বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

For Birthday (last part)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X ঠিক ওই সময় বেল টা দিলাম। দরজা খুলে আমাকে দেখে নিশি স্তব্ধ, ছেলেটাও ভয়ে হা হয়ে তাকায় আছে। আমি স্বাভাবিক ভাবেই ছেলেটা যাওয়ার পথ করে দিলাম।ছেলেটা হা হয়ে একবার আমার দিকে তাকায় আবার নিশির দিকে তাকায়। আমি হেসেই ওকে বললাম :- যাবেন নাকি চা খাবেন। ?? চলেন চা খাই একসাথে। :-না না বলেই বের হয়ে গেলো। দৌড়ে। নিশি এখনো অবাকের ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারে নি। ব্যাগ থেকে ডিবোর্সের কাগজ টা বের করে ওকে বললাম। :-বেবি প্লিজজ এখানে তোমার একটা সই দরকার। কাগজ টা হাতে নিয়ে অনেক্ষন তাকায় আছে সেটার দিকে। আমি ভিতরে চলে গেলাম গোসল করে কিনে আনা খাবার টা খেয়ে ওর কাছে গেলাম। তখনও ও সেটার দিকে তাকায় কাদঁতেছিল। একটা সময় ওর কাঁদা দেখলে নিজেও কাদঁতাম। এখন সেটাও ঘৃনা লাগতেছে দেখতে। :-কই সই হলো??(আমি) gjচুপ) :-কি হলো বেবি, বলো?? gjচুপ) তাড়াতাড়ি করো আমি বের হবো। এরপর কাপড় গোছাতে লাগলাম। একটু পর ও রুমে এসে আমার পায়ের কাছে পড়ে গেল। পড়েই কান্না শুরু :-আমাকে কী আর একটা বার সুযোগ দেওয়া যায় না?(কেঁদে কেঁদে) নিচ থেকে টেনে তুলে বললাম :-বেবি এটা কী বলতেছো।?আমি সুযোগ দেবার কেউ নই। মাত্র একটা সই করতে বললাম এটার জন্য কাদঁতে হয়।?(আমি) আবার পড়ে গেল :-প্লিজ তুমি যাইয়ো না। তোমার ঘরের কাজের মেয়ে হিসেবে আমি থাকবো। প্লিজজ (কেদেঁ কেদেঁ) পা গুলো শক্ত করে ধরে আছে। :-তুমি সই করবা নাকি এমনেই চলে যাবো? :-প্লিজজ যাইয়ু না এই দেখো সই করছি। তুমি যেটা বলবা সেটা করবো। এখানের কাজের বুয়ার মতো থাকবো। এটা বলে সই করে দিলো। :-বেবি আমি থাকলে রুম একটা ভরা থাকবে তোমার আনইজি লাগবে। আমি চলে যাই। সাত রুম আছে সাত জন কে নিয়ে আসিও। নিশ্চিন্তে রাত কাটাতে পারবা।বাড়ি টাও তোমাকে দিয়ে গেলাম। :-আমাকে একটা বার মাফ করো না প্লিজজ জীবনে কখনো এমন হবে না। একটা বার সুযোগ দাও না। আমি ভুল করে ফেলেছি। (এগুলো বলতে বলতে পা গুলো শক্ত করে জড়াই ধরে আছে।) জোর করে পা গুলো ছাড়িয়ে। ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে উঠে গেলাম। ও পাগলের মতো চিল্লাচ্ছিল।পাশের বাসার সবাই বের হয়ে দেখে আছে আমি গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে আসলাম। লুকিং গ্লাসে দেখলাম অনেক্ষন দৌড়ায় দৌড়ায় আসছে। চলে আসলাম। ভাবছি সেই আগের দিন গুলো। চারটা বছরের রিলেশন। কী থেকে কী হয়ে গেলো। ওকে প্রথম দেখে ছিলাম রাস্তায়। দেখেই ক্রাশ খেয়েছিলাম। অন্য রকম লেগেছিল। এলাকায় নতুন এসেছিলাম তাই আর ভয়ে পিছু নিই নি। প্রতিদিন ই দেখতাম। মনে হয় কোথাও ক্লাস করতে যায়। দো তৃতীয় দিন ওর পিছু নিলাম।ও কতক্ষন পর পর পিছনে দেখতেছিল। অনেক হাটার পর খেয়াল করলাম মেয়েটা এতদুর থেকে আসে। কিন্তু চারদিকে তাকাই দেখলাম এটা দুই মিনিটের পথ আসছি। কি ফাজিল মাইয়া আমাকে ঘুরাচ্ছিল এতক্ষন ধরে। ঘুরে ঘুরে আবার আগের জায়গায় চলে আসে। বুঝলাম ও আমি যেন বাসা না চিনি তাই বাসাই যাচ্ছে না এভাবে ঘুরতেছে।এরপর আমি চলে আসলাম। এইভাবে প্রতিদিন করতাম। একমাস পর একদিন হঠাৎ ছয় এসে আমাকে ঘিরে ধরলো।একজনে বললো :-তুই নাকি নিশি কে দিস্টার্ব করস? প্রতিদিন পিছু নেছ। তুকে দেখে মনে হইতেছে নতুন তাই এইবার বলে যাচ্ছি ওটা আমাদের সাইমন ভাইয়ের জি এফ ওটার আশে পাশেও যেন না দেখি। :-আচ্ছা ভাই আমি এমনেই ভিতু ছিলাম। মাইরের ভয়ে সব বাদ দিলাম। কিন্তু কয়েকদিন পর হঠাৎ ও আমার সামনে এসে দাড়ালো :-কি? ?(নিশি) :-কি?? (আমি) :-কি?? :-আরে কি হইছে?(আমি) :-আমার পিছনে পিছনে আসো না কেন? :- মানে?? :-কাল থেকে যেন আমার পিছন পিছন দেখি।যদি না আসো আব্বু কে বলবো যে তুমি আমাকে দিস্টার্ব করো এটা বলেই ভেটকি মার্কা হাসি দিয়ে চলে গেল। এরপর থেকে খুব সাবধানে ফলো করতাম। একদিন দেখি ও বাসা একটা তে ঢুকে গেল। বুঝলাম এটাই ওদের বাসা। বাড়ি দেখে তে আমি হা। কত বড় বাড়ি। ও ভিতরে ঢুকে যাওয়ার পর দেয়ালের উপর দিয়ে দেখার চেষ্টা করছিলাম। তখনই পিছনে একটু আওয়াজ পেলাম তাকিয়ে দেখি কুত্তা। আর কিছু না দেখে দিছিলাম দৌড়। জীবনে কোনো দিন এত দৌড়াদৌড়ি নি। এরপর দিন করেছিলাম প্রোপ্রজ ওবলে ছিল প্রতি দিন ফলো করতে হবে। ওর মিষ্টি শাসন গুলো মাঝে মাঝে অনেক রাগ লাগলেও ভালো লাগতো। কারন থাপ্পর ছিল বাংলালিংক দামে। রাস্তায়, আমার ভার্সিটি তে, যে কোনো জায়গায়। কোনো মেয়ের দিকে তাকাই ছি তো থাপ্পর, লেইট করছি তো থাপ্পর। আমার ফ্রেন্ড রাও ওকে ভয় পেতো। এগুলো করলেও খুব ভালোবাসতো আমাকে। একদিন আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল ওর বাসাই ওর বাবা কে বলেছিল :-বাবা,,, আমি একমাত্র ওকেই বিয়ে করবো। ওকে ছাড়া তো অন্য কারও সাথে বিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করেছো তাহলে আমার লাশের সাথে দিবে। কি হলো ওর সাথে বিয়ে দিবে তো?? :-হ্যা মা দিবো ,অবশ্যই দিবো। এরপর পড়া শেষ করার পর বিয়ে করি আমরা। টিং টিং শব্দে ভাবনায় ছেদ ঘটলো। হোটেলে বসে বসে এতক্ষন আগে কথা গুলো ভাবছিলাম।দরজা খুলে দেখি পুলিশ। :-নিশি চৌধুরী কি আপনার স্ত্রী?(পুলিশ) :-আজকে সকাল পর্যন্ত আমার স্ত্রী ছিল এখন নেই(আমি) ডিবোর্সের কাগজ টা দেখালাম। :-আজকে দুপুরে ওনার লাশ আপনার বাসাই ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। :-আমাকে জিজ্ঞাসা করার কিছু নেই। ঘরের প্রত্যেকটা রুমে সি সি ক্যামেরা লাগানো আছে। চেক করলে সব পাবেন। :-আপনি দেখতে যাবেন না? :-যদি একজন স্ত্রী হতো আজকে ওর সাথে আমিও চলে যেতাম। কিন্তু একজন বিশ্বাস ঘাতকের চেহেরা না দেখলেও চলবে। নিজের পাপের ফল হিসেবে সুইসাইড কে বেছে নিয়ে নিয়েছে। আমার কিছুই করার নাই। এরপর ব্যাগ আমার আর নিশির ছবি টা বের করে একবার মুছে ছিরে ফেলে দিলাম। কতক্ষন পরেই ফ্লাইট। ........... সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now