বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পোকা Part 1

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান al- amin (০ পয়েন্ট)

X ঘনাদা সেদিন প্রায় জব্দ হয়ে গিয়েছিলেন। প্রায় জব্দ এই জন্য যে সত্যিকারের জব্দ হবার পাত্র ঘনাদা নন। যত বেকায়দায় পড়ুন না কেন, নিজেকে সামলে নেবার অসামান্য প্রতিভা ঘনাদার আছে। তেলা-মাছের মত যে-কোনও বেয়াড়া অবস্থা থেকে তিনি পিছলে বেরিয়ে যেতে পারেন। সেদিন কিন্তু অবস্থাটা তাঁর বড় বেশি কাহিল হয়ে উঠেছিল। মেসের সকলের হাসি-ঠাট্টার চোটে তাঁর এতদিনের খ্যাতি-প্রতিপত্তি প্রায় ভেসে যায় আর কি! মেসের তেতলার একটি ছোট চোর কুঠরি গোছের ঘরে ঘনাদা একা থাকে। এই ব্যবস্থাটা শুধু তাঁর নিজেরই মনঃপূত নয়, আমাদেরও অনুমোদিত। ঘনাদার মতো অসামান্য পুরুষের সংস্পর্শে দিনরাত থাকা একটু বিপজ্জনক বলেই আমাদের ধারণা। ঘনাদার তেতলার সেই ঘরে সেদিন রাত বারোটা নাগাদ হঠাৎ একটা খণ্ডযুদ্ধ বেধেছে বলে আমাদের মনে হল। শনিবারের রাত। পরের দিন ছুটি, সুতরাং ভোরে উঠবার তাড়া নেই বলে আমরা সবাই যে যার দলে একটু বেশিক্ষণ পর্যন্ত তাস পাশা খেলে সবেমাত্র শুতে গেছি, এমন সময় টেবিল-চেয়ার ওলটানোর সঙ্গে ওপরকার ঘরে ঘনাদার অমানুষিক চিৎকারে বিছানা থেকে উঠে বসলাম। ব্যাপার কী! তাস পাশা ইত্যাদি খেলা ঘনাদার দুচক্ষের বিষ। শনিবার রাত্রে তাই তিনি আমাদের ওপর বিরক্ত হয়ে অন্যান্যদিনের চেয়ে একটু সকাল সকালই শুতে চলে যান। তারপর ওপরের ঘরে আলবোলায় তাঁর আরাম করে তামাক খাওয়ার শব্দ কখন করাতে কাঠ-চেরার মতো মধুর নাক ডাকার আওয়াজে মিশে যায়, সমস্তই আমরা নীচে থেকে টের পাই। আজ হঠাৎ সেই সুখনিদ্রায় কী এমন আকস্মিক ব্যাঘাত ঘটল। ঘনাদার চিৎকার শুনলে তো মনে হয়, ব্যাঘাতটা হিংস্র কোনও সাতদিনের উপোসি বাঘ বা পাগলা গারদ ভেঙে বেরিয়ে আসা ছুরি হাতে খুনে গুণ্ডা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু ঘনাদার মত ত্রিভুবনজয়ী বীরের কাছে এসব তো তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার বস্তু। তা হলে ব্যাপারটা কী হতে পারে? এই রহস্যময় ব্যাপারের নায়ক ঘনাদাই পরমুহূর্তে হুড়মুড় করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছেন শুনতে পেলাম। তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলাম, ব্যাপার কী, ঘনাদা! আমরা সবাই এখনও জেগে আছি, ঘনাদা বোধহয় ভাবেননি। আমাদের সকলের উৎকণ্ঠিত প্রশ্নের সামনে প্রথমটা এক মুহূর্তের জন্য তিনি কেমন যেন একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন! কিন্তু সে বোধহয় আমাদের মনের ভুল। পরের মুহূর্তেই আমাদের সকলকে একেবারে স্তম্ভিত করে দিয়ে তিনি চাপা গলায় বললেন, ব্যাপার? ব্যাপার যা ভেবেছিলাম তা-ই! কথাগুলো যেমন দুর্বোধ, ঘনাদার গলার স্বর তার চেয়ে বেশি রহস্যময়। সে স্বরে এমন একটা বিভীষিকার আভাস যে মনে হল শিরদাঁড়ার ভেতর দিয়ে হিম একটা জলের ধারা যেন হঠাৎ বয়ে গেল! শিবুই প্রথম এ ধাক্কা কতকটা সামলে উঠে কম্পিত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলে, ভূত-টুত নাকি ঘনাদা? ভূত! ঘনাদার বিদ্রুপের স্বরে বোঝা গেল, সামান্য ভূত-টুতের কথা তুলে শিবু তাঁকে কতখানি অপমান করেছে। সবাই মিলে একবার দেখে আসব! প্রস্তাব করলে গৌর। ঘনাদার তাতে কিন্তু ঘাের আপত্তি দেখা গেল। তাঁর কথায় মনে হল আমাদের অতখানি বিপদের মুখে পাঠাতে তিনি রাজি নন। তিনি বরং রাতটা আমাদের কারুর ঘরে শুয়ে কাটিয়ে দিয়ে সকালে যা করবার করবেন। কিন্তু আমরা অত সহজে নিরস্ত হতে পারলাম না। ঘনাদার মতো লোককে যার জন্য মাঝরাত্রে পরিত্রাহি ডাক ছাড়তে হয়, সে ব্যাপার যে কী, সন্ধান করবার চেষ্টা না করে আমরা থাকি কী করে! সবাই মিলে সন্তর্পণে সিঁড়ি দিয়ে ঘনাদার ঘরে গিয়ে উঠলাম। ঘনাদা তাড়াতাড়িতে আলোটাও জ্বালতে পারেননি। ঘর একেবারে অন্ধকার। আলো জ্বাললে কী দেখতে হবে কে জানে ভেবে সুইচটা টিপতেও যেন ভয় করছিল। শিশিরই প্রথম সুইচটা টিপে দিলে সাহস করে। কিন্তু কোথায় কী! ওলটানো চেয়ার টেবিল ছাড়া ঘরে তো কোনও কিছু দেখবার মতো নেই! যথাসাধ্য চেষ্টা করেও আটকাতে না পেরে ঘনাদা আমাদের পেছন পেছনই ঘরে এসে ঢুকেছিলেন। আমরা অবাক হয়ে তাঁর দিকে তাকাতেই পরম গম্ভীর মুখে তিনি বললেন, কী বলেছিলাম! তাঁর ভাবখানা এই যে ঘরে কিছু না থাকাই যেন একটা ভয়ংকর রহস্য। আমরা কিছু বলবার আগেই হঠাৎ ঘরের মধ্যে একটা অদ্ভুত শব্দ শোনা গেল। গোঁ করে একটা শব্দ মেঝে থেকে ওপরে উঠে ঠক করে একটা আওয়াজে শেষ হল। আচমকা এই শব্দে আঁতকে উঠে প্রথমটা প্রায় নিজেদের অজান্তে হুড়মুড় করে সিঁড়ির দিকে হটে গিয়েছিলাম, কিন্তু পর মুহূর্তেই ব্যাপারটা বুঝতে পেরে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাবার জোগাড়। গৌরই ছিল সবার সামনে। গোড়ায় পিছু লাফ দিয়ে হটে এলেও সে তখন মেঝে থেকে সেই ভয়ংকর রহস্যের মূলাধার বস্তুটিকে তুলে ধরেছে। বড় গোছের একটা নারকুলো পোকা! একবার ঘনাদার আর একবার সেই পোকার দিকে চেয়ে মেসের সকলের হাসি আর থামতে চায় না। শিশির অনেক কষ্টে তারই মাঝে দম নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, শেষকালে এই একটা পোকা আপনাকে এমন ভয় পাইয়ে দিলে, ঘনাদা! সঙ্গে সঙ্গে আবার হাসির ধুম পড়ে গেল। কিন্তু এত হাসি-ঠাট্টা ঘনাদাকে যেন স্পর্শই করল না। অবিচলিত ভাবে নিজের বিছানার ওপর এসে বসে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তিনি আমাদের সকলের দিকে একবার তাকালেন, তারপর গম্ভীর মুখে বললেন, একটা পোকা দেখে ভয় পেয়েছি, না? পা দুটো গুটিয়ে আর একটু আরাম করে বসে তিনি হঠাৎ জ্বলন্ত দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, একটা পোকার পেছনে আট হাজার মাইল কখনও ছুটে বেড়িয়েছ? তিন হাজার টন মরা পোকা নিয়ে কী করবে কখনও ভাবতে হয়েছে? পকেটে একটা কাঁচের বন্ধ শিশি আর হাতে একটা কাগজ সম্বল করে আফ্রিকার গহনতম বনে-জঙ্গলে-জলায় কখনও একটা পোকার খোঁজে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে? আমাদের হাসি তখন প্রায় শুকিয়ে গিয়েছে। তবু একবার জিজ্ঞাসা করলাম, কী সে পোকা, ঘনাদা! এই নারকুলো পোকা? না, তার নাম—সিস্টোসার্কা গ্রিগেরিয়া! থাক থাক, ঘনাদা! পোকা হলেও কৃষ্ণের জীব তো বটে। অমন যা-তা গালাগালি দেওয়াটা কি উচিত? শিবুর বলার ধরনে হাসিটা আর একবার উথলে উঠতেই এক ধমকে সেটা থামিয়ে দিয়ে ঘনাদা বললেন, গালাগাল নয়, এ-ই হল তার বৈজ্ঞানিক নাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now