বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X মেয়েটা কে ? নূরির সাথে পড়ে । বাড়ি কোথায় ? পাশের গ্রামে । এখানে কি ,? ঘুরতে এসেছে । একা কেন ? জানি না । তুই ওর সাথে হাঁটছিলি কেন ? রাস্তা ঘাট চিনে না তাই চিনিয়ে দিতে বলেছিল । আর যাতে না দেখি মেয়েটার সাথে । ঠিক আছে ? বাবা এই কথা বলে আমার ঘর থেকে বের হয়ে গেল । (আসলে আমরা ঘর বলতে বাবা আমাকে কিছু সম্পদ লিখে দিয়েছে । আর আমি এখানে একটা ছোট ঘর বানিয়েছি । চারটি মুলির বেরা দিয়ে , আর টিনের দুটি চাল দিয়ে ।আমার এই স্বপ্নের ঘর বানিয়েছি । বাবা-মা , ভাই-বোন কেউ আমার সাথে থাকে না । আমার ঘরে আমি একাই থাকি । আর সবাই বাবার বানানো দোতলা বিশিষ্ট বাড়িতে থাকে । এক সময় আমিও থাকতাম এখন থাকিনা। তবে মাজে মাজে যেতাম, তবে কেউ সহসা আমার এখানে আসে না । আজ বাবা এসেছে, তার কারন ঐ মেয়েটা । মেয়েটা নাকি নূরির বান্ধবী আমাদের এখানে ঘুরতে এসেছে , কিন্তু রাস্তা ঘাট কিছুই চিনে না । তাই অনেকক্ষন ওর সাথে হেটেছি । তাই রাস্তায় আমাদের দেখে ফেলে । তাই বাড়িতে আসা , আর আমাকে বলে গেল আমি যাতে ঐ মেয়ের সাথে আর না ঘুরি ।) বাবা চলে যেতে চাইল ।বাবা দুগ্ঘা ভাত খেয়ে যাবে ? কেন আমার বাড়িতে ভাতের অভাব পরছে , তোর এখানে খেতে হবে ? তা কি রান্না করছিস ? এইতো বাবা গরুর গোস্ত, আর ডাল । তুই রান্না করছিস নাকি তোর মা এনে দিয়ে গেছে ? না বাবা , আমি রান্না করছি কেউ এনে দিয়ে যায়নি ''খুশি মনে" আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা , ঠিক আছে যাই হোক, আমি চলে যাচ্ছি , আমি এখানে খাবনা । বাবা মাকে একটু আসতে বলো , মাকে দুই বছর ধরে দেখিনা । বাবা কি যেন ভাবলো তার পল চলে গেলো । বাবা মনে করেছিল মা আমাকে তরকারি দিয়ে গেছে । কিন্তু মা প্রমথ প্রমথ আসলেও আজ দুই বছল ধরে আসেনা আর দেখিওনা ।আমারও যাওয়া হয়নি । , আসলে বাবা আমাকে আলাদা করে দেওয়ার কারন হল আমি তাদের যোগ্য নই । আমি ছোট থেকে লেখা পরা করিনি । ক্লাসে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছি । আর আমার পরিবারের সবাই MBA করা । আমার 20 বছর বয়সের কালে আলাদা করে দেওয়া হয় । তবে আমার ছোট বোন এখন অনার্স 3য় বর্ষে পড়ে যার নাম নূরি । আমার পড়ালেখা মনে থাকেনা বলে তাই পড়া হয়ে উঠেনি । আমি যেদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে আসি সেদিন কেউ বাড়িতে ছিলনা । তারা কোথায় জেন বেরাতে গিয়েছিল । ঐ দিন দুপুর দুইটায় বাবা ফোন করে বলে বাসায় এক জন উকিল যাবে । সে যা বলবে তুই তাই করবি , আমাদের অপেক্ষা করবি না । সেদিন উকিল এসে যা বলেছিল, এখানে দুই বিঘা জমির দলিল আর 50 হাজার টাকা আছে, তুমি আজই এই বাড়ি থেকে চলে যাবে । সেদিন আমি কিছু বলতে পারিনি , কি করে বলবো আর কাকে বলবো ? সেদিন থেকে আজ অব্দি একাই থাকি আগে মা এসে দেখে যেত এখন আর আসেনা । , , মেয়েটা আজ আবার এসেছে , পরনে হলুদ ড্রেস । খুব সুন্দর লাগছে । বাবার দেওয়া জমিতে সরিষা করেছি , আর সাথেই আমার ঘর । সরিষা খেতে লাফা লাফি করছে , সাথে মোবাইল নিয়ে ছবি তোলছে । আমার সরিষা খেতের যে বারোটা বাজাচ্ছে তার কোন খেয়াল নেই । আমি গিয়ে একটু বুঝিয়ে বলাতে মেয়েটা চলে গেল । এমন আচরনে মেয়েটাকে অনেক ভদ্র মনে হল। তবে আজ মেয়েটা একটা কাজ করেছে । কখন যে হাত বারিয়ে আমার মনটা চুরি করে নিয়ে গেছে বলতে পারবনা । যদিও আমার এ রকম স্বপ্ন দেখা বেমানান । আমার ছোট্ট ঘরে হ্যারিকেনের আলোই ভাল বিদ্যুত্ ব্যবহার মানাবে বলে মনে হয় না । তবুও মনটা কেমন জেনো করছে । কষ্ট না হলেও কিছু ভাল লাগছেনা । মেয়েটা ছবি তোলতে এসে ঠিক যেই যায়গাটা মারিয়ে গেছে ঠিক সেই যায়গাটায় দুটি পাখি এসে বসেছে । খুব যত্ন করে সরিষা খাচ্ছে । ওদের দেখে আমার মনে হল, ওরা যদি খড়কুটার বাসায় থাকতে পারে । মেয়েটা কেন আমাকে ভালবেসে আমার এই ছোট্ট কুরের ঘরে থাকতে পারবেনা ? এখন ভাবছি আসলে কি থাকতে পারবেনা ? ভাবনায় ছেদ পরলো "রহিমের" ডাকে । কিরে "রাখিল" তুই এখানে বসে আছিস? আজ অনেক দিন হল কাজে যাসনা । কোন সমস্যা ? না রহিম, এমনি জমির কাজ নিয়ে বেস্ত, তাই আর যাওয়া হয় না । আমি যাইনা বলে "কামাল" চাচা কিছু বলেছে ? না , তেমন কিছু বলেনি । কাজের চাপ একটু বেশি তাই চাচা তোকে তারা তারি কাজে যোগ দিতে বলেছে । আসলে কামাল চাচা হল, বিয়ে - গায়ে হলুদ, ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনের কন্টাকটার আর আমি তার হয়ে কাজ করি । . কিছু দিন ধরে দেখছি মেয়েটা প্রতি দিন এখানে আসে , ওর নাকি এই যায়গাটা ভাল লাগে । এর মাজে একদিন ওর নামটা জেনে নিলাম, ''শিমলা '' । এই খানে আসার কারনে আমারও এক নজর দেখা হয়ে যায় । ও যতক্ষণ থাকে , আমি ওকে দূর থেকে ততক্ষণ দেখে যাই। সামনে যাওয়ার সাহসটা হারিয়ে ফেলেছি তো তাই । এখন মনে হচ্ছে ওকে এখানেই রেখে দেই । আমি ঘর থেকেই দেখছি , বাহিরে বের হওয়ার প্রয়োজন পরেনা ।কারন আমার ঘরটা একটা চকের মাজে , বলতে গেলে গ্রামের বাহিরে আর সমাজ থেকে দূরে । আমার ঘর থেকে বাহিরে কম বেশি চারদিক সব দেখা যায় , আমি এখন মেয়েটা কে দেখছি । ঘরের দরজা বাহির থেকে কে যেন টোকা দিচ্ছে । কে ? আমি রহিম । ও ভেতরে আয় , দরজা খোলা আছে । বাহিরে তাকিয়ে কি দেখছিস ? ঐ মেয়েটাকে । কেন ? ভালোবেসে ফেলেছি তাই । মেয়েটা জানে ? না । তাহলে দেখে লাভ কি ? এমনি , সব কিছুতে লাভ খুজলে চলে না । মেয়েটা তোকে চিনে ? হুম , ঐদিন পরিচিত হইছি । মেয়েটার নাম কি ? শীমলা তাহলে বলেদে তোর মনের কথা । যদি কিছু মনে করে ? করলে করবে । যদি খারাপ কিছু করে ? করবে না । তুই শুধু ওকে তোর মনের কথা বলে দেখ । এতে জানতে তো পারবে তুই ওকে ভাল বাসিস । এটা ঠিক বলেছিস । কি করে বলবো আমার তো ভয় করছে ? তোকে কি আজই বলতে বলেছি ? তো ? কাল না হয় পরশু বলবি । ঠিক আছে , তবে তুই আমার সাথে থাকবি । ঠিক আছে , তবে সাথে নয় আমি আরালে থাকবো ।তবে একটা কথা মনে থাকে জেন , ভয় পাবিনা সাহস করে বলে ফেলবি । . কিরে রাখিল আজতো মেয়েটা আসছেনা ? জানি নারে ভাই। তবে আমার মনে হয় মেয়েটা আসবে না । আসলে ভাল, আর না আসলে তোর কপালে ভালবাসা নেই । আছে ভাই , ঐ দেখ মেয়েটা আসছে । তোর কপাল ভাল , ঠিক আছে তুই এখানে থাক আমি ঘরের ভিতরে আছি । ঠিক আছে । মেয়েটা আমার চাষের সরিষা খেতটা ভাল করে দেখছে , আমি মেয়েটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি । আর ভাবছি, আমার কথায় কি মেয়েটা রাজি হবে ? ভালো আছো তুমি ? ভালো , আপনি ? ভালো , আমার তোমাকে কিছু কথা বলার আছে , তুমি কি শুনবে ? বলেন কি বলবেন? আমি সহজ ভাবেই বলছি আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই, তুমি কি আমার কথায় রাজি হবে ? চলুন ঐ টিলায় গিয়ে বসি তারপর আপনার উত্তর দিচ্ছি । আমি আমার ঘরের দিকে তাকালাম, রাখিল বুঝিয়ে দিচ্ছে, যা । টিলায় এসে বসলাম, মেয়েটা কথা শুরু করে দিয়েছে । আপনি কি কাজ করেন? কৃষি আর কামাল চাচার হয়ে কাজ করি । মাসে আয় কত ? পাঁচ হাজার টাকা । ঐ ঘরটা আপনার? হুম! পড়ালেখা কতটুকু করেছেন? ক্লাস ফাইব । ঘরে বিদ্যুত্ আছে ? না । গ্যাসের চুলা আছে ? না , মাটির চুলায় রান্না করি । বাবা-মা নেই ? আছে , তবে আমার সাথে থাকে না । এবার মেয়েটা রেগে গেল ,যার বাবা-মা তার ছেলের সাথে থাকেনা তার সাথে অচেনা একটা মেয়ে কি করে থাকবে ? যার মাসে আয় 5 হাজার টাকা , সে বিয়ে করে বউকে খাওয়াবে কি ? যার শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত, তার আর কি যোগ্যতা আছে ? যার ঘর খড়কুটোর বেরা দেওয়া সে কি করে তার ভিতর বউ রাখবে ? আমার মনে হয় বুঝতে পেরেছেন? আমি কি বলতে চেয়েছি ? মেয়েটা চলে যাচ্ছে আমি তার পানে চেয়ে আছি , আমার কিছু করার নেই, নেই কোন চাহিদা । রহিম ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে , মেয়েটা কি বলেছে জিজ্ঞাসা করছে বার বার । আমি কি উত্তর দিব? আমি কি উত্তর দিব, যার বাবা মা তার সাথে থাকতে চায়না , তার সাথে অন্য কেউ কি করে থাকবে ? আমি রহিম কে কিছু বললাম না । কাল থেকে কাজে যাব কামাল চাচারে বলে দিস । ঠিক আছে তুই কিন্তু বললিনা মেয়েটা কি বলেছে । বলতে ইচ্ছে করছেনা । . গত এক মাস মেয়েটা কে আর দেখিনি । তবে খুব করে মনে পরতো ওর কথা । এখন আর আমার সরিষা গাছে ফুল নেই, সব ঝরে গেছে । তার সাথে আমার স্বপ্ন গুলোও । রহিম এসেছে । কিরে তুই অসময় ? কামাল চাচা পাঠিয়েছে । দুটি বড় কন্ট্রাক্ট পেরেছেন, কাজ দুইদিনে শেষ করতে হবে ।এখন কামাল চাচা তোকে যেতে বলেছে । , চাচা আপনি নাকি আমাকে ডেকেছেন? হুম । কাল থেকে কাজ একটু বেশি করতে হবে । রাতেও কাজ করতে হতে পারে । তবে রাতে কাজ করবি কি না সেটা তোদের ইচ্ছা । কিন্তু কাজ দুইদিনে সম্পূর্ণ করতে হবে ।একটা আমাদের গ্রামে আর একটা পাশের গ্রামে । কাল আমাদের গ্রামেরটা পরশু পাশের গ্রামের টার কাজ শেষ করা চাই । কিসের অনুষ্ঠান চাচা ? বিয়ের তাই পুরবাড়ি সাজাতে হবে । তবে আমার একটা কথা খুব মন দিয়ে শুন, যেখানে কাজ করতে পাঠাচ্ছি , চুপ চাপ কাজ করে চলে আসবি । কাজের আগে আসবিনা । আর কাজ যাতে সুন্দর হয় । কেউ যাতে অভিযোগ না করে । ঠিক আছে চাচা । তবে চাচা আমাদের গ্রামে কাদের বাড়িতে কাজ করতে হবে ? কাল মাল নিয়ে গেলেই দেখতে পারবি । . আজ দুই বছর পর এই দুতলা বাড়িটায় প্রবেশ করলাম ।কামাল চাচা হয়তো এই কারনে বাড়ির নাম বলেনি । আমি কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি । রহিম তুই জানতি এই ব্যাপারটা ? জেনে আর লাভ কি বা না জেনে লাভ কি ?কাজ করতে এসেছিস কাজ কর । এই আলোম, রাখিল কে জিগ্যেস কর কি করে সাজাতে হবে ? আর আমি পেন্ডেলের কাজটা করছি । রহিম, সালাম কাশেম তোরা আমার সাথে আয় । নিলয় , আলোম, মন্টু তোরা রাখিলের সাথে থাক । আরিফ কাজ ভাগ করে দিয়ে চলে গেল । কিন্তু আমিতো কাজে মন দিতে পারছিনা । এই পরিবারের কেউতো আমার সামনে আসছে না । আমিতো এই পরিবারে আর নেই। আসার পর মাকে একবার দেখেছিলাম, অনেক ব্যস্ত মনে হল । বোনটা কলেজ থেকে এসেছে মাত্র, ভাইয়াকে এখনও দেখিনি । বাবা রহমানের সাথে কথা বলছে ।বাবার কথায় মনে হল বড় ভাইকে বিয়ে করানো হচ্ছে , তারই আয়োজন । আমি আমার মত কাজ শুরু করে দিয়েছি । বাবা আমার কাছে এসে শুধু এতটুকু বলল আগে যেই ভাবে সাজানো হত সেই ভাবেই হবে । আমি বাবার কথা মত সাজাতে শুরু করলাম । কাজের ফাকে, ফাকে মা আর নুরিকে খুঁজছি একটু কথা বলবো তাদের সাথে । অনেক দিন কথা বলিনা । মনটা একটু নারা দিয়ে উঠছে । অনেক ক্ষন খোঁজার পরে তাদের পেলাম ভাইয়ের রোমে । মা ভাল আছো তুমি ? ভাল , তুই ? ভাল । কাজ কতটুকু শেষ হল ? এইতো কিছুটা , তবে পুরটা শেষ করতে রাত হয়ে যাবে । সাজানো যাতে সুন্দর হয় । ঠিক আছে মা । রাখিল ভাই আমার রোমটা সুন্দর করে সাজাবি , আমার বান্ধবীরা যাতে কিছু বলতে না পারে । ঠিক আছে আমি সুন্দর করে সাজিয়ে দিব । মা ভাইকে বিয়ে করাছো আমাকে বললেনা যে ? আমি কিছু জানিনা তোর বাবা জানে । রাখিল তো ডেকোরেশনের লোকদের সাথে আসবেই তাই বাবাকে জেতে না করেছিলাম । (ভাইয়া) তুমি ভাল আছো ভাইয়া । ভাল । মা আমাকে খাবার দাও আমার খিদে লাগছে । রাখিল তুইও খেতে পারিস আমার সাথে । বিরানি রান্না করেছে আজ । না ভাইয়া তুমি খাও আমার খিদে নেই। খেয়ে নে , বাড়িতে তো এই খাবার পাবিনা । না ভাইয়া তুমি খাও । যা তোর ইচ্ছে । কথা বলে চলে এসেছি সেখান থেকে । হয়তো আর কিছুক্ষণ সেখানে থাকলে কান্না চলে আসতো আমি কাঁদতে চাইনা । চলে আসাটাই উত্তম বলে মনে হল । কাজ শেষ করতে রাত এগারোটা বেজে গেছে । সবার মন মত করে বাড়িটা সাজিয়েছি । যদিও আমি জানি তাদের পছন্দ, সেই অনুযায়ী কাজ করেছি ।সারা দিন না খেয়ে কাজ করেছি , কেউ খাওয়ার জন্য বলেনি তা নয় । বিকেল তিনটার দিকে রহিম এসে বলেছিল যে আমাদের ডেকোরেশনের লোকদের খাবার দেওয়া হয়েছে । কিন্তু আমার কেন জেন খাওয়া হয়ে উঠেনি । রাত এগারোটায় কাজ শেষ হয় । বাড়িতে এসে ঘুমাতে ঘুমাতে রাত একটা বেজে যায় । সকাল ছয়টায় উঠে আবার কাজে রওনা দিলাম । এখানে এসে যে আরেক চমক পাবো তা কল্পনা করতে পারিনি । কি করবো আমি ? . আমি আপনার সরিষা খেত মারিয়েছিলাম, আপনি আমাকে বুঝিয়ে বলেছিলেন আমি চলে এসেছিলাম । কিন্তু আপনি ? আপনাকে ভাল করে বলার পরেও কোন লাভ হল না ।তার পরেও আমার পিছে পরে আছেন । আজ আমার বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছেন । আসলে .......... আসলে কি ? আমাকে ভালবাসেন তাইতো ? আমিতো আপনাকে ভালবাসিনা । দুদিন পর আমার বিয়ে , আজ যদি আপনি আমার পিছনে ঘুরেন, লোকে কি বলবে ? আসলে আপনাকে বুঝিয়ে লাভ হবে না । তাই বলছি যে ভাবে এসেছেন ঠিক ঐ ভাবে চলে যান । আপনাকে দেখতে আর ইচ্ছে করছেনা । এই মেয়ে এই তুমি ওর সাথে এই ভাবে কথা বলছো কেন ? অনেকক্ষণ ধরে দেখছি তুমি ওর সাথে খারাপ ভাবে কথা বলছো ।(রহিম) আপনি ওনার হয়ে ওকালতি করতে এসেছেন? আমি ওর হয়ে ওকালতি করতে আসিনি । এইযে বিয়ে হচ্ছেনা তার আয়োজন করতে এসেছি । ওর কত সুভাগ্য যাকে ও ভালবাসে তার বাড়ি সাজাতে এসেছে । ওর না চাইতেও দেখতে হচ্ছে ওর চাওয়া মেয়েটি অন্যের হয়ে যাচ্ছে । ও যত সুন্দর করে বাড়ি সাজাতে পারে আর আমি ক, খ , শিখতে শিখতে BBA করেছি কিন্তু ওর মত এত সুন্দর করে সাজাতে পারিনা । ও আজ তোমাদের বাড়িটা সাজিয়ে দিয়ে যাবে । দিয়ে যাবে লাল নীল আলো জ্বালিয়ে তার সাথে ওর স্বপ্নটাও জ্বালিয়ে দিয়ে যাবে । আশা করি এবার তুমি বুঝতে পেরেছ? রহিম চলে আয় ওর যায়গা থেকে ঠিকই বলেছে । ভাল থেক তুমি । চলে আসলাম সেখান থেকে । . আজ দুটি বাড়িতে আনন্দ উল্লাসে ভরে উঠেছে । যার একটা আপন জনের, আর একটা যাকে আপন ভাবতে চেয়েছিলাম । রহিমের কথাটা এখন খুব মনে পরছে । ঐ দিন বলেছিল শালা মুরুক্ষ, পড়ালেখা করতে পারলিনা ? তোর সাথে হাটতেও এখন আমার লজ্জা করে । কিরে পুকুর পারে বসে কি করিস ? কিছুনা এমনি বসে আছি , তুই এখানে ! আমি আজ বিকেলে ঢাকা চলে যাব । অনেক কষ্টে একটা চাকরি পেয়েছি । পড়ালেখা করেছি এবার কিছু করার পালা । রহিম চলে গেল ওর ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে । " আজ খুব করে বলতে ইচ্ছে করছে , ''সবার বাগানে ফুল ফুটেছে শুধু আমার বাগানটা পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে ।"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চূড়ার একাকিত্ব
→ আমাদের ঈদের একাল সেকাল
→ ঈদুল ফিতরের একাল সেকাল
→ বাংলা একাডেমি শিশুসাহিত্য বিভাগে পুরস্কৃত লেখক লেখক:আবিরুল ইসলাম আবির।
→ একাকীত্ব এবং আমি
→ এক একাকী ছেলের জীবনের কথা।
→ একা একা আর ভালো লাগে না ।বাই আব্দুল্লাহ আল মামুন***
→ গল্পঃ একালের ভালবাসা
→ একাকিত্ব
→ অাজ যে ভীম একাদশী,,
→ একা একা আর ভাললাগে না!
→ আমি একা............??
→ একাকি পথ চলা
→ একা আমি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now