বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার প্রেমকাহিনী-----1

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অনয় (০ পয়েন্ট)

X লেখাঃ অনয়....... বিকাল চারটা বেজে তিন মিনিট। সূর্য পশ্চিমের আকাশে ঢলে পড়েছে। আমার মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠল। রিসিভ করতেই অপরপাশ থেকে ভেসে আসছে অনয় তুই কোথায়? এখনো বাড়ি থেকে বের হসনি? খেলা তো শুরু হয়ে যাচ্ছে। ভাই তাড়াতাড়ি আয়। পরে সন্ধ্যা হয়ে যাবে ম্যাচটা শেষ করতে পারবো না। আচ্ছা আসতেছি দোস্ত মাত্র পাঁচ মিনিট লাগবে বলেই মোবাইলটা কেটে দিয়ে রেড়ি হচ্ছি। এমন সময় আম্মুর ডাক। ★ আম্মুঃ- এই অনয় এদিকে আয় তো বাবা। ★আমিঃ- আম্মু আসছি। ★আম্মুঃ- তাড়াতাড়ি আয় একটু বাবা। ★আমিঃ- জ্বি আম্মু বল কি বলবে। তবে কোন কাজের কথা বলতে পারবে না এখন। আমি খেলতে যাচ্ছি। ★আম্মুঃ- তোর মামাকে কিছুক্ষন আগে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। তোর নানা ফোন দিয়েছিল। এখনি গিয়ে একটু দেখে আয় বাবা। না হলে কি মনে করবে বল। হাসপাতালে থাকতেও দেখতে যাস নি। ★আমিঃ- কিন্তু মা এখন কি করে যাবো? যেতে যেতেই তো রাত হয়ে যাবে। আসবো কিভাবে? তারচেয়ে আগামিকাল যায় মা। ★আম্মুঃ- না আজকেই যেতে হবে। আর তোকে আসতে বলেছে কে। আজ থেকে আগামীকাল আসবি। আর সাথে রাফিকে নিয়ে যাবি। ★আমিঃ- আচ্ছা ( বাধ্য হয়ে বললাম। পরে ফ্রেন্ডকে কল দিয়ে জানিয়ে দিলাম আমি আসতে পারবো না মামাকে দেখতে যাচ্ছি)। ও বলাই তো হয়নি। আমি অনয় (অনার্স ফাস্ট ইয়ার ঐ সময়)। সাধা সিধে আর মাত্রাতিরক্ত লাজুক প্রকৃতির। খাবার নিয়েও আছে ঝামেলা। তাই কোন আত্মীয়দের বাড়িতে আমি সহজে যায় না। আর যে মামা কে দেখতে যাচ্ছি তিনি হলেন আম্মুর চাচাতো ভাই। প্রায় দশ বছর আগে তারা এখান থেকে চলে গেছে। দুই মাস পনের দিন আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। সিএনজিতে থাকা ড্রাইভার সহ ছয়জন যাত্রীর মধ্যে চার জনই স্পটে মারা যান। আর ড্রাইভারকে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রায় আড়াই ঘন্টা জীবনের সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে আত্মসমর্পণ করেন। পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। কিন্তু অলৌকিকভাবে বেচে যান মামা। মামা ডান পা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান। তবে সবচেয়ে বেশী আঘাত পান প্রস্রাবের নালীতে। এজন্য পর পর দুটি অপারেশন করা হয়। পরে প্রস্রাবের নালী বাহিরে ব্যাগে ঝুলিয়ে দিয়ে কিছু দিনের জন্য মামাকে রিলিজ দেওয়া হয় । আর রাফি হচ্ছে আমার মামাতো ভাই (ক্লাস এইটে পড়ে ঐ সময়)। বিকাল পাঁচটা বেজে কুড়ি মিনিট। এক প্রকার বাধ্য হয়েই রাফিকে সাথে নিয়ে মামাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। বের হওয়ার আগে বড় মামা মানে রাফির বাবা আমাকে ম্যাপ আকারে দেখিয়ে দিলেন কিভাবে যেতে হবে। অবশ্য আমি এর আগেও দুবার তাদের বাড়িতে গিয়েছি। একবার যখন আমার বয়স চার বছর আর দ্বিতীয়বার যখন গিয়েছি তখন আমি ক্লাশ থ্রি-তে পড়তাম। তাই সেভাবে কিছু মনে নেই। তবে যেটা মনে আছে তা হল একটা ছোট্ট দিঘি বয়ে গেছে মামাদের গ্রামের পাশ দিয়ে। বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে এই দিঘি বেয়ে। দিঘির দুই পাড় দিয়েই রাস্তা। দিঘির ডান পাশের রাস্তা ধরে হাটলে মামাদের বাড়ি। রাস্তা থেকে একটু নিচে কিন্তু রাস্তা ঘেষেই ছোট ছোট মাটির তৈরি ঘর। যে কাউকে আকর্ষিত করবে। দুটো বিশাল আকৃতির জামগাছ আর গাছের ঘোড়া ঘেষে আছে বিশাল উইপোকার টিবি। দেখা মাত্র না চাইলেও ভৌতিক ভাবনা মাথায় ঘুর পাক খেতে থাকবে। বাস থেকে নামার পর ত্রিশ মিনিটের পথ। দিনের বেলায় ভাগ্যক্রমে দু-একটা রিক্সা পাওয়া গেলেও সন্ধ্যার পর আর পাওয়া যায় না। তাই আমরা পায়ে হেটেই রওনা দিলাম। অন্ধকার রাত। চারদিক ভালভাবে দেখাও যাচ্ছে না। মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে কোনভাবে এগিয়ে চলেছি। এদিকে বাড়ি থেকে মামা আর আম্মু বার বার ফোন দিয়েই চলেছে। দু-একবার কথা বললেও এখন ভিষন রাগ হচ্ছে। তাই শেষবার ফোন রিসিভ করে বললাম আমরা প্রায় চলে এসেছি আর ফোন দিয়েন না বলেই কেটে দিলাম। হঠাৎ-ই মনে পড়ে গেল বিশাল আকৃতির ঐ জাম গাছের কথা। ভয়ে আমার সারা শরিরের লোম দাড়িয়ে গেছে। রাফিকে কোন কিছু বুঝতে না দিয়ে খুব দ্রুত হাটছি। কিছুক্ষনের মধ্যেই বাড়ির কাছাকাছি পৌছে গেলাম। কিন্তু বিশাল ধৈত্য আকৃতির সেই জামগাছ দুটো চোখে পড়ল না। মনে মনে ভাবলাম হয়তো বিক্রি করে দিয়েছে। বিদ্যুৎ নেয়। যদিও রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক থাম বসানো দেখলাম। একটু দুরেই কুপির আলো দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলাম। কাছে গিয়ে ডাকলাম কেউ কি আছেন বাড়িতে। একবার বলা মাত্রই একটি মেয়ে কুপি হাতে বেরিয়ে এল। চলবে.............


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now