ে একটা তুকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে (আমাকে তুই-তুকারি বলতাছে দেইখা, আমিও শুরু করলাম) -তুই আমাকে তুই করে বলছ সাহস তো কম নয় তোর(জেরি) -সাহসের কি দেখছস,তুই কোন খানের প্রেসিডেন্টেরর মাইয়া যে তোরে সম্মান দিয়ে কথা বলব। সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, -এই আরিয়ান আয় তো ওর সাথে কতা বলিস না,যা রাগী মেয়েরে বাবা। (আবির) আবির আমাকে টানতে টানতে নিয়ে গেলো ক্লাসে, -আরে ওর সাথে কথা বলিস না, ও যা রাগী মেয়ে, যা বলে তা করে প্রিন্সিপালের মেয়েতো।(আবির) -প্রিন্সিপালের মেয়ে হইছে তো কি হইছে (আমি) -ক্লাসের সবাই ওর কথা মতো চলে,এমনকি ছেলেরাও, কেও ওর কথা ভয়ে পেলতে পারেনা। -কিহহহ? ক্লাসের সব ছেলেকে বলবি টিফিন পিরিয়ডে খেলার মাঠে থাকতে, একটা মিটিং বসাবো। সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলবি।তবে জেরি যাতে না জানে। আজকের পর থেকে ওর কথা কোন ছেলে চলবেনা(আমি) আমি এক রকম ঘাড় তেরা ছেলে। -হে আরিয়ান ঠিকিই বলেছে(আমার সাথের আরও তিনটা ফ্রেন্ড বলল) টিফিন পিরিয়ডে সবাইকে নিয়ে একটা আলাদা জায়গায় নিয়ে মিটিং বসালাম। আমি তাদেরকে বুঝাচ্ছি,একটা মেয়েকে কেনো এতো ভয় পেতে হবে, আমরা ছেলে হয়ে কেন মেয়েদের কথা মতো চলবো, কেন জেরিনের কথা উঠব বসবে। আমাকে তুরা বিশ্বাস করতে পারছ, শুধু একবার বিশ্বাস করে দেখ কেমনে এইটারে নাচাই। আরো অনেক কথা বললাম। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে চলে আসলাম। এখন থেকে জেরিনের কথা কোন ছেলে শুনেনা, জেরি আস্তে আস্তে অবাক হচ্ছে বটেই। জেরি বুঝতে পেরে গেছে এই সব পরিবর্তেনর পিছনে কার হাত আছে। কেটে গেলো ১৫ দিন,,,,, জেরি আমার যুদ্ধ ক্রমাগতই বাড়ছে। আজ ক্লাসে ঢুকতে গিয়ে আবির কিসের সাথে জানি পা লেগে উপর হয়ে যে পড়ল। পরছে তো ভালোই কথা,কিন্তু জেরির গায়ের উপর গিয়ে পরছে। -বেয়াদবের বাচ্চা, আমার গায়ের উপর পরছস (কথাটা বলে জোরে একটা চড় দিললো আবিরের গালে, ঠাসসসসসসসসসসসস) আরেকটা দিতে যাইবো ঠিক তখনই আমি জেরিনের হাত ধরে ফেললাম। -তুর সাথে কি আবির ইচ্ছা করে ঢাক্কা খাইছে নাকি, কিসের সাথে পা লেগে সে ভারসাম্য হারিয়ে তোর উপরে পরছে, তাই বলেলে তুইকি ওকে থাপ্পর মারবি, এক বার মারছস ভালো কথা আবার মারতি আসলি কেন(আমি) -তুই আমার হাত ধরলি কোন সাহসে (কথাটা বলে আমাকে চড় দিল, ঠাসসসসসসসসসসস) আমার মেজাজ হট হইয়া গেছে। আমিও দিলাম এক থাপ্পড়, ঠাসসসসসসসস। থাপ্পড়টা সামলাতে না পেরে তার নিজের বেঞ্চের উপর গিয়ে পড়ল। বেঞ্চের থেকে মাথা উঠালে, দেখি ঠোটের এক কোনা কেটে গিয়েছে। -সবারে এক পাল্লায় মাপবিনা,কিসের তোর এতো দেমাক, থাপড়ায়া সব দেমাক তোর মাথা থেকে ঝাইড়া পালায়া দেমু। (আমি) পুরো ক্লাস নিঃস্তব্দ। জেরির চোখের কোনে পানি টলমল করছে, মনে হয় এখনি মেঘের বর্ষন নামবে। ক্লাস রুমে ঢুকে যাওয়া আর কেও কিছু করলনা। ভয়ে আছি আবার প্রিন্সিপালের কাছে বিচার দেবেনাতো। একে তো প্রিন্সিপালের মেয়ে, তার উপর চড় বসছি, আল্লাহ যানে, না জাননি টি.সি দিয়ে বের কইরা দেয়। সারটা ক্লাস ভয়ে ভয়ে করতেছি। মেয়েটা কেমন জানি হয়ে গেছে,। স্কুল ছুটি, কিন্তু আমার নামে এখনো বিচার আসছেনা কেনো। বাড়িতে চলে আসলাম। রাতে ঘুমানোর সময় ভাবতে লাগলাম, জেরিনকে মারাটা আমার একদম ঠিক হয়নি। তাছাড়া জেরিকে আমি অনেকটাই পছন্দ করি, তার জন্য আমার মনে একটা সফ্ট কর্নার তৈরী হইছে। জেরির কাছে ক্ষমা চেতে হবে, জেরির সাথে এমন করাটা, আমার একদম ঠিক হইনি। আজ স্কুলে এসে দুই চোখ খালি একজনকেই খুজছে, কিন্তু তাকে পাচ্ছিনা। আমি জেরিকে খুজছি কিন্তু পাচ্ছিনা। আজ তিনদিন হলো জেরি স্কুলে আসছেনা। কালকেও আসবে কিনা জানিনা, নাকি আমার অপমান ও চড়টার কারনে লজ্জায় আসছেনা স্কুলে । আজকে জেরি স্কুলে আসছে মুখটা কেমন শুকনা শুকনা লাগছে ওর। গ্রুপের ঘন্টার আগে ওর সাথে কথা বলার কোন সুযোগ নাই, ৪র্থ ঘন্টায় গ্রুপের ঘন্টা করতে গেলাম, জেরি এখনো উপরে আসছেনা, আমি দুতলার বাড়ান্দায় দাড়ায়া আছি। -আমি খুবই দুঃখিত, তুকে না বুঝে চড় মারার জন্য।(জেরি) পিছনে পিরে দেখি জেরি। -আমিও দুঃখিত তুকে চড় মারার জন্য, খুব লেগেছে না, আসলে আমি এতো জোরে মারতে চাইনি(আমি) -না,দোষটাতো আমার ছিলো,(জেরি) -না,,না আমারও ছিলো (আমি) -আচ্ছা বাদ দেও, ফ্রেন্ডস(হাতটা বাড়িয়ে) আমি ও হাতটা বাড়িয়ে হাত দিলাম। -ওকে ফ্রেন্ডস। -এই শুনছো (আদিবা) -হুম বলো(আমি) -শাড়িটা পড়তে পারছিনা। -বসো, এক মিনিটের ভিতর আসছি। ডায়রিটা বন্ধ করে চলে আসলাম আদিবার কাছে, চলে আসার আগে যেতুটুকু পড়ছি ততটুকুর শেষ পাতায় একটা ভাঙ্গা দিয়ে আসলাম। ১০ বছর পর ডায়রিটা হাতে নিলাম, সেই স্কুল লাইফের কিছু কাহিনী পড়লাম। -এইতো আমার লক্ষী বউ এসে গেছি(আমি) -কচু বউ এতক্ষন লাগে আসতে(অভিমান নিয়ে বলল) -আ, হা রাগ করো কেন ।উমমমমমা(কথাটা বলে আদিবার গালে একটা চুমো খেলাম) -হইছে আর আল্গা পিরিতি দেখাতে হবেনা(আদিবা) আমি আর কথা না বাড়িয়ে আদিবাকে উইল চেয়ারের থেকে কোলে নিয়ে খাটে বসালাম। তারপর আমার পাগলি বউটাকে শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছি। আদিবা আমার দিকে এক পলোকে তাকিয়ে আছে। -আমাকে খুব ভালোবাস তাইনা(আদিবা) -হুম নিজের জীবনের থেকেও বেশী।(আমি) রাতে পাগলিটাকে ঘুম পারাচ্ছি, আমার বুক ছাড়া সে শুবেনা,আর সাথে ৫০টা চুমো দিতেই হবে। ৫০টা চুমো না দিলে বলে সে ঘুমাবেনা,আর আমার চুমো না খেলে নাকি তার ঘুম আসেনা। এখন আদিবা ঘুমুচ্ছে, আমি আবার ডায়রিটা হাতে নিলাম........... আজকে এখান পর্যন্ত থাক, আর কেমন হয়েছে জানাবেন। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্কুল জীবনে ভালোবাসার গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now