বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাসে তাড়াহুড়ো করে
উঠতে গিয়ে মেয়েটার
গায়ে ধাক্কা লাগতেই
আমার দিকে রাগান্বিত
হয়ে
তাকালো।
- আছে আছে (আমি)
- কি আছে?? (মেয়েটি)
- ওই যে বলবেন বাসায়
মা বোন নেই? দেখে
চলতে পারেন না, মেয়ে
দেখলেই ধাক্কা দিতে
মন চায়।
তাই তাই আগেই বললাম।
শুধু মা বোন না সুন্দর
একটা বউ ও আছে। ( দাত
কেলাই বললাম)
ভাগ্যক্রমে মেয়েটির
পাশের সিটে বসার
সৌভাগ্য হলো
এরপর...
- আমি মেয়েটার আরেকটু
কাছে গা ঘেষে
বসলাম।
- নাক কুঁচকে রাগান্বিত
হয়ে মেয়েটা দুটো
সীটের মাঝে ভ্যানিটি
ব্যাগ রেখে জানালার
ধারে সরে
গেলো।
- আমি আরেকটু চেপে
বসতেই...
বাঁজখাই গলায়
বলে উঠলো....
- আশ্চর্য মানুষ তো
আপনি। ভদ্রতা জানেন
না
নাকি !! গা ঘেষে
বসছেন কেনো ??
- আমি একটু চুপসে
গেলাম। তারপর বললাম,
আফা পানি হবে ? পানি?
- ব্যাগ থেকে পানির
সিপার বের করে দিলো।
পানি নিয়ে
বাসে উঠতে পারেন
না !! ( রাগ নিয়ে বলল)
- পানি খেয়ে সিপারটা
ফিরিয়ে দিলাম।
.
কানে হেডফোন দিয়ে
গান শুনছি। একটু দুষ্টুমি
করার শখ জাগলো। তাই
ঘুমের ভান করে
মেয়েটার
কাঁধে মাথা এলিয়ে
দিলাম।
চুল থেকে একটা সুঘ্রাণ
আসছে, ইচ্ছে করছে
চুলগুলো আলতো করে হাত
বুলিয়ে দেই।
কিন্তু চলন্ত বাস থেকে
অকারণে গণধোলাই
প্লাস নামার ইচ্ছা
নেই। তার উপর
ঠাডাপোড়া রোদ।
- মাথাটা সরান।
(মেয়ে)
- ওওপস স্যরি। (হেসে)
.
মেয়েটা এমনিতেই
সুন্দর তার উপর, নীল
রংয়ের ড্রেস পড়েছে।
নীল রংটা আমায়
কিছুটা
দুর্বল করে দেয়।
তার উপর ঠোঁটের নিচে
তিল .... তিল থাকায়
....আহা ইচ্ছে করছে
মেয়েটাকে....
- মামা ভাড়াটা দেন
( কন্ডাক্টর )
- শালার কন্ডাক্টর
আসার আর সময় পেলি না,
স্বপ্নটা দেখার আগে
ভেঙ্গে দিলি। ( মনে
মনে)
- ভাড়া কত ? ( মেয়েটা )
- আরে আরে কি করছেন !!
কি?? আমি দিচ্ছি
আপনার
ভাড়া।
- কেনো কেনো...আমার
ভাড়া আপনি দিবেন
কেন?? নাকি আমার
কাছে টাকা নেই !!
- না আপনি আমাকে
পানি দিয়ে উপকার
করলেন তাই
কৃতজ্ঞতাবশত এই
উপকারটুকু আমি করতেই
পারি।
অবশেষ দুজনের ভাড়াটা
আমিই দিলাম।
কন্ডাক্টর হালায় যেমন
করে আমার দিকে
চাইয়া আছে মনে হয়
মেয়েটার ভাড়া দিয়ে
মস্ত বড়
ভুল করেছি।
- এই এই মাম্মা শুনুন ?
(মেয়ে)
- জ্বি আপা ( কন্ডাক্টর )
- অন্য কোনো সিট ফাঁকা
আছে ?? আমার এখানে
বসতে অনেক সমস্যা
হচ্ছে।
- না আপা কোথাও সিট
ফাঁকা নেই। আরো ১০
কিমি
পর দুইটা সিট ফাঁকা
হবে। ( কন্ডাক্টর মামা)
- মেয়েটা ইরাম ইরাম
হতাশ হয়ে জানালার
বাইরে তাকালো।
- চিন্তা করবেন না আপু
আমারো এই সিটে
সমস্যা
করছে। ওই দুইটা সিট
ফাঁকা হলে আমরা
দুজনেই
ওখানে বসে পড়বো।
(হেসে)
- আমার বয়েই গেছে
আপনার সাথে বসতে।
আর হ্যা আপনার বিরক্ত
করার জন্যই আমি চলে
যেতে চাচ্ছি। (রেগে)
- ওহ আচ্ছা সরি।
ঘন্টা-খানিকক্ষন পর....
.
নাহ অনেকক্ষণ হলো।
পেটটা কেমন জানি
ফেঁপে
উঠেছে। না বমির জন্য
না, মেয়েটার সাথে
কথা
বলার জন্য।
কিছু একটাতো বলা
দরকার। কি বলি কি
বলি,
মেয়েটা দেখছি পানি
খাচ্ছে।
- আমি মেয়েটার দিকে
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে
আছি।
- কিছু বলবেন !! (মেয়ে)
- জ্বি, একটা প্রশ্ন
ছিলো। করতে পারি ?
(আমি)
- কি ?
- আপনাকে কোথায় যেনো
দেখেছি দেখেছি মনে
হচ্ছে। না, কোথায়
দেখছি বলুন তো।
- একটু রাগী দৃষ্টিতে
তাকিয়ে থাকার পর
আমার মাথায়
সিপারের পানি ঢেলে
খালি করে দিলো।
আর বলল...আবার বলছে
কোথায় যেন দেখেছি
বলেন তো (রেখে)
কন্ডাক্টর মামাএই দৃশ্য
দেখে বলে উঠলো,
- আরে আরে এইটা কি
করলেন আপা ?
বাসের
অনেকেই আমার দিকে
তাকিয়ে আছে।
- আমি আমার জামাইয়ের
মাথায় আমি পানি
ঢেলেছি তাতে
আপনার কি?? আর
আপনারা তাকিয়ে আছেন
কেন? যে যার কাজ
করুন... (উৎসুক
বাসযাত্রীদের বলল)
সকলে এক যোগে ইরাম
ইরাম চোখে একবার
আমাকে আর একবার
নীলাদ্রীর দিকে
তাকাচ্ছে।
সবাই হয়তো এইটা
ভাবছে, এরা আসলেই
স্বামী-স্ত্রী
তাহলে এতক্ষণ এভাবে
ছিলো কেনো !!?
নীলাদ্রী যখন আমাকে
ওর জামাই বলে
সবাইকে
বললো তখন অবশ্য আমার
দারুণ লেগেছে..খুশিতে
তো মনের মধ্যে টেও
টেও রিংটোন বাজছে....
.
- কিছুক্ষণ চুপ থাকার
পর নীলাদ্রী বললো,
কোথায় আমার রাগটা
ভাঙাবে তা না করে
আমাকে
আরো রাগিয়ে দিচ্ছো।
(অনেকটা অভিমানের
সুরে বলল)
....রেগে বলল
- স্যরি। (নীলাদ্রী)
- হুমম।
- বললাম তো স্যরি।
- হুমম।
- স্যরির উত্তর দাও।
- হুমম।
আমার বা হাতে সজোরে
চিমটি কাটলো।
- আওচ(আমি)
- কতক্ষণ ধরে বলছি
স্যরি আর তুমি হুমম হুমম
করছো কেনো ??
- আমি কে আপনার যে
স্যরি বলতে হবে ?
- আমার বা হাতটা ও দু
হাতে জড়িয়ে কাঁধে
মাথা
রেখে বললো আর কতক্ষণ
লাগবে পৌঁছুতে ?
- আমি একটু হেসে ওর
কপালে আলতো চুমু
দিয়ে বললাম, দশ-বারো
মিনিট।
.
অনেকদিন ধরে
শ্বশুরবাড়ি যাওয়া
হয়নি। নীলাদ্রীর
সাথেও অনেকবার এইটা
নিয়ে মান অভিমান
হয়েছে। তাই ঈদের
কয়েকদিন আগে
সিদ্ধান্ত
নিয়েছিলাম যে ঈদের
ছুটিতে শ্বশুরবাড়ি
এবার
যাবোই এবং রথযাত্রা
দেখবো টিকিটের
বন্দবস্ত প্রায় করে
ফেলেছিলাম।
কিন্তু ঈদের দৌড়াদৌড়ি
টানাহ্যাঁচড়া ভিড়
ভাট্টা ভোগান্তি নিয়ে
শ্বশুরবাড়ি যাওয়া
হয়নি এরই সাথে
রথযাত্রাটাও দেখা
হয়নি।ঈদের ছুটিগুলো
শুধু ঘুমিয়েই কাটিয়ে
ছিলাম। তাই খানিকটা
অভিমান অবশ্যই আমার
উপর জমে আছে হয়ত।
ঈদের ছুটি কাটিয়ে
১সপ্তাহ কাটতে না
কাটতে শুক্রবার
অফিসিয়াল হলিডে
থাকায় ব্যস....
আমার বউটা সাত-
সকালে রেডি হয়ে
একা একা বেরিয়ে
পরলো। আমিও একটু পর
পিছু পিছু
চলে আসলাম। এই হলো
আমাদের কাহিনী তাই
বাসে এত শোরগোল।
শ্বশুরবাড়িও এসে
পড়েছি। আহ কতদিন
জামাই আদর পাইই না,
আজ দুঃখ ঘুচবে।
শ্বশুরবাড়ি মধুর হাড়ি
হিহি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now