বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখাঃ অনয়......
সুমার ফুপুর বিয়ে। এজন্যই তারা এসেছেন। না হলে সহজে আসেন না তারা। সুমার খালুর চাকরির ব্যস্ততা, সন্তানদের পড়াশুনা ইত্যাদি কারনে আসা হয়ে ওঠে না।
বিয়ে বাড়ি। চারদিকেই খুশির আমেজ। সবকিছু যেন ভালভাবে হয় সে জন্য তোড়জোড় চলছে।
বাড়ির সামনে বিশাল গেট বানানো হয়েছে বরের জন্য। চার পাশেই আলোর জলকানি। তবে সবচেয়ে যেটা সবাইকে বেশি আকর্ষিত করেছে তা হল পুকুর।
ছোট ছোট রঙিন আলোয় পুকুরের চার ধার আলোকিত। সুপারি আর নারিকেল গাছে লাগানো রঙ্গিন নিয়নের আলো, পুকুরে ক্রস চিহ্ন আকারে ছোট রঙ্গন বাতি আর মাঝখানে পানির ফোয়ারা বাধ্য করছে সবাইকে মনোমুগ্ধ হতে। এরই মধ্যে বর আসে। হৈহুল্লোড় বেড়ে যায়।
গেটে প্রবেশের টাকা নিয়ে মিষ্টি কথা কাটাকাটি বাড়তি আমোদের যোগান দেয়। বিয়ের কাজ শেষ। বর কনে বিদায়ের পালা। কান্নার রোল উঠেছে।
বর কনেকে বিদায় দিয়ে সবাই গিয়ে শুয়ে পড়েছে। কিন্তু সুমার খালাতো ভাই সিহাব বয়স নয় বছর তার চোখে ঘুম নেই।
এই আলোর জলকানি রেখে ঘুমাতে মন চাইছে না। তাই সে স্থির করেছে
অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠবে সবার আগে। যেই কথা সেই কাজ। চার দিকে নিরবতা কারো ঘুম ভাঙ্গেনি।
হঠাৎ কারো চিৎকার শুনে সবার ঘুম ভেঙ্গে যায়। বাহিরে এসে দেখে পুকুরের সাথে পাতা টঙ্গের পাশেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে সিহাব। তাড়াতাড়ি
ধরে বাড়িতে আনা হয়। সবার ডাকাডাকি আর চোখে মুখে পানি দেওয়ার পর জ্ঞান ফিরে আসে সিহাবের।
কি হয়েছিল জানতে চাইলে সব খোলে বলে সিহাব।
একটা বৃদ্ধা মহিলার সারা মাথার এলো চুলগুলো পুকুরের পানিতে অনেকটা জায়গা জুড়ে ভেসে আছে। তার ভয়ানক চোখ আর বিশ্রি মুখমন্ডল দেখে সে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে।
শোনার পর সাথে সাথেই তাকে লোহা গরম করে পানিতে ডুবিয়ে সেই পানি খাওয়ানো হয়।
তেল পড়া দেওয়া হয়। তারপর গোসল করিয়ে খাবার খাওয়ানো হয়। পরে সারাদিন আর ঘর থেকে বের হয়নি সিহাব। বিকালের দিকে গায়ে জ্বর আসে।
ধীরে ধীরে শরীরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। জ্বরের ঔষধ খাওয়ানো হয়। কিন্তু জ্বরের মাত্রা বেড়েই চলেছে।
রাতে অতিমাত্রায় জ্বরের কারনে ভুলবাল বকতে শুর করে। কবিরাজ ডাকা হয়।
কিন্তু কোন ফল আসে না। অবস্থা বেগতিক দেখে পরেরদিন
সকালেই সিহাবকে ঢাকায় এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতি হয় না।
শরীরে স্যালাইন পুশ করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। অবশেষে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সবাইকে কাদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় সিহাব।
এর কিছুদিন পর দুপুরে পাশের গ্রামের এক মেয়ে ঐ বৃদ্ধাকে একই অবস্থায় দেখতে পায় সুমাদের পুকুরে।
আজ ঐ মেয়েটি উন্মাদ। মাথায় ঝটা চুল আর কুৎসিত পোষাক পরে ঘুরে বেড়ায়। কাউকেই চিনতে পারে না। তার বাবা মা কেউ।
তারপর থেকে
সুমাদের পুকুরে কেউ নামে না সহজে। একটা ভয় সবার মনে ঘুরে বেড়ায়।
তবে আমি এসবে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে সুযোগ পেলেই সাতার কেটে বেড়াই সুমাদের পুকুরে। বিনিময়ে উপহারও পাই আম্মুর কাছ থেকে।
®®®®®♥♥♥♥♥®®®®®
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now