বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কালোযাদু

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাকারিয়া আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X . কালোজাদু বা ব্লাকম্যাজিক নিয়ে কৌতুহল নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। অনেকে অবচেতন মনেই এ বিদ্যা অনুশীলন করার ইচ্ছা পোষণ করেন।কিন্তু এ বিদ্যা নিয়ে খেলা করার ফলাফল যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার একটি দৃষ্টান্ত চলুন দেখে নেই। রকি ও রাহুল ২ ভাই। ভারতের একটি মুসলিম নগরীতে বসবাস করে তারা।রকি রাহুলের থেকে ৩ বছরের বড়।রকি ক্লাস 12 আর রাহুল ক্লাস 9 এ পড়ে।বয়সে ছোট-বড় হলেও দুই ভাই একদম বন্ধুর মত।একে অপরের পরামর্শ ছাড়া কোনো কাজ করে না। রকির কলেজ একটি চার্চের পাশে।মুসলিম হওয়া সও্বেও রাহুল প্রায় তার বন্ধুদের সাথে কলেজ শেষে চার্চে যেত ঘোরাঘুরি করতে। সেখানে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি আর আড্ডা দেয়া ছিল তাদের নিত্য নৈমিক্তিক ব্যাপার। একদিন আড্ডা শেষে রকির বাসায় ফিরতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যায়। রাতে পড়ার সময় সে খেয়াল করলো তার ভূগোল প্রাকটিক্যাল খাতাটা টেবিলে নেই। অনেক খোজাখুজি করেও খাতাটার দেখা মিললো না। হঠাৎ তার মনে পড়লো সে খাতাটি আজকে কলেজে নিয়ে গিয়েছিল এবং চার্চে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার সময় খাতাটি তার হাতে ছিল।এরপর আর কিছুই সে মনে করতে পারছে না।অথচ খাতাটি তার কলেজে কালকেই সাইন হবে। সাইন করতে না পারলে পরীক্ষার মূল্যবান ২৫ নাম্বার তাকে হারাতে হবে।তাই সে কোনোপ্রকার দেরি না করে ছোট ভাই রাহুলকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল চার্চের উদ্দেশ্যে। রাত তখন প্রায় ১১ টার কাছাকাছি।চার্চে যেতে প্রায় ২০-২৫ মিনিট সময় লাগে। ১১:৩০ এ তারা চার্চে পৌছালো।চার্চ এরিয়ায় ঢুকেই রকি সোজা চলে গেল তাদের আড্ডার স্থলে।সৌভাগ্যক্রমে রকির প্রাকটিক্যাল খাতাটি ঐখানেই ছিল। স্বস্তির একটি নিঃশ্বাস ছেড়ে রাহুলকে নিয়ে বাসার জন্য রওনা হলো। বলে রাখি,রকির আড্ডাস্থলে যেতে একটি চার্চের কবরস্থান ও বিশাল একটি বটগাছ পেরিয়ে যেতে হয়।যখন তারা কবরস্থানটির সামনে ছিল তখন তারা খেয়াল করলো বটগাছটির নিচে কে যেন বসে আছে।তার সামনে একটি মাথার খুলি,প্রজ্বলিত আগুন ও কিছু পাথর রাখা ছিল। লোকটি চোখ বন্ধ করে একমনে কি যেন ভাবছিল। রাত তখন প্রায় পনে বারটা(১১:৪৫)।হঠাৎ তারা কৌতূহল দৃষ্টিতে খেয়াল করলো লোকটার সামনের প্রজ্বলিত আগুনের শিখা ক্রমে বাড়ছে।এর সাথে বাতাসের তীব্রতাও বাড়ছে।কিন্তু আবহাওয়াটা এতোটা বাতাস হওয়ার মতো ছিল না।তবে তারা সবচেয়ে বেশি অবাক হলো যে এতো তীব্র বাতাসে প্রজ্বলিত আগুন নেভা তো দূরের কথা উল্টো তার পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতোক্ষণে তারা একটু একটু ভয় পেতে লাগলো এবং জায়গাটি নিরাপদ মনে না করে যতদ্রুত সম্ভব চার্চের পেছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে গেল।বাসায় পৌছাতে তাদের ১২:৩০ বেজে যায়। তারা দু'ভাই কিছুটা ভয় আর কৌতূহল নিয়ে ঘুমাতে গেলো।ঐ বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা করলো না তারা।তবে তাদের মধ্যে ভয়ের তুলনায় কৌতূহলের পরিমাণটা অনেক বেশি ছিল।তবে এ কৌতূহলটা যে পরবর্তীতে অপূরণীয় সর্বনাশের কারণ হয়ে দাড়াবে তা কেই বা জানতো.... সপ্তাহখানেক পর রকি তার বন্ধুদের নিয়ে যথারীতি চার্চে আড্ডা দিচ্ছিলো।হঠাৎ অবচেতন দৃষ্টিতে রকির চোখ পড়লো বাগানের এক মালির দিকে। চার্চের বাগানে মালির কাজ করছে লোকটি।নতুন এসেছে হয়তো।কারণ এতোদিন তাকে দেখেনি সে। কিন্তু কেন যেন রকির মনে হচ্ছে এই লোকটিকেই সে এর আগে কোথায় যেন দেখেছে। কিন্তু মনে করতে পারছে না।তাই সে লোকটির চিন্তা বাদ দিয়ে আবার আড্ডায় মশগুল হলো।ঐদিন রাতে যখন সে ঘুমাতে যায় তখন তার হঠাৎ মনে পড়লো ঐ মালিটির কথা। আরে এই তো সেই লোক যাকে সে কয়েকদিন আগে রাতে সেই বটগাছের তলায় দেখেছিল।চাঁদের আলোয় ঐদিন তার মুখটা আবছা দেখা গিয়েছিল।তবে ইনিই যে সেই লোক একথা বুঝতে তার আর বিলম্ব হয় না। হঠাৎ তার মনে একরাশ কৌতূহল এসে জমা হয়। দুরন্ত কৈশরিক মন আর আগ্রহের মাএা ধরে রাখতে না পেরে তার ভাই রাহুলকে বিষয়টি খুলে বললো।রাহুলও অতীব উৎসাহিত হলো। রকি মনে মনে সেই মালির সাথে দেখা করার পরিকল্পনা স্থির করে ফেলে। পরেরদিনের ঘটনা। চার্চে আড্ডার সময় রকি সেই মালিকে খুঁজছিলো।হঠাৎ সে দেখতে পেলো মালিটি চার্চরুমে ঢুকার দরজার বাইরে বেন্চে বসে আছে।হাতে একটা কাঁচি ও ঝাড়ু।দেখে মনে হচ্ছে কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিচ্ছে সে।আমি আর সময় নষ্ট না করে বন্ধুদের আড্ডার আসর থেকে উঠে সোজা চলে যাই ঐ মালির কাছে। -এই যে শুনছেন? -জ্বী বলুন। -আপনাকে এই চার্চে নতুন দেখছি।তাই পরিচিত হতে এলাম আর কি।তো আপনার নাম? -মাইকেল ডি কস্তা।আমি এই ১০ দিন হলো এই চার্চে মালির কাজ নিয়েছি। -তো আগে কোথায় কাজ করতেন? -আগে ধর্মশালার একটি চার্চে ছিলাম। -তো ঐখান থেকে চলে আসলেন কেন? (হঠাৎ লোকটি একটু বিরক্ত আর রাগ নিয়ে বললো( -আপনি এতো কিছু জানতে চাইছেন কেন? -না মানে, বললাম না যে পরিচিত হতে এসেছি। -তো পরিচিত হতে এসেছেন ভালো কথা। নাম জিগ্যেস করুন,কেমন আছি জিগ্যেস করুন,কোথায় থাকি জিগ্যেস করুন। আগের জায়গায় কাজ ছেড়ে চলে এসেছি কেন এসব জানতে চাইছেন কেন?(অনেকটা রাগান্বিত হয়ে বললেন) রকি হঠাৎ অপ্রস্তুতভাবে চুপ হয়ে গেল।লোকটি রাগান্বিত মুখ দেখে আর কোনো কথা না বলে চলে আসে সে। কিন্তু তার সেই রাতের কৌতূহল এখনো দূর হয় নি।যে করেই হোক ঐ সম্পকে তার সবকিছু জানতে হবে এমন একটা পন করে বসে সে। পরেরদিন আবার যায় সেই লোকটির কাছে। আজকে লোকটা রকিকে দেখেই গতদিনের রাগান্বিত ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চায়।রকি ঐ সব কিছু মনে না রেখে সোজা লোকটাকে বলে বসে------ -আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। -তো বলুন। -এই লোকালয়ে বলবো না।কোনো নির্জন জায়গায় চলুন। (এরপর রকি লোকটিকে নিয়ে চার্চের পাশের বাগানটিতে বসে।) -হ্যা তো বলুন কি বলতে চান। (এরপর রকি সেই রাতের প্রত্যক্ষ সকল ঘটনা লোকটিকে বলে এবং ঐসব কাজ করার কারণ জানতে চায় সে।লোকটি অপ্রস্তুতভাবে উওর দিলো) -আপনি ঐদিন এতো রাতে চার্চে কি করছিলেন? -আমি আমার ফেলে যাওয়া খাতা আনতে এসেছিলাম।আর এসেই দেখি................... (এরপর লোকটি উপদেশমূলক ভঙ্গিতে বললো) -যা দেখেছিলেন সব ভুলে যান।আপনার ভালোর জন্যই বলছি। কিন্তু নাছোড়বান্দা রকি কোনো কথাই শুনবে না।সে ঠিক করেছে যে করেই হোক ঐ রাতের ব্যাখ্যা সে জানবেই। অনেক অনুনয়-বিনয় করার পর রকির আগ্রহের কাছে হার মানে লোকটি।অবশেষে মুখ খুলতে বাধ্য হন তিনি। -আপনার ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হবে কিনা জানি না।তবে শুধুমাএ আপনার আগ্রহ মেটাতে বলছি। ধর্মশালায় কাজ করার সময় আমার সাথে এক নাস্তিক ব্যক্তির দেখা হয়।সেই ব্যক্তি কুফরিবিদ্যা বা কালোজাদু বলতে আমরা যা বুঝি তার অনুশীলন করতো সে।আমি তার অনেক বিশ্বত ছিলাম। তাই সে আমাকে তার এ বিদ্যা শিখিয়েছিলেন। কালোজাদু সম্পকে এতোদিন শুধু গল্পই শুনে গেছে রকি।কিন্তু আজকে তা শেখার সুযোগ তার সামনে এসে দাড়িয়েছে।কোনোভা বেই সে এই সুযোগ হাতছাড়া হতে দিতে পারে না।তাই প্রবল কৌতূহল আর আগ্রহ নিয়ে সে বললো----- -আমিও শিখবো এই বিদ্যা। -না।এ বিদ্যা শিখলে তোমার যেকোনো সময় মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে। (এমন সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না এ কথা ভেবে রকি বললো) -তবুও আমি শিখবো। রকির আগ্রহ দেখে লোকটি বাধ্য হলেন তাকে এ বিদ্যাশিক্ষা দান করতে।বললেন, -আচ্ছা ঠিক আছে।তুমি আগামী পূর্ণিমারাতে ঠিক ১১:৩০ টার সময় এ চার্চে চলে আসবে ঠিক ঐ বটগাছটার নিচে। তবে মনে রাখবে তোমার সাথে যেন লোহাজাতীয় কিছু না থাকে।কারণ সাথে লোহাজাতীয় কিছু থাকলে মৃত্যু অনির্বায। মনে থাকে যেন। রকির উওেজনা আর আগ্রহের শেষ নেই।সে কালোজাদু শেখার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এবং আকাঙ্খিত পূর্ণিমারাতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। . অবশেষে এলো সেই পূর্ণিমারাত। রাত ১১ টার সময় লোকটির কথা মতো সকল লোহাজাতীয় জিনিস ত্যাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে চার্চের উদ্দেশ্যে রওনা করলো সে।চার্চে এসে দেখলো বটগাছের নিচে সেই মালি অনুরূপভাবে প্রজ্বলিত আগুন,মাথার খুলি ও কিছু পাথর নিয়ে বসে আছে। . অধিক উওেজনা আর মনভরা কৌতূহল নিয়ে এক পা দু পা করে এগিয়ে যায় সেই বটগাছের দিকে.................. বটগাছের সামনে যেতেই সে দেখলো লোকটি মাটিতে তার চারদিকে একটি বৃওাকার দাগ কেটে তার মাঝে বসে আছে। . [রকির প্রত্যক্ষ উক্তি দ্বারা গল্পটি continue করা হলো] . আমাকে দেখেই সে বললো ---- -আয়।তারাতারি এই দাগের ভেতরে চলে আয়। লোকটি আমাকে আপনি সম্বোধন করে কথা বলতো।কিন্তু এখন হঠাৎ তুই করে বললো শুনে একটু অবাকই হলাম।যাই হোক আমি দ্রুত সেই গোলাকার বৃওের ভেতর ঢুকে তার পাশে গিয়ে বসলাম।চারদিকে পূর্ণিমা চাদের আলোয় আলোকিত হয়ে আছে। হঠাৎ লোকটি বললো---- -শোন তোকে আমি যা যা বলবো ঠিক তাই তাই করবি।একটু এদিক-ওদিক করলে কিন্তু তোকে ওরা এখানেই মেরে পুতে ফেলবে। কথাটা শুনা মাএ আমার হৃদপিন্ডে কেমন জানি একটা ভয়ংকর ধাক্কা লাগলো।এখন আমার মনে যেন আমি কোনো ভুল করতে চলেছি। অতি আগ্রহ আর কৌতূহলকে জয়ী করতে নিজের জীবনটাকে নিয়ে খেলা করতে চলে এসেছি। কিন্তু এখন চাইলেও আর আমি কেন যেন এসব ছেড়ে উঠতে পারবো না। এক অদ্ভুদ মায়াজালে আমি মুহূর্তেই আটকে গেছি। মনে হচ্ছে আমার মৃত্যু অতি সন্নিকটে। হঠাৎ লোকটা বলে উঠলো----- -শোন, আমাদের সামনে এই যে মাথার খুলি টি রাখা আছে তুই এই খুলির উপর হাত রাখবি। আর হাত রাখার সময় চোখ বন্ধ করে নিবি।আমি না বলা পর্যন্ত চোখ খুলবি না। আমার নিষেধ অমান্য করে চোখ খুললে কিন্তু তোর মৃত্যু আর কেউ ঠেকাবে পারবে না। কথাটা শোনা মাএ আমার কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেল।আমার সারাশরীর কাপতে লাগলো।এতোক্ষণে আমি মাথার খুলিটার দিকে তাকালাম।খুলিটা মনে হচ্ছে যেন আমার দিকে খুব ক্ষোভ আর রাগ নিয়ে তাকিয়ে আছে।আর এই খুলিটার উপর আমার এখন এই মধ্যরাতে হাত রাখতে হবে একথা ভেবেই আমার সারাশরীর কাপতে লাগলো।অন্যদিকে লোকটি চোখ বন্ধ করে কি যেন ভাবছে। হঠাৎ লোকটি বললো---- -হাত রাখ খুলিটার উপর। কথাটা শুনে আমার হৃদপিন্ড স্থির হয়ে গেল।মনের ভেতরের কথাটা নিজের অজান্তেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো---- -আমি পারবো না। -এখন একথা বললে হবে না বৎস।তুই এখন মায়াজালে আটকে গেছিস।এখন আমার কথা না শুনলে তোর মৃত্যু অনির্বায।তাই বাচতে চাইলে খুলিটার উপর হাত রাখ। কোনো উপায় না দেখে এই ভয়ংকর আর বিভৎস খুলিটার উপর আমার ভয়ে হিমশীতল ঠান্ডা হওয়া হাতটা রাখলাম। রাখামাএ মনে হলো আমি কোনো উত্তপ্ত বস্তুর উপর হাত রাখলাম।এখানে খুলিটা এতোটা গরম হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাহলে কি এটাই কালোজাদুর শুরু???? হঠাৎ খেয়াল করলাম খুলিটা আস্তে আস্তে আরও গরম হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে আশেপাশে তীব্র বাতাস শুরু হয়েছে।বাতাসের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্বাভাবিকভাবে বসে থাকাটা খুবই কষ্টকর ছিল।খুব ইচ্ছা হচ্ছিল বন্ধ করা চোখ জোড়া খুলে কি হচ্ছে আমার সাথে তা দেখার।কিন্তু চোখ খুললেই যে মৃত্যু নিশ্চিত। তাই আর কোনো সাহসই হচ্ছিল না চোখ খোলার।এরই মধ্যে আমার স্পর্শ করে থাকা খুলিটি কথা বলে উঠলো। আমি যেন নিজেকে আর তখন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না।এ কি করে সম্ভব?মাথার খুলি কথা বলবে কি করে!! নিজেকে অনেক কষ্টে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এনে স্পর্শ করে থাকা খুলি আর লোকটার কথা শুনতে লাগলাম------ -কেন এনেছিস এখানে আমাকে? -তুই জানিস না কেন তোকে এনেছি? -এখনো তোকে সাবধান করে বলছি, আমার কবরে আমার মাথাটা রেখে আয়। না হলে একটাকেও কিন্তু জীবিত রাখবো না। -তুই মারবি আমাকে!!! হাসালি।এইবার দেখ তোর কি অবস্থা করি। তোর এই অভিশপ্ত আত্মাকে আমি আমার কাছে বন্দি করে রাখবে।তুই হবি আমার হুকুমের গোলাম। -তুই কিন্তু মৃত্যু নিয়ে খেলসিস, মাইকেল। -নিজে তো আত্মাহত্যা করে মরেছিস।এই তোদের নিয়ে খেলাই তো আমার কাজ। -মাইকেল,শুধু আমি একটা সুযোগ পাই, দেখিস তোর কি অবস্থা করি। -তার আগে আমার হুকুমের গোলাম হয়ে যা তুই। . এই বলে লোকটি কি যেন পড়তে লাগলো।সাথে সাথে আমার মনে হলো স্পর্শ করে থাকা খুলিটি যেন ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। এমন কিছুক্ষণ যাওয়ার পর বাতাসের তীব্রতাও কমে গেল। লোকটি বললো------ -এবার চোখ খোল। . আমি চোখ খুলে কাদতে কাঁদতে বললাম---- -আমি আর আপনার সাথে থাকবো না।আমার কালোজাদু শেখার কোনো দরকার নেই।আমি বাড়ি ফিরে যাবো।আমাকে যেতে দিন। মুহূর্তই লোকটি একটি তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললো---- -হা হা হা।তুই এখন অভিশপ্ত আত্মাদের মায়াজালে বন্দি হয়ে গেছিস।একটু আগে আত্মাটি কি বললো শুনিস নি।সুযোগ পেলে আমাদের কাউকে ছাড়বে না।তুই ও এখন ওদের শিকারে পরিণত হয়েছিস।এখান থেকে বের হওয়ার আর কোনো রাস্তা তোর সামনে নেই।তাই বাচতে চাইলে তোকে আমার সাথেই থাকতে হবে। আমি যা যা বলবো ঠিক তাই তাই করতে হবে তোকে।উল্টা-পাল্টা করলেই তুই শেষ। কথাগুলো শুনে মনে হলো আমি আর বেশিদিন বাচবো না।আমার মৃত্যু খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। সেই সঙ্গে আমার কৌতূহল ও আগ্রহকে ধিক্কার জানাতে লাগলাম।সেই দিন এতো কালোজাদু নিয়ে কৌতূহলী না হলে আজকে আমাকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হত না। কিন্তু এখন যেহেতু মায়াজালে বন্দি হয়েই গেছি তখন বাচতে হলে মাইকেলের কথামতই চলতে হবে।কিন্তু মন কিছুতেই তা সায় দিচ্ছিল না। মৃত্যুভয়ে বুক ফেটে কান্না আসছিলো।বাবা- মা,রাহুলের কথা খুব মনে পড়ছিলো।কিন্তু এখন আর সেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ নেই দেখে খুব কান্না আসছিলো। হঠাৎ লোকটি বলে বসলো---- -শোন,আজকের মতো কাজ শেষ।আজ থেকে ১৫ দিন পর অমাবস্যা রাতে ঠিক এই সময়ে এইখানে চলে আসবি।ভুলেও না আসার কথা চিন্তা করিস না।যদি না আসিস তাহলে ঐ দিনই অভিশপ্ত আত্মা তোকে মেরে ফেলবে।মনে থাকে যেন। আমিও ভয়ার্ত আর ছলছল চোখে তার দিকে তাকালাম আর মাথা নেড়ে তার কথায় সায় দিলাম। এরপর লোকটি তার কাছ থেকে একটি তাবিজ বের করে আমাকে দিয়ে বললো---- -এই তাবিজটি তোর বাম হাতের কনুই-এ বেধে রাখবি এই ১৫ দিন। তাহলে আর এই ১৫ দিন তোর কাছে কেউ আসতে পারবে না।তবে মনে রাখিস এই তাবিজের কার্যকারিতা এই ১৫ দিনই।সামনে অমাবস্যায় এর ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে।তাই কোনো প্রকার ছল- ছাতুরি না করে চলে আসিস।এখন বাসায় চলে যা। আমি আর কোনো কথা না বলে সোজা বাসায় চলে আসলাম।সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সারা শরীর জ্বরে কাপছে। বাবা-মাকে আমি গতকাল রাতের কথা কিছুই বলি নি।তবে রাহুলকে সব খুলে বললাম।রাহুল বললো----- -এরপরের দিন আমিও তোমার সাথে যাবো। -তুই পাগল নাকি?আমি ফাঁদে আটকে গেছি ঠিক আছে।কিন্তু তোকেও এ ভুল করতে দেব না। -আমি কিছুই জানি না। তবে আমি শুধু এতটুকুই জানি যে আমি তোমাকে আর একা ছাড়বো না। রাহুলের জোড়াজুড়িতে এক পর্যায়ে রাজি হয়ে গেলাম।তবে শরীরের জ্বরটা একটুও কমেনি। টানা ১০ দিন ভোগার পর একটু সুস্থ হলাম।তবে দিন যত যাচ্ছে ভয় ততই বাড়ছে। কারণ অমাবস্যা রাত আসতে আর বেশি দেরি নেই। . দেখতে দেখতে চলে এলো সেই মৃত্যুকূপী ভয়ংকর রাত।সন্ধ্যা থেকে আমার সারা শরীর কাপছে।কিন্তু কিছুই করার নেই।জীবন বাচাতে যেতে হবেই। এদিকে তাবিজের কার্যকারিতাও নাকি আজকে রাতে শেষ হয়ে যাবে।যাই হোক, রাহুলকে সাথে করে নিয়ে চললাম সেই চার্চের বটগাছের নিচে।তবে আজকে লোকটা আর আগের দিনের মতো বসে নেই। বটগাছের নিচে হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে দাড়িয়ে আছে।আমরা আসতেই বললো----- -চল যাই(লোকটা রাহুলকে দেখে কিছুই বললো না) -কোথায়? -২ দিন আগে পাশের গ্রামে একটা মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।ওর কবরের কাছে। (আমরা থতমত খেয়ে বললাম) -কবর কেন?? -যা বলছি তাই শোন।চল আমার সাথে।কোনো কথা বলবি না। . আমরা দু'ভাই নিরুপায় হয়ে তার পিছে পিছে যেতে লাগলাম।একসময় সেই আত্মহত্যা করা মেয়ের কবরের সামনে এসে দাড়ালাম আমরা। ওমনি লোকটা তার ব্যাগ থেকে একটা কোদাল ও একটা ধারালো ছুরি বের করলো। আমরা বললাম---- -এগুলো দিয়ে কি হবে? -কোদাল দিয়ে লাশের যেদিকে মাথা আছে সেই দিকের মাটি খোড়া শুরু কর। কথাটা শুনে মনে হলো আমাদের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। আমরা ভয়ে জড় হয়ে গেলাম।লোকটা বলে কি!!!!!কবর খুড়তে।!!!তাও এই অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে।লোকটা বললো---- -কবর খুড়বি নাকি মরবি? -না, না খুড়ছি।(মুহূর্তেই আমরা ভয়ে কান্না করে দিলাম) . যখন কবর অর্ধেক খোড়া শেষ ওমনি লোকটি ধারালো ছুরিটি নিয়ে একলাফে কবরে নেমে গেল।এই দৃশ্য দেখে আমরা দুইভাই জ্ঞান হারানোর মতো হয়ে গেলাম।আমাদের বোধশক্তি যেন কাজ করছে না।হঠাৎ ঐ লোকটি লাশটির গলা কাটতে থাকে।যখনই লাশের গলায় ছুরি দিয়ে প্রথম কোপ দেয় তখনই মনে হলো চারদিক থেকে কেমন যেন একটা ভয়ংকর চিৎকার ভেসে আসছে। মুহূর্তেই লোকটা লাশটির দেহ থেকে মাথাটি আলাদা করে ফেলে।এক হাতে মাথাটি নিয়ে কবরের উপরে তুলে আমাকে বলে---- -এদিকে আয়। আমি ভয়ে কাপতে কাঁপতে তার কাছে গেলাম।শরীরের কোনো বোধশক্তি নেই।যেকোনো সময় জ্ঞান হারাবো এমনটা মনে হলো। . তখন লোকটা তার হাতের রক্তাক্ত বিভৎস মাথাটা হাতে নিয়ে আমাকে বললেন------- -মাথাটা ধর..........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now