বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুল জীবনে ভালোবাসার গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাকারিয়া আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X আজ নতুন স্কুলে ভর্তি হইছি, স্কুলের চারপাশের পরিবেশটা অসাধারন। একটা মসজিদ আছে,একটা পুকুর আছে, স্কুলের বারেন্দার সামনে সারি সারি নারিকেল গাছ, রয়েছে একটা শহীদ মিনার। বড় একটা ফিল্ড রয়েছে। স্কুলটা গ্রামের ভিতরে, বাবার চাকরির বদলিতে এই খানে আসা। আপনাদের আগে পরিচয়টা দিয়ে নেই, আমি আরিয়ান ইসলাম, এইবার নবম শ্রেনিতে পড়ি, আগে ঢাকা ছিলাম, এখন ঢাকার একটু ভিতরে চলে আসছি,গ্রামের সাইটে। বাবা এই নতুন স্কুল ভর্তি করিয়ে চলে গেলো। এই স্কুলে বেশী ছাত্র- ছাত্রী নেই, মাত্র ৮০০জন প্রায়। আমার ক্লাস রুমটা বের করে গিয়ে ক্লাসে বসলাম, এখনো ছেলেমেয়ে বেশী আশে নাই, আমি ক্লাসে বসে আছি এমন সময়- -আরে আরিয়ান তুমি (আবির) -হুম তুমাদের স্কুলে ভর্তি হলাম(আমি) -ওহ খুব ভালো, এখন একসাথে স্কুলে আসা- যাওয়া করা যাবে (আবির) -হুম। আবির হলো, আমরা যেখানে বাড়া উঠেছি,এর পাশের বাড়িটা আবিরদের, সেখান থেকে ওর সাথে পরিচয়। কিছুক্ষন পর,,,, একটা মেয়ে যখন ক্লাসে ঢুকল তখন আবির বলে উঠল- -এই আরিয়ান শুন এই মেয়েটা যা রাগী, আবার ক্লাসের ফাস্ট গার্ল এবং আমাদের প্রিন্সিপালের মেয়ে (এতক্ষনে আমরা তুইতে নেমে গেছি) -হুম বুঝলাম।(আমি) তবে মেয়েটা দেখতে সেই সুন্দর,অহংকার করলে তাকে মানায়। আবির আমাকে আরো তিনজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। ওরাও আমাদের গলিতে থাকে । আমরা ৫জন ফ্রেন্ড হয়ে গেলাম। আমরা পাঁচজন এক বেঞ্চে বসলাম পিছনে। কিছুক্ষন পর ক্লাসটা ছেলে মেয়েদের আনা গুনায় পরিপূর্ন হয়ে গেলো। স্যার ক্লাসে ঢুকলেন, হাজিরা ডাকার আগে বলল- -আজকে ক্লাসে নতুন একটা ছেলে ভর্তি হয়েছে, ছেলেটা কই?(স্যার) আমি টপ করে দাড়ালাম। -তুমি তাহলে নতুন ভর্তি হয়েছ(স্যার) -জি স্যার(আমি) ক্লাসের সবাই আমার দিকে কি রকম ভাবে যেন তাকিয়ে আছে, -নাম কি তোমার? (স্যার) -আরিয়ান ইসলাম(আমি) -বাহ্ খুব সুন্দর নাম তো (স্যার) আমার চোখে বড় গোল ওয়ালা একটা চশমা। তবে আমি এতটা খারাপ নই দেখতে। -তা তোমার জে.এস.সি এর রেজাল্ট কি?(স্যার) -স্যার, GPA5। কথাটা যখন বললাম তখন সবাই চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ঐ মেয়েটাও কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। -বাহ্ তাহলে তো তুমি অনেক ভালো স্টুডেন্ট মনে হয়, তাহলে একটা প্রশ্নের উত্তর দেও তো দেখি। (স্যার) স্যারের কথাটা শুনে গলাটা কেমন যেন শুকিয়ে যাচ্ছে, প্রথম দিনেই প্রশ্ন!!!!!! এক বুক সাহস নিয়ে বললাম- -জি স্যার বলেন, -তুমি যেহেতু GPA5 পেয়েছো, তাহলে বলতো GPA এর পূর্ন রূপ কি? (স্যার) উত্তরটা তো খুব সোজা কিন্তু এই মুহূর্তে মনে আসছেনা কেনো। ক্লাসের সকলে এখনো আমার দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে আছে। হ্যা উত্তরটা মনে পড়ছে- -স্যার GPA এর পূর্ন রুপ হলো Grade Point average।(আমি) -হুম সঠিক, তাহলে বলা যায় তুমি ভালো মানের ছেলে(স্যার) ঐ মেয়েটা আমার দিকে কি রককম ভাবে চেয়ে আছে। -জেরি (স্যারে জেরি নামে কোন মেয়েকে যেন ডাক দিল) -জি স্যার।(ঐ মেয়েটা দাড়িয়ে বলল) হুম তাহলে উনার নাম জেরি, রুপের সাথে নামটারও ঠিক মিল আছে। -তুমার কি মনেনে হয় ছেলেটা কেমন(স্যার আমাকে দেখিয়ে বলল) -ভালোই হবে (কেমন মুখটাকে বাংলা ৫ মতো করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল) স্যার আমার রোল নাম্বারটা বলে দিল, রোল নং ৯২। তাহলে আমি সহ এই ক্লাসের ছাত্র সংখ্যা ৯২ জন। ১ম ঘন্টা ভালোই কাটল। ২য় ঘন্টা শুরু হলো। আবির বলল এখন নাকি গনিত ঘন্টা শুরু হবে, আবিরও অনেক ভালো ছাত্র, ওর রোল:৫। ক্লাসে গনিত স্যার ঢুকল,, উনি আর আমার থেকে পরিচয় নিলেন না কারন অফিসে একবার পরিচয় হইছি। -আজকে তোমাদের মজার কিছু পড়া পড়াবো(স্যার) -কি পড়াবেন স্যার (সবাই বলে উঠল) -মজার একটা পড়া, আচ্ছা আমরা এতদিন গনিত করে আসছি শুধু কিন্তু কেও কি বলতে পারবে গনিত এর পূর্ন রূপ কি?(স্যার) স্যারের কথা শুনে সবাই কানা কানি করছে। স্যার জেিরকে ডাক দিয়ে বলল- -জেরি তুমিই বলো গনিত এর পূর্ন রুপ কি? জেরি মাথাটা নিচু দিয়ে বলল - -পারিনা স্যার। -আচ্ছা যে পারো সে তুলো(স্যার) কেও হাত তুলে না দেখে আমি হাত তুললাম কারন আমি এর উত্তরটা জানি। আমার তুলতে দেখে স্যার আমাকে দাড় করালো। -হুম বলো আরিয়ান(আমি আগেও বলছি স্যারের সাথে আমার অফিসে পরিচয় হইছে।) -স্যার গনিত এর পূর্ন রুপ হলো,,,,,,,, ( গ ) দিয়ে= গতানুগতিক ( নি ) দিয়ে=নিয়মে ( ত ) দিয়ে= তপস্যা গতানুগতিক নিয়মে তপস্যা। -সবাই ওর জন্য জোরে একটা করতালি দেও (স্যার) সবাই আমার জন্য হাততালি দিল। জেরি আমার দিকে অহঃকারের চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে। আমি সবাইকে ছোট্ট একটা ধন্যবাদ দিলাম। আজকের দুই ঘন্টাই ক্লাসে ভালোই পারফরমেন্স করলাম। ৩য় ঘন্টা ইংরেজি ক্লাস ছিল। ইংরেজি ক্লাসের স্যারটা অনেক রসিকতা করেন। ৪র্থ ঘন্টা গ্রুপের ক্লাস, আমাদের সাইন্সের ঘন্টা নাকি দোতলায় হয়। সাইন্সের ছাত্র-ছাত্রী ৩০জন। ১০ জন ছেলে, ২০ জন মেয়ে। গনিত ঘন্টার স্যারটা আবার ক্লাস করতে আসলেন, মনে হয় উনি বি.এস.সি টিচার। রসায়ন ক্লাস হবে এখন, স্যার কিছুক্ষন পড়ার পর সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল- -আচ্ছা কে বলতে পারবে, [অনীলা মানে কি?] সবাই চুপ হয়ে বসে আছে, জেরিও পারেনা। এত সহজ এইটা, এইটাও জেরি পারলোনা। আমি দাড়িয়ে বললাম- -স্যার আমি পাড়ি। -হুম বলো (স্যার) -স্যার এইটা হলো এসিডের একটা ধর্ম। -হুম ঠিক,তুমি কিভাবে বুঝলে(স্যার) -অনীলা এটা হলো,,,,, ( অ ) দিয়ে=অম্ল ( নী) দিয়ে=নীলকে ( লা) দিয়ে=লাল করে। এসিডের ধর্মই হলো অম্ল নীলকে লাল করে। -অসাধারন, সত্ত্যি তুমি টেলেন্ট একটা ছেলে (স্যার) আর অন্য দিকে জেরি................ আজ এইটুকই থাক, কেমন হয়েছে জানাবেন,ভালো লাগলে সাড়া দিবেন,তাহলে পরের পার্ট দেব। আর ভালো না লাগলে তো পরের পার্ট শুধু কষ্ট করে দিয়ে লাভ নাই,তাই নয় কি? (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৪১০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্কুল জীবনে ভালোবাসার গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now