বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পতিতা

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাকারিয়া আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X একটা নারী কখনো পতিতা হয়ে জন্মায় না। একটা নারীর পতিতা হওয়ার পেছনে কোনো না কোনো পুরুষ দ্বায়ী,আমাদের সমাজ দ্বায়ী,এমনকি ফ্যামিলিও।আমি জানি আমার এই কথা শুনে অনেকেই রেগে যাবেন আমার উপর।তাহলে চলুন একটা বাস্তব ঘটনা শুনাই আপনাদের। . ১৯৯৩-০৪-১২ রেজিয়ার বিয়ে হয় সেদিন।দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সে। তারা চার বোন কোনো ভাই নেই তার, বাবা খুনখুনে বুড়ো হবে যে তা নয়,সে প্যারালাইজড রোগে আক্রান্ত।পরিবার ের ছোট মেয়ে রেজিয়া। তাই রেজিয়ার তিন বোন জামাই মিলে কোনো রকমে রেজিয়াকে বিয়ে দেয়।সেই সময়ে রেজিয়ার বিয়ের যৌতুক হিসেবে দশ হাজার টাকা দাবি করে রেজিয়ার শ্বশুর। রেজিয়ার তিন বোন জামাই টাকা দিতে রাজি হলেও বিয়েটা মিটে যাওয়ার পর তারা আর যৌতুকের টাকা টা দেয়নি।যার কারনে রেজিয়ার জীবনে নেমে আসে কাল বৈশাখী ঝর। . . রেজিয়ার স্বামী,শ্বশুর,শাশুড়ির হাতে অত্যাচারিত হতে থাকে রেজিয়া।প্রায় আট বছর সংসার করে তিন সন্তান এর জন্ম দেয় সে।দুই মেয়ে এক ছেলের জননী রেজিয়া। কিন্তু এই আট বছরে তার উপর করা নির্যাতন একটু ও কমলো না বরং বেড়েই চললো।একটা সময় রেজিয়া তার তিন সন্তান নিয়ে তার বাবার বাড়ি আসতে বাধ্য হল।কিন্তু তার মা কিছুতেই তাদেরকে বাসায় রাখতে রাজি হচ্ছিলো না।কারন তাদেরই দিন চলে কোনো রকমে।তার মাঝে বাড়তি চার পেটের দ্বায়িত্ব তারা কিভাবে নিবে।তবুও রেজিয়া তার মা কে কোনো রকমে বুঝিয়ে তার তিন সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে সে ঢাকায় চলে গেলো একটা চাকুরীর জন্য। গরীব ঘরে জন্ম নেওয়ার কারনে রেজিয়া কোনো পড়াশুনা না করায় ভালো কোনো চাকুরী হল না তার।সেই আসাও সে করেনি। রাস্তায় ইট ভেঙ্গে কয়েক মাস সে নিজের পেট চালায় এবং ছেলে মেয়ের জন্য মায়ের কাছে টাকা পাঠায়। কিন্তু এভাবে তার তিন সন্তানদের নিয়ে চলা খুব মুশকিল হয়ে পরছিলো তাই সে অন্যের বাসায় কাজের লোকের চাকুরি নেয়। সেখানে সে প্রথম ধর্ষনের স্বীকার হয় বাসার মালিকের ছোট ভাই এর কাছে। . . রেজিয়ার এটা মেনে নিতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় কিন্তু তখনই তার সন্তানদের কথা মনে পরে যায়।সে যদি এ পৃথিবীতে না থাকে তাহলে তার সন্তানদের কি হবে?তাদের কথা ভেবে সে আবার নতুন করে নতুন বাসায় কাজের বুয়ার চাকুরি নেয়। সেখানে খুব ভালো ভাবে চলতে থাকে তার দিন।কিন্তু শুধু একটা বাসায় কাজ করে তার তিন সন্তানকে মানুষ করা সম্ভব হচ্ছিলো না। তাই আরো কয়েকটি বাসায় কাজ নেয় সে। কিন্তু সবাই তো আর এক রকম হয়না। যত গুলো বাসায় সে কাজ করেছে বেশির ভাগ বাসার মালিকের হাতে,হয় তাদের ছেলের হাতে নয়তো মালিকের ভাই এর হাতে অত্যাচারিত হতে হয়েছে তাকে। এভাবে ধর্ষিত হতে হতে একদিন সে বিদেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।সে দ্বিতীয়বার যে বাসায় কাজ করতো সেই বাসার মালিক তার সব কথা শুনে তাকে বিদেশে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করে দেয়। . . ২০০৪ সাল,, রেজিয়া পারি দেয় দুবাই এর বাড়ি।একটা মেয়ে বিদেশে গেলে তাকে আমাদের সমাজ কখনো ভালো চোখে দেখেনা।তবুও মেয়েটির বিদেশে যেতে হয়।হ্যাঁ আমাদের জানার বাকি নেই একটা মেয়ে বিদেশে গিয়ে কি কাজ করে টাকা ইনকাম করে। যেখানে মেয়েটি তার শ্রম দিয়ে টাকা ইনকাম করতে গিয়ে ধর্ষিত হল বহুজনের কাছে বহুবার সেখানে সে নিজের দেহ বিক্রি করে স্বইচ্ছায় টাকা ইনকাম করতে ক্ষতি কি? যাই হোক মূল কথায় আসি। . . মেয়েটি বিদেশে গিয়ে অনেক টাকা ইনকাম করতে শুরু করে।সে তার হাতখরচের টাকা রেখে বাকি টাকাটা তার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিত তার সন্তানদের পড়াশুনার খরচ সহ তাদের সংসার চালাতে।কিন্তু তার মা রেজিয়ার বড় মেয়েকে সুমি কে দিয়ে বাসার সব কাজ করাতো।মেজো সন্তান সুমন কে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলো।আর ছোট মেয়ে রিতু তো অনেকটা ছোট। . . এভাবে কেটে যায় আরো কয়েকটা বছর।রেজিয়ার স্বামী আর তাদের খোঁজ নেয়নি কখনো।হয়তো সে আবার বিয়ে করে নিয়েছে।কিন্তু রেজিয়া যেভাবেই হোক তার ছেলে মেয়েকে ভালো রাখার স্বপ্ন নিয়ে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ছেড়ে বিদেশের বাড়ি পরে আছে। . . রেজিয়া দুবাই যে মালিকের বাসায় কাজ করতো সে মালিকের সাথে তার খুব ভাব ছিলো।কিন্তু সেটা তার স্ত্রীর চোখে পড়ায় রেজিয়াকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। . . দেশে এসে দেখে রেজিয়ার মায়ের কাছে সে যত টাকা পাঠিয়েছে তার কোনো হিসেব দিতে পারেনা তার মা। দুঃখী রেজিয়া আবার সেই হতাশা নিয়ে সেই নিষ্ঠুর ঢাকায় পারি দিলো। তবে এখন আর কোনো লোক লজ্জার ভয় নেই তার।সে যখন বিদেশে গেছে তখনই তার নামে রটেছিলো হাজারো নোংরা কথা।কাজ করার নামে ধর্ষিত হয়েছিলো বহুবার।তাই দেশে এসে সেই পথই বেছে নিলো। পতিতার খাতায় নাম লিখালো সে।সবাই এক নামে চিনে তাকে। তাকে সমাজে সবাই নিচু চোখে দেখে কিন্তু তার বিন্দু মাত্র আক্ষেপ নেই তাতে। . . তার একটাই চিন্তা, নিজেকে বাঁচতে হবে,ছেলে মেয়েদের মানুষ করতে হবে। ছেলের ভবিষ্যত,মেয়েদের ভালো ঘরে বিয়ে দিতে হবে তার।সে চায় না তার মত অভিশপ্ত জীবন তার ছেলেমেয়ের হোক। . . হ্যাঁ আজ গরীব ঘরের মেয়ে পতিতা হওয়ার গল্পটা সবাই জানলেন। তাহলে এটাও বুঝার কথা কেনো আজ তার ঠিকানা পতিতালয় হলো।কেনো সে সমাজের কাছে নিচু,কেন সে সবার মত মাথা উচু করে বাচঁতে পারলো না। কেনো সে স্বামী সংসার নিয়ে সুন্দর একটা স্বপ্ন বুনতে পারলো না।এখানে আমি বলি প্রথমে ছিলো তার ফ্যামিলির ভুল।যখন তারা দেখলো তারা অতি দরিদ্র তখন কেন তারা চারটা কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছিলো? দুইটা সন্তান কি যথেষ্ট্য ছিলো না?তারপর বলবো তার তিন বোন জামাই দ্বায়ী,যখন তারা বুঝতে পারলো তারা যৌতুক দিতে পারবেনা তাহলে রাজি হয়েছিলো কেনো যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিতে??তারপর বলবো তার স্বামী শ্বশুর দ্বায়ী।ওরা তো জানতো রেজিয়ার ফ্যামিলি কেমন তবুও সবটা জেনে এতটা অত্যাচার কেনো করলো? আর একটা মেয়েকে বিয়ে করে তাকে কেনো বাসা থেকে বের করে দেওয়া হবে?তারপর দোষ দিবো আমাদের সমাজের। যেখানে যৌতুক নেওয়া এবং দেওয়া দুটোই আমাদের সমাজে আইনতো অপরাধ সেখানে কেনো এখনো যৌতুকের জন্য অত্যাচারিত হচ্ছে হাজারো নারী।ধ্বংশ হচ্ছে নারী সমাজ। স্থান হচ্ছে তাদের সভ্য সমাজের বাইরে নোংরা সমাজ পতিতালয়ে।এখানে আমার আরো একটা প্রশ্ন আছে, যেখানে পতিতালয়ে বাজে নারীরা থাকে সেখানে পুরুষ যদি না যায় নারীরা দেহ বিক্রি করে কাদের কাছে? নরী'ই কি নারীকে ধর্ষন করে?একটা নারীর কাছে হাজারো পুরুষ কেনো যায়?কেনো পতিতালয় নামে আমাদের সমাজে স্থান আছে এখনো?যেখানে একটা নারী খারাপ সেখানে আমি বলবো দশটা পুরুষ খারাপ।হ্যাঁ নারীরা ভালো সেটা আমি বলছিনা তবে তোমরা পুরুষরা যদি এতটা ভালো হও সাধু হও তাহলে নারী কি একা একাই খারাপ হয়ে গেলো? শোন হে পুরুষ,তোমরাও চরিত্রহীন তবুও তোমরা সমাজে মাথা উচু করে বুক ফুলিয়ে চলো তাই নারীকে যৌগ্য সম্মানটুকু দেওয়ার প্রয়োজন মনে করোনা। কিন্তু তোমরা পুরুষরা একটা নারীর গর্ভে জন্মেছো।নারীর কোলে বড় হয়েছো।নারীকে মা বলে ডেকেছো।নারী পতিতা হয়েছে শুধু তোমাদেরকে মানুষ করার জন্য, আর আজ তোমরাই নারীকে পতিতা বলে ডাকছো। পতিতা বানিয়েছো। কিসেত এত বরাই তোমাদের? আমি এখনো বলবোনা নারীর কোনো দোষ নেই,হ্যাঁ নারীই দোষী নারী পতিতা,তবে তোমরা কেনো ভালো হওনা? . . আমি জানি আজ আমাকে হয়তো অনেকে গালি দিবেন তবুও রেজিয়ার মুখে তার জীবন কাহিনী শুনে আমি এটা না বলে পারছিনা একটা নারী খারাপ হওয়ার পেছনে তোমরা পুরুষেরাই দ্বায়ী।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পতিতা.
→ পতিতাবৃত্তি_।রোধ সম্ভব কি?
→ পতিতাবৃত্তি_।রোধ সম্ভব কি?
→ ইচ্ছে করে কেউ পতিতা হয় না
→ পতিতা
→ নামধারী (পতিতা)
→ এক পতিতার গল্প
→ পতিতা দর্শন-২
→ পতিতা দর্শন-১
→ পতিতা দর্শন-১
→ এক পতিতা মেয়ের গল্প
→ একজন পতিতার গল্প
→ নাসরীন আক্তার এর পতিতা হওয়ার কাহিনী
→ পতিতা পল্লী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now