বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নো চায়না

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান zami (০ পয়েন্ট)

X কি খবর, আহমদ মুসা?" আহমদ মুসার জ্ঞান ফিরেছে দেখে কথা বলল হোয়াং চু। চারদিকে তাকালো আহমদ মুসা। দেখলো তার চারপাশে আটজন লোক তারদিকে ভয়ঙ্কর P-99 তাক করে দাঁড়ানো। তার সামনের লোকটি P-101 হাতে দাঁড়ানো। এ লোকটিই হোয়াং চু। তার পিছনে দাঁড়ানো তার অ্যাসিস্ট্যান্ট। এবার নিজের হাত-পায়ের দিকে তাকালো আহমদ মুসা। তার হাত-পা ডিজিটাল লক দিয়ে আটকানো। আবার কথা বলল হোয়াং চু, "তুমি নাকি সব পারো আহমদ মুসা, তাহলে আমাদের পারতে দোষ কোথায়? তাই তোমাকে নিয়ে এলাম।" আহমদ মুসার মনে পড়লো বিমানে সিংকিয়াং আসার সময় আমিনাগুলির(মেইলিগুলি) কথা ভাবতে গিয়ে সে আনমনা হয়ে গিয়েছিল। তখন সম্ভবত তাকে ক্লোরোফরমড করে এরা তাকে কিডন্যাপ করেছে। রত্নদ্বীপের কাজ শেষ হওয়ার পর আহমদ মুসা ভেবেছিল কিছুদিন মদিনায় কাটাবে। তখনই নেইজেনের ফোন পায় আহমদ মুসা। নেইজেন শিরিন শবনমের(কর্ণেল কুতাইবার স্ত্রী) মেহমান হিসেবে মধ্য এশিয়া এসেছিল। আহমদ ইয়াং তার কর্মব্যস্ততার কারণে আসতে পারেনি। এসময় হানরা সেখানের কয়েক এলাকার হুই-উইঘুরদের বাড়ি-ঘর দখল করে। বাড়ি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় হত্যা করে অনেককে। ধরে নিয়ে যায় আহমদ ইয়াংকে। নেইজেনের কাছে এসব শুনে আর স্থির থাকতে পারেনি আহমদ মুসা। এর পরের ফ্লাইটে সিংকিয়াং এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় সে। বিমানেই কিডন্যাপড হয় এদের হাতে। "কি ভাবছ, আহমদ মুসা" কথা বলল হোয়াং চু। "পালানোর চিন্তা করো না। তোমার হাত-পা যে লক দিয়ে আটকানো তা তুমি শত চেষ্টা করেও খুলতে পারবে না। এ রিমোটের নির্দিষ্ট বোতাম না চাপলে তা কখনো খুলবেনা।" হাতের রিমোটটা দেখালো সে। সে বলুক আর না বলুক আহমদ মুসা তা ঠিকই জানে। এবার তার অ্যাসিস্ট্যান্টকে বলল হোয়াং চু, "চুংতাই, যাও, আহমদ মুসার জন্য খাবার নিয়ে এসো।" রিমোটের বোতাম চেপে দরজা খুলে দিল হোয়াং চু। রিমোটটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করেছে আহমদ মুসা। এটা সম্পর্কে তার বিস্তারিত ধারণা আছে। এটা দিয়ে আহমদ মুসার হাত-পায়ের ডিজিটাল আটকানো-লক খোলা, দরজা আটকানো-খোলার পাশাপাশি তাদের অস্ত্রগুলো লক করা যায়। সবগুলো একসাথে করা যায় বা নির্দিষ্ট একটা অথবা কয়েকটা করা যায়। দলের কেউ যাতে কখনো বিদ্রোহ করতে না পারে তাই এ ব্যবস্থা। খাবার নিয়ে এলো চুংতাই। এবার হোয়াং চু বলল, "নাও, আহমদ মুসা ভালো করে খেয়ে নাও। আর কয়েকটা দিন পর তোমাকে নিয়ে আমাদের কাজ শেষ হলে তোমাকে বাঁচিয়ে রাখার ঝুঁকি নিতে চাইনা।" এবার মুখ খুলল আহমদ মুসা, "তুমি মনে করো তোমার ইচ্ছাতেই সব হয়? আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তোমার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। সুতরাং, চুপ থাকো।" "ধন্যবাদ, আহমদ মুসা। এভাবে কথা বলার জন্য। তুমি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এ অবস্থায় এভাবে ভাবা ও কথা বলা সম্ভব নয়।" বলল হোয়াং চু। "ভুল বললে। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে তাদের পক্ষে অবশ্যই সম্ভব।" হোয়াং চুর কথার জবাবে বলল আহমদ মুসা। এদিকে আহমদ মুসা কথা বলায় সবার মনোযোগ কথার দিকে এসে পড়েছিল। আর হোয়াং চু কথা বলার সময় রিমোটটা নিজের হাত দিয়ে ঘুরাচ্ছিল। যাতে সেটা হাত থেকে অনেকটা আলগা হয়ে পড়েছিল। হোয়াং চু কথা বলার জন্য মুখ খুলেছিল। তখনই দ্রুতগতিতে আহমদ মুসা ঝাঁপ দিলো তার হাতের রিমোট লক্ষ্যে। তার হাতের কবজি দুটো একসাথে লাগিয়ে লক করা থাকলেও হাত খোলাই ছিল। সে রিমোট ধরেই সাথে সাথে সব অস্ত্র লক করার বোতাম চেপে দিলো। তারপর চাপলো নিজের হাত-পায়ের লক খোলার বোতাম। ততক্ষণে হোয়াং চু বাদে অন্যান্যরা কিংকর্তব্যবিমুঢ়তা সেরে গুলি করলো আহমদ মুসা লক্ষ্যে। কিন্তু আহমদ মুসা লক করে দেয়ায় কোন গুলিই বের হলো না। হোয়াং চু বাদে অন্যান্যদের বিষয়টা জানানো হয়নি। তাই তারা ভীত হয়ে অস্ত্র পরীক্ষা করতে শুরু করলো। ওদিকে আহমদ মুসা ততক্ষণে রিমোটটা পকেটে পুরে হোয়াং চুর P-101 নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। তার আগে সে রিমোট চেপে সচল করে নিয়েছে P-101কে আর বন্ধ করে দিয়েছে তাদের আস্তানার সকল দরজা। হোয়াং চু তখন ধাক্কার আঘাত সামলে উঠার চেষ্টা করছে। আহমদ মুসা দেয়ালে একবার ফায়ার করে বলল, "সবাই অস্ত্র ফেলে হাত তুলে দাঁড়াও। তার নির্দেশ পালন করলো সবাই। তাদের সবাইকে রুমে বেঁধে রেখে আহমদ মুসা চলল আহমদ ইয়াংকে উদ্ধারের জন্য। হোয়াং চুকে জিজ্ঞেস করে জেনেছে আহমদ ইয়াং উত্তর কর্ণারের রুমে বন্দী। সেখানে গিয়ে রিমোট চেপে রুমের দরজা খুলল আহমদ মুসা। সব অস্ত্র লক থাকায় আর সব রুমের দরজা বন্ধ থাকায় কোন বাঁধা আসেনি। আহমদ মুসা দেখলো আহমদ ইয়াংয়েরও হাতে পায়ে ডিজিটাল লক। রিমোট চেপে তা খুলে দিলো। এবার আহমদ ইয়াংকে নিয়ে পা বাড়ালো বেরোবার উদ্দেশ্যে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now